2017-02-19

মোহা. আব্দুল মালেক হিমু, প্যারিস-ফ্রান্স: ১৯৫২ সালের ভাষার জন্য প্রাণদানকারী সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ সব শহীদকে স্মরণ করেছেন ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মঙ্গলবার প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে একুশ উদ্‌যাপন পরিষদ ফ্রান্স।
এখানে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় প্রায় অধর্শত বাংলাদেশি সংগঠন। সব বয়স আর শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে অস্থায়ী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। এ সময় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও বেদিতে ফুল দিতে দেখা যায়। বেলা সাড়ে তিনটায় অস্থায়ী এই শহীদ মিনারে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কর্মাশিয়াল কাউন্সিলর ফিরোজ উদ্দিনের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ প্রদান শুরু হয়। পরে একে একে মৌনমিছিল করে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় একুশ উদ্‌যাপন পরিষদ ফ্রান্স, অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন-আয়েবা , বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ফ্রান্স শাখা, ফ্রান্স বাংলা প্রেস ক্লাব, স্বরলিপি শিল্পীগোষ্ঠী, ফ্রান্স বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, উদীচী সংসদ ফ্রান্স, প্যারিস বার্তা, এসএ টেলিভিশন দশর্ক ফোরাম ফ্রান্স, বরিশাল বিভাগ অ্যাসোসিয়েশন, বনানী গ্রুপ, বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাব, ফেনী সমিতি, মুন্সিগনজ বিক্রমপু অ্যাসোসিয়েশন, সচেতন যুব সমাজ প্যারিস, অ্যাসোসিয়েশন অব সাই পারি, উত্তরবঙ্গ সমিতি ফ্রান্স, বাংলা ভিশন ফ্যান ক্লাব ফ্রান্সের প্রায় অর্ধশতাধিক  বাংলাদেশি সংগঠন।

আয়োজক একুশে উদ্‌যাপন পরিষদের প্রধান টি এম রেজা বলেন, একুশে উদ্‌যাপন পরিষদ সবার সহযোগিতায় কয়েক বছর ধরে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে একুশ উদ্‌যাপন করে আসছে। আগামীতে ফ্রান্সে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হবে । সেখানে আরও বড় পরিসরে একুশ উদ্‌যাপন করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায় দূতাবাস কর্মকর্তারা অস্থায়ী শহীদ মিনারেও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং বিকালে ৫ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকাল ‍১০ টায় ইউনেস্কোতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় সেখানে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা, ইউনেস্কো বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম শহিদুল ইসলাম।

এ ছাড়াও রাত ১২টা ১ মিনিটে প্যারিসের মেট্রো হোশে ফ্রান্স আওয়ামী লীগ আয়োজিত অস্থায়ী শহীদ মিনারেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বেলা ১১টায় উদীচী সংসদ ফ্রান্স আয়োজিত প্যারিসের ওভারভিলায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। 

বিশেষ প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের ফুলের শ্রদ্ধা জানাতে পর্তুগালের লিসবনের স্থায়ী শহীদ মিনারে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীদের মিলন মেলা।
প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের শিশুরাও শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
একুশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে অনেক মা-বাবা তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে আসেন শহীদ মিনারে।একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রুহুল আমিন সিদ্দিক।
পরে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন পর্তুগাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মিস্টার জোসে আরিয়ারো জয়ন্তার প্রতিনিধি মিস আন্দ্রেয়া রড্রিগুয়েজ , লিসবন সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি মিস্টার কার্লস ম্যানুয়েল ক্যাস্ট্রো সহ পর্তুগাল আওয়ামী লীগ, পর্তুগাল বিএনপি,
বৃহত্তর ফরিদপুর অ্যাসোসিয়েশন অফ পর্তুগাল, ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগাল শাখা, অল ইউরিয়ান বাংলা প্রেস ক্লাব , নবকন্ঠ পাঠক ফোরাম, পর্তুগাল সাংবাদিক ফোরাম,পর্তুগাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন,বৃহত্তর নোয়খালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগাল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন
`"যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার- মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন।" পর্তুগাল আওয়ামীলীগের সভাপতি কিছুটা আবেগ্লাপুত হয়ে বলেন একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।একুশে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।
পর্তুগাল আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনে করেন মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে
৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠির প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। পর্তুগাল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিন এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন ন্যায়ের দাবি , সত্যের দাবি- এ দাবির লড়াইয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদরা প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণ দিয়ে প্রমান করেছেন , স্বভাবের ব্যাপারে , ন্যায় ও সত্যের ব্যাপারে কোন আপোষ চলেনা , উল্লেখ্য ,মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার
বায়ান্নরও আগে প্রবন্ধে লিখেছেন বরকত সালামকে আমরা ভারোবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত সালাম আমাদের ভালোবাসে । ওরা আমাদের ভালোবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে , প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত।এদর কারণেই আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না । কেননা বরকত সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমতর স্পর্শ দিয়ে গেছে ।

জার্মান :  ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের সরকারি সফরে জার্মানির মিউনিখ নগরীতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সম্মানিত  সভাপতি শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত ও  সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের সাথে  মত বিনিময় করেন এই সময় ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত ও  সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি আগামী মার্চ ২০১৭  মধ্যে  ডেনমার্কে এক কর্মী সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন। শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত বলেনঃ আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলকে  জয়ী ও জননেত্রী   মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী  করতে  সকল কর্মীবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে তাই তিনি  ডেনমার্ক সহ  ইউরোপের প্রতিটা দেশের কর্মীবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী আওয়ামী লীগ গঠনের নির্দেশ দেন  । সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি  বলেনঃ ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের  আগামী  কর্মী সম্মেলন   ইউরোপের অন্যান্য দেশের জন্য  অনুকরণীয় হবে। ডেনমার্কে অবস্থান সকল কর্মীবৃন্দকে মান- অভিমান ভুলে দলে বৃহৎ স্বার্থে  আগামী  কর্মীসমাবেশে যোগদান করার নির্দেশ জানান। 

ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের  আগামী  কর্মী সম্মেলন   ইতিমধ্যে সম্মানিত সভাপতি শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত ও  সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি  সহ  সর্বইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের অন্যান্য  নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার  সদয় সম্মতি পোষণ করেছেন।  

ইমদাদুর রহমান ইমদাদ, সিলেটঃ প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি জাফলং। জাফলং, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের অন্তর্গত একটি পর্যটন এলাকা। জাফলং, সিলেট শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত। 
 
জাফলং এর অপর পাশে ভারতের ডাওকি অঞ্চল। ডাওকি অঞ্চলের পাহাড় থেকে ডাওকি নদী এই জাফলং দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মূলত পিয়াইন নদীর অববাহিকায় জাফলং অবস্থিত। 

সিলেট জেলার জাফলং-তামাবিল-লালাখাল অঞ্চলে রয়েছে পাহাড়ী উত্তলভঙ্গ। এই উত্তলভঙ্গে পাললিক শিলা প্রকটিত হয়ে আছে, তাই ওখানে বেশ কয়েকবার ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এটি সিলেট বিভাগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। জাফলং সিলেট শহর হতে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে খাসিয়া পল্লীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত। এখানকার নদী ভারতের হিমালয় থেকে উৎপত্তি হয়ে জাফলং দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় অনেক ছোট বড় পাথর বয়ে নিয়ে আসে। এই পাথরগুলির উপর নির্ভর করে অনেক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এখানে নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় পাথর ও বালু আহরণ করার অপরূপ সৌন্দর্য সত্যি উপভোগ করার মতো। 

জাফলং পুরোপুরি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাহাড়ি এলাকা, যেখানে পাহাড়ের সাথে বন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। পাহাড ভেদ করে আচড়ে পড়া স্বচ্ছ ঝরনার পানিতে তাকালেই দেখা যায় পাথর গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে। নৌকা,ট্রলার নিয়ে একটু এগোলেই পাওয়া যায় বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত। সীমান্ত ওপারে দেখা যায় খাসিয়াদের ঘরবাড়ি। এখানে আরো দেখতে পাওয়া যায় বিএসএফ, বিজিবির ঘুরাঘুরি এবং ছোট ছোট টং দোকান। বল্লাঘাটের তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতের ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি সেতু, মারি নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্য ও সুনসান নীরবতার কারণে জাফলং পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। এখানে প্রতিদিন দেশি-বিদেশী অসংখ্য পর্যটক এই প্রাকৃতিক ঝরনাধারাটি দেখতে আসেন। এই এলাকায় যেমন সাধারণ বাঙালিরা বসবাস করেন, তেমনি বাস করেন উপজাতিরাও। জাফলং-এর বল্লা, সংগ্রামপুঞ্জি, নকশিয়াপুঞ্জি, লামাপুঞ্জি ও প্রতাপপুর জুড়ে রয়েছে ৫টি খাসিয়াপুঞ্জি। 

ফাগুনের আগমনে ফুল, পাখি আর শিমুল পলাশে যখন নতুন প্রাণের স্পন্দন! ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে  বাঙালি জীবন ও সংস্কৃতিতে একটা উৎসব  আছে যুগ-যুগান্তর ধরে। তাই বসন্ত ঋতুর মাস ফাল্গুনকে প্রতিবারই ভিন্নরূপে নতুনভাবে বরণ করে নেন ভ্রমণপিপাসুরা। শীতের চাদরের আবরণ ফেলে, ফাল্গুনের নতুন সূর্যালোকের টানে সবাই ছুটে যেতে চাই প্রকৃতির সান্নিধ্যে। ঠিক এমন সময়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যুব রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের যুব সদস্যরা মেতে উঠেন বিভিন্ন আনন্দ আয়োজনে। "যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্য মোরা করি নিবেদন, মানবতার তরে আসুন উজাড় করি মন" এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যুব রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সকল  সদস্যরা মেতে উঠেছিলেন পিকনিক ও বনভোজনে।
দিনটি ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ইংরেজী, শুক্রবার। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যুব রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে সিলেটের জাফলং ডাকবাংলো স্থানে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক বনভোজন।সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত যুব সদস্যরাও আনন্দে দিনটি অতিবাহিত করেন। এতে অনেক মহিলাও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অংশ গ্রহন করেছিলেন।
সিলেট ক্বীন ব্রিজ থেকে সকাল ৯ টায় বাসযোগে রওয়ানা হন যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা। প্রায় ৩ ঘন্টা জার্নির মাঝ পথে শ্রীপুর পিকনিক সেন্টারে ৩০ মিনিট যাত্রা বিরতি দিয়ে স্হানীয় ডাকবাংলোতে পৌছেন। যাত্রার শুরুতে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, যুব প্রধান মোঃ মিনহাজুুল আবেদীন, জনসংযোগ ও পরিকল্পনা বিভাগীয় প্রধান আফজাল হোসেন তুহিন, উপ যুব প্রধান তোফায়েল আহমদ, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রধান  ফারহান আহমদ সুয়েব। জার্নির সময় বাসে  আনন্দ দিতে গান, কবিতা, কৌতুক, অভিনয় করে মাতিয়ে রাখেন, আতিকুজ্জামান , ইমদাদুর রহমান ইমদাদ, মৌসুমী বেগম, আফজাল হোসেন তুহিন, ফারহান আহমদ সুয়েব, রুহেল খান, রাজিব আহমদ ও রাসেল আহমদ প্রমুখ। প্রায় ৩ ঘন্টা জার্নি শেষে ডাকবাংলোতে  দুপুরের লাঞ্চ করা হয়। লাঞ্চ শেষে  আনন্দ যোগ  করতে ভিন্নধর্মী খেলার আয়োজন করা হয়। এতে  ছেলে-মেয়েদের জন্য কমলা বদল খেলায় প্রায় ৪০ জন অংশ গ্রহণ করেন। উক্ত খেলায় বিজয়ী মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন যুব সদস্য মাইশা বেগম, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন রিনা বেগম। ছেলেদের মধ্যে বিজয়ী  পুরস্কার লাভ করেন, যুব সদস্য মিজানুর রহমান, যুব সদস্য ইমদাদুর রহমান ইমদাদ। 

খেলা শেষে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমাদের উৎসাহ প্রধান ও অনুপ্রাণিত করেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি জনাব আব্দুর রহমান জামিল। যুব প্রধান মোঃ মিনহাজুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং উপ-যুব প্রধান১ নাজিম খানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট সিলেটের কার্যকরী কমিটির অন্যতম সদস্য সুয়েব আহমদ, সাবেক যুব প্রধান এনামুল হক চৌধুরী সুহেল ও আজীবন সদস্য তাজ খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অতিথিদৃন্দকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট  প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ভ্রমণ পিপাসুরা বেরিয়ে পড়েন  প্রকৃতির ঝরনাধারা, টুকরো টুকরো পাথর, ঝিকিমিকি  বালুকার চরে। স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটা, হৈ হুল্লোড, খেলা, গ্রুপ ছবি ও আনন্দমনে মোঠোফোনের সাহায্যে সেলফী তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। দিনব্যাপী পিকনিকের আনন্দ উপভোগ করতে করতে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে তখন টাক আসে এবার  ঘরে ফিরার পালা। প্রশান্ত মন তখনও মগ্ন। প্রকৃতি কন্যার কাছ থেকে মন ফিরে আসতে চায়না কংক্রিটের যান্ত্রিক এই শহরে! সত্যি এই  দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে স্মৃতির সোনালি  পাতায়।
সুন্দর এ আয়োজনে যাঁদের সবর উপস্থিতিতে এই মিলনমেলা মুখরিত হয়ে উঠেছিলো তারা হলেন- যুব রেড ক্রিসেন্ট, সিলেট ইউনিটের যুব প্রধান মোঃ মিনহাজুল আবেদীন, উপ-যুব প্রধান১ নাজিম খান, উপ যুব প্রধান২ তোফায়েল আহমদ, জনসংযোগ ও পরিকল্পনা বিভাগীয় প্রধান আফজাল হোসেন তুহিন, প্রশিক্ষণ বিভাগীয় প্রধান শাহনুর চৌধুরী সাথি, বিভাগীয় উপ-প্রধান প্রশিক্ষণ আতিকুজ্জামান, সেবা ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান পারভেজ আহমদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি বিভাগীয় উপ-প্রধান ফারহান আহমদ সুয়েব, বিভাগীয় প্রধান রক্তদান রিনা বেগম,  সাংস্কৃতি বিভাগীয় উপ-প্রধান সুমা বেগম এবং যুব  রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সাধারণ সদস্য ইমদাদুর রহমান ইমদাদ,  রুহেল খান, রাজিব আহমদ, আলী হায়দার জামি, সাহেল আহমদ, জাকির আহমদ, মিজানুর রহমান, মোঃ কামরান আহমদ, পলাশ, রাসেল আহমদ, শারমিন ইসলাম, মাইশা বেগম, বদরুল আজাদ শুভ, খাদিজা বেগম, জাকিয়া আক্তার, আয়শা ফরাজি, সুমি বেগম, সিপা বেগম, শাপলা বেগম, রিতা বেগম, মুর্শেদা খানন, শেখ জুহিন রহমান, নাহিদ খান, জামাল আহমদ, শামছুল ফাহিম, হিমেল, বিজয় দাস, জয়ন্ত পাল, ইমন আলী, ইমরান আলম, আব্দুর রহমান খান রুহেল, ইমরানা বেগম, নাইমা বেগম, পৃর্ণিমা বেগন, হোসনে আরা আক্তার সুমি প্রমুখ।
সিলেট মহানগরীর সাথে জাফলং- এর ৫৫ কিলোমিটার সড়ক তৈরি হওয়ার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য সকল অঞ্চল থেকে এই এলাকার সাথে সড়ক-যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সড়কপথে সিলেট সদর থেকে এই স্থানের দূরত্ব ৫৬ কিলোমিটার।জাফলং জিরো পয়েন্টে রয়েছে তামাবিল স্থল বন্দর, এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারতের সাথে পণ্য আমদানি রপ্তানী করা হয়। বিশেষ করে ভারত থেকে কয়লা আমদানি করা হয়।

রনি মোহাম্মদ,পর্তুগাল : ন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উৎযাপন উপলক্ষে পর্তুগালের লিসবন শিল্পীগোষ্ঠী'র উদ্যোগে পর্তুগালের বিশ্ববিদ্যালয়ের নগরী খ্যাত রোমান সভ্যতার নগরী কুইমব্রা'তে য়োজন করা হয় শিক্ষা সফরের।

পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে সকাল ৮:৩০ মিনিটে তিনটি পৃথক বাসে করে সম্মিলিতভাবে রোমান সভ্যতার নগরী কুইমব্রার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। 

সুন্দর এবং সুশৃংখল পরিবেশে দিনব্যাপী আয়োজিত এই শিক্ষা সফর ও আনন্দ ভ্রমণে ছিল ফুটবল, ক্রিকেট, হাড়িভাঙ্গা, দেশাত্মবোধক গান, কৌতক সহ নানা অায়োজন।

বেলা ১১ টায় কুইম্ব্রা এসে পৌছানোর পর কুইম্ব্রার স্থানীয় একটি পার্কে খেলাধুলা সকলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা সমপন্ন হয়। দুপুর লিসবনের ফুড গার্ডেন রেস্টুরেন্টের রান্না করা সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার পরিবেশন করা হয়।
এরপর অংশগ্রহণকারীরা ১২৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুইম্ব্রা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০১৩ সালে ইউনেস্কো আওতায় ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এর স্থান পাওয় কুইম্ব্রা শহর ঘুরে দেখানো হয়।
বেলা ৩:৩০ মিনিটে ভাড়া করা নৌযানে চড়ে কুইম্ব্রার নয়নাভিরাম লেকের দৃশ্য উপভোগ করেন সবাই। সবশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের এবং রেফেল ড্রয়ের মধ্য দিয়ে সফরের নুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। 

বিকেল ছয়টায় আগামী বছরে আরেকটি শিক্ষা সফরের আয়োজনের প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় এইবারের আয়োজন।


শিক্ষা সফরের য়োজন ও পরিচালনায় ছিলেন লিসবন শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, তাহের আহমদ, কামাল হুসেন, আরিফুর রহমান, মিজানুর রহমান, মাহবুব সুয়েদ, আব্দুস সাত্তার, শামসুল ইসলাম, মোশাররাফ হোসেন, নুরে আলম সিদ্দীকি, আসাদ উল্লাহ প্রমুখ।

বার্সেলোনা: আন্জুমানে আল ইসলাহ স্পেন বার্সেলোনা শাখার আয়োজনে অনুষ্টিত হলো আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন মিডল্যান্ড আল ইসলাহের সহ সভাপতি ও সিলসিলা ইসলামিক সোসাইটি ইউ,কে এর পরিচালক আলহাজ্জ হাফিজ সাব্বির আহমদ ।গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারী সংগঠনের  সভাপতি  মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের পরিচালনায় কোরআনে পাক তেলওয়াত করেন হাফেজ মাসুদুর রহমান।
নাতে রাসুল পরিবেশন করেন আব্দুল ওয়াহিদ। বিপুল সংখ্যক মুসল্লিয়ানে কেরামের অংশগ্রহনের বিশেষ অতিথি হিসাবে বয়ান পেশ করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল জলিল। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন মো: নজমুল ইসলাম,মো: আব্দু মতলিব,মো: খোকন উদ্দিন, ছদরুল ইসলাম, আব্দুস শহিদ,নজরুল ইসলাম খছরুল ইসলাম সাদিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান,এতে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন শাহ আলম স্বাধীন, মনিরুজ্জামান সুহেল, শফিউল আলম প্রমুখ।

জনপ্রিয়: স্পেনে বাংলা গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন স্পেন বাংলা প্রেসক্লাব। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার পর্যটন নগরী বার্সেলোনায় ভিলাদমাত রোডের সেন্ত্র সিভিক হলে অনুষ্ঠিত হবে এই সংগঠনের প্রথম অভিষেক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার। বিকেল ৬টায় শুরু হবে অভিষেক অনুষ্ঠান।সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আফাজ জনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন জানান, অভিষেক অনুষ্ঠানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী সংবাদকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। অভিষেকের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের শিল্পীরাও সংগীত পরিবেশন করবেন।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget