2017-12-03

রিয়াদ : সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে আসার জন্য ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জেদ্দায় ওআইসি স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের ষষ্ঠ সম্মলনে বাংলাদেশ আজ এ আহবান জানায়। বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের  একটি প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান ও ওআইসির Assistant Permanent Representative ডঃ এমডি নজরুল ইসলাম সম্মলনে অংশগ্রহন করেন। এ সম্মলনের থিম হল সব নীতিতে স্বাস্থ্য

সম্মেলনে বাংলাদেশ জানায় সাম্প্রতিককালে মায়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ছয় লক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের সাস্থসেবা প্রদান করা বাংলাদেশের জন্য বিরাট চ্যালেন্জের বিষয়। মিয়ানমার থেকে আসা শিশু, নারী ও বয়স্ক রোহিঙ্গা নাগরিকদের অধিকাংশই দুর্বল ও নানাবিধ রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার সাথে সাধ্যমত তাদের দ্রুত স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ প্রদান করে আসছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়, তাই ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ আহবান জানায়।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি জানায়, ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ গুলো অতিক্রম করে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পুরস্কার পেয়েছে। উন্নয়নের এ ধারা বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ও ধরে রাখতে চায়।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে, এ লক্ষে সবার জন্য জ্ঞান-ভিত্তিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য বাবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ কাজ করছে। জনগনের দোর গোঁড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্তে ইতিমধ্যে ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি জানান ইসলামিক দেশগুলির বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এসকল ঝুঁকি মোকাবেলার অনেক অভিজ্ঞতা আমাদের আছে এবং ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলির সাথে বাংলাদেশ তার অভিজ্ঞতা সবসময় ভাগ করে থাকে।
সম্মেলনে বাংলদেশ স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা উন্নত করার জন্য ও দুর্বল দেশগুলির জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহবান জানায়। সম্পদের সর্বোত্তম ব্যাবহার করে এবং বিজ্ঞান-ভিত্তিক জ্ঞান ব্যবহার করে স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জগুলিকে পরাজিত করবে বাংলাদেশ। সকলের জন্য সুস্থতা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ওআইসির সকল সদস্য রাষ্ট্রের সাথে কাজ করার জন্য প্রস্তুত বলে ও বাংলাদেশ জানায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে যুগ্ম সচিব জাকিয়া সুলতানা ও সিভিল সার্জন ডঃ জাকির হোসাইন খান সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। গত ৫ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে এ সম্মেলন যা শেষ হবে আগামী ৭ ডিসেম্বর।

 প্রেস রিলিজ :

কবির আল মাহমুদ,মাদ্রিদ : স্পেনে জাতিসংঘের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক ঐতিহ্য হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্বীকৃতি অর্জন উদ্‌যাপন করা হয়েছে।
দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল ৫ ডিসেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে এই স্বীকৃতি যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্‌যাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রিদে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এই স্বীকৃতি উপলক্ষেআলোচনা সভায় মিনিষ্টার এন্ড হেড অব চ্যানচারী হারুন আল রশীদের সঞ্চালনায় দিবসটি স্মরনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া মহামান্য রাষ্টপতি ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বানী পাঠ করে শুনান কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ ও প্রথম সচিব লেবার উইং শরীফুল ইসলাম।এরপর বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটির ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন ও আনন্দ র‍্যালী বের করা হয়।
অনুষ্টানে প্রধান অতিথি স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে মহাকাব্য হিসেবে অভিহিত করে এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন, ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় দিবসটি বাঙালী জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের ও গৌরবের।বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনটি বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে স্তান পেয়েছে। যা নতুন প্রজন্ম তথা বিশ্বের নিপিড়িত নির্যাতিত স্বাধীনতাকামী মানুষদের অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করায় অনন্য ভুমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, ইউনেসকো কর্তৃক প্রদত্ত এ স্বীকৃতি বিশ্ব দরবাররে আমাদের গোটা জাতিকে এক নতুন উচ্চতায় আসীন করেছে। এ স্বীকৃতিকে জাতীয় গৌরব ও বাঙালি জাতির এক নতুন পরিচয় হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আরও সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দূত সম্মেলনের সূত্র ধরে রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার উপস্থিত বাংলাদেশ কমিউনিটিকে অবহিত করে বলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল অবস্থান ও অর্জিত সুনামের জন্য প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্পেন বাংলা প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা কবি মিনহাজুল আলম মামুন,সভাপতি সাহাদুল সোহেদ , দেশ কন্ঠ এর সম্পাদক সাংবাদিক এ,কে,এম জহিরুল ইসলাম,কবির আল মাহমুদ,সাইফুল আমিন,এইচ এম ইকবাল,আওয়ামীলীগ নেতা রিজভী আলম,এম আই আমিন,আইনজীবী তারেক হোসেন,মোহাম্মদ হাসান প্রমূখ, পরে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ইউনেসকো কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ উপলক্ষে হিমেল শীতকে উপেক্ষা করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনন্দমুখর অংশগ্রহণে একটি আনন্দ শোভাযাত্রার মাধমে সমাপ্তি হয় ।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget