2017-03-12

জনপ্রিয় অনলাইন : প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি কেউই আমাদের বন্ধু নয়। এরা ক্ষমতায় থাকাকালে আমার প্রতি সুবিচার করেনি বরং অবিচার করেছে। এ দুদলের দ্বারা জনগণের মঙ্গল কখনই হবে না। এজন্য আগামী নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩২টি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে জয়ী করলে আমরা জনগণকে রাষ্ট্রের ক্ষমতা উপহার দেবো।

শনিবার বিকালে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনে এসব কথা বলেন এরশাদ।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির সমর্থন দিয়ে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলো অথচ তারা আমার প্রতি সুবিচার করেনি। বরং আমার দল ভাঙা হলো আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে। মঞ্জু সাহেব জেপি নামে একটা দল গঠন করলেন। আমার এমপিদের কেনা হলো ১৪/১৫ কোটি টাকা দিয়ে। আমাকে কী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আমি তাদের কাছে পেয়েছি অবিচার আর অত্যাচার। ভালবাসা পাইনি, সুবিচার পাইনি। অথচ অন্ধকার কারাগার থেকে বিএনপিকে সমর্থন দিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতাম। তারপরও বিএনপিকে সমর্থন দেইনি বলে দাবি করেন এরশাদ।

সমাবেশে এরশাদ আগামী রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর সভাপতি মোস্তফাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জনগণের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেন। পরে মোস্তফাকে সভাপতি, ইয়াসিরকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর জাপার কমিটির ঘোষণা করেন এরশাদ। মহানগর জাপা সভাপতি মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর অব. খালেদ, রশিদ সরকার, হুইপ সলিম উদ্দিন এমপি, শওকত হোসেন চৌধুরী, জেলা জাপা সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক হোসেন মকবুল শাহারিয়ার।

জনপ্রিয় অনলাইন : জঙ্গীবাদের ধোয়াসা তুলে সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায় মন্তব্য করে
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের
অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য জঙ্গীবাদকে জিয়ে রাখতে চায়।

আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী এসব বলেন।
তিনি বলেন, সরকার জঙ্গীবাদ নিয়ে আন্তরিক নয়। প্রকৃত অর্থে কারা জঙ্গীবাদের সাথে জড়িত হচ্ছেন বা কারা এর জন্য দায়ি এটার চিহ্নিত করে নির্মূল করার ক্ষেত্রেও সরকার আন্তরিক নয়। সরকার এক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে রাজি নয়। সরকার এই সমস্ত জঙ্গীবাদকে জিইয়ে রাখতে চায়। কারণ এই সমস্ত ধোয়াসা তুলে নিজেদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখাটাই মূল বিষয়।
দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলা এবং গতকাল আশকোনায় র‌্যাবের হেটকোয়ার্টারে বোমা হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকারের অনেক নেতা, মন্ত্রীরা বলেন তারা নাকি দেশে সস্তি দিয়েছেন, দেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, তারা জঙ্গি নির্মূল করেছেন। কিন্তু আমরা নির্মূলের কোনো চিহ্ন পেলাম না। কিন্তু আমরা যেটা দেখছি যে সরকারে এই জঙ্গিদের যে অবজেকটিভ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায় না। তারা অন্যের ওপর দোষ চাপাতেই ব্যস্ত। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জঙ্গি হামলায় বিএনপি মদদ দিচ্ছে। কিন্তু আমরা বারবারই চাই জঙ্গী নির্মূল করতে। এর জন্য সরকারকে আমরা অনেকবার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকার এটিকে জিয়ে রাখতে চায় তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য।
রিজভী বলেন, ১৪ টি দেশের সন্ত্রাসবাদ বিরোধ একটি সম্মেলন সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত গবেষক রোহান বুনারত্নে বলেছিলেন, গুলশানের হোলে আর্টিজানের হামলায় আইএসের সম্পৃক্ততা আছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সব সময় বলছেন, যে এটি হচ্ছে হোম গ্রোথ। স্বদেশ জাত। এটির সাথে বিদেশীদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু যারা টেরোরিজম বিষয়ে গবেষণা করেন তারা বলছেন যে, এটির সাথে আইএসের সম্পর্ক আছে। কিন্তু সরকার এই বিষয় নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ উপসংহারে আসতে চায় না। তারা মনে করছে যে তারা যেটা বলছে সেটাই সঠিক।
বিএনপি কি মনে করে দেশে আইএস রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সরকারে নেই, সরকারের বহু ইন্সট্রুমেন্ট আছে। সরকার তো অনেক দেশকে নিয়ে অভিযোগ করেন। একজন সত্য নিষ্ঠ গবেষক মানুষ তিনি মিথ্যা কথা বলবেন কেন। তিনি (গবেষক) তো ফিল্ট থেকেই তথ্য উপাত্ত নিয়েই কথা বলেছেন। সরকারের দায়িত্ব এই যে আইএসের সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা গুলো আসছে এগুলো আমরা ভেবে দেখি। আসলে যোগসূত্র আছে কি না। কিন্তু তাদের যে পূর্বধারণা সেই ধারণাতেই তারা অটল আছে। যা কিছু হচ্ছে এটি জেএমবি বা নিউ জিএমবি, এটি হোমগ্রোথ। সরকার প্রকৃত তথ্য উৎঘাটন করছে না। আর এ জন্যই মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে যে এটি নিয়ে সরকার নটক করছে কিনা।
বিএনপির উপর জঙ্গীবাদের অভিযোগ দেয়া হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপির ওপর অভিযোগ দিয়ে, কারো উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে, এটার আপনি সূরাহা করতে পারবেন না। বরং এটা আরো ডাল-পালা বিস্তার করবে। এই ডাল-পালা বিস্তারের জন্য আজকে সরকারের বক্তব্য, কর্মকান্ড এবং সরকারের কথাবার্তা নিয়ে মানুষ কি বলছে? দেশের মানুষ মনে করছে সরকার জঙ্গীবাদ নিয়ে চাপাবাঁজি করছে।
এসময় তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, এই ধরনের বিতর্ক, বিভ্রান্তি তৈরি না করে আসুন বস্তুনিষ্টভাবে এই বিষয়টি আমরা পরযালোচনা করে কোথায় কোথায় এর গুপ্ত ঘাটি আছে, কারা কিভাবে এখানে জরিত তাদের খুজে বের করা কোনো কঠিন বেপার নয়।

জনপ্রিয় অনলাইন : মত মিলছে না। তাই তোমার সঙ্গে আড়ি। মুখ দেখাদেখি বন্ধ। এমনধারা বালখিল্যপনা আমরা স্কুলে প্রায়ই করেছি। তবে হোয়াইট হাউজে বসে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন ছেলেমানুষি করছেন, ভাবতে পারেন? জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে করমর্দন নিয়ে এমন কাণ্ডই ঘটিয়ে টুইটারে ট্রোলড হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।


ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গতকাল প্রথমবার হোয়াইট হাউজে আসেন জার্মান চ্যান্সেলর। দুজনের নিউজ কনফারেন্সের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই টুইটারে ট্রোলড হতে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, মার্কেলের কোনো বক্তব্যেই যে তিনি সায় দিচ্ছেন না, কিছুই তার পছন্দ হচ্ছে না, তা হাবভাবে বুঝিয়েই দিচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি যে বেশ অপ্রস্তুত, বিরক্ত তাও ফুটে উঠছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে। যেন বাড়িতে এসে হাজির হয়েছেন অবাঞ্ছিত কোনো অতিথি। এমনকী, সাক্ষাত্ শেষে চিত্রগ্রাহকদের অনুরোধে সৌজন্য করমর্দনও এড়িয়ে যান ট্রাম্প। এহেন আচরণ দেখে যত না কঠিন ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা হচ্ছে, তার থেকে বেশি চলছে হাসি, ঠাট্টা, মশকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় চাইল্ডিশ বিহেভিয়ার-এর জন্য ট্রোলড হয়ে চলেছেন ট্রাম্প।
কেউ জর্জ বুশ, বারাক ওবামার সঙ্গে মার্কেলের করমর্দনের ছবি তুলে দিয়ে তুলনা টেনেছেন, কেউ বা হোয়াইট হাউজে আসা অন্য অতিথিদের সঙ্গে ট্রাম্পের করমর্দনের ছবি দিয়ে লিখেছেন, তবে কি আঙ্গেলা মের্কেলের মতো শক্তিশালী মহিলা তার নরম হাত মটকে দেবে বলে ভয় পেয়েছেন ট্রাম্প? কেউ বা গোটা বৈঠকেই ট্রাম্পের হাবভাব নিয়ে এঁকে ফেলেছেন কার্টুন।

জনপ্রিয় অনলাইন : যদি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ঘুরতে যান, তো আপনার পাসপোর্টের শক্তিমত্তার ওপর নির্ভর করবে কতটা সুবিধা পাবেন। কোন দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী তা বের করতে গবেষণা চালানো হয়। সাধারণত ১৭৬টি দেশের মধ্যে কতগুলো দেশে প্রবেশের জন্য ভিসা লাগে না, তার ওপর নির্ভর করে পাসপোর্টের শক্তি দেখা হয়।

১২তম বার্ষিকী সংস্করণ প্রস্তুত করেছে হেনলে অ্যান্ড পার্টনার্স ভিসা রেস্ট্রিকশন ইনডেক্স। এই তালিকা করতে যোগ হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)। তারা এ বছরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এ বছর নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো তালিকার শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে জার্মানি। অন্যান্য বারের মতোই রয়েছে এ তালিকা। শুধু পরিবর্তন এসেছে ব্রিটিশ পাসপোর্টে। এটা গতবারের তৃতীয় স্থান থেকে এ বছর চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। আবার ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটেন কিন্তু জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম স্থান দখল করে ছিল।
এখানে দেখে নিন, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পাসপোর্টের সেরা দশের কথা।
১. জার্মানি
২. সুইডেন
৩. ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ইতালি, স্পেন, আমেরিকা
৪. অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সিঙ্গাপুর, ব্রিটেন
৫. আয়ারল্যান্ড, জাপান, নিউ জিল্যান্ড
৬. কানাডা, গ্রিস, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড
৭. অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া
৮. আইসল্যান্ড
৯. চেক রিপাবলিক
১০. হাঙ্গেরি, মাল্টা।
সূত্র: এমিরাটস


জনপ্রিয় ডেস্ক : বিয়ানীবাজার থানায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেনকে মুক্তির দাবি জানিয়েছে কাতালোনিয়া আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা । ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেন একজন বিশ্বস্হ স্হানীয় নেতা রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করার জন্য তার উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে আমরা   সরকারের কাছে  আকুল আবেদন মামলা সঠিক তদন্ত করে জামাল হোসেনকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি ।এ সময় উপস্হিত ছিলেন, কাতালোনিয়া যুবলীগের সভাপতি আমির হোসেন আমু,খালেদ রহমান,শিমুল চৌধুরী,সুমন,রফিক প্রমুখ ।

এদিকে প্রতিনিধি সুত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার নিজু হত্যা মামলার শুনানি ও অন্য আরেকটি মামলায় হাজির হওয়ার কথা ছিল জামাল হোসেনের। কিন্তু এর আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে সিলেট আদালতপাড়ার নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে পেয়ে গ্রেফতার করে র‌্যাব-০৯। তবে এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, জামাল হোসেন যদি গ্রেফতার হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই র‌্যাবের হেফাজতে আছেন। এবিষয়ে তিনি কিছু জানেন না জানিয়ে বলেন, এখনো তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় নি। অপরদিকে জামাল হোসেনকে গ্রেফতারের খবরে সন্ধ্যার পর বিয়ানীবাজার পৌরশহরের এক বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামাল হোসেনর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

সেলিম উদ্দিন,লিসবন,পর্তুগাল : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করলো পর্তুগালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।প্রতিবছর ১৭ মার্চ জাতীয় শিশুদিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

শিশু দিবস উপলক্ষে দূতাবাস চিত্রাঙ্কন, বল নিক্ষেপ, বিস্কুট দৌড় সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মুলক খেলাধুলার আয়োজন করে। এতে অংশগ্রহন করে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের আরো ১৫ টি দেশের শিশুরা। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও শিশু দিবস অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দূতাবাসের ৩য় সেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পর্তুগাল শাখার নেত্রীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বংগবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানা!
এতে উপস্থিত ছিলেন President at junta de freguesia de Arroios Margarida Martins ,পর্তুগাল আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম , সিনিয়র সহ সভাপতি ফরহাদ মিয়া ,সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান, ফনির আজমল , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিব উদ্দিন ,সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক ইমরান হোসেন ,সাহিদুজান বাদল মিথুন সিনিয়র নেতা আবুল কালাম আজাদ ,দেলওয়ার হোসেন,রনি হোসাইন,মহিবুর রহমান মতিক,শাহ আলম, সফিউল আলম সফি, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন বঙ্গবন্ধুর জন্ম এদেশকে সার্থক করেছে। বঙ্গবন্ধুর ছোটদের ভালবাসতেন। তাঁর কাছে শিশুরা ছিল আদরের। শিশুদের নিয়ে তাঁর চিন্তা-চেতনা সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতো সব শিশুদের।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে হয়তো আমরা লাল সবুজের এই প্রিয় দেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধুর জীবন
, আমাদের চলার পথের অনুপ্রেরণা সাহস এবং ভালবাসা।পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত রুহুল আলম সিদ্দিক তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখন বিশ্বখ্যাত একটি সম্মানিত নাম। একজন সেরা বাঙালি। বাঙালি জাতির পিতা।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে হয়তো আমরা লাল সবুজের এই প্রিয় দেশ পেতাম না। তাঁর নাম চিরকাল অম্লান
, অক্ষয় ও অমর থাকবে। স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর কীর্তি গাথা, তাঁর কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য।

সুফিয়ান আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ.কে.এম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার বলেছেন, শিক্ষকরা  হলেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর। তাদের কারণেই একজন মানুষ আলোকিত হন, শিক্ষিত হোন।

তাই আমাদের সকলের উচিত তাদের যথাযথ সম্মানের আসনে আসীন করা। গতকাল শনিবার দুপুরে শতাব্দী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পঞ্চখন্ড হরগোবিন্দ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসর গ্রহণকারী শিক্ষকবৃন্দের এক বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলে অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাছিব জীবনর সভাপতিত্বে এতে  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় শাখার সহ সভাপতি মজির উদ্দিন আনসার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল।বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক তমাল চন্দ্র সেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সংবর্ধনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাথিউরা দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ রঞ্জন দাস, শালেশ^র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হাই, সাবেক শিক্ষার্থী গৌছ উদ্দিন খাঁন ও সালেহ আহমদ শাহিন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত এ বিদায়ী সংবর্ধনায় সংবর্ধিত করা হয়,সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আলী আহমদ ও মোঃ আব্দুর রব, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম, মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান, শ্রী মনোজ রঞ্জন চক্রবর্তী ও মোঃ রহুল আমীনকে।

আয়োজিত অনুষ্টানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দুবাগ স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক তারেক আহমদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন আহমদ, বিয়ানীবাজার জামেয়া ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন, দক্ষিণ মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক লোলিত মোহন বিশ^াস, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিব আলী, এডভোকেট আমান উদ্দিন, সাংবাদিক সাবুল আহমদ, মাছুম আহমদ, সুফিয়ান আহমদসহ বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আমিনুল ইসলাম,কাতার প্রতিনিধিঃ কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শিশুদিবস উদযাপন যথাযোগ্য মর্য়াদায় কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবস উদযাপন করা হয়।এ উপলক্ষে শুক্রবার(১৭ ই মার্চ)বিকাল ৩টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রথম সচিব নাজমুল হকের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমদ।সভায় শুরুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান যথাক্রমে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর ড. সিরাজুল ইসলাম, কাউন্সিলর ও মিশন প্রধান কাজী জাবেদ ইকবাল, প্রথম সচিব রবিউল ইসলাম ও প্রথম সচিব নাজমুল ইসলাম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ মোস্তফা, বাংলাদেশ স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো: জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আমিনুল হক, বাংলাদেশ স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, অভিবাবকবৃন্দ, বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী।
রাষ্ট্রদূত তাঁর সমাপনী ভাষণে বঙ্গবন্ধুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অভিহিতে করে আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর বিচিত্র কর্মজীবন তুলে ধরার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শিশুদের চিত্রাঙ্গণ শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ও কেক কেটে শিশুদের সাথে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের শুভকামনা করেন রাষ্ট্রদূত-পত্নী।

মোঃ কামরুজ্জামান,ফ্রান্স : আজ শনিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের দক্ষিণ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে । সকাল সাড়ে আট ঘটিকার সময় ওই ব্যক্তি টার্মিনাল ১ হলে একজন যুবতী বিমানচালক এবং দুই সৈন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পরে একটি রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে সেই দোকানে গুলি করে হত্যা করে। নিহত ব্যক্তি কোনো বিস্ফোরক বহন করছিল না বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। একই ব্যক্তি উত্তর প্যারিসে একটি গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ আঘাত বা আহত হয়নিফরাসী কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যায়িত করে অর্লি বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট উঠা নামা স্থগিত করে যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেনপুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে হামলাকারীর সাথে আরও কেউ ছিল কিনা তারও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। গোলাগুলির পরপরই সবাইকে বের করে দিয়ে কতৃপক্ষ বিমানবন্দর বন্ধ সহ,  নিরাপত্তা বেষ্টনি থেকে লোকজনকে দূরে থাকতে বলেছে পুলিশ।    

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এর আগে উত্তর প্যারিসের শহরতলীতে গাড়ি তল্লাশির সময় যে ব্যক্তি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলিতে আহত করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই ব্যক্তিই বিমানবন্দরের ঘটনায় নিহত হয়েছেন।  সন্দেহভাজনের ওই গাড়িটিবিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।   

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি এক সৈন্যের বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি কর্মকর্তারা।
শনিবার বিমানবন্দরের দক্ষিণ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটার পর একটি দোকানে ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন, জানিয়েছে বিবিসি।
নিহত ব্যক্তি কোনো বিস্ফোরক বহন করছিল না বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ্ই ব্যক্তি উত্তর প্যারিসে একটি গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত বলে জানিয়েছে কিছু ফরাসি গণমাধ্যম।
এ ঘটনায় অন্য কেউ আঘাত পাননি।
এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যায়িত করে কর্তৃপক্ষ অর্লি বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে এবং যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামার অনুমতি দিচ্ছে না। বিমানবন্দরটি থেকে আসা-যাওয়ার সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে এবং যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী প্যারিসের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিমানবন্দরটিতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। ওই হামলাকারীর সম্ভাব্য সঙ্গী কেউ আছে কিনা তল্লাশি অভিযানে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  
এ সময় বিমানবন্দরে আরোপিত নিরাপত্তা বেষ্টনি থেকে লোকজনকে দূরে থাকতে বলেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গোলাগুলির পরপরই সবাইকে বের করে দিয়ে বিমানবন্দরটি খালি করে ফেলা হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে টহলরত একদল সৈন্যের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওই ব্যক্তি একটি বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এই সময় গুলি করা হলে ওই ব্যক্তি নিহত হন। তার উদ্দেশ্য জানা যায়নি।
পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর আগে উত্তর প্যারিসের শহরতলীতে গাড়ি তল্লাশির সময় যে ব্যক্তি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলিতে আহত করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই ব্যক্তিই বিমানবন্দরের ঘটনায় নিহত হয়েছেন। 
ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজনের ওই গাড়িটি বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

গত মাসে প্যারিসের ল্যুভ মিউজিয়ামে এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে এক সৈন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পর তাকে গুলি করা হয়, পরে গুলিতে আহত ওই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জনপ্রিয় অনলাইন : বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতি স্মরণ করেছে স্বাধীন বাংলার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। 

গতকাল ছিল ইতিহাসের এই মহানায়কের ৯৮তম জন্মদিন। একই সঙ্গে দিবসটি দেশব্যাপী জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে গতকাল দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গতকাল সকাল ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা জাননোর পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে দলের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোজাফ্‌ফর হোসেন পল্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, আব্দুল মান্নান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এরপর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ/একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের দপ্তর সমন্বয়ক মৃণাল কান্তি দাস ১৪ দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে  উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, তার বাস্তবায়নই এখন আওয়ামী লীগের মূল শপথ। সরকার জঙ্গিবাদ নিয়ে রাজনীতি করতে চায় বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, সরকার জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করায় বিএনপির অন্তর্জ্বালা হচ্ছে। বিএনপিই জঙ্গিবাদ নিয়ে রাজনীতি করছে, তাদের মদদ দিচ্ছে।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল ভোর থেকে বঙ্গবন্ধু ভবনে নানা বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। ভোর ৬টা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। উপস্থিত হাজার হাজার নারী-পুরুষের কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হয় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান। মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এদিকে জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে কুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে সারা দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল সকাল ১০টায় বায়তুল  মোকাররম জাতীয় মসজিদে কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আইয়ুব খান। মোনাজাতে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যের রুহের মাগফিরাত কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আজ বেলা তিনটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

দেশে ভিক্ষুক, টোকাই ও পথশিশু থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান বাবুল, গোপালগঞ্জ থেকে জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্ম দিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ ও পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর জাতির জনকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসোৗধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফারুক খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহিলা শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত শিশু সমাবেশ, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করে বড় হয়ে এ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে চাই। এজন্য আমরা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। কেউ যেন ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে না পড়ে। একটি শিশুও রাস্তায় ঘুরবে না, তারা স্কুলে যাবে পড়াশোনা করবে। পড়াশোনার সুযোগ আমরা করে দিচ্ছি। শুধু তাই নয়, পথশিশু বলে কোনো শিশু থাকবে না, টোকাই বলে কোনো শিশু থাকবে না। শিশুদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে তোমাদের মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করতে হবে। মনদিয়ে লেখাপড়া করলে একদিন তোমরাই পারবে জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণ করতে। তিনি প্রতিটি শিশুর বাবা-মাকে তাদের দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য সব অভিভাবককে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা আরও বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়গামী করার জন্য বিনা বেতন, বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি ও স্কুলের টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালে জাতির জনক শিশু অধিকার আইন প্রণয়ন করেন; এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সাল থেকে শিশু অধিকার আইন চালু করেছে। বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশের সব শিশুকে লেখাপড়া শিখিয়ে আন্তর্জাতিক মানের তৈরি করতে। কিন্তু তিনি পারেননি। গরিব, অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অবহেলার চোখে না দেখে তাদের প্রতি আন্তরিক হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জনপ্রিয় অনলাইন : রাজধানীর বিমানবন্দরের হাজী ক্যাম্পের পাশে নির্মাণাধীন র‌্যাবের কার্যালয়ে বোমা হামলায় এক আত্মঘাতী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। 

বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আজম জানান, দুপুরে আশকোনা হাজী ক্যাম্পের পাশে র‍্যাব কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর পার হয়ে ওই আত্মঘাতী ভেতরে ঢুকতে গেলে সেখানে উপস্থিত র‍্যাবের কয়েকজন সদস্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে ছুটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই আত্মঘাতী জঙ্গি নিহত হয়।

তিনি আরো জানান, ওই হামলকারীর শরীর থেকে আরো একটি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। আহত দুই র‌্যাব সদস্যকে সিএমএইচে ভর্তি  করা হয়েছে।

জনপ্রিয় অনলাইন : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনীতিতে অপশক্তি বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। এই দলটি জঙ্গিবাদে মদদ দেয় বলেই, সন্ত্রাস বিরোধী যেকোনো অভিযানের বিরোধিতা করে।

শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকের দিনের শপথ হবে বঙ্গবন্ধুর বিজয়কে, বাঙালির বিজয়কে সুসংহত করতে আমরা সামপ্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ গঠন করবো। এখানে রাজনৈতিক অপশক্তি আছে। সেই রাজনৈতিক অপশক্তিকে মদদ দেয় বিএনপি।

মোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স : আজ বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের গ্রাসের Alexis de Tocqueville school এ বছরের এক ছাত্রের গুলিতে তিন শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেবেলা ১২টা ৩০ ঘটিকার সময় এই ঘটনা ঘটে । পুলিশ ১৭ বছর বয়সী হামলাকারী কিশোরকে একটি রাইফেল, একটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও দুটি  গ্রেনেডসহ গ্রেফতার করেছে ।
     
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হামলাকারী কিশোর মানসিক ভারসাম্যহীন এবং অস্ত্রের ব্যাপারে জানার আগ্রহী বলে এই ঘটনা ঘটতে পারে । এটা তার পাগলামির অংশ ও হতে পারে। হামলার সময় প্রধান শিক্ষকের হাতে গুলি লাগার পরও প্রধান শিক্ষক ওই হামলাকারীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।এই জন্য মন্ত্রী তার ভূমিকাকে নায়কোচিত বলে প্রশংসা করেন ।

গ্রাসেমেয়র জেরোম Viaud বলেন, তিনি যুবকের পরিবারকে চিনেন এবং ঘটনাটি গ্রাস শহরের জন্য একটি খুব কঠিন মুহূর্ত"।   
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো Le Roux বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ছাত্রটিকে ঘটনার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি স্কুলে কর্মীদের অন্যান্য ছাত্রদের রক্ষায় দ্রুত কাজ করায় ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীর সঙ্গে আরও কেউ ছিলো বলে ধারনা করছেন,তারা সম্ভাব্য হামলাকারীদ্বয়কে খুঁজছেন ।     

সুফিয়ান আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিয়ানীবাজারের চাঞ্চল্যকর নিজু হত্যা মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেন অবশেষে গ্রেফতার হলেন। গত ১৬ই মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের আদালতপাড়া থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব-০৯। তবে তাকে এখনো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানান বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এদিকে জামাল হোসেনকে গ্রেফতারের খবরে সন্ধ্যার পর বিয়ানীবাজার পৌরশহরের এক বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামাল হোসেনর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণবাজারে সিএনজি স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সবজি ব্যবসায়ী নিজু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবুল আহমদ বিয়ানীবাজার থানায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন। জামাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন নিজুর বাবাও।  ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন জামাল হোসেন।আলোচিত এ হত্যাকান্ডের ১৩জন আসামী বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। সর্বশেষ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাইদুল ইসলাম দুই মাস হাজতবাস শেষে উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তী জামিন নিয়ে মুক্তি পান।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজু হত্যা মামলার শুনানি ও অন্য আরেকটি মামলায় হাজির হওয়ার কথা ছিল জামাল হোসেনের। কিন্তু এর আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে সিলেট আদালতপাড়ার নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে পেয়ে গ্রেফতার করে র‌্যাব-০৯। তবে এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, জামাল হোসেন যদি গ্রেফতার হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই র‌্যাবের হেফাজতে আছেন। এবিষয়ে তিনি কিছু জানেন না জানিয়ে বলেন, এখনো তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় নি। অপরদিকে জামাল হোসেনকে গ্রেফতারের খবরে সন্ধ্যার পর বিয়ানীবাজার পৌরশহরের এক বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামাল হোসেন’র অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

আমিনুল ইসলাম,কাতার প্রতিনিধিঃ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের দুই প্রবাসী নিহত ও অপরজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ১৩ই মার্চ বিকেলে নিহতদের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।নিহতরা হলেন; উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ঝাটিয়ারখিল গ্রামের আবুল কাশেম চৌধুরীর পুত্র শহিদুল হাসান সৈকত চৌধুরী(২৬), নেতড়ার আহাম্মদ উল্যাহর পুত্র মোঃ শিপন(৩৫)গুরুতর আহত হলেন সাঙ্গিশ্বর গ্রামের মৃত এছাক ভূঁইয়ার পুত্র ওমর ফারুক ভূঁইয়া প্রকাশ মিয়া (৪০)। নিহত সৈকতের আত্মীয় ইউসুফ মিয়াজী ও ফারুক মিয়ার চাচাতো ভাই জাকারিয়া সোমবার বিকেলে জানান, শুক্রবার রাত থেকে নিহত তিনজনের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।
এরপর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত চৌদ্দগ্রামের প্রবাসীদের মাধ্যমে তাদেরকে খোঁজাখুজি করা হয়। কিন্তু এরপরও তাদের সন্ধান না পাওয়ায় কাতারের নিউ সানাইয়া এলাকার হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে তাদের লাশ পাওয়া যায়।
কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের মাধ্যমে জানা গেছে, একটি প্রাইভেটকারযোগে শুক্রবার রাতে তিন বাংলাদেশী ও এক মিশরীয় প্রাইভেটকার যোগে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে দেশটির নিউ সানাইয়া এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাইভেটারকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন।অন্যজন আহত অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।রোববার রাতে তিনিও মারা যান।তবে নিহত মিশরী প্রবাসীর পরিচয় জানা যায়নি।
কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম শ্রমসচিব রবিউল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,প্রথমে তিন জনের মৃত্যুর খবর প্রচারিত হলে আমরা খোজ নিয়ে জানতে পারি দুই জন বাংলাদেশী ও অপরজন মিশরী মৃত্যুবরন করেন।

সুফিয়ান আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ মাহা-বিয়ানীবাজার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্ধোধনী ম্যাচে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ফুটবল একাডেমীর কাছে টাইব্রেকারে হেঁরে এই টুর্ণামেন্ট থেকে বিদায় নিলো আবাহনী ক্রীড়া চক্র বিয়ানীবাজার। খেলার প্রথমার্ধে দক্ষিভাগের অধিনায়ক জনির দুর্দান্ত শর্ট আবাহনীর গোলরক্ষককে বোঁকা বানিয়ে গোলপোষ্টের ভিতরে চলে যায়। যার ফলে এগিয়ে যায় দক্ষিণভাগ ফুটবল একাদশ। এরপর খেলার দ্বিতীয়ার্দ্ধে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুলের গোলে সমতায় ফিরে আবাহনী ক্রীড়া চক্র। নির্ধারিত সময়ে কোন দল আর গোল না করতে পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে জয়লাভ করে দক্ষিণভাগ ফুটবল একাডেমী। আর টুর্ণামেন্টটি নকআউট পদ্ধতির হওয়ায় আয়োজিত এটুর্ণামেন্টে আর অংশগ্রহণ করতে পারবে না আবাহনী। আর এর মাধ্যমে ভঙ্গ হয়ে গেলো টুর্ণামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে আবাহনীর খেলার স্বপ্নও। আজকের খেলায় পরস্পরের মুখোমুখী হবে ইউ.কে ব্যাসিস ফুটবল টিম উপশহর,সিলেট বনাম বৈরাগীবাজার ক্রীড়া সংস্থা, বিয়ানীবাজার।

এদিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পিএইচজি হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত মাহা-বিয়ানীবাজার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ফুটবল টুর্ণামেন্ট উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার বিকেলে এর আনুষ্টানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন, টুর্ণামেন্টের পৃষ্টপোষক সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।

বিয়ানীবাজার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক রেফারী ইসলাম উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হকের যৌথ পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খাঁন, উপজেলা সহকারী (ভুমি) কর্মকর্তা মেহেদি হাসান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা অওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া, সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ কলা মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাবুল,প্রচার সম্পাদক হারুনুর রশীদ দিপু, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল কুদ্দুস টিটুসহ আরো অনেকে।

জনপ্রিয় অনলাইন: মানুষের কৌতূহল থাকে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি, দণ্ডিত হওয়ার পরে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পূর্ব মুহূর্তে, কি ভেবেছিলেন ও কি বলেছিলেন, সেটা জানতে।

এ বিষয়ে ইংরেজ লেখক চার্লস ডিকেন্স (১৮১২ ১৮৭০) তার জনপ্রিয় উপন্যাস এ টেইল অফ টু সিটিজ (A Tale of Two Cities, ১৮৫৯)-এ কল্পনা করেছেন। ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের সময়ে, লন্ডন ও প্যারিস এই দুটি শহরের প্রেক্ষিতে রচিত এই উপন্যাসের শেষাংশে নায়ক সিডনি কার্টন-এর মৃত্যু হয় গিলোটিনে।
মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে সিডনি কার্টন যে কথাগুলো বলেছিলেন সেটা ডিকেন্সের সাহিত্যকর্মে কালজয়ী হয়ে আছে। এ টেইল অফ টু সিটিজ-এর সূচনায় এবং সমাপ্তিতে যেসব লাইন লেখা হয়েছে সেসব সাহিত্যপ্রিয়দের মুখস্থ। সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রিত (২০ কোটি কপির বেশি) উপন্যাসের অন্যতম হয়েছে বইটি।
এ টেইল অফ টু সিটিজ একটি কল্পিত উপন্যাস। মৃত্যুমুখী সিডনি কার্টনের শেষ কথাগুলো ছিল চালর্স ডিকেন্সের কল্পনা প্রসূত।
কিন্তু বাস্তবে যারা মৃত্যুদণ্ড পেয়ে মৃত্যুমুখী হয়েছিলেন তারা কি ভেবেছিলেন? কি বলেছিলেন?
বিশেষত সেই সব দণ্ডিত ব্যক্তি যারা নিরপরাধী ছিলেন? অথবা নিজেদের নিরপরাধী মনে করেছিলেন?
জেনে নিন, মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত তেত্রিশ ব্যক্তির শেষ কথা। নিচে তাদের উক্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কাল অনুসারে উদ্ধৃত হলো। এরা ছিলেন দার্শনিক, কবি, লেখক, যোদ্ধা, বিপ্লবী যোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, স্পাই, অর্ডিনারি কৃমিনাল, পলিটিশিয়ান, রাজা-রানি, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট। উক্তিগুলো :
মৃত্যুর পরিণতি দুটি হতে পারে। এক. মৃত ব্যক্তি পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যেতে পারে তার কোনো অনুভূতিই থাকবে না। দুই. বলা হয়, একটা বিশেষ পরিবর্তন হবে আত্মা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবে।
মৃত্যু যদি সকল অনুভূতিকে নিঃশেষ করে দিতে পারে, তাহলে এটা হবে ঘুমানোর মতো, যেখানে ঘুমন্ত ব্যক্তি কোনো স্বপ্ন দেখে না। তাহলে মৃত্যু হবে একটা বড় লাভ মৃত্যু যদি এ রকমই হয় তাহলে আমি বলব, এটা একটা লাভ। এর ফলে এক রাতের মধ্যে সব ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু, অন্যদিকে, যদি মৃত্যুটি হয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আত্মার স্থানান্তর এবং যা বলা হয় তা যদি সত্য হয়, তাহলে এর চাইতে বড় আশীর্বাদ আর কি হতে পারে, বিচারকবৃন্দ? এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে, এখন মরলে এবং সব যত্নআত্তি থেকে মুক্ত হলে, আমার জন্য ভালো হবে কিন্তু এখন যাওয়ার সময় হয়েছে, আমার মৃত্যুর সময় হয়েছে আপনারা বেচে থাকবেন। কিন্তু আমি, নাকি আপনারা কে যে ভালো জায়গায় থাকবেন, সেটা ঈশ্বর বাদে কেউ জানেন না। ( it is now time to depart, for me to die, for you to live. But which of us is going to a better state is unknown to everyone but God.)
সক্রেটিস (Socrates, , খ্রিস্টপূর্ব ৪৬৯ ৩৯৯)। গৃক দার্শনিক। ৭০ বছর বয়সে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তরুণ সমাজকে বিপথগামী করার অভিযোগে। সামান্য অর্থদণ্ড দিয়ে মুক্তির সুযোগ তাকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেটা নাকচ করে দেন। জেলখানা থেকে পালানোর সুযোগও তাকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই সুযোগ নেননি। ক্রন্দনরত ভক্তদের সামনে রায় অনুযায়ী তিনি নিজের হাতে হেমলক বিষ খেয়ে মারা গিয়েছিলেন।
আহ রুয়ে। আমার খুব ভয় হচ্ছে, আমার মৃত্যুর ফলে তোমাকে কষ্ট ভোগ করতে হবে।
যিশু, যিশু
জোন অফ আর্ক (Joan of Arc, ১৪১২ ১৪৩১)। ফ্রেঞ্চ দেশপ্রেমিক এবং সর্বকালের বিস্ময়কর নারীদের অন্যতম। পুরুষের বেশে তিনি সুকৌশলী ও বীর যোদ্ধা রূপে ১৪২৯-এ অরলিয়ন্সে ইংরেজদের পরাজিত করেছিলেন। কিন্তু পরে এক যুদ্ধে তিনি ধরা পড়েন এবং ইংরেজরা তাকে ধর্মীয় ভিন্নমত প্রচারের কারণ দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ফ্রান্সে রুয়ে শহরে আগুনে পুড়িয়ে তাকে ১৯ বছর বয়সে হত্যা করা হয়।
আমার দেহের এই অংশটি কখনোই দেশদ্রোহিতা করেনি।
স্যার টমাস মোর (Sir Thomas More, ১৪৭৮ ১৫৩৫)। মানবতাবাদি ইংরেজ চিন্তাবিদ। ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরিকে চার্চের নেতা রূপে মানতে রাজি না হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। মাথা পেতে দেওয়ার সময়ে গিলোটিনের পথ থেকে নিজের দাড়ি সরিয়ে রেখে তিনি ওপরের কথাটি বলেছিলেন।
গুড কৃশ্চিয়ান ভাই ও বোনেরা, আমি এখানে এসেছি মরতে। আইন অনুসারে এবং আইনের বিচারে আমাকে মরতে হবে। তাই এর বিরুদ্ধে আমি কিছু বলব না। আমি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করব না। যে কারণে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও আমি কিছু বলব না। কিন্তু আমি প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন রাজাকে দীর্ঘজীবী করেন। তিনি যেন দীর্ঘকাল আপনাদের ওপর রাজত্ব করতে পারেন। কারণ, তার চাইতে ভদ্র এবং দয়ালু রাজা আর কেউ ছিলেন না। আমার কাছে তিনি ছিলেন সবসময়ই ভালো, ভদ্র এবং আমার রাজা। যদি কেউ আমার কথা নিয়ে ভাবতে চান, তাহলে আমি তাকে অনুরোধ করব সুবিচার করতে। এ কথা বলে আমি পৃথিবী থেকে এবং আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমি সর্বান্তকরণে চাই আপনারা আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। ঈশ্বর আমার প্রতি করুণা করুন। আমার আত্মা আমি ঈশ্বরকে সমর্পণ করছি। ওহ গড, আমার প্রতি করুণা করুন ওহ গড, আমার প্রতি করুণা করুন
অ্যান বলিন (Anne Boleyn, ১৫০১ অথবা ১৫০৭ ১৫৩৬)। ইংল্যান্ডের রানি। তিনি ছিলেন রাজা অষ্টম হেনরির দ্বিতীয় রানি। হেনরি তাকে ডিভোর্স দেন। কারণ, তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে পারছিলেন না। হেনরি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা পরকীয়ার অভিযোগ আনেন। কুঠারাঘাতে অ্যান বলিনের মৃত্যুদণ্ড হয়। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে (২৮ অথবা ৩৫ বছর বয়সে) মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে অ্যান বলিন কথাগুলো বলেছিলেন। মৃত্যুর আগের দিন তিনি বলেছিলেন, শুনেছি আমার জল্লাদ একজন এক্সপার্ট। আমার গলা বেশ সরু।
পুত্র সন্তানের জন্ম না দিতে পারলেও অ্যান বলিনের কন্যা হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের পরম প্রতাপশালী রানি প্রথম এলিজাবেথ। ঐতিহাসিকরা বলেন, মৃত্যুর আগে অ্যান বলিন তার স্বামীর সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলেছিলেন, কারণ, তিনি চেয়েছিলেন, অষ্টম হেনরি যেন তার কন্যা এলিজাবেথের প্রতি ভালো আচরণ করেন।
কোপ মারো ব্যাটা, কোপ মারো।
স্যার ওয়ালটার র্যািলে (Sir Walter Raleigh, ১৫৫২ ১৬১৮)। ইংল্যান্ডের নৌ বাহিনীর কমান্ডার ও কবি। যে কুঠারের আঘাতে তার শিরñেদ করা হবে সেটা দেখে তিনি বলেছিলেন, এটা একটা কড়া ওষুধ কিন্তু সকল রোগ ও দুঃখের জন্য এটা একজন ডাক্তার। আমি চাই না আমার শত্রুরা ভাবুক মৃত্যুর ভয়ে আমি কুকড়ে গিয়েছিলাম।
তার ঘাতককে দ্বিধাগ্রস্ত দেখে তিনি বলেছিলেন, Strike man, strike.
দুর্নীতিগ্রস্ত স্থান থেকে আমি চলে যাব এমন একটি স্থানে যেখানে দুর্নীতি নেই। যেখানে কোনো অশান্তি হতে পারে না।
প্রথম চার্লস (Charles I , ১৬০০ ১৬৪৯)। ইংল্যান্ডের রাজা। রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ডে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী বিপ্লবী দলের কাছে পরাজিত হয় প্রথম চার্লসের সেনাবাহিনী। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে প্রথম চার্লসকে কুঠারাঘাতে শিরচ্ছেদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মৃত্যুর আগে ওপরের উক্তিটি করেছিলেন প্রথম চার্লস।
সাময়িকভাবে ইংল্যান্ডে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন বিপ্লবী নেতা অলিভার ক্রমওয়েল (১৫৯৯ ১৬৫৮)। ম্যালারিয়া রোগাক্রান্ত হয়ে ৫৯ বছর বয়সে ক্রমওয়েলের মৃত্যুর পরে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে তাকে কবর দেওয়া হয়। কিন্তু দুই বছর পরে ১৬৬০-এ ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্র ফিরে আসে। নতুন রাজা হন দ্বিতীয় চার্লস। ১৬৬১-তে রাজা প্রথম চার্লসের দ্বাদশ মৃত্যু বার্ষিকীতে ক্রমওয়েলের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে তাকে ফাসি দেওয়া হয়েছিল। চূড়ান্ত বিচারে অবশ্য ক্রমওয়েলই বিজয়ী হয়েছেন। কারণ, কালক্রমে ইংল্যান্ডে তথা বৃটেনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, যেখানে রাজা-রানির ক্ষমতা খুবই সীমিত। ক্রমওয়েলের একটি মূর্তি স্থাপিত হয়েছে পার্লামেন্ট ভবনের দোরগোড়ায়। ঘোড়ার পিঠে বসা ক্রমওয়েলের সেই মূর্তিটি দেখে সবাইকে পার্লামেন্টে ঢুকতে হয়।
আমার মৃত্যুকে আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু যেভাবে মরতে হবে সেটা আমি ঘৃণা করি এটা হবে মাত্র এক মুহূর্তের ব্যথা। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আমার মৃত্যু যেন হয় সাহসী মানুষের মতো।
জন আনদ্রে (Jhon Andre, ১৭৫০ ১৭৮০)। বৃটিশ মেজর। এই চিঠি তিনি লিখেছিলেন জেনারেল হেনরি ক্লিনটনের কাছে। স্পাইয়িংয়ের জন্য তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল এবং তিনি ফাসিতে মরতে চেয়েছিলেন। তার অনুরোধ উপেক্ষিত হয়েছিল।
আমার মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের ক্ষমা করে দিচ্ছি।
ষোড়শ লুই (Louis XVI, ২৩.০৮.১৭৫৪ ২১.০১.১৭৯৩)। ফ্রান্সের রাজা। ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের গিলোটিনে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে তিনি কথাগুলো বলেছিলেন।
মাফ করবেন স্যার, আমি এটা করতে চাইনি।
মারি এন্তনে (Marie Antoinette, ২.১১.১৭৫৫ ১৬.১০.১৭৯৩)। ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনে নিহত ফ্রান্সের সম্রাট ষোড়শ লুই-এর স্ত্রী। সুন্দরী ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ মারি এন্তনে-র জন্ম হয়েছিল অস্টৃয়াতে। ষোড়শ লুইয়ের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি হন ফ্রান্সের কুইন কনসর্ট। প্রথমে ফ্রেঞ্চ জনগণের প্রিয় হলেও পরে তার অমিতব্যয়িতা এবং বহুগামিতার জন্য অপ্রিয় হন। এটাও কথিত আছে যে, ফ্রান্সে খাদ্যাভাব দেখা দিলে তিনি বলেছিলেন, ওরা (জনগণ) কেক খেয়ে বাচুক (Let them eat cake)পরবর্তী কালে প্রমাণিত হয়, এ ধরনের কোনো উক্তি তিনি করেননি। তবে অলংকার, পোশাক, জুয়া, ঘোড়দৌড় বাজি, প্রভৃতিতে তার অঢেল খরচের কাহিনী বিস্তৃত হয়। কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, তার জন্যই ফ্রান্স ফকির হয়ে গিয়েছিল ও তার ফলে বিপ্লব সূচিত হয়েছিল। বিপ্লবে ষোড়শ লুইয়ের শিরচ্ছেদের পর মারি এন্তনে-র বিচার ও মৃত্যুদণ্ড হয়। বহু অভিযোগের মধ্যে অন্যতম ছিল তার পুত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন। বিচারের সময়ে প্রথমে এন্তনে (৩৭) নিশ্চুপ এবং ধীরস্থির ছিলেন। কিন্তু ওই অভিযোগের পরে তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, কোনো মা-র বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হলে প্রকৃতিও তার উত্তর দেবে না।
গিলোটিনে মৃত্যুর আগে তিনি অসতর্কতাবশত জল্লাদের পা মাড়িয়ে মঞ্চে উঠেছিলেন। তাই তিনি জল্লাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন, পার্ডন মি স্যার, আই মেন্ট নট টু ডু ইট (Pardon me Sir, I meant not to do it)মারি এন্তনে-র জীবনী নির্ভর বহু উপন্যাস, কাহিনী, নাটক ও মুভি রচিত হয়েছে।
১০
আমার একমাত্র দুঃখ যে, ওই ইদুরটা, রোবেসপিয়েরের আগে আমাকে যেতে হচ্ছে আমার মাথা জনগণকে দেখাতে ভুলো না এটা দেখার মতো জিনিস।
জর্জ জ্যাক দান্তো (Georges Jacques Danton, ১৭৫৯ ১৭৯৪)। ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের অন্যতম নেতা। কৃষক পরিবারে দান্তো-র জন্ম হয়েছিল। সুবক্তা দান্তো ছিলেন লম্বা, চওড়া, সুদর্শন এবং তার ছিল বজ্রকণ্ঠ। জ্বালাময়ী ভাষনে তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন। ১৭৮৯-এ সূচিত ফ্রেঞ্চ রিভলিউশন বা ফরাশি বিপ্লবের পরে তিনি নতুন প্রজাতন্ত্রের বিচারমন্ত্রী হয়েছিলেন। ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের এক পর্যায়ে ১৭৯৩-তে দি রেইন অফ টেরর (The Reign of Terror) নামে ভয়ের শাসনকাল শুরু হয়ে যায়। তখন বিপ্লবের নামে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষকে গিলোটিনে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। অন্যায় বিচারে নির্দোষ মানুষকে হত্যার প্রতিবাদ দান্তো করলে নিজের বিপদ ডেকে আনেন। তার বিপ্লবী সহযোগী ম্যাক্সমিলিয়ন রোবেসপিয়ের আরো ক্ষমতাশালি হয়ে ওঠেন এবং বিপ্লব নস্যাৎ চেষ্টার অভিযোগে দান্তো-কে গ্রেফতার করেন। দান্তোর বিচার দুই দিন ধরে চলে। কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনে তার আবেগময় বক্তৃতায় জনগণ আপ্লুত হয়। রোবেসপিয়ের তার প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। দান্তোকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৫ এপৃল ১৭৯৪-এ মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে দান্তো (৩৪) তার মাথা জনগণকে দেখানোর জন্য জল্লাদকে বলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর মাথা কেটে মানুষকে দেখানো হয়েছিল।
সাধারণ মানুষ মৃত দান্তোর পক্ষে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা চক্রান্তকারী রোবেসপিয়েরের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে। চাকা ঘুরে যায়। রোবেসপিয়েরকে ধরে তার বিচার করা হয়। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২৮ জুলাই ১৭৯৪-এ, অর্থাৎ দান্তোর মৃত্যুর ১১৪ দিন পরে রোবেসপিয়েরের মৃত্যু হয় গিলোটিনে। আর তারপরই রেইন অফ টেরর বা ভয়ের শাসনকাল শেষ হয়। দান্তোর শেষ কথার ভাষান্তর ওপরে উদ্ধৃত হয়েছে (My only regret is that I am going before that rat Robespierre dont forget to show my head to the people. Its well worth seeing.)
১১
আমাকে একটু সময় দিলে আমি সারা ভারতবাসীকে শিখিয়ে দিতাম কি করে বোমা বানাতে হয়।
ক্ষুদিরাম বসু (৩.১২.১৮৮৯ ১১.৮.১৯০৮)। ভারতে বৃটিশ শাসন বিরোধী বিপ্লবী যোদ্ধা। ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম হয়েছিল পশ্চিম বাংলার মেদিনীপুরে হাবিবপুর গ্রামে। মৃত্যুর সময়ে তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন। ৩০ এপৃল ১৯০৮-এ মুজাফফরপুর, বিহারে রাতে সাড়ে আটটায় ইওরোপিয়ান ক্লাবের সামনে বোমা ছুড়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ক্ষুদিরামের বিচার শুরু হয় ২১.৫.১৯০৮-এ। বিচারক ছিলেন জনৈক বৃটিশ মি. কর্নডফ এবং দুইজন ভারতীয়, লাথুনিপ্রসাদ ও জানকিপ্রসাদ। রায় শোনার পরে ক্ষুদিরামের মুখে হাসি দেখা যায়। তার বয়স খুব কম ছিল। বিচারক কর্নডফ তাকে প্রশ্ন করেন, তাকে যে ফাসিতে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে কিনা? ক্ষুদিরাম আবার মুচকে হাসলে বিচারক আবার প্রশ্নটি করেন। ক্ষুদিরাম তখন ওপরে উদ্ধৃত কথাটি বলেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ভোর ছয়টায়। ফাসির মঞ্চ ওঠার সময়ে তিনি হাসিখুশি ছিলেন। ক্ষুদিরামকে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম কবিতা লিখেছিলেন এবং অনেক গানও তখন রচিত হয়েছিল। যেমন, একবার বিদায় দে মা। তার মৃত্যুর পর বৃটিশদের খুন করার জন্য তরুণরা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।
১২
মৃত্যু কিছু না। জীবনও কিছু না। মরে যাওয়া, ঘুমিয়ে পড়া, শূন্য হয়ে যাওয়া এসবে কি আসে যায়? সবই মায়া, মরীচিকা।
মাটা হারি (Mata Hari ১৮৭৬ ১৯১৭)। ডাচ ডান্সার ও স্পাই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের পক্ষে স্পাইংয়ের জন্য মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ফায়ারিং স্কোয়াডের গুলিতে তার মৃত্যুর আগে একজন নান (Nun) তাকে সান্ত¦না দিতে গেলে মাটা হারি (৪১) এই কথাগুলো বলেছিলেন। তিনি তার চোখে কালো কাপড় বাধতে রাজি হননি। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তিনি ফায়ারিং স্কোয়াডকে হাত নেড়ে ফ্লাইং কিস দিয়েছিলেন।
১৩
বন্ধুরা, একটু পরেই তোমার একটা ভাজা আপেল দেখবে।
জর্জ আপেল (George Appel? ১৯২৮)। আমেরিকান খুনি। নিউ ইয়র্কের একজন পুলিশকে হত্যার দায়ে ১৯২৮-এ জর্জ আপেলকে ইলেকটৃক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
১৪
ব্যক্তিকে সহজেই হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। বড় বড় সা¤্রাজ্য ভেঙে গুড়িয়ে গেছে কিন্তু আদর্শ টিকে থেকেছে।
ভগত সিং (২৮.৯.১৯০৭ ২৩.৩.১৯৩১)। ভারতে বৃটিশ শাসন বিরোধী পাঞ্জাবের মার্কসবাদী সোশালিস্ট ও নাস্তিক বিপ্লবী। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়ে লালা লাজপৎ রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধে বৃটিশ পুলিশ অফিসার জন সনডার্স-কে হত্যার অপরাধে ভগৎ সিংকে (২৩) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। লাহোর জেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তিনি বৃটিশ কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে ফাসির বদলে একজন যোদ্ধা রূপে ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধ উপেক্ষিত হয়েছিল। ইনডিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের সামনে তার সম্মানার্থে একটি ব্রঞ্জ মূর্তি স্থাপিত হয়েছে।
১৫
মৃত্যু আমার দরজায় এসে গিয়েছে। অনন্তের দিকে আমার মন উড়ে চলেছে এত সুন্দর, এত কঠিন, এত পূতপবিত্র সময়ে আমি তোমাদের জন্য কি রেখে যাব? একটাই জিনিস। সেটা হচ্ছে আমার স্বপ্ন মুক্ত ভারতের সোনালি স্বপ্ন। ১৮ এপৃল ১৯৩০ তারিখটি কখনোই ভুলে যেও না চট্টগ্রামে পূর্বঞ্চলীয় বিদ্রোহের দিনটি ভারতের স্বাধীনতার জন্য যেসব দেশপ্রেমিক জীবন দিয়েছেন তাদের নামগুলো তোমার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে লিখে রেখ।
সূর্য সেন (পূর্ণ নাম সূর্যকুমার সেন যিনি মাস্টারদা নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন, (২২.৩.১৮৯৪ ১২.৩.১৯৩৪)। চট্টগ্রামে অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের বিপ্লবী মহানায়ক। সূর্য সেনের জন্ম হয়েছিল নোয়াপাড়া, রাওজান, চট্টগ্রামে। নন্দনকাননে একটি স্কুলের টিচার সূর্য সেন যোগ দেন বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন সমিতি-তে। লক্ষ্য ছিল ভারতে বৃটিশ শাসনের অবসান। অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর জালালাবাদ পাহাড়ের কাছে তাকে ও তার দলকে ঘিরে ফেলে বৃটিশ বাহিনী। খণ্ডযুদ্ধে মারা যান বারোজন বিপ্লবী। কেউ আহত হন। কেউ ধরা পড়েন। সূর্য সেন পালিয়ে যেতে পারেন। ছদ্মবেশ ও ছদ্মপরিচয়ে (এমনকি মুসলিম পরিচয়েও)। সূর্য সেন কিছুদিন লুকিয়ে থাকার পর নেত্র সেন নামের এক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়েন। সূর্য সেনকে টর্চার করা হয়। বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। চট্টগ্রাম জেলে সূর্য সেনের ফাসির মঞ্চ এখন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত। তার নামে ঢাকায় একটি ছাত্রাবাস হয়েছে। বিশ্বাসঘাতক নেত্র সেনকে হত্যা করে বিপ্লবীরা প্রতিশোধ নিয়েছিল। সূর্য সেন (৩৯) তার এক বন্ধুকে শেষ যে চিঠি লিখেছিলেন তার কয়েকটি লাইন ওপরে উদ্ধৃত হয়েছে। তবে মূল বাংলা চিঠি না পাওয়ায় তার ইংরেজি অনুবাদের একটি ভাষান্তর প্রকাশিত হয়েছে।
১৬
কুত্তার বাচ্চারা, আমার মা-কে ভালোবাসা জানিয়ে দিস।
ফ্রান্সিস ক্রাউলি (Francis Crowley,? ১৯৩৯)। আমেরিকান ডাকাত ও খুনি। ১৯৩৯-এ সিং সিং জেলখানায় ইলেকটৃক চেয়ারে বসে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
১৭
আমি শুধু একটাই অনুরোধ করছি আমাকে আমার কাজটা শেষ করতে দিন।
আইজ্যাক বেবেল (Isac Babel, ১৮৯৪ ১৯৪১)। ছোট গল্প লেখক রাশিয়ান ইহুদি। গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসের মিথ্যা অভিযোগে সভিয়েট সিক্রেট পুলিশ ১৯৩৯-এ তাকে গ্রেফতার করে। যে অসম্ভব অবিচারের দুঃস্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন সেটা ফ্রানজ কাফকা তার দি ট্রায়াল উপন্যাসে কল্পনা করেন। ১৯৪০-এ বেবেল (৪৪) বাধ্য হন একটা স্বীকারোক্তি দিতে। তার মৃত্যুদণ্ড হয়। গুলি করে তাকে হত্যার আগে এই ছিল তার শেষ কথা।
১৮
আর সোয়া ঘণ্টা পরে আমি মারা যাব। নিজের দেশের মানুষের হাতে মরাটা কঠিন। কিন্তু এই বাড়িটা ঘিরে রাখা হয়েছে। আর হিটলার দেশদ্রোহিতার অভিযোগ করেছেন আমার বিরুদ্ধে। জার্মানির জন্য আফৃকাতে আমি যেসব কাজ করেছি, তার স্বীকৃতি স্বরূপ আমাকে বিষ খেয়ে মরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেটা যদি আমি করি তাহলে আমার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে, অর্থাৎ, তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ওরা নেবে না। আমার কর্মচারিদের বিরুদ্ধেও কোনো শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না।
আরউইন রোমেল (Erwin Rommel ১৮৯১ ১৯৪৪)। জার্মান জেনারেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক পর্যায়ে তিনি হিটলারের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেন এবং তাকে হত্যার চক্রান্তে যোগ দেন। সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। রোমেল ধরা পড়েন। হিটলার তাকে দুটি বিকল্প দেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যু অথবা বিষপানের আত্মহত্যা। রোমেল (৫২) দ্বিতীয় বিকল্পটি বেছে নিয়েছিলেন এবং বিষ খাওয়ার আগে এই কথাগুলো তার ছেলে ম্যানফ্রেড-কে বলেছিলেন।
১৯
আমার কাহিনী হচ্ছে একটি প্রেমের কাহিনী। কিন্তু এটা বুঝবে শুধু তারাই যারা প্রেমের ফলে নির্যাতিত হয়েছে। আমার সম্পর্কে বলা হয়েছিল আমি আবেগবিহীন মোটা নারী। হ্যা, আমি মোটা। কিন্তু সেটাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে কয়জন নারীকে মোটা হওয়ার অপরাধে দোষী রায় দেওয়া হয়েছে? আমি আবেগবিহীন স্টুপিড নই। বোকাও নই। আমার শেষ কথা এবং শেষ চিন্তা হলো : যে নিষ্পাপ সে যেন প্রথম পাথরটি ছুড়ে মারে।
মার্থা বেক (Martha Beck, ৬.৫.১৯২০ ৮.৩.১৯৫১)। আমেরিকার সিরিয়াল খুনি। স্থূলাঙ্গী নারী মার্থা বেক ও তার প্রেমিক রেমন্ড ফার্নান্ডেজ খুনের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিল। ১৯৪৯-এ তাদের বিচার চলার সময়ে লোনলি হার্টস কিলার ((Lonely Hearts Killer) নামে মামলাটি পরিচিত হয়। মার্থা (৩০) ও রেমন্ড (৩৬) ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দিয়ে লোনলি বা নিঃসঙ্গ নারীদের প্রলুব্ধ করে হত্যা করত। ১৯৫১- তে সিং সিং জেলখানায় মার্থা ও রেমন্ডের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০
জার্মানি দীর্ঘজীবী হোক। আর্জেনটিনা দীর্ঘজীবী হোক। অস্টৃয়া দীর্ঘজীবী হোক। এই তিনটি দেশের সঙ্গে আমি সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিলাম এবং এটা আমি ভুলব না। আমার স্ত্রী, আমার পরিবার এবং আমার বন্ধুদের ভালোবাসা জানাচ্ছি। আমি রেডি। আমাদের আবার দেখা হবে। এটাই সবার নিয়তি। আমি ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখে মরছি।
অটো এডলফ আইখম্যান (Otto Adlof Eichman ১৯০৬ ১৯৫২)। জার্মান নাৎসি লেফটেনান্ট কর্নেল। যুদ্ধ শেষের পরে বুয়েনস আইরেস, আর্জেন্টিনাতে পালিয়ে থাকেন। মোসাদ বাহিনী তাকে কিডন্যাপ করে ইসরেলে নিয়ে যায়। সেখানে বিচারে যুদ্ধ অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত হন। আইখম্যানের (৫৬) ফাসি কার্যকর করা হয় ৩১ মে ১৯৬১-তে। এখন পর্যন্ত এটাই ইসরেলে বেসামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একমাত্র ঘটনা।
২১
আমেরিকান ফ্যাসিজমের প্রথম ভিকটিম আমরা।
ইথেল রোজেনবার্গ (Ethel Rosenberg, ২৫.৯.১৯১৫ ১৯.৬.১৯৫৩)। অভিনেত্রী ও গায়িকা।
এটম বোমা স্পাই রূপে অভিযুক্ত ও ইলেকটৃক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত হয়েছিলেন। অনেকের মতে তিনি ও তার স্বামী, তারা দুজনই নিরপরাধ ছিলেন। ১৯৫৩- তে ইথেলের (৩৭) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে নিয়ম অনুসারে তিনটি ইলেকটৃক শকের পরেও তার মৃত্যু হয় না। তখন ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বোঝেন ইথেলের হার্ট বিট চলছে। এরপর তাকে আরো দুটি ইলেকটৃক শক দেওয়া হয় ইথেলের মাথা থেকে ধোয়া বের হয়। তিনি মারা যান।
২২
আমরা দুজনই নিরপরাধ। এটাই পূর্ণ সত্য। জীবন একটা অমূল্য সম্পদ। কিন্তু সেই সম্পদটাও রক্ষার জন্য এই সত্যটাকে অস্বীকার করা যাবে না। সত্য এড়িয়ে আমাদের জীবন কিনলেও আমরা সম্মান নিয়ে বেচে থাকতাম না।
জুলিয়াস রোজেনবার্গ (Julius Rosenberg, ১২.৫.১৯১৮ ১৯.৬.১৯৫৩)। ইলেকটৃকাল ইনজিনিয়ার। এটম বোমা স্পাই রূপে অভিযুক্ত ও ইলেকটৃক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। একই অভিযোগে তার স্ত্রী ইথেলও দণ্ডিত হয়েছিলেন। জুলিয়াসের (৩৫) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৫৩-তে। প্রথম শকেই জুলিয়াস মারা যান।
২৩
হ্যা, নিশ্চয়ই। আমি একটা বুলেটপ্রুফ ভেস্ট (গেঞ্জি) চাই।
জেমস ডাবলিউ রজার্স (James W. Rodgers ১৯৬০)। আমেরিকান কৃমিনাল। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুর আগে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তার শেষ অনুরোধটা কি?
২৪
আমি দেশের, জাতির ও ধর্মের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য তাকে হত্যা করতে রাজি হয়েছিলাম।
তালদুয়ে সোমারায়া থিরো (১৯৯৫ ১৯৬২)। বৌদ্ধ ভিক্ষু। ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯-তে কলম্বোতে শ্রী লংকার প্রধানমন্ত্রী সলোমন বন্দরনায়েক (৬০)- কে তার বাসভবনে গুলি করে হত্যার পর আদালতে ওপরের উক্তিটি করেন থিরো। বিচার প্রাপ্ত থিরোর ফাসি হয় ৭ জুলাই ১৯৬২-তে। মুমূর্ষ অবস্থায় বন্দরনায়েক অনুরোধ করেছিলেন থিরোকে ক্ষমা করে দিতে এবং কোনো প্রতিশোধ না নিতে। বন্দরনায়েকের মৃত্যুর নয় মাস পরে ২১ জুলাই ১৯৬০-এ তার স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েক হন শ্রী লংকার এবং বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
২৫
আমি এই মুহূর্তটার জন্যই অপেক্ষা করছি। আমি যেভাবে বেচে আছি তেমনভাবে আগে কখনোই বাচিনি। ঈমানের (প্রকৃত বিশ্বাসের) মানে আমি বুঝতে পারছি। আকিদাহর (প্রকৃত ইসলামি বিশ্বাসের) মানেও আমি বুঝতে পারছি আমি শাহাদাতের জন্য অপেক্ষা করছি। এর চাইতে ভালোভবে আমি এর আগে আর কখনোই বাচিনি।
সাইয়িদ কুতুব (১৯০৬-১৯৬৬)। ইজিপ্টের ইসলামি তাত্ত্বিক, লেখক, কবি ও ইসলামি ব্রাদারহুড পার্টির অন্যতম নেতা। প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসের চেষ্টা করেছিলেন তাকে নিজের পক্ষে টানতে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হবার পরে একটি প্রহসনমূলক বিচারে কুতুবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আদেশটি শোনার পরে কুতুবের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তিনি আদালতে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমি পনের বছর যাবৎ জেহাদ করে এই শাহাদত অর্জন করতে চলেছি। ফাসির সময়ে তার মুখে হাসি ছিল এবং তিনি হাত নেড়ে জেল গার্ডদের বিদায় জানান।
২৬
যা করে থাকি না কেন তার জন্য আমি গর্বিত। আমি ভীত নই। শেষে শুধু বলব, আমি আমার দেশ ও জাতিকে ভালোবাসি। এ জাতির প্রাণে আমি মিশে রয়েছি। কার সাহস আছে আমাদের আলাদা করবে? নিঃশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে আর কোনো বড় সম্পদ নেই। আমি তার অধিকারী। আমি আমার জাতিকে তা অর্জন করতে ডাক দিয়ে যাই।
আবু তাহের (১৪.১১.১৯৩৮ ২১.৭.১৯৭৬)। মুক্তিযোদ্ধা ও কর্নেল। ১৯৭৫- এ সেনাবাহিনীতে সংঘটিত হত্যা ও দেশদ্রোহিতার অপরাধে ২৪ নভেম্বর ১৯৭৫- এ গ্রেফতার হন আবু তাহের। ২১ জুন ১৯৭৬-এ ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে তার বিচার শুরু হয়। বিচারের সময়ে আবু তাহের যে সুদীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছিলেন তার শেষাংশ ওপরে উদ্ধৃত হয়েছে। ১৭ জুলাই তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হয় এবং ২১ জুলাই ১৯৭৬ সেটি কার্যকর করা হয়।
২৭
ওই লোকটাকে আমি খুন করিনি। আমার আল্লাহ সেটা জানেন। আমি খুন করে থাকলে সেটা স্বীকার করার মতো সাহস আমার আছে। এখন যে বিপদ ও অপমানের মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হচ্ছে, তার চাইতে কম হতো ওই স্বীকারোক্তি করলে। কোনো আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন ব্যক্তি এই বর্বর বিচার সহ্য করতে পারেন না। আমি একজন মুসলিম। একজন মুসলিমের ভাগ্য নিয়ন্ত্রা আল্লাহ। আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়ে তার সামনে দাড়াতে পারব। তাকে বলতে পারব একটা ধ্বংসস্তূপ থেকে আমি তার ইসলামি রাষ্ট্র পাকিস্তানকে পুনর্গঠিত করে একটা সম্মানজনক অবস্থায় উন্নীত করেছিলাম। কোট লাখপত- এর দুর্বিষহ স্থানে আমি আমার বিবেক নিয়ে পূর্ণ শান্তিতে আছি। মৃত্যুর জন্য আমি ভীত নই। তুমি দেখেছ আগুনের মধ্য দিয়ে আমি কিভাবে হেটে গিয়েছি।
জুলফিকার আলী ভুট্টো (৫.১.১৯২৮ ৪.৪.১৯৭৯)। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৭-এ একটি সামরিক ক্যু-তে পদচ্যুত ও গ্রেফতার হন ভুট্টো। নতুন শাসক জেনারেল জিয়াউল হকের নির্দেশে ভুট্টোর বিচার হয় মার্চ ১৯৭৪-এ বিরোধী পলিটিশিয়ান আহমেদ রাজা কাসুরির পিতা আহমেদ খান কাসুরিকে গুলি করে হত্যার অপরাধে। হুকুমের আসামি রূপে ভুট্টোকে কাঠগড়ায় দাড়াতে হয়। তার প্রতিবাদ গ্রাহ্য হয় না। ফাসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভুট্টো তার কন্যা বেনজিরকে যে শেষ চিঠি লিখেছিলেন তার কিছু অংশ ওপরে উদ্ধৃত হয়েছে। কথিত আছে, ফাসির মঞ্চে যাওয়ার সময়ে ভুট্টো (৫১) খুব ভীত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর জন্য দায়ী জিয়াউল হক প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সময় ১৯৮৪-তে একটি নাশকতামূলক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
২৮
মনে রেখ, আজ থেকে তুমি আমার সন্তানের মা-ই শুধু নও। তুমি তাদের পিতাও।
নওয়াজিশ উদ্দীন (? ১৯৮১)। মুক্তিযোদ্ধা ও কর্নেল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার সময়ে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। সেপ্টেম্বর ১৯৮১-তে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তার স্ত্রীকে লেখা চিঠির অংশ।
২৯
প্রিয় বিশ্বাসী জনগণ, আমি তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু আমি থাকব পরম করুণাময় আল্লাহর সঙ্গে। তার কাছে যারা আশ্রয় চান তিনি তাদের সাহায্য করেন এবং কখনোই কোনো বিশ্বাসীকে নিরাশ করেন না আল্লাহ মহান আল্লাহ মহান আমাদের জাতি দীর্ঘজীবী হোক আমাদের সংগ্রামী জনগণ দীর্ঘজীবী হোক ইরাক দীর্ঘজীবী হোক প্যালেস্টাইন দীর্ঘজীবী হোক জেহাদ ও মুজাহেদিন দীর্ঘজীবী হোক।
সাদ্দাম হোসেন (২৮.৪.১৯৩৭ ৩০.১২.২০০৬)। ইরাকের প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ১৩ ডিসেম্বর ২০০৩-এ তিনি ধরা পড়েন। বিচারে তার ফাসিতে মৃত্যুদণ্ড হয়। ৩৯ বছর (ফেব্রুয়ারি ১৯৬৪ এপৃল ২০০৩) ক্ষমতায় থাকা কালে সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশে বহু ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। সাদ্দামের পতন অনিবার্য ভেবে তার দুই জামাই সপরিবারে জর্ডানে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সাদ্দামের অনুরোধে এবং নিরাপত্তার আশ্বাসে তারা ফিরে এলে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শ্বশুর সাদ্দামের নির্দেশে দুই জামাইয়ের ফাসি হয়েছিল। ইরাকে সাদ্দাম বিরোধী আমেরিকা অভিযাগের পর একটি ইরাকি আদালতে ১৯৮২-তে ১৪৮ ইরাকি শিয়া হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাদ্দামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ফাসির মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে মোবাইল ফোন ক্যামেরায় ধারণ করা সাদ্দামের (৬৯) ছবিতে তাকে অকুতোভয় ও দৃঢ়চেতা রূপে দেখা যায়। মৃত্যুর আগে সাদ্দাম তার উকিলকে শেষ যে চিঠি লিখেছিলেন তার কিছু অংশ ওপরে উদ্ধৃত হয়েছে।
৩০
তওবা আমি নিজেই জানি। আমি জিন্দা পীরের আওলাদ। আপনারা জানেন না, আমার পূর্বপুরুষরা ইয়েমেন থেকে এসেছিলেন। আমি নিজেও একজন পীর। তবে কখনো পীরগিরি করতে যাইনি। মৃত্যুকে কখনো ভয় পাইনি ওই যে ড্রেসটি দেখছেন, সেটি আমি আগেই ধুয়ে রেডি করে রেখেছি। নামাজও আমি আগেই পড়েছি আমি জুতা পায়ে মঞ্চের দিকে যেতে চাই তবে মঞ্চে ওঠার আগে সেটা খুলে নেবেন।
সৈয়দ ফারুক রহমান (? ২৭.০১.২০১০)। মুক্তিযোদ্ধা ও লেফটেনান্ট কর্নেল। ৩ নভেম্বর ১৯৭৫-এ ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি চার আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডিত ফারুক তার ফাসি কার্যকর হবার আগে জেলের পেশ ইমাম ও জেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ উক্তিটি করেন।
৩১
রিভিউ পিটিশনের আগেই আপনারা ফাসির প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। আমি কিন্তু জেল কোড ভালো করেই জানি।
সুলতান শাহরিয়ার রশিদ (? ২৭.০১.২০১০)। মুক্তিযোদ্ধা ও লেফটেনান্ট কর্নেল। ৩ নভেম্বর ১৯৭৫-এ ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি চার আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডিত সুলতান রশিদ তার ফাসি কার্যকর হবার আগে জেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাসিমুখে এই উক্তিটি করেন। এর আগে একটি শাদা কাগজে তিনি লেখেন, আমি একজন ফৃডম ফাইটার। এর সঙ্গে আমি জড়িত না। তাই নীতিগত কারণে রাষ্ট্রপতির কাছে আমি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারি না।
৩২
আমাকে এই অবস্থানে ওঠানোর জন্য আল্লাহকে শত কোটি কৃতজ্ঞতা জানাই। সকল বিশ্বাসীকেও আমার অভিনন্দন জানাই। কারণ, আমরা সবাই একসঙ্গে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাড়িয়েছি এবং আমাদের শেষটাও হতেই হবে সত্য ও ন্যায়ের পথে। আমার পরিবারের প্রতি অনুরোধ, আমার মৃত্যুতে শোকার্ত না হয়ে তাদের উচিত হবে আমি যে অবস্থান অর্জন করেছি তাকে শ্রদ্ধা করা। আল্লাহ তোমাদের সবচেয়ে বড় রক্ষাকর্তা ও সাহায্যদাতা। আল্লাহ হাফেজ।
আফজাল গুরু (১৯৬৯ ৯.২.২০১৩)। কাশ্মিরে জন্ম হওয়া ইনডিয়ান ব্যবসায়ী যিনি কাশ্মিরিদের স্বাধিকারের পক্ষে ছিলেন। ২০০১-এ ইনডিয়ান পার্লামেন্ট ভবনে সন্ত্রাসী হামলায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ওই বছরেই গ্রেফতার হন। ১২ বছর সলিটারি কনফাইনমেন্টে তাকে রাখা পর ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে আফজাল গুরুর (৪৩) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় দিল্লির তিহার জেলে। মৃত্যুর আগে তার পরিবাবের কাছে ১০ লাইনের শেষ চিঠির শেষাংশ ওপরে উদ্ধৃত হয়েছে।
৩৩
মৃত্যুবরণকারীদের আল্লাহর কাছে অতি উচ্চ মর্যাদার কাথা আল্লাহ স্বয়ং উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ নিজেই যদি আমাকে জান্নাতের মর্যাদার আসনে বসাতে চান তাহলে আমার এমন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। কারণ জালেমের হাতে অন্যায়ভাবে মৃত্যু তো জান্নাতের কনফার্মড টিকেট যদি সম্ভব হয় তাহলে মহল্লার মসজিদে এবং বাড়িতে জানাজার ব্যবস্থা করবে। পদ্মার ওপারের জেলাগুলোর লোকেরা যদি জানাজার শরিক হতে চায়, তাহলে আমাদের বাড়ির এলাকায় যেন আসে। তাদের অবশ্যই খবর দেওয়া দরকার কবরের ব্যাপারে তো আগেই বলেছি, আমার মায়ের পায়ের কাছে। কোনো জৌলুসপূর্ণ অনুষ্ঠান বা কবর বাধানোর মতো বেদআত যেন না করা হয়। সাধ্য অনুযায়ী ইয়াতিমখানায় কিছু দান খয়রাত করবে। ইসলামি আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে আমার গ্রেফতার এবং রায়ের কারণে যারা শহীদ হয়েছে, অভাবগ্রস্ত হলে ওই সব পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে
পেয়ারী, হে পেয়ারী,
তোমাদের এবং ছেলেমেয়ের অনেক হকই আদায় করতে পারিনি। আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় আমাকে মাফ করে দিও। তোমাদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেছি। ইনশাআল্লাহ, জান্নাতের সিড়িতে দেখা হবে

আবদুল কাদের মোল্লা (২.১২.১৯৪৮ ১২.১২.২০১৩)। জামায়াতে ইসলামী নেতা। ১৯৭১-এ যুদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারে প্রথমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। পরে প্রচলিত আইন বদলিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারকালে তিনি দাবি করেছিলেন একই এলাকায় বসবাসকারী জনৈক কসাই কাদেরের সঙ্গে তার পরিচয় গুলিয়ে ফেলা হয়েছে এবং তিনি (কাদের মোল্লা) নির্দোষ। স্ত্রীকে লেখা তার শেষ চিঠির কিছু অংশ ওপরে উদ্ধৃত হয়েছে। প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে তিনি রাজি হননি। ১২ ডিসেম্বর ২০১৩ ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে কাদের মোল্লার ফাসি হয়।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget