মিরন নাজমুলঃ বার্সেলোনায় বাংলাদেশী কমিউনিটির একুশ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কামরুল মোহাম্মদ দুবৃত্তকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। আজ ১৮ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে আনুমানিক আড়াইটার দিকে বাংলাদেশীদের ১০/১২ জনের একটি দল একুশ উদযাপনের বিষয়ে হুমকিধামকি দিয়ে কলার ধরে টানাহেচড়া করে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ডান হাত ভেঙ্গে যায় এবং শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়ে আহত হন। পরে এম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতাল নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মোহাম্মদ কামরুল একুশ উদযাপনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনা সভা করে রাতে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ১০/১২ জনের বাংলাদেশী একটি দল তার পথ রোধ করে এবং তারা সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। কামরুলকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বলতে থাকে তারা এই একুশ উদযাপন পরিষদ মানে না। তিনি কেন উদযাপন পরিষদের সভা ডেকেছেন --সেই বিষয়ে কৈফিয়ত চান। এ সময় দুবৃত্তরা তার হাতে থাকা একুশ উদযাপন পরিষদের প্রস্তুতি সভার সিদ্ধান্ত ও সভার রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিস্থিতির প্রতিকূলতা বিবেচনা করে মোহাম্মদ কামরুল এই সময় তাদের দু'একজনকে জড়িয়ে ধরে এবং হাত জোড় করে তাকে অপদস্ত করা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি যে মস্তিষ্কের স্নায়ুগঠিত রোগে অসুস্থ জীবন যাপন করছেন সেটাও অবগত করেন। কিন্তু দুবৃত্তকারীরা তার প্রতি সহনশীল না হয়ে তার উপর চড়াও হয়ে তাকে আহত করে। 
আজ সকালে এই ঘটনা জানাজানি হলে বার্সেলোনায় বাংলাদেশী কমিউটিতে এ হামলার প্রতিবাদে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে ক্ষোভে ফেঁটে পড়ে হামলার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। মোহাম্মদ কামরুলের উপর এই হামলার প্রতিবাদে আজ সন্ধ্যায় কমিউনিটির সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বার্সেলোনায় প্রতিবাদ সভা ডাকা হয়েছে। 
এ ব্যপারে কামরুল মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারী বার্সেলোনার সকল সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সভায় আমাকে একুশে মেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি অসুস্থ্য শরীর নিয়ে একুশ উদযাপনের সিংহভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেবার জন্য বার্সেলোনা পৌরসভার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মেইল করেছি এবং তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রস্তুতির ঠিক এই চূড়ান্ত পর্যায়ে আমি যেভাবে দুবৃত্তদের লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি এতে আমি চরম হতাশ। তিনি আক্ষেপ ও কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলেন, আমি চাইনি তারপরও সব সংগঠন জোর করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে বলেই আমি দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু এখন মনে হয়, ভালো কাজে এগিয়ে আসাটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এই জটিল স্নায়ুরোগে অসুস্থ্য মানুষ হিসেবে তাদের দ্বারা যেভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে অপধস্ত হয়েছি। সেটা আমার জন্য মৃত্যুর কারণও হতে পারতো। আমার সেরকমই মনে হয়েছিল সে সময়।
উল্লেখ্য, কামরুল মোহাম্মদ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক বলে বহুল পরিচিত। এই হামলার যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।