2018-02-04

লায়েবুর খাঁন,বার্সেলোনা প্রতিনিধিঃ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সশ্রম পাঁচ বছর কারাদন্ডের প্রতিবাদে গত ৮ই ফেব্রুয়ারী তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ সভা করেছে স্পেনের কাতালোনিয়া জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে দলের সকল কোন্দল ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহতি দানের সকল আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। কাতালোনিয়া বিএনপির সভাপতি শফিউল আলম শফির সভাপতিত্বে, সেচ্চাসেবক দল কাতালোনিয়ার সাধারণ সম্পাদক এ আর লিটুর সভা পরিচালনায় এবং এম লায়েবুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাতালোনিয়া বিএনপির উপদেষ্ঠা নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আজমান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন রহমান, শান্তাকলমা বিএনপির সভাপতি হাবিবুল্লাহ আনিস, কাতালোনিয়া যুবদল সভাপতি শফিক খান, কাতালোনিয়া বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আজমন আলী, গ্রিস বিএনপি নেতা রাসেল আহমেদ,আনহার মিয়া প্রমূখ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মোঃকিবরিয়া, জায়েদ আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, জিয়াউর রাহমান, জসীমউদ্দীন, রিফাত আকরাম, এছাড়া আরো অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন
প্রতিবাদ সভায় নেতা কর্মীরা শান্ত এবং সুশৃঙ্খলভাবে বার্সেলোনায় নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসের অনারারি কাউন্সিলার রামন পেদ্র
র কাছে স্মারক লিপি প্রদানেরও প্রস্তুতি সহ প্রবাস থেকে দূর্বার আন্দোলনের প্রতিশুতি ব্যাক্ত করেন।

জনপ্রিয় অনলাইন : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ৫ বছরের কারাদন্ডকে ন্যায়ভ্রষ্ট উল্লেখ করে বিবৃতি প্রদান করেছে ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, অবৈধ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বেগম খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও প্রহসনমূলক মামলার রায় সরকারের নির্ধারিত ছকে দেয়া হয়েছে। যা মূলত সরকারের মন্ত্রী এমপিদের আগাম বক্তব্যর প্রতিফলন। মামলা বিচারাধীন থাকলেও খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে বলে আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকারের মন্ত্রী এমপিরা। এতে প্রমাণিত হয় এ রায় পূর্ব নির্ধারিত। এ রায় ন্যায় বিচারের ইতিহাসকে আবারো কলঙ্কিত করেছে। জনগণ আশা করেছিল আদালত অন্তত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যপারে ন্যায় বিচার করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও জাতিকে অবিচারের নমুনা দেখতে হলো।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যে মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে তার চেয়েও দূর্নীতির জঘন্যতম মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামেও ছিল। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পূর্ব পর্যন্ত নাইকো সহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ১৫টি দুর্নীতির মামলা ছিল। অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের নামে সকল মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চলমান রাখা হয়েছে। এতে আবারো প্রমাণ হয় আইন আদালতের স্বাধীনতা নেই বরং তা বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ রায় ন্যায় বিচারের প্রতিনিধিত্ব করে না বরং কোন বিশেষ মহলকে খুশি করতেই এই প্রশ্নবিদ্ধ রায় দেয়া হয়েছে। দেশবাসী এ প্রহসনের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এ সরকারের অপশাসনের যাঁতাকলে পৃষ্ঠ হয়ে জনগণ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এ সরকারের উপর চরম ভাবে ক্ষুদ্ধ। অবৈধ সরকার তাদের জনমত শুন্যতার বিষয়টি বুঝতে পারলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। ফলে বিচার বিভাগকেও সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের উপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তাই আইন আদালতকে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করে আবারো একতরফা নির্বাচনের পায়তারা করছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিচার বিভাগ এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। রাজনৈতিক কারণে বার বার ন্যায় বিচার থেকে বিরোধী মতের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা চরম অমনাবিকতা। একই ভাবে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলায় প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইবুনালে নাটক সাজিয়ে সাজানো রায়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে। আজকের রায় তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। যা আইনের শাসনের পরিপন্থি এবং একনায়কতন্ত্র বাকশাল কায়েমের পথকে সুগম করবে। আমরা সরকারকে এ অপরাজনীতি ও বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি


জনপ্রিয় অনলাইন : বাংলাদেশকে ঢালাওভাবে বিরোধী দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ করতে বললো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেয়া উচিত বাংলাদেশের সরকারের।

বৃহস্পতিবার বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার রায়ের আগে সারাদেশে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়ার পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস এক বিবৃতিতে বলেন, বিরোধী দলকে আন্দোলনে বাধা দিয়ে মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অধিকার খর্ব করছে বাংলাদেশ সরকার। তিনি আরো বলেন, সব রাজনৈতিক দলের নেতাদেরই তাদের সমর্থকদের সহিংসতায় না জড়াতে সতর্ক করা উচিৎ। একইসঙ্গে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ধৈর্যশীল থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এর আগে বিরোধী দলের আন্দোলনের সময় অগ্নিকাণ্ড, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে বাংলাদেশের নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনী বিরোধী দলের সমর্থকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করে। শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করারও অভিযোগ আনা হয় নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে গত আটদিনে সারাদেশে ১৭৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সমর্থকরা সহিংসতা ছড়াতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শক্তি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারে জাতিসংঘের মৌলিক আইন মেনে চলার জন্য নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনীকে সুষ্ঠ নির্দেশনা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমন অবস্থান নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের দাবীকে বিতর্কিত করছে বলে মনে করেন ব্র্যাড অ্যাডামস। বিবিসি।

জনপ্রিয় অনলাইন : দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের ওপর অত্যাচার করলে তার বিচার এমনই হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তারেক রহমানসহ এই মামলার বাকি ৫ আসামিকে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ২ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর বরিশালে জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, আজকে তিনি কোথায়?
তিনি বলেন, ওই খালেদা জিয়া তার অফিসে বসে বলল, আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত না করে সে ঘরে ফিরবে না। আগুন দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গাড়ি পুড়াল। পাঁচশর কাছাকাছি মানুষকে ২০১৩, ১৪, ১৫তে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তিন হাজারের ওপর মানুষকে পুড়িয়ে আহত করেছে। আর লুটপাট দুর্নীতি।
মানুষের ওপর অত্যাচার করলে আল্লাহর আরশও কেঁপে যায় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তার বিচার এমনিই হয়। সেই বিচারই হচ্ছে।
এসময় তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হয়ে আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই। তাই আপনারা হাত তুলো ওয়াদা করেন আমাকে আবারও ভোট দেবেন। উপস্থিত জনতাও তখন হাত তুলে তার আহ্বানে সাড়া দেন।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বলেছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আল্লাহর রহমতে করেছি।

বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যায়কে আমরা প্রশ্রয় দেই না।

জনপ্রিয় অনলাইন : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আসামিদের বাচ্চাদের জন্য একসময় ব্যবহৃত কিডস ডে কেয়ার সেন্টারের তিনতলা ভবনের নিচতলায় দুটি রুমে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে রায় ঘোষণা করা হয়। এর আধা ঘণ্টা পর খালেদা জিয়াকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পরিচারিকা ফাতেমাকে তাঁর সঙ্গে রাখার আবেদন করা হয়েছে। তবে সে বিষয়ে কোনো আদেশ জানা যায়নি।
রায় উপলক্ষে কারাগার ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের চারদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও অবস্থান জোরদার করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল থেকেই ওই এলাকায় জনসাধারণের চলাচলেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় অনলাইন : সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চার আসামি হলেন সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।
পাশাপাশি ছয় আসামির প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আজ বেলা আড়াইটার দিকে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা:
দুদকের মামলা: ২০০৮ সালের ৩ জুলাই
অভিযোগপত্র: ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট
অভিযোগ গঠন: ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ
আসামির সংখ্যা: ছয়জন
সাক্ষ্যগ্রহণ: ৩২ জন সাক্ষীর
যুক্তিতর্ক শেষ: ২৫ জানুয়ারি
বিচারের সময়: ২৩৬ কার্যদিবস
যুক্তিতর্ক শুনানি: ১৬ কার্যদিবস
বিদেশ থেকে পাঠানো এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এই মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট ছয়জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ। অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।
খালেদা-তারেকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে পরস্পর যোগসাজশে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২.৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থাও। অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান। পরে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন যার জন্য তিনি দায়ী। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থেকে নিজের পদমর্যাদা বলে সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ করেছেন।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি তাঁর মায়ের সহায়তায় ৬ মইনুল হোসেন রোডের ঠিকানা ব্যবহার করে অস্তিত্ববিহীন ট্রাস্ট গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করে ওই ট্রাস্টের নামে সোনালী ব্যাংকের গুলশান নিউনর্থ সার্কেল শাখায় এসটিডি হিসাব খুলে জমা রাখেন। দীর্ঘ দিনে কিছু জমি কেনা ছাড়া ট্রাস্টের নামে কোনো স্থাপনা করেননি। ডিড অব ট্রাস্টের শর্ত ভঙ্গ করে এতিম ও দুস্থদের জন্য কোনো টাকা তিনি ব্যয় করেননি। অথচ ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০০৬ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত অসৎ উদ্দেশ্যে ৫টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ট্রাস্টের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায়ী কাজী সলিমুল হককে দেন। যার মধ্যে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করেন যা দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অপরাধ।
সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী সম্পর্কে বলা হয়, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিবের দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত হয়ে এতিম তহবিল গঠন ও পরিচালনার দায়িত্ববান হন। অথচ কোনো নীতিমালা তৈরি না করে কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থা গ্রহণ না করে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অনুমোদন নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের দিয়ে গঠিত অস্তিত্ববিহীন ট্রাস্টে টাকা পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনকৃত মূল নথি নিজের দায়িত্বে রেখে বা নিচের স্তরের কাউকে না দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি উধাও করে খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সরকারি টাকা আত্মসাতের কাজে সহায়তা করেছেন।

অভিযোগপত্রে জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান সম্পর্কে বলা হয়, তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।

জনপ্রিয় অনলাইন : ইলেকশনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার তার ঘর এবং প্রশাসন সাজিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদকে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হবে। তিনি একজন সাচ্চা আওয়ামী লীগার। ১৯৫৯ সালে কিশোরগঞ্জ কলেজে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। সেই থেকে আজ ৫৮ বছর ধরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ করেন। সুতরাং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক চয়েস।
পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাবেদ পাটোয়ারি। গত শনিবার বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে ডিঙ্গিয়ে কনিষ্ঠ বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে অতীতেও কয়েকবার। কিন্তু এবারের ব্যাপারটি কিছুটা অন্যরকম লেগেছে। কারণ আবদুল ওয়াহহাব মিঞা শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠতমই নন, অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাকে দায়িত্বভার অর্পণের বিষয়টি সরকারি গেজেটেও প্রকাশ করা হয়েছে। ৪ মাস ধরে তিনি অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে কাজ করেছেন। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার দেশে ফেরার রাস্তা বøক করেছেন বিচারপতি ওয়াহহাবের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের অবশিষ্ট বিচারপতিগণ। তারা সমস্বরে জানিয়েছেন, জাস্টিস সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং নৈতিক স্খলনের ১১টি অভিযোগ রয়েছে। তাই তারা তার সঙ্গে আর এক বেঞ্চে বসবেন না। ফলে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেশে ফেরা এবং প্রধান বিচারপতির আসনে অবশিষ্ট সময় বসার সমস্ত সম্ভাবনা রুদ্ধ হয়ে যায়।
এখন ঐ ১১ দফা অভিযোগের কী হলো? অভিযোগগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে না কেন? বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা আশা করেছিলেন, বিচারপতি সিনহা সাহেবের অবসরে যাওয়ার পর তাকে হয়তো প্রধান বিচারপতি বানানো হবে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার সময় সরকারের নানান রকম হিসাব-নিকাশ এবং বিচার-বিবেচনা থাকে। সেই সব হিসাব-নিকাশ এবং বিচার-বিবেচনা কেউ যদি পূর্বাহ্নেই ধরতে না পারেন তাহলে তাকে পস্তাতে হয়। দুঃখের বিষয়, বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সরকারের এই সব হিসাব-নিকাশ ধরতে পারেননি। 
কেন ধরতে পারেননি সেটা ভেবে আশ্চর্য হতে হয়। যখন বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যান তখনও তার অবসরে যাওয়ার চার মাস বাকি ছিল। বিচারপতি ওয়াহহাবের অবসরে যাওয়ার সময় ছিল চলতি বছরের নভেম্বর মাস। নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের অবসরে যাওয়ার সময় ২০২১। আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করলেও মাহমুদ হোসেন সাহেবের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। কারণ ওয়াহহাব মিঞার পর জ্যেষ্ঠতম ছিলেন তিনি। সুতরাং আগামী নভেম্বরে চিফ জাস্টিস হিসেবে ওয়াহহাব মিঞা অবসর গ্রহণ করলে সিনিয়র মোস্ট হিসেবে মাহমুদ হোসান সাহেব এমনিতেই এসে যেতেন। কিন্তু এখন মাহমুদ হাসেন চিফ জাস্টিস হওয়ার পর ওয়াহহাব মিঞার আর কোনো ভবিষ্যৎ রইল না। সুতরাং মাহমুদ হাসান সাহেবের চিফ জাস্টিস হিসেবে নিয়োগের ঘোষণার ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াহহাব মিঞা পদত্যাগ করেন। 
দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের উচ্চতর বিচারালয়ের ওপর দিয়ে গত অক্টোবর মাস থেকে একটি ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেল। প্রথমে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল। বিচারপতি সিনহাসহ তখন ছিলেন ৭ জন বিচারপতি। ৭ জনই কিন্তু ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ে স্বাক্ষর করেছেন। এরপর আপিল বিভাগের অন্যতম বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা অবসরে যান। সংখ্যা হলো ৬। তারপর অনেক ঝড়ঝাপটা পার হলে পদত্যাগ করলেন এসকে সিনহা। সংখ্যা হলো ৫। এখন পদত্যাগ করলেন ওয়াহহাব মিঞা। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ এখন রয়েছেন মাত্র ৪ জন বিচারপতি। তাদের যত কাজের চাপ সেটি এই ৪ জন দিয়ে করা সম্ভব হবে না। সংবিধান মোতাবেক সরকার ইচ্ছে করলে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ১১ করতে পারে। এই মূহুর্তে, যতদূর শোনা যাচ্ছে, সরকার আরো তিনজন বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। তখন সংখ্যা হবে আবার ৭। এতদিন পর্যন্ত আপিল বিভাগে কোনো নতুন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এখন নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগে কেন দেওয়া হয়নি এবং এখন কেন দেওয়া হচ্ছে সেই হিসেবটাও আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বুঝেছিলেন কিনা জানি না। যাই হোক, এই পর্ব এখন শেষ। সেজন্যই শুরুতে বলেছি, এই সরকার নির্বাচনের আগে তার প্রশাসন তাদের চয়েস মতো পুনর্বিন্যাস করছে। 
\দুই\
এখন যাচ্ছি দেশের সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু ৮ ফেব্রুয়ারির রায়ের প্রসঙ্গে। এই লেখাটি বের হলো আজ মঙ্গলবার। আর একদিন পরেই বৃহস্পতিবার বেগম জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় বের হবে। সেই মামলাটি এবং সেই মামলার রায় এখন শুধুমাত্র টক অব দি টাউনই নয়, এটি এখন টক অব দি কান্ট্রি। ১০/১২ দিন আগেও কী রায় হবে, সেটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছিল। কিন্তু গত ৪/৫ দিন হলো এখন আর সেই রকম জল্পনা-কল্পনা নেই। ইংরেজিতে একটি কথা আছে। সেটি হলো, Foregone conclusion. অর্থাৎ কী ঘটবে সেটি আগে ভাগেই ধরে নেওয়া হয়। বেগম জিয়ার এই মামলার ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। এখন যারা এই বিষয়টি নিয়ে একটু হলেও মাথা ঘামান তারা বলছেন যে, বেগম জিয়ার কমপক্ষে ৩ বছরের সাজা হবে। যদি তিন বছরের, না হলেও ২ বছরের কারাদন্ড হয়, তাহলে আদালত থেকেই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। এই কারাগার সাব জেলও হতে পারে। আর কম করে হলেও যদি তিনি ২ বছরের জন্যও দন্ডিত হন তাহলে আগামী নির্বাচনে তিনি অযোগ্য হয়ে যাবেন। মানুষ এরকম ধারণা করছে কেন? 
এরকম ধারণা এজন্য করছে যে দেশে হাজার হাজার লাখ লাখ মামলা রয়েছে। কিন্তু বেগম জিয়ার দুটি মামলা নিয়ে যেরূপ তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হচ্ছে তার ফলে অনেকে ধারণা করছেন যে, বেগম জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য করার জন্যই এই বিচার দ্রæত শেষ করা হচ্ছে। আমরা জানি না, ৮ তারিখের রায় কী হবে। তাই এই কলাম লেখক বা দৈনিক ইনকিলাব এ ব্যাপারে কোনো অগ্রীম কথা বলা থেকে বিরত থাকছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিভিন্ন রকম বিশ্লেষণের ধারা বইছে তার একটি নিম্নরূপ। 
\তিন\
এই মহলের মতে, সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। কিন্তু বিএনপির সিংহভাগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক। এমনও বলা হয় যে, যদি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করতে হয় তাহলেও তারা করবে। কারণ, তাদের মতে, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে, পক্ষান্তরে বিএনপির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। যে কোনো ধরনের একটি নির্বাচন হলে ভোটাররা যদি ভোট কেন্দ্রে কোনোভাবে যেতে পারে তাহলে বিএনপি তথা ২০ দলের হবে জয় জয়কার এবং আওয়ামী লীগের হবে ভরাডুবি। তাই এটি নিশ্চিত করতে হবে যেন বিএনপি নির্বাচন বয়কট করতে বাধ্য হয়। তাদের হিসাব মতে, বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির অবিসংবাদিত নেত্রী। তাকে যদি নির্বাচনের অযোগ্য করা হয় তাহলে আর বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। 
এমন একটি জল্পনা-কল্পনার পটভূমিতে আগামী ৮ ফেব্রæয়ারি বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে। সুতরাং এই দিনটি ক্রুশিয়াল। ক্রুশিয়াল সকলের জন্যই। বিএনপির জন্য, ২০ দলের জন্য এবং জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনীতির জন্য। রায়টি যে নেতিবাচক হবে তেমন ধারণা মানুষের মনে গেঁথে গেল কেনো? কারণটি হলো, রায় হওয়ার অন্তত ৮ দিন আগে পুলিশ অকস্মাৎ সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে দিয়েছে। প্রথম আলোয় দেখলাম, রোববার পর্যন্ত ৪৮০ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৫০ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, এই ধরপাকড় চলবে এবং ৮ তারিখের পরেও সেটি অব্যাহত থাকবে। ৮ তারিখে যখন রায় বের হবে ততদিনে গ্রেফতারের সংখ্যা ৬০০/৭০০ ছাড়িয়ে যাবে। আর ৮ তারিখের পরেও যদি সেটি অব্যাহত থাকে তাহলে সেই সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে পত্রপত্রিকায় খবর বের হয়েছে, এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিকে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমন কথাও বলা হচ্ছে যে, বিএনপিকে কোথাও দাঁড়াতেই দেওয়া হবে না। দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্ট মোতাবেক, মফস্বল থেকে ঢাকা আসার সময় ঢাকার প্রবেশমুখে ১৩টি পুলিশ চেক পোস্ট বসানো হবে। পত্রপত্রিকার রিপোর্ট মোতাবেক আগামীকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ঠিক তল্লাশী না হলেও চেক করা হবে যে নতুন কোনো বোর্ডার এসেছে কিনা। এসে থাকলে কোথা থেকে এসেছে এবং কী জন্য এসেছে। 
সাধারণ মানুষ দারুণভাবে বিস্মিত হয়েছে। তারা ভেবে পাচ্ছে না, হঠাৎ করে কেন এই বিপুল পুলিশী তৎপরতা। দেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে সারাদেশে বিএনপির বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযান চালাতে হবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে এমন প্রশ্নের উদয় হচ্ছে যে, তাহলে কি বেগম জিয়াকে সাজা দেওয়া হবে? সাজা দেওয়া হলে যদি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় সেই প্রতিক্রিয়া যাতে না হয় তার জন্যই কি এই প্রিএম্পটিভ পুলিশী অভিযান? 
আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-মিনিস্টাররা প্রতিদিন বলছেন যে, রায়কে ঘিরে বিএনপি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে এবং বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অথচ গত ৩ ফেব্রæয়ারি শনিবার হোটেল লা মেরিডিয়ানে বেগম খালেদা জিয়া যে ভাষণ দিয়েছেন সেটি এক কথায় স্টেটসম্যানসূলভ। তার ভাষণের পূর্ণ বিবরণ মাত্র দুয়েকটি কাগজে ছাপা হয়েছে। সেই ভাষণটি পুরো পাঠ করলে দেখা যায়, বেগম জিয়া কোথাও উস্কানিমূলক বা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনো কথা বলেননি। বরং তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এবং নির্বাচনী সরকারের দাবি আদায়ের জন্য আগামী দিন যে আন্দোলন হবে সেটি হবে তার ভাষায়, শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক। তিনি তার কর্মীদেরকে পরিষ্কার বলেছেন, আপনারা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। মির্জা ফখরুল আগেও বলেছেন এবং সেদিনও বলেছেন, সরকার নিজেই বিএনপির মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ঢুকিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি কর্মীদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 

মানুষের চোখে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে, ইতোপূর্বে অপর একটি বড় দলকে যেরূপ কঠোর হস্তে দমন করা হয়েছে, বিএনপিকেও মনে হয় সেই রূপ কঠোর হস্তে দমন করার চেষ্টা চলছে। বিএনপি যদি সভা, শোভাযাত্রা, মিছিল-মিটিং করতে না পারে, যদি রাস্তাতেও না দাঁড়াতে পারে তাহলে রাজনীতির স্রোত কোন খাতে বইবে? জনগণের চিন্তা-চেতনা এবং ইচ্ছা-অনিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ কোন পথে ঘটবে? এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আসন্ন নির্বাচনও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো হতে পারে। ২০ দলীয় জোট যদি রাস্তায় না দাঁড়াতে পারে তাহলে শুধুমাত্র সেক্যুলার এবং বামপন্থীরা রাস্তায় দাঁড়াবে? যেভাবে চলছে সেভাবে চললে তো দেশের রাজনীতি এক ধারায় একপক্ষীয় হয়ে পড়বে। এক দল বা এক মতের রাজনীতির জন্য তো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আমি যে কথা বললাম, সেই কথার প্রতিধ্বনি পাবেন ৬ দফায়, ৭০-এর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে, এমনকি মুজিবনগরের স্বাধীনতার ঘোষণায়। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির বাধাহীন বিকাশের জন্য। 

জনপ্রিয় অনলাইন : স্পেনের মরক্কো সীমান্তবর্তী মেলিলা উপকেূলে ১৬ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসীরা সবাই ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিবছর এখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে, চলতি বছরে ইতোমধ্যে ইউরোপের আশায় সাগরপাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪০ জন। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে ২০১৭ সালে প্রায় তিন হাজার অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। একে শরণার্থীদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক পথ মনে করা হয়। ২০০০ সালের পর থেকে থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার অভিবাসী এই পথে ডুবে মারা গেছে কিংবা নিখোঁজ রয়েছে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget