2017-01-08

মোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স : আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নীতিমালাবাধ্যবাধকতায়  ২০১৪ সালের এপ্রিল মাস  থেকে বাংলাদেশ সরকার কম্পিউটার বা  যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (মেশিন রিডেবল  পাসপোর্ট-এমআরপি) চালু করেছে।
বাংলাদেশের এমআরপি পাসপোর্ট চালু হওয়ার আগের হাতে লেখা পাসপোর্টে গুলিতে  বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ বাংলা, ইংরেজি এবং ফ্রেঞ্চ তিনটি ভাষায় লিখা ছিল কিন্তু  বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্টে  ফরাসী ভাষা বা ফ্রেঞ্চ ভার্সনটি তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কি কারনে এই ফ্রেঞ্চ ভার্সন তুলে দেওয়া হয়েছে এর কোন কারণ জানা না গেলেও, ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ফ্রেঞ্চ ভার্সন তুলে দেওয়ায় ফ্রান্সে ইতিমধ্যে  প্রবাসী অনেক  বাংলাদেশী প্রশাসনিক কাজে সমস্যা পড়তেছেন। বিশেষ করে স্টুডেন্টসরা এবং যাহারা ফ্রান্সে স্থায়ী বা সাময়িক বসবাসের জন্য ফ্রান্সের বিভিন্ন আইনের আওতায় আবেদন করেছেন। জানা গেছে, এমআরপি পাসপোর্টে  ফ্রেঞ্চ ভার্সন না থাকায় সটুডেন্টসরা রেসিডেন্ট কার্ড এর জন্য ফ্রান্সের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট বরাবর আবেদন করলে ফরাসী কতৃপক্ষ ফাইল ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে এবং পাসপোর্টের ফটোকপি ফ্রেঞ্চ ভাষায় অনুবাদ করে জমা দিতে বলা হচ্ছে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে যাহারা প্রথম ফ্রান্সে স্টুডেন্টস ভিসা নিয়ে লেখাপড়া করতে আসে তাদের পক্ষে প্যারিস বাদে ফ্রান্সের অন্য শহরে অনুবাদক খুঁজে পাওয়াটাও একটু দুষ্কর।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পেইজ বিসিএফ এর মাধ্যমে বিষয়টি কমিউনিটির নজরে এলে অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকারের কাছে পূর্বের মত পাসপোর্টে ফ্রেঞ্চ ভার্সন সংযুক্ত করার অনুরোধ করেন।    

অপরদিকে,উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম সহ  বিশ্বের প্রায় ৫৪টি দেশে  ফরাসী ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং ২৯টি দেশের সরকারী  ভাষা হচ্ছে ফ্রেঞ্চ ভাষা ।             

তাই প্রবাসীদের কল্যাণের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার আগের মত বাংলা ও ইংরেজি তথ্যের সাথে ফ্রেঞ্চ ভার্সন যোগ করবে এই প্রত্যাশা ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশীদের।      

জনপ্রিয় অনলাইন : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য আরো ৮টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আরো ৮টি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের ঠিকানায় সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও জানান, রাষ্ট্রপতি ১৬ জানুয়ারি খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও গণফ্রন্টের সাথে আলোচনায় বসবেন। এছাড়া ১৭ জানুয়ারি খেলাফত মজলিস ও জমিয়াত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম বাংলাদেশ ও ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ এবং প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টির সাথে আলোচনায় বসবেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। তিনি ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি (এরশাদ)সহ ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হবে। তাই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি হামিদ এ সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছেন। -বাসস।

জনপ্রিয় অনলাইন : অবশেষে সিনিয়র সচিব হলেন পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপ-সচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৮২ হাজার টাকা (নির্ধারিত) স্কেলে মহাপুলিশ পরিদর্শককে সিনিয়র সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হলো। 


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর একেএম শহীদুল হককে স্ববেতনে আইজিপি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। আইজিপি পদটি সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার হলেও সচিব পদমর্যাদার একেএম শহীদুল হক দায়িত্ব পালন করেন।

জনপ্রিয় অনলাইন : প্রধানমন্ত্রী শেখ টানা আট বছর সরকার পরিচালনার সুযোগ দেয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আট বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ হচ্ছে আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করেছে। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের সর্বজনীন মডেল।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গত তিন বছরসহ টানা আট বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দেয়ায় দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আপনাদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি- সে বিচারের ভার আপনাদের উপরই রইল। তবে আমি এটুকু দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দেশের এবং দেশের মানুষের উন্নয়ন এবং কল্যাণের জন্য আমরা আমাদের চেষ্টার ত্রুটি করিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সরকারের তিনবছর পূর্তি উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষন বেতার-টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ভাষনে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের গত তিনবছর ও টানা আটবছর সরকার পরিচালনাকালে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশ এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতান্ত্রিক ও সংবিধান মোতাবেক অনুষ্ঠিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
শেখ হাসিনা দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত করা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত-সমৃদ্ধ, সুন্দর এবং বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যদা অর্জন করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ ইনশায়াল্লাহ আমরা গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন, আমরা চলতি মেয়াদের তিন বছর অতিক্রম করলাম। আমাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।
তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা জানেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমরা অবৈধ পথে ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করেছি। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকলদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনকালীন একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কারণ আমরা সবসময়ই সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। সংবিধানের আওতায় আমরা সবধরনের ছাড় দিতেও প্রস্তুত ছিলাম। এমনকি বিএনপি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক, তাও আমরা দিতে চেয়েছিলাম।
শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি বরং উনি সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন। পেট্রোল বোমা, অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা করে মানুষ হত্যায় মেতে উঠলেন। শতাধিক মানুষ হত্যা করলেন। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধবংস করলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দল এবং প্রার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের সময় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত ছিল। সরকার কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। ৯২দিন পার্টি কার্যালয়ে আরাম-আয়েশে অবস্থান করে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আন্দোলনের নামে বিএনপি নেত্রী আবার জ্বালাও-পোড়াও-সন্ত্রাসী কর্মকা- উসকে দেন।
তিনি বলেন, তিন মাসে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হাতে ২৩১ জন নিরীহ মানুষ নিহত এবং ১ হাজার ১৮০ জন আহত হন। তারা ২ হাজার ৯০৩টি গাড়ি, ১৮টি রেল গাড়ি ও ৮টি লঞ্চে আগুন দেয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাংচুর এবং ৬টি ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দেশবাসী তাদের এ সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রত্যাখ্যান করেছেন। জনগণ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা আশা করি সকল রাজনৈতিক দল মহামান্য রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে গঠিত নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রাখবেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।
তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, বিপুল জনসংখ্যার এদেশে সম্পদের পরিমাণ সীমিত। দীর্ঘকাল দেশে কোন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়নি। বহু সমস্যা পুঞ্জিভূত হয়ে পাহাড়-সমান হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মোকাবিলা করতে হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিরুদ্ধ পরিবেশ। বৈশ্বিক বৈরি অর্থনৈতিক অবস্থাও উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বার বার।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে সবাইকে নতুন ইংরেজি বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজ ১২ জানুয়ারি। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে আজকের দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি তৃতীয়বারের মত শপথ গ্রহণ করি।
গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বরণ করে তিনি বলেন, যিনি ২৪ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, জেল-জুলুম এবং নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ ছাড়া তিনি জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন হারানো পরিবার ও একাত্তরে নির্যাতিত দুই লাখ মা-বোন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই - ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেল- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা ও রোজী, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র সহোদর শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ নিহতদের, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজউদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মী, সম্প্রতি নিহত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন-কে স্বরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার এবং নি¤œ-আয়ের দেশগুলিকে ছাড়িয়ে গেছি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। ধারাবাহিকভাবে ৬.৫ শতাংশ হারে প্রবৃৃদ্ধি ধরে রেখে পুরো বিশ্বকে আমরা তাক লাগিয়ে দিয়েছি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১১%। আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.৪%।
প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৯তম ও ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে-উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে আজ ১ হাজার ৪৬৬ ডলার হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। এখন তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২২.৪% শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ২৪.২৩% থেকে ১২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫/১৬ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যে হার ৭/৮ শতাংশে নামিয়ে আনা ।
তিনি বলেন, একদিকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যেমন বেড়েছে, অন্যদিকে মুল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৯ সালে মুল্যস্ফীতি ছিল ডাবল ডিজিটে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫.০৩ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১০.৫২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমরা জাতীয় রপ্তানি নীতি ঘোষণা করেছি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্তভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন ডলারেরও উপর । বিগত আট বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছর রেকর্ড ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ৫ কোটি মানুষ নি¤œবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে।
সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেই, তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। কয়েকটি বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আমরা পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রত্যন্ত চরাঞ্চলসহ সারাদেশে প্রায় ৪৫ লাখ সোলার হোমসিস্টেম বসানো হয়েছে। মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ উৎপাদন করা হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পরমাণু ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছি। পাবনার রূপপুরে ২০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল খাদ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। ৮ বছরে দেশে কৃষিখাতের ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ এখন খাদ্য-উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ এবং সবজি উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে। ৮ বছরে প্রায় ৪০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার কৃষি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বর্গাচাষীদের জন্য কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্পসুদে বিনা জামানতে কৃষি ঋণের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বয়স্কভাতা, বিধবা ও দুঃস্থ নারী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি চালু করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধীনে চলতি বছর ১৪২টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচি বাবদ ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৮ বছরে ২ লাখ ২৯ হাজার ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
ভাষনে তিনি বলেন, হিজড়া এবং বেদে সম্প্রদায়ের জন্য ৬০০ টাকা করে ভাতা দেয়া হচ্ছে। চা শ্রমিকদের জন্য জন্য অনুদান ১০ কোটি থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ কোটি করা হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অধীনে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং গৃহায়ণ কর্মসূচিসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার পরিবার পুনর্বাসন করা হবে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতি কেজি ১০ টাকা মূল্যে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০১০ সালে আমরা মাধ্যমিক পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি শুরু করি। এ বছর ৪ কোটি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯২৯ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই বিতরণ করা হয়েছে। গত আট বছরে সর্বমোট প্রায় ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১২৮টি বই বিতরণ করা হয়েছে। বিশ্বে বিনামূল্যে বই বিতরণের এমন নজির নেই। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রথম শ্রেণী থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার ১১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে।
২৬-হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, এসব বিদ্যালয়ের ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকুরি সরকারি করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যালয়বিহীন ১ হাজার ১২৫টি গ্রামে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৩৬৫টি কলেজ সরকারি করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল বা কলেজ নেই, সেসব উপজেলায় একটি করে স্কুল কলেজ সরকারিকরণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের ৩১৫টি উপজেলায় কোন সরকারি স্কুল ছিল না। ইতোমধ্যে ১১৩টি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণের সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। আরও ২০২টি বিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে সরকারি করা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ঝড়েপড়ার হার হ্রাস পেয়ছে। ২০০১-এ বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ থেকে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ সালে থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৯টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৬টি। টেক্সটাইল এবং ফ্যাশন ডিজাইনসহ বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসব জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে ১ম পর্যায়ে ১০০টি উপজেলায় ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চলছে এবং ২য় পর্যায়ে ৩৮৯টি উপজেলায় আরও ৩৮৯টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন করা হবে। কিশোরগঞ্জ, মাগুরা, মৌলভিবাজার ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১টি করে মোট ৪টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। আরও ২৩টি জেলায় বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হবে। ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগীয় সদরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগীয় সদরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। চট্রগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে। ৮টি বিভাগীয় শহরে ৮টি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছি। দরিদ্র্য মানুষকে বিনামূল্যে ৩০ পদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। ৬৪টি জেলা হাসপাতাল ও ৪২১টি উপজেলা হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ৮ বছরে ১২ হাজার ৭২৮ জন সহকারি সার্জন এবং ১১৮জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রায় সাড়ে ১২ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩ হাজার মিডওয়াইফারি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশের প্রায় সকল শিশুকে টিকাদান কর্মসূচি এবং সব মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশনের আওতায় আনা হয়েছে। মাতৃমৃত্যু প্রতি হাজারে ১.৮ জনে এবং শিশু মৃত্যু ২৯ জনে হ্রাস পেয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণকালে দেশে মোট সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ছিল ১৪টি যা বর্তমানে ৩৬ টিতে উন্নীত হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৬৯টি। সরকারি-বেসরকারি মিলে ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা ২৮টি। আমার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের ঐকান্তিক আগ্রহ এবং নিরলস প্রচেষ্টায় অটিজমের মত মানবিক স্বাস্থ্য সমস্যাটি বিশ্বসমাজের দৃষ্টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। অটিস্টিক শিশুদের সুরক্ষায় ২২টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অচিরেই দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী ১ লাখ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্যকার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সব দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুল ধরে বলেন, ৪৮টি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়াল সেতু, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়াল সেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়াল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬ কি‡লামিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। মেট্রোরেল নির্মাণ কাজও শুরু হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন চালু হয়েছে। নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা সড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং ঢাকা-সিলেট চার-লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ৮-লেনের মহাসড়ক চালু করা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কাচপুর, ২য় মেঘনা এবং ২য় গোমতি সেতু নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দ্রুতগতিসম্পন্ন এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়েছে। ইলেকট্রিক ট্রেন ও পাতাল ট্রেনের সম্ভ্যবতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নতুন ২০টি মিটারগেজ এবং ২৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী গাড়ী, ১৬৫টি ব্রডগেজ ও ৮১টি মিটারগেজ ট্যাংক ওয়াগন, ২৭০টি মিটারগেজ ফ্লাট ওয়াগন এবং ২০ সেট মিটারগেজ ডেমু সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও ২০০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সকল জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা হবে। সরকার নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে যাত্রী পরিবহনের জন্য ৪৫টি নৌযান নির্মাণ ও চালু করেছে। দুইটি যাত্রীবাহী জাহাজ ও চারটি সি-ট্রাক জাতীয় নৌপরিবহনে সংযুক্ত হয়েছে। নৌ-পথের নাব্যতা বৃদ্ধি করতে ১৪টি ড্রেজার কেনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগে দেশে স্থল বন্দরের সংখ্যা ছিল ১২টি। এগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি কার্যকর ছিল। আমরা তামাবিল, বাংলাবান্ধা, সোনাহাট, আখাউরা, বিলোনিয়াসহ আরও ১১টি স্থল বন্দর স্থাপন করেছি।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ বিমানের জন্য ৬ সুপরিসর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করেছি। ২০১৮ সাল নাগাদ আরও ৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। পদ্মাসেতুর অপর প্রান্তে মাদারীপুরে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণের সমীক্ষার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। কক্সবাজার, কুয়াকাটা, বান্দরবান, জাফলংসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ৫ হাজার ২৭৫ টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮২০০ ই-পোস্ট অফিস থেকে জনগণ ২০০ ধরণের ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সীম গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটির বেশী। ইন্টারনেট গ্রাহক প্রায় ৬ কোটি। চলতি বছরের মধ্যেই মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল তথ্য বাতায়ন চালু করেছি যা আর্ন্তজাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছে।
তাঁর সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশ ও বিস্তৃতির জন্য সবচেয়ে উদার নীতি গ্রহণ এবং বিনিয়োগবান্ধব কর্মসূচির কল্যাণে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে-উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ দ্বিতীয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে ২২৩ কোটি ডলার। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শেষ বছর ২০০৬ সালে যা ছিল মাত্র ৪৫.৬ কোটি ডলার।
শেখ হাসিনা বলেন, সোনালি আঁশ পাটের ব্যবহার ও বাণিজ্য বাড়াতে পাট আইন ২০১৬ পাশ করা হয়েছে। পাটনীতি ২০১৬ এবং বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান আইন ২০১৬ এবং বস্ত্রনীতি ২০১৬ প্রণয়নের কাজ চলছে। শিল্পায়ন এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। এতে এক কোটির বেশি লোকের কর্মসংস্থান হবে।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। আমরা দেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালাসহ তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। বেসরকারিখাতে ৪৪টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে সরকার থেকে পাঁচ কোটি টাকার সিডমানি, ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার অনুদান এবং ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছি। সাংবাদিকদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করার ব্যবস্থা নিয়েছি। কয়েক ধাপে উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন হয়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরেই সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ-স্থানীয় দেশগুলোর অন্যতম। অনেক আগেই বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ জেন্ডার সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদে নারীর অবস্থানের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। বিরোধীদলকে ধন্যবাদ, তারা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভিমত দিচ্ছেন, আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। সামরিক-অসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পদমর্যাদা বৃদ্ধি ও ব্যাপক পদোন্নতির সুযোগ করে দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আর্মড ফোর্সেস গোল- ২০৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও সশস্ত্রবাহিনীর ঝুঁকিভাতা দেওয়া হচ্ছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করেছি। আমাদের মেয়েরা এএফসি অনুর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত নারী ফুটবল চাপিম্পয়নশীপ প্রতিযোগিতায় আমাদের মেয়েরা এই প্রথমবারের মত রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। জাতীয় নারী ক্রিকেট দল জায়গা করে নিয়েছে আগামী বছরের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা এমডিজি অর্জন করেছি। বাংলাদেশ এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড এবং আইটিইউএর ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি পুরস্কার পেয়েছে। আমরা জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমাদের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এসডিজির ৫৬টি লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা শান্তি এবং সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন পথ রচনায় সক্ষম হয়েছি।
ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধানের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এরফলে বিশাল সমুদ্র এলাকায় সমুদ্রসম্পদ আহরণের পথ সুগম হয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে। কক্সবাজারে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। সেখানে সী এ্যাকুরিয়াম তৈরি করা হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি গোষ্ঠি ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার অপচেষ্টা করছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করে তারা ইসলামের বন্ধু নয়, শত্রু। ইসলাম কখনও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না।
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ তবে ধর্মান্ধ নয়। হাজার বছর ধরে এ দেশের মাটিতে সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। যারা এই ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, তাদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না। তিনি ইমাম, মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, স্থানীয় মুরুব্বি, আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং অভিভাবককে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা থেকে শুরু করে এ দেশের যত উল্লেখযোগ্য অর্জন, তার সবগুলো এনেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাথা নত না করতে শিখিয়েছেন। আমরা সব বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করব।


মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিনযুগ-যুগান্তরের ঘূর্ণাবর্তে ও কালের গতিধারায় পৃথিবীতে অসংখ্য মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়েছে। যারা আপন কর্মগুণে ও বৈশিষ্ট্যতা-মাধুর্যে ইতিহাসের পাতায় সদা দেদীপ্যমান হয়ে আছেন। সে অসংখ্য মহামনীষীদের মধ্যে শুধু হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একমাত্র ব্যক্তিত্ব; যিনি পূর্ণাঙ্গ একটি জীবনাদর্শের স্থপতি ছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর সে মহৎ আদর্শ তখনকার ও অনাগত সব মানুষের জন্য সর্বোত্তম, সর্বোন্নত, সর্বোৎকৃষ্ট ও বৈজ্ঞানিক এবং যুগোপযোগী ছিল। পৃথিবীর উদার চিন্তাশীলমহল বিনা সঙ্কোচে সেটি স্বীকার করে।

যুক্তিসঙ্গত কারণেই মার্কিন লেখক মাইকেল এইচ হার্ট হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের স্থান দিয়েছেন। বস্তুত চিন্তাকর্ম, অবদান ও সাফল্যের বিচারে তিনি তা দিতে বাধ্য হয়েছেন। অবশ্য তাঁর এ স্বীকৃতি দেয়া বা না দেয়া মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাফল্যের মানদণ্ড বা মাপকাঠি নয়। কেননা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভাবনীয় সাফল্য ও গ্রহণযোগ্যতা মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক আগে থেকেই স্বীকৃত ও চরম প্রশংসিত।
জীবন ও জগতের খুঁটিনাটি হতে বৃহৎ সব ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ। তেমনি একটি ভৌগোলিক সীমারেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও তিনি মানবেতিহাসে আপন মহিমায় চিরভাস্বর।
বর্তমান বিশ্বের কোথাও সেই রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ নেই বলেই বিশ্ব আজ শত অশান্তি ও নানা নৈরাজ্যের শিকার। এ জন্যই হয়তো পাশ্চাত্যের কিছু দূরদর্শী গবেষক-চিন্তাবিদ অশান্ত এ বিশ্বে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একক
ডিক্টেটরশিপ বা একনায়কত্ব কামনা করেছেন।
হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। মদিনাকে তিনি এমন কল্যাণমুখর এক রাষ্ট্রে পরিণত করে ছিলেন যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে যেমন আসীন ছিলেন তিনি, তেমনি জনসাধারণের হৃদয়ের মণিকোঠায়ও অবস্থান ছিল তাঁর।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঐতিহাসিক একটি সাফল্য হলো, তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম একটি লিখিত শাসনতন্ত্র মানবতাকে উপহার দিয়েছিলেন।
মদিনা সনদ নামে সাত চল্লিশটি ধারাসংবলিত এ ধরনের মানবিক সমঝোতামূলক শাসনতন্ত্র প্রায়োগিকভাবে আর কেউ উপহার দিতে পারেনি। নীতি ও আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন তিনি। আল্লাহর কুরআন হলো সে আদর্শের মূল ভিত্তি। সে হিসেবে মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি এটিই তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি তাঁর রাষ্ট্রে ছয়টি মূলনীতি নির্ধারণ করেনÑ
হ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য সব আনুগত্যের ঊর্ধ্বে।
হ সব দায়িত্বপূর্ণ ও প্রশাসনিক পদে মুসলিম নিযুক্ত হওয়া আবশ্যক।
হ ইসলামি সরকারের আনুগত্য জনগণের অপরিহার্য।
হ সরকারের সমালোচনার অধিকার জনগণের থাকবে।
হ রাষ্ট্রের সব আইন ও বিধানের মানদণ্ড হবে ইসলামি শরিয়ত।
হ বিরোধ-মীমাংসার ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
এসব মূলনীতির ভিত্তিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার আর্থ-সামাজিক ও প্রভূত উন্নয়নে এক বৈপ্লবিক জোয়ার সাধিত করেছিলেন।
এক আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে তিনি আদর্শ ও ইনসাফের এক অনন্য ফল্গুধারা বইয়ে দেন। মক্কাবিজয় পরবর্তী সময়ে আরব উপদ্বীপের হাজার হাজার বর্গমাইল এলাকা তাঁর অধীনে চলে আসে। গোটা
জাজিরাতুল আরব বা আরব ব-দ্বীপের একচ্ছত্র আধিপতি হিসেবে তিনি মদিনাকে কেন্দ্রীয় রাজধানী করে, সমগ্র শাসন এলাকা ১০টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। প্রতিটি প্রদেশে গভর্নর নিযুক্ত করে প্রতিটি অঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার-নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। প্রতিটি গভর্নরের নিযুক্তি ছিল বিশেষ যোগ্যতা, সৎ-নিষ্ঠা ও পরহেজগারির ভিত্তিতে। নিযুক্তিকালে শপথ পাঠ করানোসহ গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেয়া হতো। হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা:)কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় তিনি এমনই করেছিলেন।
মসজিদে নববী ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কেন্দ্রীয় সচিবালয়। রাষ্ট্রীয় সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখান থেকে সম্পন্ন করা হতো। হজরত আলী (রা:), হজরত উসমান (রা:), হজরত মুয়াবিয়া (রা:) ও হজরত জায়েদ বিন ছাবিত (রা:) ছিলেন তাঁর প্রধান ওহি লেখক। বায়তুল মাল, জাকাত, সদকা ইত্যাদির দায়িত্বে ছিলেন হজরত জুবাইর ইবনুল আওয়াম ও হজরত জুহাইম (রা:) প্রমুখ সাহাবারা।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাষ্ট্র ছিল শূরা বা পরামর্শভিত্তিক রাষ্ট্র। তাঁর রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার বিশেষ করে অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত ছিল।
পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমঝোতা-শৃঙ্খলা, মৈত্রী-উদারতা ও ক্ষমার মূর্তপ্রতীক ছিলেন। মক্কাবিজয়ের দিন তাঁর উদার ক্ষমা ঘোষণা বিশ্বের যেকোনো চিন্তাবিদকে আলোড়িত করে। তিনি মাঠে-ময়দানে ছিলেন একজন তুখোড় সমরবিদ ও মানবেতিহাসের সর্বাপেক্ষা মানবতাবাদী রাষ্ট্রনায়ক। প্রতিহিংসামূলক হত্যা, যুদ্ধে বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশুহত্যা তিনি নিষিদ্ধ করেছেন। সম্পদ অর্জন ও বহনের ব্যাপারে শরিয়তের নীতিমালাই ছিল তাঁর সর্বোত্তম আদর্শ। প্রকৃত পক্ষে তিনি কুরআনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রথম পুরুষ।
জগতের অতুলনীয় প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। তাঁর চলাফেরায় সাদাসিধেভাব সদা স্পষ্ট ছিল। জীবনে তিনি কখনো দু
বেলা পেট পুরে খাননি। শক্ত তোষক ও চাটাইয়ের বালিশ ছিল তাঁর চিরসম্বল। দিনে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন আর রাতে প্রভুর দরবারে অশ্রু বিসর্জন দিতেন।
চিরবিদায়কালে আট লাখ বর্গমাইলের এই মহান রাষ্ট্রপ্রধান মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রেখে গিয়েছিলেন কিছু গৃহস্থালী ও যুদ্ধাস্ত্র। আর রেখে গিয়েছিলেন একটি পূর্ণাঙ্গ নিখুঁত কালজয়ী ও সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ।
লেখক: প্রবন্ধকার

বাহার উদ্দিন বকুল,জেদ্দা,সৌদি আরব: বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, জেদ্দা (ইংলিশ সেকশন) এর বিজ্ঞান মেলা ২০১৬-২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত ২ দিনের বিজ্ঞান মেলায় ১১ জানুয়ারি, বুধবার ছিল প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চল শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্যে এবং ১২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ট শ্রেণি থেকে দাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ।
ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের নানা আকিস্কার মেলায় প্রদর্শন করা হয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রথমদিন বিজ্ঞান মেলা পরিদর্শন করেন অধ্যক্ষ ড. আবদুল বাকি
, উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম,
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদ চেয়ারম্যান  কাজি নেয়ামুল বশির, ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ, সদস্য মুছা খান সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ এবং উপস্থিত অভিভাবকগণ।
পরিদর্শণকালে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাদের আবিস্কার ব্যাখ্যা করেন এবং পরীক্ষা করে দেখান। ওদের আগ্রহ এবং আত্মবিশ্বাস দেখে চমৎকৃত হন পরিদর্শকগণ।
ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা কেবল যন্ত্রপাতি আবস্কারই করেনি
, পরিবেশ এবং জলবায়ূর ভারসাম্য রক্ষা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির প্রকল্পও উপস্থাপন করেছে।
দ্বিতীয়দিনের বিজ্ঞান মেলায় উপরের শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা অনেক পরিণত আবিস্কার উপস্থাপন করে। তাদের চোখেমুখে ছিল ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নছায়া।
মেলা পরিদর্শন কালে চেয়ারম্যান কাজি নেয়ামুল বশির
, ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ ও সদস্য মুছা খান  বিজ্ঞান মেলা আয়োজনকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানান।


অধ্যক্ষ ড. আবদুল বাকি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রবাসের এই বিদ্যলয়ের ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক চিন্তা-চেতনায় মেধাবি হয়ে গড়ে উঠছে। বিজ্ঞান মেলায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন জানিয়ে আগামী দিনের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের প্রতিভার বিকাশের আহ্বান জানান। বিজ্ঞান মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম।

সেলিম উদ্দিন,পর্তুগাল : সেলিম উদ্দিন,পর্তুগাল : পর্তুগালে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মত আইমন সিক্স এ সাইড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০১৭ এর চ্যাম্পিয়ন বিয়ানী বাজার ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট এবং রানার্সপ ফরিদপুর রাইডার্স।৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্ট।
টুর্নামেন্ট এর নামকরণ করা কমিনিটি ব্যাক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আমির সোহেল এর ছেলের নামানুসারে।সকাল ৯টা ১৫মিনিটে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চ্যানেল আই ইউরোপের পর্তুগাল প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট কলামিস্ট মোহাম্মদ নুরুল্লাহ।
উদ্বোধনকালে তিনি প্রত্যেকটি দলকে অভিনন্দন জানান এবং আগত দর্শক ও অতিথিবৃন্দকে বলেন খেলাধুলা শিক্ষা কার্যক্রমের একটি অংশ।
শরীর ও মন ভালো রাখার জন্য খেলাধুলা করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা হাজারও ব্যস্ততার মাঝেও শরীর ও মনকে চাঙ্গা করার জন্য নিয়মিত খেলাধুলা করেন। খেলাধুলা মানুষের ভেতরে একটি প্রশান্তি এনে দেয়, এনে দেয় ভারসাম্যও।
তবে নানান কারণে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। ইউরোপের সর্বাদিক পঠিত পত্রিকা নবকণ্ঠ আয়োজিত এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে বাঃবাঃ পাওয়ার দাবী রাখে বলে মনে করেন আগত অতিথি ও দর্শকগণ ।
নবকন্ঠের পর্তুগাল ব্যুরো প্রধান ও অল ইউরোপীয়ান বাংলা প্রেস ক্লাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম উদ্দিনের আয়োজক কমিটির সদস্যবৃন্দ ও উপদেষ্টামণ্ডলীর প্রত্যেক সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার ,সেক্রেটারি মহিন উদ্দিন ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ তালুকদার , বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পর্তুগাল শাখার সিনিয়র নেতা আবুল কালাম আজাদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ মিয়া , টুর্নামেন্টের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক দেলোয়ার হোসাইন ,যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসাইন,আব্দুল ওয়াহিদ পারভেজ ,অলি আহমেদ সানি , সুমন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন দেলোয়ার লস্কর ও কামরুল। আম্পায়ার মহোদয়গণ নিখুঁত পরিচালনায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা সমাপ্ত প্রশংসিত হন। উপদেষ্টারা হলেন ফরহাদ মিয়া ,নজরুল ইসলাম সিকদার ,জহিরুল আলম জসিম,লিয়াজ উদ্দীন ,শওকত ওসমান,মহিন উদ্দিন ,মাহবুব আলম,দেলওয়ার আহমদ,আবুল কালাম আজাদ, শাহজান আহমদ,ইউছুফ তালুকদার, কছরু মিয়া, আমির সোহেল ,এনামুল হক মিতুন। ফাইনাল খেলায় চরমভাবে ধরাশায়ী হয় শিরোপার অন্যতম দাবীদার ফরিদপুর রাইডার্স। ফাইনাল খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন বিজয়ী দলের রায়হান।তিনি অল রাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ২বার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন.পুরুষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পর্তুগাল শাখার সভাপতি জহিরুল আলম জসিম , সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান , নোয়াখালী এসোসিয়েশন এর সিনিয়র সহ সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ , নোয়াখালী এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক ও পর্তুগাল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিন , বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও ইউরোপীয়ান প্রবাসী বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ তালুকদার ,মার্তিম মনিজ জামে মসজিদের সভাপতি সোলাইমান মিয়া সহ কমিউনিটি ব্যাক্তিবর্গ।পুরো খেলায় প্রধান বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন একে রাকিব এবং স্কোরিং বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন নজরুল ইসলাম সুমন।বিজয়ী দলের অধিনায়ক শাহ আলম ও টিম ম্যানেজার শহীদ আগত দর্শকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান পুরো খেলায় তাদের দলকে উজ্জীবিত করায়।

রিয়াজ হোসেন ,রোম,ইতালি : শীতের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন শহর জুড়ে তুষারপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত  হলেও রোমে নেই কোন তুষার।
আর এই তুষারপাত দেখার জন্য মহিলা সমাজ কল্যাণ সমিতি আয়োজন করেছে তুষারপাত দেখার জন্য শীতকালীন বনভোজন। ইতালীর আবরুজ্জো শহরের কাম্পো ডি ফেলেসি নামক স্থানে বরফে আস্ছাদিত পাহাড়ের মধ্যে  মধ্যে বনভোজনের আয়োজন করে। 

মহিলা সমাজ কল্যান সমিতির সভানেএী লায়লা শাহ র নেতৃত্বে রোম থেকে শতাধিক প্রবাসী বাস যোগে ছুঠে যায় কাম্পো ডি ফেলেসিরপাদদেশে।
তুষারপাতের মধ্যে আনন্দ উল্লাসেমেতে উঠেন অংশগ্রহনকারী প্রবাসীরা। ক্যাবল কারের মাধ্যমে এক পাহাড় থেকে অন্য এক পাহাড়ের রোমাঞ্চ এক অভিজ্ঞ ও উল্লাস ছিলো চোখে পড়ার মত। মহিলা সমাজ কল্যান সমিতির সহ সভাপতি নার্গিস  আক্তার ছাড়াও সাংবাদিক খান রিপন, শিমুল রহমান ছাড়াও জাহাঙ্গীর আলম, রুহুল আমিন রাহুল, খান রবিন, ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির সহ প্রবাসী শীতকালীন এই বনভোজনে অংশগ্রহন করেন।


সংগঠনের সভাপতি লায়লা শাহ বলেন সৃস্টি কর্তার সৃস্টি প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্যই আমাদের এই আয়োজন আগামী দিনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দর্শনীয় জায়গাগুলোতে সবাই একএে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পকনা রয়েছে।

মাম হিমু : ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে ফ্রান্স তৃণমুল বিএনপির আয়োজনে সোমবার প্যারিসের মেট্টো হোস হলে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে । ফ্রান্স তৃণমুল বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম রবিনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স বিএনপির সাধারন সম্পাদক এম এ তাহের, সহ সভাপতি এম এ রহিম, সিরাজুর রহমান, যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম সরকার,সর্ ইউরোপ যুবদলে আহবায়ক  মিল্টন সরকার, ফ্রান্স যুবদলে সাধারন সম্পাদক আব্দুর রব রানা, ইলিয়াস মুক্ত পরিষদের আহবায়ক মফিজ আলী, আরিফ হাসান, সাইদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন ভুইয়া, কবি আতিকুল ইসলাম, ওমর গাজী, আবু বকর সহ আরো অনেকে । 


এ সময় বক্তরা বলেন, ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনের পর গণতন্ত্র এখন মৃত । তাই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে দেশ ও প্রবাসের জাতীয়তাবাদী সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। এ সময় বক্তরা আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচন ইতিহাসের এক কলংকিত অধ্যায়। বর্তমান জনবিচ্ছিন্ন সরকার দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় আকড়ে রয়েছে। বক্তরা অভিলম্বে  জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা জোর দাবী জানান । 

বেলজিয়াম প্রতিনিধি : স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
১০ই জানুয়ারী বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সফি উল্লাহ সফির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন পলিনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি রফিকুল আলম,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম সাজু,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সল ইসলাম মানিক,সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মৌল্লা,দপ্তর সম্পাদক রাইসুল ইসলাম রাসেল,আইনবিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন মিশু,লিয়াজ আওয়ামীলীগের সভাপতি হারুনুর রসিদ,সহসভাপতি বিকাশ গুপ্তা,সাধারণ সম্পাদক অমর ফারুক প্রমুখ। অনুষ্টানে বাংলাদেশ থেকে টেলিকনফারেন্সে যুক্ত হন বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের সভাপতি বজলুর রশিদ বুলু। বক্তারা খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বেগম জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য যতই চেষ্টা করেন না কেন তা আর সম্ভব নয়।তিনি নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাই তার শরিক দল থাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। একইসাথে তারা আরো বলেন উদ্যোগ বিএনপি চেয়ারপার্সন ধ্বংসাত্মক রাজনীতির নামে দেশবাসীকে পুড়িয়ে মারা এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়া ভোটারদের কুকুর বলার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে । বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের এই দিনে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলা-দেশের মাটিতে পা রাখেন। জীবন-মৃত্যুর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ঙ্কর অধ্যায় পার হয়ে সারা জীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান এ নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। জাতির পিতা তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা।

সেলিম আলম,মাদ্রিদ : বাংলাদেশের শেরা ফুটবলার দের অন্যতম এক কালের মাঠ কাপানো তুখোর খেলোয়াড় স্পেন প্রবাসী প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন স্পেন এর উপদেষ্টা জালাল আহমেদ
যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে দেশটির বিভিন্ন শহরে তার সন্মানে আয়োজন হয় সংবর্ধনা অনুষ্টানের , সমবেত হন সেকালের সিলেটের কৃতি ফুটবলার ও ক্রীড়া সংঠক সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ । অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে অন্যতম লন্ডনের স্বাধ রেষ্টুরেন্টে তার সন্মানে বেতার বাঙলা ইংল্যান্ডের  সম্পাদক নাজিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং হাবিব এর তত্বাবদানে সভা পরিচালনা করেন আব্দুস সালাম
মাদ্রিদের বাংলাদেশ কমিউনিটির গর্ভ বিশিষ্ট  রাজনীতিবিদ গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন স্পেনের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম পঙ্কি সহ ইংল্যান্ডে বসবাসরত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেরদৌস আহমেদ,ফুলাদ মিয়া, সাব্বির আহমেদ, মাহতাব আলী, আকেদ মিয়া, নজরুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিন, সাহেদ মিয়া, আমির হামজা, বুরহান উদ্দিন, সুরত আলী, কামাল হুসেন, তারেক আহমেদ, আব্দুল কালাম, হাবিব আলী প্রমুখ।
দির্ঘ দিন পরে তাদের এই মিলনমেলা পরিনত হয়েছিল আনন্দ উৎসবে।বিদেশের মাঠিতেও সিলেট
দক্ষিন  সুরমার সন্তান জালাল আহমেদ একজন সফল ক্রীড়া সংগটক  হিসেবে দেশ প্রেম নিয়ে নতুন প্রজন্মের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন ।তার এ দ্বারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে প্রবাসে বেড়ে ওঠা কিশোরদের শারিরিক ও মানসিক ভাবে গড়ে তুলবেন, ভিন্ন সংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে তাদের রক্ষা করে দেশীয় সংস্কৃতি শিক্ষা দেবেন এমনটা প্রত্যাসা করেন বক্তারা ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে জড়ো হওয়া বন্ধু বান্দব সহ নেতৃবৃন্দের মধ্যে পাপু ,বুরহান,লুলু, রাসেল, টিটু , নওসাধ, ফরহাদ, হারুন, পারিস ছিলেন উল্ল্যেখযোগ্য।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget