2019-02-24

মিরন নাজমুলঃ গত ২৭ ফেব্রুয়ারী বুধবার স্পেনের বার্সেলোনায় '৫২ বাংলা টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের স্থানীয় একটি হলরুমে রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও কেক কাটার মাধ্যমে লন্ডন থেকে প্রচারিত অনলাইনভিত্তিক এই টিভির ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
টিভি চ্যানেলটির বার্সেলোনা প্রতিনিধি মোঃ ছালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সংবাদ পাঠিকা জিনাত শফিকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সারি হারুন আল রাশিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এন কাতালোনিয়া সংগঠনের সভাপতি মাহারুল ইসলাম মিন্টু, বার্সেলোনার বাংলা স্কুলের সভাপতি আলাউদ্দিন হক নেসা, স্পেন-বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফাজ জনি, অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও স্পেন-বাংলা প্রেসক্লাবের প্রথম সদস্য মিরন নাজমুল, মহিলা সমিতি বার্সেলোনার সভাপতি মেহেতা হক জানু, বন্ধু সুলভ মহিলা সংগঠন বার্সেলোনার সভাপতি শিউলি আক্তার।
স্পেন-বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক এম লায়েবুর রহমানের কোরআন তেলাওয়াতে মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বিশেষ অতিথিবৃন্দসহ অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা সমিতি বার্সেলোনার সভাপতি শাহ আলম স্বাধীন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এন কাতালোনিয়ার  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিক খান, কাতালোনীয়া যুবলীগের সভাপতি কাজী আমির হোসেন আমু,
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন কাতালোনিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, গোলাপগঞ্জ এসোসিয়েশনের সভাপতি সাব্বির আহমদ দুলাল, প্রবাস কথা এর স্পেন প্রতিনিধি মোঃএখলাস মিয়া, বার্সেলোনা বাংলা স্কুলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, গোলাপগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপদেস্টা জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুহেল, ভয়েস অব বার্সেলোনার সভাপতি ফয়সল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক এ. আর. লিটু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিপলু রাজ, বার্সেলোনা পুজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী, স্পেন-বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য জাফার হোসাইন ও সালেহ আহমদ সোহাগ, স্পেন ছাত্রলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসাইন রায়হান, বার্সেলোনা যুবদল সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক প্রমূখ।

জাফার হোসাইনঃ সম্প্রতি একুশ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বার্সেলোনার বিভাজন আরো প্রকট ভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে প্রথমে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল সেখান থেকে বেরিয়ে এসে কমিউনিটির দায়িত্বশীলরা দফায় দফায় দ্বিপাক্ষিক সভা করে কোন রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই একুশ উদযাপন করেছেন। 
প্লাসা পেদ্রোতে স্থায়ী শহীদ মিনার ফলক বসানোর মুহূর্ত
এজন্য কমিউনিটির নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশী কমিউনিটির সবাই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। গত ২০ ফেব্রুয়ারী রাতের একাধিক বৈঠকে নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে ঐক্যমতের ভিত্তিতে এখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটিকে বিবেধ ভুলে একটি  সংগঠনে রূপান্তরিত করার জন্য কাজ করতে সম্মতি দেন। একুশ উদযাপনের দিন তারা বক্তব্যের মাধ্যমেও ঐক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তবে এখনো স্পষ্ট হয়নি, কিভাবে বা কারা এই ঐক্যের জন্য জন্য কাজ করবেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই ঐক্যের কাজ সমাধা হবে। ঐক্যের প্রশ্নে এখানকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ঐক্যের প্রশ্নে খুবই ইতিবাচক ধারণা পোষন করেছেন। বার্সেলোনার সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশীরা মত দিয়েছেন, এমন ঐক্য হলে সমাজে সংগঠনের মাধ্যমে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরীর চেষ্টা করে সেটা বন্ধ হবে এবং আমাদের জাতীয় অনুষ্ঠান, মসজিদ, উপাসনালয়, বাংলা স্কুল এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব বাংলাদেশীরা সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করবে। 
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ঐক্যের প্রশ্নে কতোটা প্রস্তুত বার্সেলোনা? 
জানা গেছে, একুশের পরের দিন ঐক্যৈর প্রশ্নে বৈঠক হয়। কিন্তু প্রাথমিক বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। বিষয়টি হতাশার। যারা সত্যি সত্যি ঐক্যের প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে চান, তারা এই হতাশা নিয়ে বসে থাকবেন না বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।
অস্থায়ী শহীদ মিনার-বার্সেলোনা, ২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯
তবে ঐক্যের জন্য কারা কাজ করবেন এবং কিভাবে করবেন –এমন একটি দিক নির্দেশনামূলক তালিকা প্রস্তুত করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা না করা হলে কমিউনিটিকে এক করার প্রশ্নে যেসব নেতৃবৃন্দ ওয়াদাবদ্ধ হয়েছেন তাদের কথা শুধু কথাই থেকে যাবে। 

আর এভাবে চলতে থাকলে, সামনের আবার কোন জাতীয় অনুষ্ঠানে নতুন ইস্যুতে কমিউনিটিতে বিভাজন সৃষ্টি হবে। যেটা আর হতে দেয়া অবশ্যই উচিত না। আর এই বাস্তবতা সামনে রেখে ঐক্যের প্রশ্নে বার্সেলোনার বাংলাদেশী কমিউনিটিকে প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget