Latest Post


সাইফুল আমীন, বিশেষ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিগত এক সপ্তাহ যাবৎ সকাল থেকে সন্ধ্যা এমন কি মধ্যরাতে ও বানিয়াচং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার এমন কি অলিতে-গলিতে বিরামহীন ছুটে চলেছেন। তিনি প্রতিদিনই কোন না কোন ইউনিয়নের হাট-বাজারে উপস্থিত হয়ে মাস্ক-গ্রাভ্স,নগদ অর্থ ও ত্রান বিতরন এবং সচেতনামূলক প্রচারনা চালিয়ে জনসাধারনকে সচেতন করে যাচ্ছেন ।

জনস্বার্থে,দেশের স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপকে মেনে চলার আহবান জানিয়ে হ্যান্ড মাইকে প্রচারনা চালান।

করোনা ভাইরাসের ছোয়ছে প্রাদুর্ভাব থেকে বাচতে সকলেই যখন স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকছেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ালে চলে গেছেন তখন তিনিই একমাত্র ব্যাতিক্রম।

করোনা ভাইরাসের আতংকে গ্রাম-গঞ্জে অসচেতন অনেক মানুষজনই অসহায় হয়ে পড়ছেন।
দেশের এই দূর্যোগকালীন সময়ে বর্তমানে কোন দলেরই দলীয় কোন কর্মকান্ড কিংবা অসহায় ঘরবন্দী মানুষজনের পাশে দাড়াতে দেখা যায় নাই।
স্থানীয় প্রশাসন,সংসদ সদস্য রুটিন অনুযায়ী কাজ করলেও উপজেলা চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে।
বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এ ধরনের কর্মকান্ডে অনেক মানুষই প্রশংসা করে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এস এম খোকন  বলেন,আমাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খুবই কর্মক্ষম ও সাহসী একজন মানুষ। আমার দেখা মতে তিনি বানিয়াচংয়ের এ যাবৎকালের শ্রেষ্ট চেয়ারম্যান। অনেক নেতাই যখন স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী হয়ে আছেন,সেখানে তিনি মানুষজনের সামনে হাজির হয়ে সাহস যুগিয়ে চলেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া বলেন,আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান খুবই সাহসী ও ব্যাতিক্রম একজন জনপ্রতিনিধি।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা পরিষধ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী কােেলর কন্ঠকে জানান, যদিও বর্তমানে বাইরে বের হওয়াটা ঝুকিপূর্ন, তবুও আমি আমার উপজেলার জনসাধারনকে ছেড়ে থাকতে পারবনা।
আমি সতর্কতার সহিত প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কে সাথে নিয়ে জনগনের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।


জনপ্রিয় অনলাইন: করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বেলজিয়ামের এক বৃদ্ধা। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার কৃত্রিম যন্ত্র প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সেই ভেন্টিলেটর তিনি ব্যবহার করতে চাননি। দিয়ে দেন তরুণ রোগীকে বাঁচানোর জন্য। তবে অন্যকে বাঁচানোর কাজটি করে নিজেই হার মানলেন করোনার কাছে।

দেশটির লুব্বেকের কাছের শহর বিনকমের বাসিন্দা ৯০ বছর বয়সী সুজান হোয়েলার্টস। তিনি ২০ মার্চ স্থানীয় একটি হাসপাতালে যান করোনার লক্ষণ নিয়ে। পরে তার শরীরের ধরা পড়ে করোনা। হাসপতালে ভর্তি হয়ে যান তিনি। তার শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা ছিল। কৃত্রিম যন্ত্র লাগানোর দরকার হয়। কিন্তু তিনি ডাক্তারকে বলেন, কৃত্রিম যন্ত্র আমি ব্যবহার করতে চাই না। এটিকে যত্ন করে রাখুন কোনো এক তরুণ রোগীর জন্য। এরই মধ্যে আমি বহু বছর বেঁচেছি। একটি সুন্দর জীবন কাটিয়েছি।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২২ মার্চ তিনি মারা যান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় তার মেয়ে তাকে দেখতে যেতে পারেননি। তার মেয়ে জিদাথ বলেন, শেষ সময়ে আমি তার পাশে থাকতে পারিনি। তাকে আমি বিদায়ও জানাতে পারিনি। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অংশ নেওয়ারও সুযোগ পাইনি।
করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বেলজিয়ামেও। দেশটিতে গতকাল দু’শ মানুষ মারা যান। সেই সঙ্গে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীও মারা গেছে। ওই কিশোরীই দেশটির সবচেয়ে কম বয়সী করোনার শিকার । দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট সাতশ পাঁচজন মানুষ মারা গেছেন।


জনপ্রিয় অনলাইন : স্পেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেল একদিনে নতুন করে মারা গেছেন ৯১৩ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়লেও গেল এক সপ্তাহে নতুন আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটিতে এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম মানুষের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। তবে সংক্রমণের হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হলে কেবল লকডাউন নয়, পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্পেনে প্রতিদিনই যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। তবে এত খারাপের মাঝেও সরকার প্রদত্ত একটি তথ্যে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। গেল এক সপ্তাহের মধ্যে সোমবার করোনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালভাদোর ইলা বলেন, আমি সবাইকে বলতে চাই, এক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিনই আমাদের করোনায় আক্রান্তের হার বাড়ছিল। কিন্তু গেল বৃহস্পতিবার থেকে এ হার কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে নতুন করে আক্রান্তের হার ২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল, সেটা এখন ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এটিকে শূন্যে
 নামিয়ে আনতে হলে আমাদের এখনও আরও অনেক কিছু করতে হবে।
এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও মনে করছে, দেশটিতে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে করোনা পরিস্থিতি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক
 ডা. মাইকেল রায়ান বলেন, দেখুন এটা ঠিক স্পেন এবং ইতালিতে নতুন করে আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে। এটা অবশ্যই ১৪ দিনের লকডাউনের কারণে। তবে কেবল লকডাউন করে এ হার শূন্যে নামানো যাবে না, ভাইরাসটিকে পুরোপুরি নির্মূল করতে চাইলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।
এর মধ্যেই করোনার প্রকোপ ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে স্পেনকে। দেশটির হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চেয়ে শয্যা সংখ্যা কম থাকায়, বিভিন্ন শহরের পাঁচ তারকা হোটেলগুলোকে রূপান্তরিত করা হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতালে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানী মাদ্রিদের রাস্তায় জনকামান দিয়ে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি ছিটাতে দেখা গেছে কর্তৃপক্ষকে। স্পেনের অঙ্গরাজ্য কাতালোনিয়ায় সর্বমোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৭৭৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১,৬৭২ জন । নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছে ১ হাজার ৬৫২ জন । আক্রান্তদের মধ্যে ৩,০০৭ জন পেশাদার ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। সুস্হ হয়ে উঠেছেন ৪ হাজার ৯৯৬ জন । দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী সালভেদর
 বলছেন এই মুহূর্তে যা ঘটছে আমরা কখনই তা ভুলতে পারব না, আমাদের এখন উচিত দেশের জনগণের প্রাণ রক্ষা করা। করোনা রোগীদের জন্য এরই মধ্যে মাদ্রিদ,বার্সেলোনায় সেনাবাহিনীর জরুরী উদ্যোগে একটি হাসপাতাল তৈরী করা হয়েছে ।
আজকে কাতালোনিয়া রেডিও কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ডাক্তার ও গবেষক ওরিয়ল মেডিও মন্তব্য করেছেন যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা হবে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার। আক্রান্তের কাছেও ভাইরাসের সংক্রমন বিষয়টি অজ্ঞাত থেকেছে এবং মোট আক্রান্তের মাত্র ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে ভাইরাস নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালভাদর ইলা বলেছেন, যদি আমরা সংক্রমনের চূড়ান্ত পর্যায়ে নাও এসে থাকি এখন পর্যন্ত, অন্তত চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি আছি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় আরো জানান, স্পেনের মধ্যে মাদ্রিদ ও কাতালোনিয়া আক্রান্তের সংখ্যা হাসপাতালের চিকিৎসা দানের স্বামর্থ্যের চরম সীমায় আছে। এই পরিস্থিতিতে দুটি অঞ্চলেই যেনো চিকিৎসা দানের ক্ষেত্রে কোন ধরণের বিপর্যয় না ঘটে --সে জন্য সরকার সতর্ক এবং প্রয়োজনে পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে রোগি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে হলেও বিপর্যয় রোধ করার চেষ্টা করবেন।

এদিকে করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ চীন থেকে স্পেনে আসতে শুরু করেছে। সোমবার বিশেষ বিমানে করে করোনার টেস্ট কিট, মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য সামগ্রী রাজধানী মাদ্রিদে পৌঁছায়।


জনপ্রিয় অনলাইন: চীনে তৈরি করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করেনি বলে অভিযোগ করেছে স্পেনের স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: এএফপিচীনে তৈরি করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করেনি বলে অভিযোগ করেছে স্পেনের স্বাস্থ্য বিভাগ। চীনের একটি কোম্পানি থেকে স্পেন করোনাভাইরাস বা ‘
কোভিড ১৯’ শনাক্তকরণের জন্য কিট কিনেছিল। পরীক্ষায় মাত্র ৩০ ভাগ কিট যথার্থ ফল দিয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব কিট যথার্থ ফল না দেওয়ার কারণে ৯ হাজার কিট ফেরত দিচ্ছে স্পেন।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শেনজেন বায়োইজি টেকনোলজি থেকে নেওয়া কিটগুলো ত্রুটিপূর্ণ। হাসপাতালে এসব কিটের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল ভালো আসেনি। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এসব ত্রুটিপূর্ণ কিট ফিরিয়ে দিয়ে উৎপাদনকারী কোম্পানিকে ভালো কিট দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে শেনজেন বায়োইজি টেকনোলজি জানিয়েছে, পরীক্ষায় ঠিকমতো ফল না আসার কারণ হতে পারে যে হয়তো রোগীর নমুনা যথাযথভাবে সংগ্রহ করা হয়নি বা কিটগুলো যথাযথ নিয়মে ব্যবহার করা হয়নি। কিটটি কীভাবে ব্যবহার করলে প্রকৃত ফলাফল পাওয়া যাবে, তা জানাতে স্পেনের সঙ্গে বায়োইজির ঠিকঠাক যোগাযোগ হয়নি।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চীনের বায়োইজি টেকনোলজি কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি কিটগুলো কেনেনি। তারা স্পেনের একটি সরবরাহ কোম্পানির কাছ থেকে কিটগুলো কিনেছে। ওই সরবরাহ কোম্পানি চীনের বায়োইজির কাছ থেকে কিটগুলো সংগ্রহ করে।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির দেওয়া তথ্যমতে, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পেনে ৫৭ হাজার ৭৮৬ ব্যক্তি নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৮ জন মারা গেছে।


জনপ্রিয় ডেস্ক : স্পেনে মহামারি করোনাভাইরাসে একজন বাংলাদেশি মৃত্যু বরণ করেছেন। স্থানীয় সময় আজ (২৬ মার্চ) ভোর ৩টা ৩০মিনিটে মাদ্রিদে নিজ বাসভবনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত ব্যক্তির নাম হোসাইন মোহাম্মদ আবুল (৬৭)। তার দেশের বাড়ি ঢাকার নারায়ণগঞ্জে। জানা গেছে, হোসাইন মোহাম্মদ আবুল বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে নিজ বাসভবনে ছিলেন। মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। হাসপাতাল থেকে ডাক্তারও আসেন। পরীক্ষা নীরিক্ষা করে ডাক্তাররা তার মধ্যে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত আবুল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে নিশ্চিত করে। স্থানীয় ‘রেখিস্ত্র সিভিল’ প্রদত্ত মৃত্যু সনদেও কভিড-১৯ এ হোসাইন মোহাম্মদ আবুলের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুকালে হোসাইন মোহাম্মদ আবুল স্ত্রী, এক পুত্র ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। হোসাইন মোহাম্মদ আবুলের মৃত্যুর সংবাদে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।


জনপ্রিয় অনলাইন: সরকার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ না নিলে, কভিড-১৯ সংক্রমন থেকে বাংলাদেশে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। বাংলাদেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এপিডেমিওলজিস্টদের লেখা এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারকদের দেওয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “যদি এই রোগ প্রশমন বা অবদমনের [মিটিগেশন বা সাপ্রেশন] জন্য কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ৮ মে পর্যন্ত নতুন রোগীরা আক্রান্ত হতে থাকবে। [] [২৮ মে নাগাদ] মোট ৮ কোটি ৯১ লাখ মানুষের মধ্যে এই সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যেতে পারে। ৩০ লাখ ৩৭ হাজার রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে। ৬ লাখ ৯৬ হাজার রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা করতে হতে পারে। মারা যেতে পারে ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৪২ জন মানুষ।”
প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে মোট ১৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ অর্থাৎ জনসংখ্যার ৮১% মানুষই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিলে এই রোগ প্রশমন বা অবদমন করা যাবে অথবা পদক্ষেপ নিলে মৃতের সংখ্যা ও আক্রান্তের সংখ্যা ঠিক কতটা কমতে পারে তা গবেষকরা ব্যাখ্যা করেননি।
বাংলাদেশ কতটা গুরুতর অবস্থার সম্মুখীন এবং কীভাবে পরিস্থিতি খুব দ্রুতই খারাপের দিকে চলে যেতে পারে, তা এই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, “আমাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৩১ মার্চ, ৪৬৪০ জন লক্ষণসহ রোগী পাওয়া যাবে। ৫৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। ১২ রোগীর নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হবে। মারা যাবে ১ জন। সর্বোচ্চ সংখ্যক লক্ষণ সমেত রোগী দেখা যেতে পারে মে মাসের ১১ তারিখ (১ কোটি ৪১ লাখেরও বেশি)। ১৬ মে, ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬১৮ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। ১৪ মে, ১ লাখ ১০ হাজার ৯১৩ জন রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করতে হতে পারে। ২৬ মে একদিনেই মোট ৮০ হাজার ৭৯৬ জন মারা যেতে পারেন।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যেই মডেল ব্যবহার করে এই গবেষণা করা হয়েছে, সেটি অনুযায়ী, ১৮ মার্চ যখন বাংলাদেশে প্রথম এই রোগে একজনের মৃত্যু হয়, ততদিনে সারাদেশে ১,৬৮৫ জনের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ ছিল। আজ থেকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৩১ মার্চ নাগাদ, লক্ষণ দেখা যেতে পারে ২১ হাজার ৪৬১ জনের মধ্যে। ২৭৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে। ১৩ জনকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দিতে হতে পারে। মারা যেতে পারে ৬ জন।
গবেষকরা আরও সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, তাদের হিসাবে হয়তো পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাস্তবের চেয়েও কম মাত্রায় ফুটে উঠেছে। তারা যেহেতু বাংলাদেশে প্রথম রোগী পাওয়ার তারিখ অনুমান করে ধরে নিয়েছেন, “সেহেতু ১৮ মার্চ এক জন রোগী মারা যাওয়ার কথা বলা হলেও, বাস্তবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হয়ে থাকতে পারে।” এছাড়া প্রতিবেদনে জনসংখ্যার বয়স কাঠামো ধরা হয়েছে ২০১১ সালের জনমিতির উপাত্তের ভিত্তিতে। ২০১১ সালের চেয়ে বর্তমানে বয়স্ক লোকের হার আরও বেশি বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাই মৃত্যুর হার বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে।
এই প্রতিবেদনটি যৌথভাবে লিখেছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ গবেষক: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের মলয় কে মৃধা ও রিনা রানি পাল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের দীপক কে মিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যালাইন ল্যাবরিক ও ইফ্যান ঝু।
মূলত লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের উদ্ভাবিত একটি মডেলের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সংক্রামক রোগের বিষয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের খুবই উচ্চমাপের ধরা হয়। প্রখ্যাত এপিডেমিওলোজিস্ট নিল ফার্গুসনের নেতৃত্বে প্রস্তুতকৃত ওই মডেল অনুযায়ী যুক্তরাজ্যেও প্রায় ৫ লাখ ও যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে মারা যেতে পারে। তাদের মডেল ও প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের কভিড-১৯ মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপে বড় ধরণের পরিবর্তন আসে।
এই মডেলে মূলত তিনটি বিষয়কে আমলে নেওয়া হয়েছে: বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে লক্ষণ দেখা যাওয়ার হার, তাদের মধ্যে যাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন হবে, হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে যাদের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হবে, এবং সামগ্রিক মৃত্যুর হার। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিও এই মডেলে কল্পনা করা হয়েছে।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক মলয় কে মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হোননি।


Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget