2019


সাইফুল আমিন,মাদ্রিদ : প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের কৃষ্টিকালচার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ও প্রবাসে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি নিতে এই আনন্দ বনভোজন। বনভোজন এর চিত্রে ফুটে উঠেছিল এক নতুন বাংলাদেশ,হৈ হুল্লোড়,উত্তাল সমুদ্রে সাতার কাটা থেকে শুরু করে নানান ধরনের খেলাধুলায় মেতে উঠেছেন সবাই,কেউ বা আবার নানা অঙ্গভঙ্গিতে সেল্ফি তোলায় ব্যস্ত, কেউ কেউ ভিডিও কলে আনন্দ শেয়ার করছেন দেশে থাকা প্রীয়জনদের সাথে, যেন আনন্দের শেষ নেই,বলছি ইতিহাস ঐতিহ্যের সংগঠন হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন এর বনভোজনের কথা।
অভিবাসী বান্ধব দেশ হিসেবে পরিচিত দেশ স্পেন,প্রায় দুই যুগ ধরে এখানে বসবাস করে আসছেন প্রবাসী বাংলাদেশরা, সামাজিক দায়বদ্ধতায় গড়ে তুলেছেন নানা সামাজিক সংগঠন,তেমনি ভাবে ইতিহাস ঐতিহ্য ও  ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সংগঠন হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন ইন স্পেন,ইউরোপের তীব্র গরমে যখন জন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে,দুরপ্রবাসে ক্লান্তির অবসানে একটু সুস্থি পাওয়ার তাগিদে,হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন আয়োজন করে এক আনন্দ বনভোজন।এতে মাদ্রিদের সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত থেকে বনভোজন কে আনন্দ মুখরিত করে তুলেন। স্থানীয় সময় রাত ২টায় মাদ্রিদের এম্বাহাদর  থেকে দুইটি বাস যোগে রওয়ানা করেন স্পেনের সাগর কন্যা খ্যাত ভ্যালেন্সিয়া সমুদ্র সৈকতে। সকালের নাস্তা সেরেই সবাই আনন্দে মেতে উঠেন,বিশাল সমুদ্র জলে স্নান করা,ফুটবল,হাডুডু,ভাবীদের বালিশ খেলা,সহ নানা ধরনের আনন্দে মেতে উঠেন সবাই, ২য় পর্বে মধ্যাহ্নভোজ শেষ করার কিচ্ছুক্ষণ পড় আবার  নিজের মত করে সবাই আনন্দ মেতে উঠেন।
এসোসিয়েশন এর উপদেষ্টা মুজাক্কির মুত্তাকিন আনন্দ ভ্রমনে যারা উপস্থিত হয়েছেন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,মাদ্রিদের প্রবাসীদের একটি দিনের জন্যে আনন্দ দেয়ার লক্ষে আমরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বনভোজন এর আয়োজন করেছি,ইনশাআল্লাহ এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর বলেন, আনন্দ বনভোজনে উপস্থিত প্রবাসীরা হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,কর্মব্যস্ত জীবনে যখন হাফিয়ে উঠেছিলাম,সেই মুহুর্তে এই একটি দিনের আনন্দ পেয়ে যেন সব ভুলেগেছি,আমরা আশাকরি প্রতিবছরই হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন প্রতিবছরই এমন আনন্দ বনভোজনের আয়োজন করে থাকবে। পড়ে খেলাধুলায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরনী করা হয়। দিনব্যাপী সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ ও বনভোজনের আনন্দ উপভোগ করতে করতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।একটি দিনের আনন্দের শেষে সবাই মাদ্রিদে ফিরে আসেন। আনন্দ বনভোজনে অংশগ্রহণকারীরা নিয়ম-শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বনভোজনে উপস্থিত ছিলেন,সংঘটন এর সিনিয়র সহ সভাপতি আব্বাস উদ্দিন,সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান,অল ইউরুপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল আমিন,জুয়েল আহমেদ মালেক,জাকির হুসাইন,রুবেল রানা সহ স্পেনের সর্বস্তর এর জনগন।


মোঃ ছালাহ উদ্দিনঃ ইউরোপ সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের সম্ভাব্যচেয়ারম্যান পদপ্রার্থী  সাব্বির উদ্দিনকে  সংবর্ধনা প্রদান করেন স্পেনের বার্সেলনার প্রবাসী মুড়িয়া ইউনিয়ন বাসী। 

বার্সেলোনার একটি অভিজাত রেষ্ট্রুরেন্টে বুধবার (১৭ই জুলাই) কমিউনিটি এবং বিয়ানীবাজারের প্রবীন ব্যক্তিত্ব আবুল বাসিত কয়ছরের সভাপতিত্বে এবং ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় এ সভা।  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের সাবেক ছাত্র নেতা সাংবাদিক মোঃ ছালাহ উদ্দিন। এছাড়াও মুড়িয়া ইউনিয়ন বাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আব্দুল কাদির,  ব্যবসায়ী আলিম উদ্দিন, সাইদুর রহমান আয়নুল, হুমায়ুন আহমদ, আলী হোসেন, শাহিন উদ্দিন, মুজ্জাকির আলী, ইসলাম উদ্দিন,হাসান আহমদ, জসিম উদ্দিন, রাজন আহমদ, আজমল আহমদ, পারভেজ আহমদ, লোকমান হোসেন প্রমুখ।

প্রবাসের ব্যস্ততার ফাকে সংবর্ধনা প্রদান করায়সংবর্ধীত অতিথি সাব্বির উদ্দিন বলেন, আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ, বিগত তিনবার আমার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারিনি। যদি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারি তাহলে আমার ইউনিয়নের সকল সাধারণ মানুষের সেবার পাশাপাশি বিশেষ করে প্রবাসীদের সকল ধরনের কাজ সহজভাবে এবং আন্তরীকতার সাথে করবো এই ওয়াদা করছি।
আলোচনা সভা শেষে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।

মিরন নাজমুলঃ স্পেনের বার্সেলোনায় স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য সিটি করপোরেশন স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবকে আশ্বাস প্রদান করেছে। আজ ১৭ জুলাই (বুধবার) স্পেন বাংলা প্রেসক্লাব বার্সেলোনা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মত বিনিময় সভা করেছে। সভায় সিটি কাউন্সিলর নাতালিয়া মারটিনেস রোদ্রিগেজ ও কাউন্সিলর জরদি রাবাসসাসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফাজ জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন ও সভার সমন্বয়ক কামরুল মোহাম্মদসহ অন্যান্য নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিটি করপোরেশনকে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মানের জন্য আনুষ্ঠানিত আবেদন পত্র পেশ করা হয়। 
গত দুই সপ্তাহ ধরে মহান একুশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাসে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্টতা এবং বাংলাদেশে একুশ উদযাপনের জন্যে শহীদ মিনারের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য সমন্বয়ক কামরুল মোহাম্মদ ও স্পেন বাংলা প্রেসক্লাব বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য উপাত্ত প্রস্তুত করেন। এর মধ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিলো প্রবাসী সাংবাদিক মিরন নাজমুলের তৈরী করা বিশেষ ভিডিও চিত্র। ভিডিও চিত্রে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠানে প্রস্তুতিসহ একুশ সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে নেপথ্যে ছিলো স্প্যানিশ ভাষায় গাওয়া ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’ গানটির প্রথম অন্তরা। স্প্যানিশ ভাষায় একুশের গান শুনে সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তাবৃন্দ একুশ সংক্রান্ত পুরো প্রেজেন্টেশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবকে ধন্যবাদ জানান।
পরে উপস্থিত সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ আশ্বাস দেন, শহরের সিউতাদ ভেইয়াতে সিটি করপোরেশন সৌধ নির্মাণের জন্য পুনরায় অনুমতি দিলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। বার্সেলোনায় বাংলাদেশী কমিউনিটির ‘প্রাণের দাবি’ একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশী কমিউনিটি বিভিন্নভাবে দাবি করে আসছিলো। কিন্তু বার্সেলোনা শহরের বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই এলাকা সিউদাদ ভেইয়াতে আপাততঃ কোন ধরণের সৌধ নির্মাণের অনুমতি না থাকায় এতোদিন শহীদ মিনার প্রশ্নে সিটি করপোরেশন বিশেষ ইতিবাচক আশ্বাস দেয়নি। দাবির প্রেক্ষিতে শুধু প্লাসা পেদ্রোতে গত ২১ ফেব্রুয়ারীর আগে একটি একুশের শহীদ মিনারের ছবি ও বাংলা লেখা সম্বলিত একটি স্থায়ী প্লাকা (সিল্ড) স্থাপন করে। কর্মকর্তারা আরো জানান, সিউতাদ ভেইয়াতে ভবিষ্যতে কোন প্রকার সৌধ নির্মাণের অনুমাতি যদি নাও আসে তাহলে সিউতাদ ভেইয়ার বাইরে হলেও মহান ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার সম্মানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
সিটি করপোরেশনের এই ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশী কমিউনিটি একান্ত দাবী এই স্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী বাস্তবায়িত হবার ক্ষেত্রে হতাশার মধ্যে আশার আলো সঞ্চারিত হলো বলে মনে করছেন বার্সেলোনায় বসবাসকারী বাংলাদেশীরা। 


এম লায়েবুর রহমানঃ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কাতালোনীয়া (বার্সেলোনা) আয়োজন করে ঈদ পূনর্মিলনী ও কর্মী সভা । রোববার (৭ই জুলাই ২০১৯)  বার্সেলোনার স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কাতালোনীয়া আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি কাজী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বিজয় ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছালাহ উদ্দিন এর যৌত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতালোনীয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শাহ আলম স্বাধীন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেন আওয়ামীলীগ নেতা মুহিবুল হাসান কয়েস এবং সান্তা কলমা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি নাজমুল আলম শফি।
এছাড়াও যুবলীগের মিলনমেলায় অন্যানের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সান্তাকলমা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোকলেছুর রহমান নাসিম, সান্তা কলমা আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কাতালোনীয়ার সহ সভাপতি হানিফ শরিফ, কাতালোনীয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, কাতালোনীয়া আওয়ামী যুলীগের উপদেস্টা বিশিস্ট ব্যাবসায়ী করিম উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কাতালোনীয়া যুবলীগ নেতা জাফর হোসাইন, যুবলীগ নেতা উজ্জ্বল হাসান, কাতালোনীয়া যুবলীগের সহ সভাপতি নুরু ভুইয়া, কাতালোনীয়া যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান, কাতালোনীয়া যুলীগ নেতা রবিউল হাসান, যুবলীগ নেতা পেয়ার আলী, যুবলীগ নেতা ইদ্রিস হাওলাদার, যুবলীগ নেত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জিনাত সুলতানা, কাতালোনীয়া যুবলীগ নেতা মুকিত হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি কাতালোনীয়া যুবলীগের প্রশংসা করে বলেন বার্সেলোনায় একমাত্র সংগঠন কাতালোনীয়া যুবলীগ তারা সবসময় বাংলাদেশের জাতীয় সকল দিবস সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর আয়োজন করে থাকে। এরকম কোন সংগঠন সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশকে প্রবাসে উপস্থাপন করতে পারেনা, সে জন্য কাতালোনীয়া যুবলীগের সকল নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
কাতালোনীয়া যুবলীগের সভাপতি কাজী আমির হোসেন আমু তার বক্তব্যে বলেন যুবদের মেধা শক্তিই সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। আমরা প্রবাসে থেকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে । কারন আমাদের সরকার "জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের সরকার, আর এই উন্নয়নের অংশীধার আমরা প্রবাসীরাও ।আমরা প্রবাস থেকে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নের চাকা শক্তিশালী করতেছি। আমাদের নেত্রীর সৎ ও সাহসীক নেতৃত্বের দেশ আজকে একটি মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে পরিণত হয়েছে এবং আজ দেশের প্রতিটা মানুষ শান্তিতে আছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।
এসময় অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা মুক্তার আলী, যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান কাসেম, যুবলীগ নেতা শিহাব আহমদ, যুবলীগ নেতা সাবেল আহমদ, যুবলীগ নেতা লিমন আহমদ, যুবলীগ নেতা রাসেল আহমদ প্রমুখ।
এছাড়াও  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ পরিবারের মহিলা শিশু সহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
আলোচনা সভা শেষে প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।


আফাজ জনি : প্রবাসে মুসলমানদের ধর্মীয় কর্মকান্ড, মসজিদ পরিচালনা এবং স্থানীয় স্প্যানিশদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে বার্সেলোনার বাংলাদেশী দ্বারা পরিচালিত মসজিদ দারুল আমাল আয়োজন করে খরনাদা দে পুয়েরতাস আবিয়েরতাস (ওপেন ডে)।
কাতালোনিয়ার ইসলামিক ইউনিয়ন কমিশনের সহযোগিতায় ২৮শে জুন মসজিদ সড়ক ভিস্তালেগরে দু’ঘন্টার জন্য বন্ধকরে সড়কের উপরে বসানো হয় পিঠাপুলি থেকে সমস্থ বাংলাদেশী মুখরোচক খাবার। এ খাবারগুলো প্রতিবেশী মুসলীম, ননমুসলিম এবং আগত অতিথিদের জন্য উন্মোক্ত রাখা হয়। আগতদের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি মসজিদ পরিদর্শনেরও সুযোগ করেন দেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি।

পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মাসরুর আহমেদের পরিচালনায় এবং সভাপতি হাবিবুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে  স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, সিটি কাউন্সিল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারের ইমিগ্রেন বিষয়ক সম্পাদক কারলেস মাসিয়ান, ধর্মীয় সম্পাদক জরদি মরেরাস,  কাতালোনিয়ার ইসলামিক ইউনিয়ন কমিশনের সভাপতি মোহাম্মেদ গাইদউনি, অনারারি কাউন্সিলর রামন পেদ্রো প্রমূখ। আগত অতিথিরা ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম আখ্যায়িত করে বার্সেলোনায় ইসলাম ধর্ম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।


মো.ছালাহ উদ্দিন প্যারিস থেকে ফিরে : মুক্তি সংগ্রামের চেতনার ধারক ও বাহক সর্ব ইউরোপীয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন তাদের মৌলিক আয়োজন  ত্রৈ-মাসিক পাঠ চক্র  আনুষ্ঠানিক যাত্রা ফ্রান্সে শুরু করেছে। শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির নগরী ফ্রান্সে এ উপলক্ষে   বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।গত ১ জুলাই প্যারিসের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যা ৭টায়  সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মো.ছালাহ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও   সাধারণ সম্পাদক আলিম উদ্দিন সুমন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৫২বাংলা টিভির সম্পাদক ও কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি। প্রধান আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক আলি হোসেন (আলি)।
প্রধান অতিথি ৫২বাংলা টিভি সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম অভি বলেন, হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর সাথে জড়িতরা মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি প্রজন্ম। বাংলাদেশের হীরন্ময় ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে লালন এবং এর আদর্শিক চিন্তা, চেতনায়  দেশে -বিদেশে পাঠচক্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য চর্চায় কাজ করছে। বর্তমান সময়ে খুবই ইতিবাচক।
 তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশকে আলোকিতভাবে তুলে ধরতে এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মদের কাছে পজিটিভ বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রয়াস হতে পারে পাঠচক্রের অন্যতম কাজ। প্রবাসে বাংলাদেশকে যারা নানাভাবে উজ্জ্বল  উপস্থাপন করছেন, তাদের নিয়েও পাঠচক্র কাজ করা উচিত বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযুদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মদের কাজে মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস তুলে ধরা  জরুরী। তাহলে,  তাদেরর রুর্ট্রসকে না ভুলে তারা বাংলাদেশকে  ভালোবাসবে। প্রবাসে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য পাঠ ও এর চর্চাই পারে  দেশক ভিন্ন জাতিসত্তার কাছে আলোকিত ভাবে প্রকাশ করা।
বীর মুক্তিযুদ্ধা জামিরুল ইসলাম মিয়া জামিল  ত্রৈ মাসিক পাঠ চক্রের জন্য তার পরিচালিত বাংলা স্কুলের  অফিস ব্যবহারের আহবান জানিয়ে বলেন, সর্ব ইউরোপীয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর যে কোন কাজে আত্নরিকভাবে সর্বাত্নক সহযোগিতা থাকবে।
ভূমিকা বক্তব্যে সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মো.ছালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাঠ চক্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং চর্চার প্রতি প্রধানত গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়াও প্রবাসে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি তুলে ধরতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন  ফ্রান্স যুবলীগ নেতা সুমন আহমদ, ফরহাদ হোসেন , রুবেল আহমদ। ফ্রান্স আওয়ামী লীগ এর জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মাসুম আহমদ,সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর সহ সভাপত আজাদ আহমদ,ফ্রান্স ছাত্রলীগ নেতা মাসুম আহমদ, নাহিয়ান আহমদ,মাসুদ আহমদ,সুমন আহমদ প্রমুখ।
বক্তাগণ সর্ব ইউরোপিয়ান হৃদয়ে একাত্তর ফাউন্ডেশন এর নীতি ও আদর্শ মেনে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাংলাদেশকে  তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


মিরন নাজমুল : স্পেনের বার্সেলোনায় একমাত্র বাংলা স্কুলের সমাপনী (বার্ষিক) পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গত ৪ ও ৫ জুলাই এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। শিশু শ্রেণীর ইউনিটসহ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর মোট ৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বাংলা, ইংরেজি পাঠ্যবইসহ সামাজিক শিক্ষা, ধর্মশিক্ষা, বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংবলিত বাংলা স্কুল কর্তৃপক্ষের তৈরী সিলেবাস অনুসারে পাঠদানের পর এই সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বার্ষিক পরীক্ষায় মোট ১০০ নাম্বারের পরীক্ষার মধ্যে বাংলায় ৪০ ও ইংরেজিতে ৪০ নাম্বারের পরীক্ষা এবং ২০ নাম্বারের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যসহ সামাজিক শিক্ষাসহ বাংলা ভাষায় কথা দক্ষতাও যাচাই করা হয়। বার্ষিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে বাংলা স্কুলের শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাতালিকা নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরের ন্যয় এবারও আগামী ২১ জুলাই বার্ষিক শিক্ষাসফর ও বনভোজন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার প্রদান করা হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ উক্ত শিক্ষা সফর ও বনভোজন অনুষ্ঠানে সকল শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে বাংলা স্কুলকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দান করার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ জানান।


কবির আল মাহমুদ, মাদ্রিদ : সংগ্রাম ও অর্জনে গৌরবময় পথচলার ৭০ বছর, গৌরবের অভিযাত্রায় ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে স্পেনে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (২৩ জুন) রাতে দেশটির রাজধানী মাদ্রিদের সোনার রেস্টুরেন্টে কেককাটা, নৈশভোজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্পেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এস আর আই এস রবিনের  সভাপতিত্বে ও মোঃ দুলাল সাফার সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায়  বক্তব্য দেন স্পেন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা জাকির হোসেন, আয়ূব আলী সোহাগ, আব্দুল কাদের ঢালী,একরামুজ্জামান কিরণ, এ কে এম জহিরুল ইসলাম, সায়েম সরকার, জসিম উদ্দিন, রফিক খান, শামীম আহমদ, এম আই আমীন, জালাল হোসাইন, ফতেহ আহমদ, আনোয়ার কবির পরান, সেলিম আহমদ, হোসেন মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশ’ ইতিহাসে এই ৩টি নাম অমলিন, অবিনশ্বর এবং একই সূত্রে গাঁথা। আওয়ামী লীগ মানেই দেশের স্বাধীনতা, স্বাধীন মানচিত্র, স্বাধীন পতাকা। তেমনি খেটে খাওয়া বাঙালির মুখে হাসি ফুটানোর নামও হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
সভাপতির বক্তব্যে এস আর আই এস রবিন বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাস ও আওয়ামীলীগ এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন,৬৬ সালের ৬ দফা, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থান, ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাঙালি জাতির প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগই পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও আওয়ামীলীগই জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অল ইউরোপ আওয়ামীলীগের নব গঠিত কমিটির হাতকে শক্তিশালী করতে স্পেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ও আহবান জানান।

পরে তরুন শিল্পী হানিফ মিয়াজী ও এম আই আমিনের কণ্ঠে দলীয় ও দেশাত্ববোধক সংগীত পরিবেশিত হয়।


জনপ্রিয় অনলাইন : স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন লুইস এনরিক। ব্যাক্তিগত কারণ দেখিয়েই তিনি স্পেন দল ছেড়েছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর গত বছরের জুলাই মাসে এনরিককে দায়িত্ব দিয়েছিল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।
কিন্তু বছর ঘোরার আগেই দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন এনরিকে। চুক্তিতে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের জন্য সাক্ষর করলেও, গত মার্চ থেকেই জাতীয় দলের চেয়ে দূরে ছিলেন এনরিকে। এবার বাধ্য হয়ে পুরোপুরিই ছেড়ে দিয়েছেন দায়িত্ব।
এনরিকে দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন কোচ প্রস্তুত আছে স্পেনের। গত মার্চ থেকে এনরিকের দায়িত্ব পালন করছিলেন তার সহকারী কোচ রবার্ট মোরেনো। এবার মোরেনোই দায়িত্ব নেবেন পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট লুইস রুবিয়ালেস এনরিকের সিদ্ধান্তের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এনরিকে নিজে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। সে ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়েছে। এটা অন্য কেউ কিছু করতে পারবে না। আমাদের শুভকামনা থাকছে তার জন্য। 


জনপ্রিয় অনলাইন : গ্রেফতারের পর গত রোববার রাতে শাহবাগ থানায় অফিসারদের কক্ষেই ঘুমিয়েছেন সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। গতকাল সোমবার সকালে প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাহবুবুর রহমানের কক্ষে সকালের নাস্তাও সেরেছেন।
শাহবাগ থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার এক এসআই জানান, শাহবাগ থানায় ওসি মোয়াজ্জেম বেশ আরামে রাত্রিযাপন করেছেন। অন্য কয়েদিদের সঙ্গে রাত্রিযাপন করতে হয়নি তাকে। তাকে খাবারও পরিবেশন করা হয়েছে আলাদাভাবে।

গতকাল দুপুরে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসলাম জগলুল হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, সাধারণত বন্দিদের প্রথম রাতে আমদানিতে রাখা হয়। পরদিন সকালে তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তবে ওসি মোয়াজ্জেমকে আমদানিতে রাখা হবে না। নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে তাকে আমাদানিতে রাখা হবে না। আমদানিতে সাধারণত বিভিন্ন মামলায় আটকদের রাখা হয়। সেখানে তার পরিচয় পেয়ে কেউ আক্রমন চালাতে পারে।


জনপ্রিয় অনলাইন : বর্ণ্যাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্পেনে সরকারি নথিভুক্ত বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থা ভালিয়েন্তে বাংলাএর ১০ বছর পূর্তি ও ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
শনিবার (১৫ জুন) মাদ্রিদে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা লাভাপিয়েস সংলগ্ন ‘কাসিনো পার্কএর খোলা ময়দানে এ উপলক্ষে গুণীজন সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রিদ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

তিনটি পর্বে ভাগ করা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিলো আলোচনা ও গুণীজন সম্মাননা। ভালিয়েন্তে বাংলাএর সভাপতি মো. ফজলে এলাহীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্টিত আলোচনায় বক্তব্য দেন সেবা সংস্থা সেন্ত্র মাদ্রিদ এর প্রধান কারমেন সেপেদা গারসিয়া, রেড ইন্টার লাভাপিয়েসের সভাপতি মারিয়া খসে তররেস পেরেজ পেপা, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, প্রাক্তন সভাপতি আল মামুন, সিনিয়র সহ সভাপতি আল আমিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, বাংলা স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বেলাল, বৃহত্তর ঢাকা  অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএইচ সোহেল ভূঁইয়া, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি লুৎফুর রহমান, বরিশাল সমিতির উপদেষ্টা মোজাম্মেল হোসেন মনু,  ঢাকা জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল সামাদ, গাজীপুর জেলা অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি মুরশেদুর রহমান তাহের, বৃহত্তর খুলনা বিভাগীয় কল্যাণ সমিতির সভাতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ূম পঙ্কী, সোহেল আহমদ সমসু, আবু জাফর রাসেল, স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাহাদুল সুহেদ, অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আল মাহমুদ, ভালিয়েন্তে বাংলার আফরোজা রহমান, শাওন আহমেদ, তানিয়া সুলতানা, জুলহাস উদ্দিন, মশিউর রহমান, কাউসার মৃধা প্রমূখ।

বক্তারা ভালিয়েন্তে বাংলাএর ১০ বছর পূর্তিতে শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনটিকে অভিবাসী বান্ধব সংগঠনহিসেবে আখ্যায়িত করে আরো বলেন, অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি অভিবাসীদের সহযোগিতায় সংগঠনটি যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা প্রশংসার দাবিদার।
ভালিয়েন্তে বাংলাএর সভাপতি মো. ফজলে এলাহি বলেন, মাদ্রিদে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ভালিয়েন্তে বাংলা। নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে সংগঠনটি এগিয়ে যাচ্ছে নিজস্ব স্বকীয়তা অক্ষুন্ন রেখে। দীর্ঘ ১০ বছরে সংগঠনটি অভিবাসীদের বিনামূল্যে সিটি কর্পোরেশনে ঘরের ঠিকানা নথিভুক্ত করা ও সিটি কার্ড গ্রহণে সহায়তা করা, স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা প্রদান এর পাশাপাশি অভিবাসীদের স্বার্থ নিয়ে আন্দোলনও করে আসছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন বলেন, আমাদের সংগঠন যে কেবল বাংলাদেশি অভিবাসীদের  সহযোগিতা করছে, তা কিন্তু নয়; অন্যান্য দেশের অভিবাসীদেরও আমরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। তিনি ভালিয়েন্তে বাংলাএর ১০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত গুণীজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। সম্মাননা স্মারকপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিবর্গ-  বাংলাদেশ বায়তুল মোকাররম মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার, ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, প্রাক্তন সভাপতি আল মামুন, সিনিয়র সহ সভাপতি আল আমিন মিয়া, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি লুৎফুর রহমান, বৃহত্তর ঢাকা অ্যাসোসিয়শেনের সভপতি সোহেল ভূঁইয়া এবং সাংবাদিকতায় সাহাদুল সুহেদ ও কবির আল মাহমুদ। অভিবাসী বাংলাদেশি ও ভালিয়েন্তে বাংলাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছন যেসব স্প্যানিশ নাগরিক, তাদেরকেও সম্মাননা প্রদান কর হয়। তারা হলেন খরখে গারসিয়া কাস্তানিয়ো, মারিয়া খসে তররেস পেরেজ পেপা, মাইতি জাবালজা কাসলা, নিনেস সেখুদো, দেবোরা আভিলা ও পাবলো কারমোনা পাসকুয়াল।

ভালিয়েন্তে বাংলার সদস্যদের মধ্যে মো. ফজলে এলাহি, রমিজ উদ্দিন, তানিয়া সুলতানা ঝর্ণা, লুনা আলম আঁখি, জামিল চৌধুরী নাহারকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষা কোর্স সম্পন্নকারীদেরকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে শিশু কিশোরদের বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা রাখা হয়। তৃতীয় পর্বে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইংল্যান্ড থেকে আগত শিল্পী নূরজাহান এবং  স্থানীয় শিল্পী লোকমান হাকিম ও মোরশেদ আলম তাহেরের সঙ্গীত উপভোগ করেন সমবেত দর্শকরা।
সুত্র : স্পেন বাংলা নিউজ ডট কম ।


জনপ্রিয় অনলাইন : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল না। মঙ্গলবার দিন অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে সবক'টি কেন্দ্রেই ভোটারের সংখ্যা ছিল অতি নগন্য।

মসুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪নং বুথে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৭ ঘণ্টায় ভোট প্রদান করেন মাত্র ৬ জন ভোটার। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ৯৭৩ জন ভোটারের মাঝে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৪৫৪ জন ভোট প্রদান করেন।
আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে ২৬০৩ জন ভোটারের মাঝে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪৮ জন ভোট প্রদান করেন। পং মসুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯ জন ভোটারের মাঝে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোট প্রদান করেন ৪৫৩ জন।
কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ১১৫ জন ভোটারের মাঝে ৮৫০ জন, কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৩৯৪ জন ভোটারের মাঝে ৭০৯ জন ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।
উপজেলায় ৮৯টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ জন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মাঝে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট কারচুপিরর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল। সর্বোচ্চ ২৫-৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


নুরুল ওয়াহিদ,তুলুজ থেকে : বাংলাদেশে এখন কদম ফুটার মাস আষাড় হলেও ফ্রান্সে অনুকূল আবহাওয়ার কারনে বাঙ্গালীদের মনে প্রানে লালন করছে বৈশাখ। প্রতি বছর এই সময় পিংক সিটি খ্যাত তুলুজে আয়োজন করা হয় বৈশাখী উৎসব।
আর এই আয়োজন করে বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন তুলুজ । সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় ১৬ই জুন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় আয়োজন করা হয় বৈশাখী উৎসব। বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন তুলুজের সভাপতি ফখরুল আকম সেলিমের সভাপতিত্বে সাকের চৌধুরী ও বিপ্লবের যৌথ পরিচালনায় প্রথম পর্বে স্থানীয় ডেপুটি মেয়র জন ক্লদ দারদলে, অল ইউরোপীয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন আয়েবা মহা সচিব কাজী এনায়েত উল্লা,অষ্ট্রিয়া প্রবাসী আয়েবা সহ সভাপতি আহমদ ফিরুজ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি জাহাঙ্গীর হোসাইন।এসময় সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ফারুক হোসাইন
,শাহীন খান, মোতালেব মিয়া,সহ সভাপতি জুসেফ ডি কোস্থা। ফিরুজ আলম মামুন,কোষদক্ষ তাজিমুদ্দিন খোকন,সমাজ কল্যান সম্পাদক শ্রীবাস দেবনাথ দেব,ইফতেখার মাহমুদ সহ কার্যকরি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় নানা রকমের পিঠা মেলা আর আর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের । ছোট আর বড়দের রং-বেরঙের বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশীয় পোশাক, সাজসজ্জায় এক দিনের জন্য হল প্রাঙ্গনটি হয়ে উটে আনন্দমুখর একটি ছুট্ট বাংলাদেশ ।
এ সময় আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফখরুল আকম সেলিম জানান
, শহরে বেড়ে উটা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটিতে বাঙ্গালী কৃষ্টি- সংস্কৃতি তুলে ধরতেই তাদের এমন আয়োজন। বাংলাদেশী কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন তুলুজের বোশাখী অনুষ্ঠানে অতিথি যোগ দিয়ে স্থানীয় ডেপুটি মেয়র জন ক্লদ দারদলে বলেন,বাংলা ভাষা শহীদের স্মরণে খুব শীঘ্রই তুলুজ শহরে শহীদ মিনার র্নিমিন হচ্ছে ।
তুলুজে শহীদ মিনার প্রোজেক্ট প্রশাসন এবং বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে একটি সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করবে।তিনি এই প্রজেক্ট বাস্থবায়নে বিলম্ভ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। আয়েবা মহা সচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন
, তুলুজে ফ্রান্সের বুকে প্রথন শহীদ মিনার স্থাপনের সিদ্বান্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন তুলুজের শহীদ মিনার স্থাপনের ধারাবাহিকতা অন্যন্য দেশে ও শহরে শহীদ মিনার স্থাপনের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীরা আগ্রহ দেখাবে।এতে করে সর্বচ্ছ সম্মান দেখানো হবে ভাষা শহীদ দের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইভা ও শশীর দলের নৃত্যের পাশাপাশী গান পরিবেশন করেন কন্ঠ শিল্পি লাবনী বড়ুয়া, রাখি ও মেহেদী হাসান স্বপন।


জনপ্রিয় অনলাইন : ফ্রান্সের পিংক নগরী খ্যাত তুলুজ শহরে রোববার বৈষাখী মেলা। প্রতিবারের ন্যায় এবারো ফ্রান্সের তুলুজ শহরে বাংলাদেশী কমিউনিটি এ্যাসোসিয়েশন তুলুজের উদ্যুগে অনুষ্টিত হবে বৈশাখী মেলা।
শহরের ৫ সিমা আউদিবেতে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা চল্বে।তুলুজ শহরের মেয়র জন লুক মুদানক,বাংলাদেশ দুতাবাসের রাষ্ট্রদুত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন, ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী এলায়েত উল্লাহ বৈশাখী মেলায় অতিথি হিসাবে উপস্হিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল আকম সেলিম।এছাড়া অনুষ্ঠানে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন লন্ডন থেকে আগত লাবণী বড়ুয়া ও স্হানীয় শিল্পীরা।বরাবরের মত বৈশাখী এ অনুষ্ঠানে তুলুজ প্রবাসী রমনীদের হাতের তৈরী পিঠাপুলির আসর বসবে এই মেলায়।অনুষ্ঠানের পূর্বমুহুর্তে প্রবাসী লেখক কাজী এনায়েত উল্লাহ বিশ্ব প্রবাস বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হবে তুলুজে।সংগঠনের সভাপতি ফখরুল আকম সেলিম আরও জানিয়েছেন,এবারের বৈশাখী মেলার অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের মাটিতে প্রথম শহীদ মিনার স্হাপনের ঘোষনা দেয়া হবে।
যা ফ্রান্সের বাংলাসেশী কমিউনিটির জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে।


জনপ্রিয় অনলাইন : বাংলাদেশী ভাষা-সংস্কৃতি, ধর্ম-বর্ণসহ নানা ধরনের সংস্কার ও জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে প্রেম-ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে ছুটে আসছেন অনেক বিদেশী তরুণী। এটি এখন বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচয়ের সূত্র ধরে ঘর ছেড়েছেন ভালোবাসার টানে।

সকল ভেদাভেদ ভুলে সাত সাগর তের নদী পাড়ি দিয়ে উড়ে এসেছেন বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে। ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়ার ঘটনা সমাজে অহরহ ঘটলেও বর্তমান যুগে দেশ ছাড়ার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। বিষয় গুলো মিডিয়ার বদৌলতে আলোচিত হয়েছে। অনেকেই প্রেমের টানে দেশ ছাড়লেও হয়নি কোন সংসার।
আবার অনেকেই স্ত্রীর সাথে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে চুটিয়ে করছে সংসার, হয়েছে সন্তান। সুখের কাটছে তাদের দাম্পত্য জীবন। বিদেশ থেকে পাড়ি জমিয়ে প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসা এরকম কয়েকজন দম্পত্তির খোঁজখবর নিয়ে তুলে ধরছি পাঠকদের উদ্দেশ্যে।
ব্রাজিল থেকে রাজবাড়ী
ব্রাজিল কন্যা জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভা। তার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় ঘটে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর গ্রামের বাসের সুপারভাইজার সঞ্জয় ঘোষের সাথে। মাত্র দেড় বছরের পরিচয়ের সূত্রধরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের টানে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ছুটে আসে বাংলাদেশে জেইসা। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জেইসাকে নিজ গ্রামের বাড়ীতে তোলে প্রেমিক সঞ্জয়।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ঢল নামে। জনতার ভীড় সামাল দিতে হিমসীম খেতে হয় ওই পরিবারের। প্রশাসনের সহযোগিতায় কয়েকদিন বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর গ্রামের বলাই ঘোষের ছেলে ঢাকা-কলকাতা শ্যামী পরিবহনের সুপারভাইজার সঞ্জয় ঘোষের বাড়ীতে অবস্থান করেন জেইসা। সেখানে পারিবারিক সম্মতিতে তারা দু’জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জেইসা সরকারী চাকুরীজীবী হওয়ার কারণে সপ্তাহ খানেক বাংলাদেশে অবস্থান করার পর সঞ্জয়কে ব্রাজিলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার জন্য জেইসা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তবে এখন পর্যন্ত সঞ্জয় ব্রাজিলে যেতে পারেনি।
এ বিষয়ে সঞ্জয় ঘোষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আশা করছি খুব শীঘ্রই ব্রাজিল যেতে পারবো। কাগজপত্রের অনেক ঝামেলা থাকার কারণে এতদিন দেরী করতে হলো।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফরিদপুরে
প্রেমের টানে গত বছরের ৬ এপ্রিল ঢাকায় আসের যুক্তরাষ্ট্রের নারী শ্যারন খান। তিনি ফরিদপুরের ছেলে আশরাফ উদ্দিনের কাছে এসেছিলেন। আশরাফ ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের মোঃ আলাউদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে। আশরাফ ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাষ্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। তার বাবা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গাড়ী চালক। পরিবারটি থাকে ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্টাফ কোয়াটারে।
আমেরিকান মুসলিম ব্যাংকের চাকুরে শ্যারন খানের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। এক বছরের পরিচয় ও ৬ মাসের প্রেমের সম্পর্কে বাংলাদেশে আগমন এবং ১০ এপ্রিল বিয়ে করেন। ২১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং আশরাফকেও নিয়ে যান। তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তান হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগলিক দুরত্ব কমিয়ে মার্কিন তরুনী এলিজাবেথ এসলিক ছুটে আসে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি গ্রামের মিঠুন বিশ্বাসের বাড়ীতে। অবশেষে খ্রিষ্টান ধর্মের বিধান অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এলিজাবেথ ও মিঠুন। ২০১৫ সালের মে মাসে ফেসবুকে তাদের পরিচয়। দীর্ঘ আড়াই বছরের সম্পর্কের পর তারা দু’জনে বিয়ে করেন। পরে দেশে ফিরে গেলেও মিঠুন এখন যাওয়ার অপেক্ষায় আছে।
মালয়েশিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গা
প্রেম মানে না বয়স। প্রেমের টানে ৪০ বছর বয়সী মালয়েশিয়ান ইসহারি ২১ বছর বয়সী তার প্রেমিক চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে জহুরুল ইসলামের বাড়ীতে ওঠেন। তার সাথে মালয়েশিয়ায় জহুরুল ইসলামের পরিচয় ঘটে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় জহুরুল বাংলাদেশে আসায় তিনিও ছুটে আসেন। পরে মালয়েশিয়া ফিরে যান।
কাজের সন্ধানে ব্রাক্ষ্রনবাড়িয়া জেলার কসবা থানার মন্দিবাগের আশিকুর রহমান আশিক ২০১৩ পাড়ি জমান মালয়েশিয়া। সেখানে পরিচয় ঘটে মালয়েশিয়ার নাগরিক ফাতেমার সাথে। সে কুয়ালালামপুরে একটি কলেজের ছাত্রী। তার ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে আসে এবং তাকে বিয়ে করে। পরে মালয়েশিয়া পাড়ি জমায়।
ফেসবুকে মাত্র ৬ মাসের পরিচয়ে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কলেজ ছাত্র মনিরুল ইসলামের ভালোবাসা মালয়েশিয়া থেকে এক মাসের ভ্রমন ভিসায় ছুটে আসেন মালয়েশিয়ান নাগরিক জুলিজা। পরে বিয়ে না করেই পারিবারিক কারণে মালয়েশিয়া ফিরে যান জুলিজা।
থাইল্যান্ড থেকে নাটোর
থাইল্যান্ডে বহু বিবাহ। তার পছন্দ ছিল না এটি। তাই বিয়েও করছিল না। হঠাৎ করেই ফেসবুকে পরিচয় ঘটে অনিক খানের সাথে। ওর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে থাইল্যান্ড থেকে ছুটে আসে সুপুত্তো ওরফে ওম ওরফে সুফিয়া খাতুন। ২২ বছর বয়সী অনিক খানের সাথে বিয়ে করেন বাংলাদেশে ছুটে এসে ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ৩৬ বছর বয়সী সুফিয়া। তারা এখন থাইল্যান্ডে বসবাস করছে।
পোল্যান্ড থেকে রাজারবাগ
ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশী ছেলে লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়া ঢাকার রাজারবাগের শামীম আহম্মেদের সাথে পরিচয় ঘটে স্যান্ড্রা পোল্যান্ডের অধিবাসী ক্যাটরিনার। ওই দেশে অবৈধভাবে থাকতে পারছিল না শামীম। ক্যাটরিনার সহযোগিতায় দেশে ফেরে শামীম। জুলাইয়ের ১ তারিখে তার বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও না আসায় সবাই ভেবেছিল আসবে না। কিন্তু আগষ্টে বাংলাদেশে আসে ক্যাটরিনা স্যান্ড্রো ও তাকে বিয়ে মুসলমান হয়ে। তারা এখন দু’জনই লন্ডনে।
অস্টেলিয়া থেকে বরিশাল
প্রেমের টানে অস্টেলিয়া থেকে পরিবারের ১৮ জন সদস্য পিতা, মাতা, ভাই-বোন, খালা-খালু, ফুফু-ফুফাসহ বরিশালের আলেকান্দা এলাকার শামসুল আলম বাবুলের ছেলে সাইদুল আলম রুমানের বাড়ীতে ওঠেন। পরে ধর্মান্তরিত হয়ে রুমানকে বিয়ে করেন। তাদের সংসার সুখেই চলছে অস্টেলিয়ায়।
অস্টেলিয়া থেকে পরিচয়ের সুত্রধরে মাগুরায় শহরে এসে ক্যাথরিন নামের অস্টেলিয়ার নাগরিক তার প্রেমিক কাজী মারুফুজ্জামান চন্দনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারও ভালোই চলছে।
আয়ারল্যান্ড থেকে বিয়ানী বাজার
২০০৯ সালে বিয়ানী বাজার উপজেলার ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা তাজ উদ্দিনের ছেলে মাহবুবুর রহমান আয়ারল্যান্ড যাওয়ার পর ডা. ইফা রায়ানের সাথে পরিচয় ঘটে। পরে বাবা-মা, ভাইদের নিয়ে বিয়ানী বাজারে এসে লাল বেনারশি পড়ে বিয়ের পিড়িতে বসে। পরে স্বামীকে নিয়ে আয়ারল্যান্ড পাড়ি জমায়।
রাশিয়া থেকে শেরপুর
শেরপুরের নলিতাবাড়ী উপজেলার সন্যাসীভিটা গ্রামের ধীরেন্দ্র কান্ত সরকারের ছেলে ধর্মকান্ত সরকার। ১৯৯৭ সালে পড়ালেখার জন্য রাশিয়া যান। সেখানে তার সাথে পরিচয় ঘটে সিভেতলেনা। প্রেমিকের টানে বাংলাদেশে ছুটে এসে সনাতন ধর্মানুসারে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা দু’জনই রাশিয়া পাড়ি জমান।
ভিয়েতনাম থেকে চাঁদপুর
চাঁদপুরের শহরাস্তি উপজেলার পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের নদের বাড়ির মোবারক হোসেনের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন। ১০ বছর আগে জীবন ও জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। সেখানে তার সাথে পরিচয় ঘটে ভিয়েতনাম নাগরিক টিউ থিতুর সাথে। প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে দুজন ঘর বাঁধেন।
সর্বশেষ চাকুরী সুত্রে দুবাইয়ে চীনা নাগরিক ইবনাত মরিয়ম ফাইজার সাথে নেত্রকোনার কলমাকান্দার গুতুরা বাজারের জসিম উদ্দিনের সাথে। মাঝে ৩ বছর চাকুরীর কারণে দু’জন দু’দেশে চলে যায়। পরে দু’জন দুবাইয়ে দেখা করেন। তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ফাইজা খ্রিষ্টান ধর্মত্যাগ করে মুসলমান ধর্মগ্রহন করে জসিমকে বিয়ে করেন। গত রোববার নেত্রকোনার কলমাকান্দার গুতুরা বাজারের আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আজাদের বাড়ীতে বিবাহোত্তর বৌভাতের আয়োজন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বিয়ে হয় দুবাইতে।
ফেসবুকের বদৌলতে বিদেশী তরুণীরা সামান্য কিছু দিনের পরিচয়ের সূত্রধরেই ছুটে আসছে বাংলাদেশে। বিয়ে করে কিছুদিন থাকার পরই ফিরে যাচ্ছে নিজ দেশে। আবার কেউ কেউ স্বামীকে নিয়েই উড়াল দিচ্ছে। কারো কারো সাথে যোগাযোগ আছে কিনা তাও বোঝা যাচ্ছে না।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget