2019-06-30


আফাজ জনি : প্রবাসে মুসলমানদের ধর্মীয় কর্মকান্ড, মসজিদ পরিচালনা এবং স্থানীয় স্প্যানিশদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে বার্সেলোনার বাংলাদেশী দ্বারা পরিচালিত মসজিদ দারুল আমাল আয়োজন করে খরনাদা দে পুয়েরতাস আবিয়েরতাস (ওপেন ডে)।
কাতালোনিয়ার ইসলামিক ইউনিয়ন কমিশনের সহযোগিতায় ২৮শে জুন মসজিদ সড়ক ভিস্তালেগরে দু’ঘন্টার জন্য বন্ধকরে সড়কের উপরে বসানো হয় পিঠাপুলি থেকে সমস্থ বাংলাদেশী মুখরোচক খাবার। এ খাবারগুলো প্রতিবেশী মুসলীম, ননমুসলিম এবং আগত অতিথিদের জন্য উন্মোক্ত রাখা হয়। আগতদের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি মসজিদ পরিদর্শনেরও সুযোগ করেন দেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি।

পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মাসরুর আহমেদের পরিচালনায় এবং সভাপতি হাবিবুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে  স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, সিটি কাউন্সিল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারের ইমিগ্রেন বিষয়ক সম্পাদক কারলেস মাসিয়ান, ধর্মীয় সম্পাদক জরদি মরেরাস,  কাতালোনিয়ার ইসলামিক ইউনিয়ন কমিশনের সভাপতি মোহাম্মেদ গাইদউনি, অনারারি কাউন্সিলর রামন পেদ্রো প্রমূখ। আগত অতিথিরা ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম আখ্যায়িত করে বার্সেলোনায় ইসলাম ধর্ম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।


মো.ছালাহ উদ্দিন প্যারিস থেকে ফিরে : মুক্তি সংগ্রামের চেতনার ধারক ও বাহক সর্ব ইউরোপীয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন তাদের মৌলিক আয়োজন  ত্রৈ-মাসিক পাঠ চক্র  আনুষ্ঠানিক যাত্রা ফ্রান্সে শুরু করেছে। শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির নগরী ফ্রান্সে এ উপলক্ষে   বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।গত ১ জুলাই প্যারিসের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যা ৭টায়  সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মো.ছালাহ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও   সাধারণ সম্পাদক আলিম উদ্দিন সুমন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৫২বাংলা টিভির সম্পাদক ও কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি। প্রধান আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক আলি হোসেন (আলি)।
প্রধান অতিথি ৫২বাংলা টিভি সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম অভি বলেন, হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর সাথে জড়িতরা মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি প্রজন্ম। বাংলাদেশের হীরন্ময় ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে লালন এবং এর আদর্শিক চিন্তা, চেতনায়  দেশে -বিদেশে পাঠচক্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য চর্চায় কাজ করছে। বর্তমান সময়ে খুবই ইতিবাচক।
 তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশকে আলোকিতভাবে তুলে ধরতে এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মদের কাছে পজিটিভ বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রয়াস হতে পারে পাঠচক্রের অন্যতম কাজ। প্রবাসে বাংলাদেশকে যারা নানাভাবে উজ্জ্বল  উপস্থাপন করছেন, তাদের নিয়েও পাঠচক্র কাজ করা উচিত বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযুদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মদের কাজে মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস তুলে ধরা  জরুরী। তাহলে,  তাদেরর রুর্ট্রসকে না ভুলে তারা বাংলাদেশকে  ভালোবাসবে। প্রবাসে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য পাঠ ও এর চর্চাই পারে  দেশক ভিন্ন জাতিসত্তার কাছে আলোকিত ভাবে প্রকাশ করা।
বীর মুক্তিযুদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল  ত্রৈ মাসিক পাঠ চক্রের জন্য তার পরিচালিত বাংলা স্কুলের  অফিস ব্যবহারের আহবান জানিয়ে বলেন, সর্ব ইউরোপীয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর যে কোন কাজে আত্নরিকভাবে সর্বাত্নক সহযোগিতা থাকবে।
ভূমিকা বক্তব্যে সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মো.ছালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাঠ চক্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং চর্চার প্রতি প্রধানত গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়াও প্রবাসে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি তুলে ধরতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন  ফ্রান্স যুবলীগ নেতা সুমন আহমদ, ফরহাদ হোসেন , রুবেল আহমদ। ফ্রান্স আওয়ামী লীগ এর জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মাসুম আহমদ,সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর সহ সভাপত আজাদ আহমদ,ফ্রান্স ছাত্রলীগ নেতা মাসুম আহমদ, নাহিয়ান আহমদ,মাসুদ আহমদ,সুমন আহমদ প্রমুখ।
বক্তাগণ সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর নীতি ও আদর্শ মেনে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাংলাদেশকে  তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


মিরন নাজমুল : স্পেনের বার্সেলোনায় একমাত্র বাংলা স্কুলের সমাপনী (বার্ষিক) পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গত ৪ ও ৫ জুলাই এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। শিশু শ্রেণীর ইউনিটসহ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর মোট ৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বাংলা, ইংরেজি পাঠ্যবইসহ সামাজিক শিক্ষা, ধর্মশিক্ষা, বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংবলিত বাংলা স্কুল কর্তৃপক্ষের তৈরী সিলেবাস অনুসারে পাঠদানের পর এই সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বার্ষিক পরীক্ষায় মোট ১০০ নাম্বারের পরীক্ষার মধ্যে বাংলায় ৪০ ও ইংরেজিতে ৪০ নাম্বারের পরীক্ষা এবং ২০ নাম্বারের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যসহ সামাজিক শিক্ষাসহ বাংলা ভাষায় কথা দক্ষতাও যাচাই করা হয়। বার্ষিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে বাংলা স্কুলের শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাতালিকা নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরের ন্যয় এবারও আগামী ২১ জুলাই বার্ষিক শিক্ষাসফর ও বনভোজন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার প্রদান করা হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ উক্ত শিক্ষা সফর ও বনভোজন অনুষ্ঠানে সকল শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে বাংলা স্কুলকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দান করার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ জানান।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget