2019-12-15


কবির আল মাহমুদ, মাদ্রিদ : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মাদ্রিদে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উদ্যোগে দেশটিতে বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ডিসেম্বর) রাতে রাতে বাংলাদেশিদের কেন্দ্রস্থল লাভাপিয়েসের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের হলরুমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ অংশগ্রহণ করেন।সংগঠনের সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেকের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন বায়তুল মোকাররম বাংলাদেশ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা আবুল কালাম আজাদ (বেঙ্গল), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি  এস আর আই এ এস রবিন, সমাজসেবী ও কমিউনিটি নেতা আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সিনিয়র সহ সভাপতি আলামীন মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, গ্রেটার ঢাকা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি এম এইচ সোহেল ভূঁইয়া, গ্রেটার সিলেট  অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি লুৎফুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় কল্যাণ সমিতির সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, কমিউনিটি নেতা আবুল হোসেন, ইসলাম উদ্দিন পংকি, এইচ এম সেলিম রেজা, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মুরশেদ আলম তাহের, সহ সাধারন সম্পাদক কাজী আলমগীর, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসেম মেম্বার, সদস্য আলামীন ছমির, আফসার হোসেন নীলু, রফিক খান, শামীম আহমদ, আব্দুল হামিদ সঞ্জু, আবু জাফর রাসেল, জগলু হোসেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সহ অর্থ সম্পাদক জালাল হোসাইন, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক হানিফ মিয়াজী, সহ প্রচার সম্পাদক আমির হোসেনসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের প্রচার সম্পাদক আবু বক্কার। অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে কাজী এনায়েতুল করিম তারেক একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, আজকের তরুণদের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মহান ইতিহাস জানা উচিত।যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, যারা দেশ মাতৃকার জন্য জীবন এবং নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের কথা।

পরিশেষে, মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও দেশের মানুষের আগামী দিনের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আসাদুজ্জামান রাজ্জাক।


কবির আল মাহমুদ,মাদ্রিদ : স্পেনে বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রবীণ সমাজ সেবক শিল্পপতি আব্দুস সাত্তাররের উদ্যোগে ব্যাতিক্রমী বিজয় উৎসব ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে স্থানীয় সময় ১৭ ডিসেম্বর (সোমবার) রাতে বাংলাদেশিদের কেন্দ্রস্থল লাভাপিয়েসের বাংলাদেশ এসোসিয়েশন হলে আয়োজিত হয় এই বিজয় উৎসব ও নৈশভোজ।বাংলাদেশের ৪৯তম মহান বিজয় দিবস পরবর্তী সময়ে প্রায় এক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বিজয় উৎসব ও নৈশ্যভোজে অংশ নেন। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয় বাঙালী অধ্যুষিত লাভাপিয়েস এলাকা। প্রবাসীদের এমন উপস্থিতি মনে হচ্ছিল যেন প্রবাসের বুকে ছোট্ট এক খন্ড বাংলাদেশ।

বিজয় উৎসব ও নৈশভোজ আয়োজন নিয়ে আব্দুস সাত্তার বলেন, স্পেনে অবস্থানরত বাংলাদেশ কমিউনিটির মানুষদের একত্রিত করে সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলন-মেলা  আয়োজন আমাদের সবাইকে আনন্দঘন একটি মুহূর্ত উপভোগের সুযোগ করে দেয়। আমি প্রায়ই চেষ্টা করি এরকম প্রীতিভোজ আয়োজন করতে, এরকম আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একত্রিত হয়ে আনন্দ করতে দেখে আমার ভালো লাগে।  অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ মসজিদ পরিচালা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, সিনিয়র সহ সভাপতি আলামীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, গ্রেটার ঢাকা এসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল ভূঁইয়া, স্পেন আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ দুলাল সাফা,সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা জাকির হুসেন,কমিউনিটি নেতা নূর হোসেন পাটোয়ারী, আবুল খায়ের, সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম,  মাহবুবুর রহমান ঝন্টু, রাসেল দেওয়ান, আবুল হাসেম মেম্বার, সায়েম সরকার, জালাল হোসাইন কমিউনিটির প্রবীণ নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশি পরিবারগুলো অংশগ্রহণ করেন। বিজয় উৎসব ও নৈশভোজে আগত অতিথিদের জন্য দেশীয় খাবারের নৈশ্যভোজের আয়োজন করা হয়, অংশগ্রহণকারী সকলে খাবার উপভোগ করেন।


পরিবার-পরিজন ছাড়া প্রবাসে এসব উৎসব কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। তাই বেদনা ভরা মন প্রতিনিয়তই কিছু না কিছুতে আক্ষেপ ঘোচানোর চেষ্টা করে। তাই এরকম মিলনমেলা ও আনন্দ আয়োজন গুলো প্রবাসীদের কিছুটা আনন্দের উপলক্ষ করে দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এতে মেতে উঠেন অনাবিল আনন্দে।

পরিশেষে, মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও দেশের মানুষের আগামী দিনের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মসজিদ পরিচালা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার।


উল্লেখ্য, আব্দুস সাত্তার দীর্ঘ সময় ধরে স্পেনের বাংলাদেশ কমিউনিটির মানুষের জন্য কাজ করছেন। ২০০০ সালের দিকে স্পেনে আসেন এই কমিউনিটি নেতা। ২০ বছরের জীবনে আব্দুস সাত্তার হাজারো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্পেনে অভিবাসন সংক্রান্ত নানা কাজে তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রবাসীরা ছাড়া ও বাংলাদেশিদের কাছে অনন্য ঠিকানা আব্দুস সাত্তার। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান মানুষের জন্য।


কবির আল মাহমুদ, মাদ্রিদ : স্পেন আওয়ামী লীগের যথাযথ মর্যাদায় ৪৮তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানী মাদ্রিদের একটি রেস্টুরেন্টে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্পেন আওয়ামী লীগ এর সিনিয়র নেতা জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মোহাম্মদ হাসানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পেন আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবদুল কাদের ঢালী, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মোহাম্মদ ইসলাম,সাবেক উপদেষ্টা একেএম জহিরুল ইসলাম, রফিক খান, আবুল হোসেন, স্পেন যুবলীগের আহবায়ক ইফতেখার আলম,যুবনেতা অলিউর রহমান, রুবেল খান, আনওয়ারুল কবির পরান,মিজানুর রহমান, রাজিব, রাজুসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরান পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ, আর ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ গড়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

স্পেন আলীগের নেতারা আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও দেশ ও প্রবাসে জামাত বিএনপি দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাসে বিজয়ের অনুষ্ঠানে বসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী দাবি করলে সে সকল নেতাকর্মীদের মনমানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। পদ পদবী বা চেয়ারের রাজনীতি পরিহার করতে হবে। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে কর্মীদের মন জয় করা যায়না। এজন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। বক্তারা স্পেইন আওয়ামী লীগের সন্মেলন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পেইনে আগমন, বাংলাদেশ দূতাবাসে বিজয়ের অনুষ্ঠানের ঘটনা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে আগামীতে এসকল নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহবান জানান।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারবর্গ, ১৫ই আগষ্ট নিহত সকল শহীদ, চার নেতা সহ দেশ ও জাতির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সভার সভাপতি স্পেন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা জাকির হোসেন তার সমাপনী বক্তব্যে কঠোর ভাষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “কোনও ধরনের গঠনতন্ত্রে নেই স্থানীয়দের সাথে আলোচনা না করে এইভাবে একপেশে দলে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে কমিটি গঠন করা।তিনি অবিলম্বে এ প্রহসনমূলক কমিটি বাতিলের আহ্বান জানান।


জনপ্রিয় অনলাইন :  ভাষাসৈনিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভেতরে জামায়াতের লোকও আছে। আওয়ামী লীগে কত রাজাকার আছে। বিপদের সময় এরা ভয়ানকভাবে আসে। রাজাকারদের লিস্ট করার আগে এই রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা উচিত।


আজ রোববার বেলা একটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী এসব কথা বলেন। সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালির বিজয়শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্প্রীতি বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাষাসৈনিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বলেন, ‘অনেক রাজাকার আছে, যাদের জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সম্মান দিয়েছিল। যেমন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ফারুক। তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই ফারুককে পরে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এখনো রাজাকার আছে। অনেক রাজাকার আছে। এখনো আছে। এমনকি আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার আশপাশেও আছে। তাদের নাম বললে আমার আর ঢাকায় আসা হবে না। তাই আমি নাম বলতে চাই না। এই হচ্ছে অবস্থা।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বলেন, রাজাকারদের তালিকা করলে দেখা যাবে, রাজাকাররাই সেই তালিকা তৈরি করছে। ওই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার, রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাবে। কাদের মোল্লাকে শহীদ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও ওই পত্রিকা মোনায়েম খানকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বলেন, ‘বাকশালের সময় আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে পারেনি। কারণ, বাকশাল গঠনের তিন মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। তাই বাকশাল ভালো-মন্দ যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। আমার ধারণা, বাকশাল থাকলে আজকের বাংলাদেশের দুর্নীতি, সন্ত্রাস এত ব্যাপক হতো না। হয়তো এত চাকচিক্যময় রাস্তাঘাটও হতো না।

বর্তমান রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বলেন, ‘আমার ধারণা, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা না হলে বাংলাদেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে। এখানে মৌলবাদী নেতৃত্ব এসে যাবে। আওয়ামী লীগকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিচার এখনো শেষ হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন। এর জন্য আগামী এক বছর সম্প্রীতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্যসচিব মামুন আল মাহতাব। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হোসেন বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশে থাকবে। কেউ বুদ্ধিজীবীদের নাম মুছে ফেলতে পারবে না। এই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেউ মুছে দিতে পারবে না।

দৈনিক সংগ্রাম প্রসঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন জল্লাদ, একজন আত্মস্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী, যার আদালতের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির রায় হয়েছে, রায় কার্যকর হয়েছে, একটি পত্রিকা তাকে শহীদ নামে উল্লেখ করেছে। এর বিচার শুরু হয়েছে। আমরা কেউ থেমে নেই। এই পত্রিকার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা তথ্য মন্ত্রণালয়ের নেবে। এই দেশে এমন ধৃষ্টতা আর কোনো দিন যাতে কেউ না নিতে পারে, সেই ব্যবস্থা সরকার নেবে।

একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাংবাদিক ও লেখক হারুন হাবিব, সাবেক সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।


জনপ্রিয় অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্পেন শাখার উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।  মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১০টায় মাদ্রিদের মেহমান খানা রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্পেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি স্পেন শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোহেল ভূঁইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর রাসেলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের আলোচনায় টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান  অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে স্পেন বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির খোরশেদ আলম মজুমদার বিজয় দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে আরো বলেন, বিজয় মানে আনন্দ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মনে সে বিজয়ের আনন্দ নেই।  খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা আনন্দে থাকতে পারে না। তিনি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নূর হোসেন পাটোয়ারী,  মাহবুবুর রহমান ঝন্টু,  এসএম মনির, সুহেল আহমেদ সমছু,  হেমায়েত খান,  হুমায়ূন কবির রিগ্যান, জাকিরুল ইসলাম জাকি, যুবদল স্পেন শাখার সভাপতি রমিজ উদ্দিন,   ফ্রান্স যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাওন আহমেদ প্রমূখ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, নাজমুল হোসেন নাজু, আসাদ আলী প্রমূখ।
আলোচনা শেষে মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


জনপ্রিয় অনলাইন : সিলেট প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগে ৪৯তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ লক্ষে আজমানের এশিয়ান স্পাইসি রেষ্টুরেন্টের হলরুমে  আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংস্থার সভাপতি মির্জা আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন,  সাধারণ সম্পাদক জাহেদ আহমদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন,  ব্রাজিল প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক ও তরুন রাজনীতিবিদ আবু সুফিয়ান উজ্জল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, দুবাইয়ের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হাজি শফিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরী ও দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মুজিবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক লুৎফুর রহমান, আবুল হাসনাত,মহিউদ্দিন জালালি,আমিনুল হক, বদরুল ইসলাম, রানা হামিদ ও তারা মিয়া। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে, দেশটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। এতে উপস্থিত ছিলেন, নজরুল ইসলাম রুহেল, রেজান আহমেদ, শাকির আহমেদ ও আবেদ আহমেদসহ  প্রবাসী বাংলাদেশীরা।


জনপ্রিয় অনলাইন : রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। মঙ্গলবার দেশটির বিশেষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেয়।

দেশটির সংবাদ মাধ্যম ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশওয়ার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার আহমেদ শাহর নেতৃত্বাধীন সিন্ধ হাইকোর্টের বিচারপতি নাজার আকবার এবং লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি শহীদ করিম এর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোন বেসামরিক আদালতে দেশদ্রোহের অভিযোগে কোনো সামরিক কর্মকর্তার বিচারের রায় এল।
১৯৯৯ সালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অপসারণ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান শাসন করেন মোশাররফ। গত ২০১৩ সালে দেশটির সাবেক এই স্বৈরশাসককে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলাটি ২০১৩ সাল থেকে ঝুলে ছিলো।এরপরই এই রায় এল।
জরুরি অবস্থা জারি, বেআইনি উপায়ে বিচারপতি বরখাস্ত, বেনজির ভুট্টো হত্যা এবং লাল মসজিদ তল্লাশি অভিযান সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায়ও অভিযুক্ত হন মোশাররফ।
পরবর্তীতে দেশটির সাবেক এই সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে ২০১৬ সালে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবার অনুমতি পান। বর্তমান সেখানেই আছেন সাবেক এই পাক সেনাপ্রধান।


জনপ্রিয় অনলাইন : আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেছেন: এত বড় একটা ঘটনা বাংলাদেশের কি কেউ বা কোন লোক জানতে পারলো না, কোন পদক্ষেপ নিলো না, কেন ওই লাশ পড়ে থাকলো ৩২ নম্বরে? সে উত্তর এখনও আমি পাইনি। এত বড় সংগঠন, এত নেতা কোথায় ছিল? মাঝে মাঝে আমার এটা জানতে ইচ্ছে করে, কেউ সাহসে ভর দিয়ে এগিয়ে এলো না কেন?
তিনি আরও বলেন: বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তো শেখ মুজিবের সঙ্গে ছিলো। এই ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে হয়েছে জাতিকে। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এ দেশে বারবার ক্যু হয়েছে।  ১৮-১৯টা ক্যু হয়েছে এই দেশে। অত্যাচার নির্যাতন চলেছে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর। সেসময় যদি কেউ সাহস করে দাঁড়াতো তাহলে এত অত্যাচার হতো না, বারবার ক্যু হতো না।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: মাত্র সাড়ে তিনটা বছর তিনি হাতে সময় পেয়েছিলেন। এই সাড়ে তিন বছরের তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে বাংলাদেশকে স্বল্প উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। কি না করে দিয়েছিলেন, প্রতিটি কাজের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। একটি সংবিধান পর্যন্ত তিনি আমাদের দিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি যোগ করেন: কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ যখন যুদ্ধবিদ্ধস্ত অবস্থা কাটিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেসময় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আসলে তাকে একা নয় শুধু। আমাদের পরিবারের সকলকে আমাদের আত্মীয় পরিজন, আমাদের মেজ ফুফুর বাড়ি সেজো ফুফুর বাড়ি, ছোট ফুফুর বাড়ি সব বাড়িতেই তারা হানা দিয়েছে।
এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বলেন: আমাদের লক্ষ্য আমরা দারিদ্র মুক্ত করবো, দারিদ্রের হার আমরা নামিয়ে আনবো। যে দেশ বলেছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন হলে একটি তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হবে। সেদেশের দারিদ্রের হার ১৮ শতাংশ, আমার লক্ষ্য হচ্ছে ওই হার ১৮ শতাংশ থেকে এক শতাংশ হলেও কম করব।
বাংলাদেশ সব সময় পাকিস্তানের আগে থাকবে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন: পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশকে আমরা স্বাধীন করেছি। অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, নীতি আদর্শিকভাবে যেভাবেই হোক ওই পাকিস্তানের ওপর আমরা থাকবোই। সত্যি আজ আমরা তা আছি। সকলের থেকে ভালো অবস্থানে আমরা আছি আজ। কিন্তু এটা ধরে রাখতে হবে।
এসময় তিনি সতর্ক করে বলেন: নইলে ওই পাকিপ্রেমী যারা বিদেশেই থাক আর জেলখানাতেই থাক তাদের চক্রান্ত কিন্তু থাকবেই। আমাদের জাতির পিতার সেই কথাটি মনে রাখতে হবে, ৭ কোটি বাঙালিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবা না। আর এখন তো আমরা ১৬ কোটি। মুষ্টিমেয় দালাল হয়তো থাকতে পারে কিন্তু এই বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবে না।


জনপ্রিয় অনলাইন : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পুলিশ গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। এরপরেই পুলিশি তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রায় গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে ছাত্র বিক্ষোভ।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংহতি মিছিলের পরে সেখানেও শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের। এর জের ধরে মধ্যরাতেই গর্জে ওঠে হায়দরাবাদের মাওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সংঘর্ষের পর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খালি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ প্রধান জানান, সোমবার সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে।
পুলিশ সুপার ওপি সিং বলেন, “আমরা আজ বিশ্ববিদ্যালয় খালি করিয়ে দিচ্ছি, সমস্ত শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেব।
জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আহ্বানে দিল্লির পুলিশ সদর দফতরের বাইরে কয়েকশ মানুষের জড়ো হয়, সেখানেও বিক্ষোভ করে তারা। রোববার সন্ধ্যায় জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিল ক্রমেই সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ভাঙচুর চালায় ও যানবাহন জ্বালিয়ে দেয়। সেই সময়েই পুলিশ এলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাঁধে শিক্ষার্থীদের।
লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে। যদিও পরে আটক করা সব শিক্ষার্থীকেই ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মধ্যরাতে হায়দরাবাদের মাওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ মিছিল করে। এই বিক্ষোভের ছোঁয়া লাগে কলকাতাতেও। মধ্যরাতে মিছিল করে ঘটনার প্রতিবাদ করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। মওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানায়।
জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে, অসংখ্য মানুষ শীতকে উপেক্ষা করে মধ্যরাতেই দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের বাইরে জড়ো হন। পুলিশি সদর দফতরের বাইরের মূল রাস্তাটি অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান প্রতিবাদকারীরা। সেই সময় পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় সেই জন্যে আগাম সতর্কতা স্বরূপ সেখানে সমস্ত প্রস্তুতি পুলিশ নিয়ে রেখেছিল বলে জানা যায়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে তিনটের দিকে সমস্ত শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরেই দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের বাইরের বিক্ষোভকারী জনতাও ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ।
এই বিক্ষোভের আঁচ প্রথম লাগে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে ছাত্ররা মিছিল করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনায় দশ জন পুলিশ ও প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সেই সময়েই পুলিশ ছাত্রদের হোস্টেল খালি করে দেওয়ার কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে। ওই মিছিল যন্তর মন্তর নামক জায়গায় এসে শেষ হবে বলে ঠিক ছিল; কিন্তু সেই সময়েই ওই বিক্ষোভকারীরা ভাংচুর শুরু করে। জনতা-পুলিশ সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এবং কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আহত হন বেশ কিছু পুলিশ কর্মী।
পরে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ প্রক্টর ওয়াসিম আহমেদ খান বলেন, ‘কোনও আগাম অনুমতি না নিয়েই পুলিশ জোর করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। আমাদের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয় এবং ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।
এদিকে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা চিন্ময় বিসওয়াল এনডিটিভিকে জানান, উন্মত্ত জনতা পাথর ছুঁড়তে শুরু করলেই পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোথা থেকে এই হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলছে তা খতিয়ে দেখতেই সেখানে প্রবেশ করি।


জনপ্রিয় অনলাইন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে হবে সবার স্বার্থেই। এটা বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের যা যা করা প্রয়োজন, সবই করা হবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে শতাধিক ম্যানপাওয়ার এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। 
সোমবার স্পেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সম্প্রতি সময়ে সাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে প্রবেশ করার সময় কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ যাতে এভাবে অবৈধ পথে না আসে, সেজন্য আত্মীয়-স্বজন কাউকেই আপনারা এ পন্থা গ্রহণে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করবেন না। যারা করবেন, তাদেরকেও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো. শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, ‘ইরেগুলার মাইগ্রেশনএ যারা থাকবেন, তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। কারণ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন গুটি কয়েক বাংলাদেশিদের জন্য- সেটা কয়েক শহতে পারে, হাজারো হতে পারে; তাদের জন্য এক কোটি প্রবাসীর ভবিষ্যতকে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারি না।
এর আগে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় স্পেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে বিজয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি তার বক্তব্যে দলমত নির্বিশেষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করার জন্য উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ এখন কেবল পৃথিবীর তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর নয়, দ্বিতীয় এবং প্রথম বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের জন্য রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুসম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য চলাকালীন সময়ে অনেকে ভেবেছিল, সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের হজ পালন বোধহয় বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দূরদর্শিতায় সৌদি আরবই প্রতিবছর শেখ হাসিনাকে দুবার দেশটি ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের কাজের আরো ব্যাপ্তি হয়েছে।
মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাজ করেছেন ১০ বছর আগে, সেটা ইউরোপের অনেক দেশে এখনো অনেক দূরের পথ। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নিহত তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি স্পেন প্রবাসীসহ সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।
এসময় উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যেকেই এক একজন রাষ্ট্রদূত। স্প্যানিশদের কাছেও বাংলাদেশকে যথাযথভাবে তুলে ধরার দায়িত্বও আপনাদের। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাসবাদ দমন, কৃষি ক্ষেত্র, আইটি সেক্টরসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়া ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য সকল প্রবাসীদের অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান ও মিনিস্টার এম হারুন আল রাশিদের পরিচালনায় আয়োজিত বিজয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন দূতাবাস কর্মকর্তা এ এস এম রেজাশাহ পাহলভী। পরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র  প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করেন দূতালয় প্রধান ও মিনিস্টার এম হারুণ আল রাশিদ, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মো. রেদওয়ান আহমেদ ও ফার্স্ট সেক্রেটারি (লেবার উইং) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।
বিজয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি তাহসিনা আফরিন শারমিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, স্পেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

সুত্র :বাংলাদেশ প্রতিদিন ।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget