বার্সেলোনা, স্পেন | শনিবার , ১৬ অক্টোবর ২০২১ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. #টপ৯
  2. #লিড
  3. অপরাধ
  4. অভিবাসন
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আফ্রিকা
  8. ইউরোপ
  9. ইসলাম ও ধর্ম
  10. এশিয়া
  11. কমিউনিটি
  12. ক্যাম্পাস
  13. খেলাধুলা
  14. গণমাধ্যম
  15. জাতীয়

কুমিল্লার ঘটনায় ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ; আহত সাতজন

প্রতিবেদক
jonoprio24
অক্টোবর ১৬, ২০২১ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে কুমিল্লা জেলায় সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্তর থেকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিছিল বের করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

মালিবাগ মুসলিম যব সমাজের ব্যানার নিয়ে কয়েক শ’ লোক এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে কাকরাইলের নাইটিংগেল মোড়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দিলে মিছিলকারীরা আশপাশের গলিতে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিক্ষোভকারিদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে, লাঠি চার্জ করে এবং শটগানের গুলি ছোড়ে।

আধঘণ্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে পাঁচজন পুলিশসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। আহত দুই বিক্ষোভকারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সংঘর্ষের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আহাদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, মণ্ডপে হামলা-চেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের মোমিন রোডে অবস্থান নেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।পরিষদের নেতা রানা দাশ গুপ্ত এসকল ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান থেকে না সরার ঘোষণা দিয়ে বলেন চট্টগ্রামে কোনও প্রতিমা বিসর্জনও দেওয়া হবে না। এসব হামলার বিচারের দাবিতে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আগামীকাল চট্টগ্রামে আধা বেলা হরতাল ডাকা হয়েছে।

এদিকে, আজ জুমার নামাজের পর বন্দর নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদের সামনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে একদল লোক পাশের জে এম সেন হল মণ্ডপে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় পেছন থেকে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ জানায় এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৫০ জনকে তাঁরা আটক করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। তদন্ত চলছে। যারাই জড়িত থাকুক তাদের খুঁজে বের করা হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজার মহা নবমী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। আমরা অনেক তথ্য পাচ্ছি। এখন ডিজিটাল যুগ। জড়িত যারা, আর যেই ধর্মেরই হোক না কেন, আমরা তাদের খুঁজে বের করবোই।

বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং অন্যান্য সগঠনের নেতারাও কুমিল্লার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন দেশে বিএনপি নতুন করে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছে এবং সহযোগিতা করছে। তিনি বলেন বিএনপির শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য প্রতিটি রাত ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। একই অবস্থা ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্যও বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন তাদের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলার শঙ্কায় দিন কাটতো।

অপরদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের বলেছেন পূজামণ্ডপে সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় আওয়ামী লীগ পুরোপুরি মদদ ও উসকানি দিচ্ছে। তিনি বলেন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হাজার বছর ধরে আছে। দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা সবসময় বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি করছে।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পিছনে যারা ইন্ধন যোগাচ্ছে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা উচিত। তিনি বলেন যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে জাতিগত বিরোধ সৃষ্টি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ব্যাপারে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শুক্রবার কুমিল্লায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে বলেন সেখানকার পূজা মণ্ডপে হামলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর দায় ভার সরকারকেই নিতে হবে। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট কারিদের ঐক্য বদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ করার আহবান জানান।

এ দিকে কুমিল্লার ঘটনায় বাংলাদেশের মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজে শান্তি-সম্প্রীতির প্রার্থনা করা হয়েছে।

খতিবরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শান্তির পক্ষে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মুসুল্লিদের উদ্বুদ্ধ করেন। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে জুমার খুতবায় ও নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশে সম্প্রীতি ও শান্তি কামনা করা হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে খুৎবায় বলা হয়, বিশ্ব শান্তির প্রতীক হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ তায়ালা মহানবীকে বিশ্ব শান্তির জন্য পাঠিয়েছেন। ইসলামের শান্তির বার্তা ধরে রাখতে হবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, একটি অশুভ মহল দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত করছে। তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশে বাংলাদেশ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। এখানে সব ধর্মের লোকেরা শান্তিতে ধর্ম-কর্ম এবং বাসবাস করছে। একটি অশুভ মহল এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বন্ধনকে বিনষ্টের চক্রান্ত করছে।

সর্বশেষ - দেশজুড়ে

আপনার জন্য নির্বাচিত