জাতির পিতার ৯৯তম জন্মবার্ষিকী আজ


জনপ্রিয় অনলাইন : আজ ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও শততম জন্মদিন। জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদযাপন করবে। দিনটিকে জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস হিসেবে পালন করা হবে। দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াতেও প্রতিবারের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার দশটায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণসহ আলোচনাসভা ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেবেন। এছাড়াও সেখানে সরকারিভাবে পালিত নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং পরের দিন ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেক কাটা, চিত্রাঙ্কন ও বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অনুরূপ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  তাঁর জীবদ্দশায় জন্মদিন উপভোগের খুব একটা সুযোগ পাননি। কারণ, সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বয়ে বেড়ানো সর্বকালের সেরা এই বাঙালির বেশিরভাগ জন্মদিন কেটেছিল কারাগারে। পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রায় ১৩ বছরের মতো কারাগারে কাটাতে হয়। তিনি মোট ৪ হাজার ৬৮২ দিন জেলে কাটিয়েছেন। বিভিন্ন দফায় কারাগারে থাকাকাল তাঁর ৮টি জন্মদিন কারাগারেই কেটেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের এই দিনে তদানীন্তন ভারত উপমহাদেশের পূর্ববঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতার নাম সায়েরা খাতুন। পরিবারের চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তাঁদের তৃতীয় সন্তান। সেদিনের টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করা ‘খোকা’ নামের সেই শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে উঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ ও জনগণের প্রতি অসাধারণ মমত্ববোধের কারণেই পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু। কিশোর বয়সেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। এরপর থেকে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রামী জীবনের অভিযাত্রা। বঙ্গবন্ধু তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ গঠন করেন। ১৯৪৭-এ দেশ বিভাগ ও স্বাধীনতা আন্দোলন, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে ’৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে পরিণত হন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নাম চির ভাস্বর হয়ে আছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর আগে ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স মাঠে এক ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার ডাক দেন বাঙালি জাতির প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু নির্দেশনায় দীর্ঘ ৯ মাস সংগ্রামের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে হাল ধরেন তিনি। শুরু করেন অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নতুন সংগ্রাম। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ তাঁর নেতৃত্বে যখন মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করল, ঠিক সেই সময় দেশের ইতিহাসে নেমে এলো এক অমানিশার অন্ধকার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাত্রিতে বিশ্বাসঘাতকদের তপ্ত বুলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।

Labels:

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget