‘গৃহযুদ্ধে’র দিকে এগুচ্ছে কাতালোনিয়া

জনপ্রিয় অনলাইন : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজেট কমিশনার সতর্ক করে বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে কাতালোনিয়া গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যাপক পুলিশি সহিংসতায় গণভোট আয়োজনের পর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কাতালোনিয়া ও স্পেন সরকারের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এ সংকটের মুখে অনেক বড় বড় ব্যাংক কাতালোনিয়া থেকে তাদের সদর দফতর সরিয়ে নেওয়া ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এই খবর জানিয়েছে।


সোমবার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন অঞ্চলটির নেতারা। আঞ্চলিক পার্লামেন্টে এই ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কাতালানের এমপিরা। তবে বৃহস্পতিবার স্পেনের সাংবিধানিক আদালত কাতালোনিয়া পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করলে পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নেয়। শুক্রবার কাতালোনিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশন বসবে এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হবে।এই পরিস্থিতিতে ইইউ বাজেট কমিশনার গানথার অতিঙ্গা স্পেনের বিবদমান দুই পক্ষকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, এই পরিস্থিত খুবই কঠিন। ইউরোপই একটি গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  তিনি মনে করেন একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নই এই সংকটে মধ্যস্ততা করতে পারে। স্পেনের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংকিং গ্রুপ বাঙ্কো সাবাদেল ঘোষণা দিয়েছে তারা আলিকান্তেতে সদর দফতরে চলে যাচ্ছে। কাইজাব্যাংকেরও একই পরিকল্পনা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল মুন্দোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতালোনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হলে ব্যালেরিক দ্বীপে চলে যেতে পারে ব্যাংকটি।বীমা কোম্পানি কাতালান অক্সিডেন্টও বলেছে যেকোনও কিছুর জন্য প্রস্তুত তারা। স্পেন সরকারও চাইছে কাতালোনিয়া থেকে বেরিয়ে আসুক  প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই তাদের প্রক্রিয়াও সহজ করার চেষ্টা করছে তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‍শুক্রবার এই বিষয়ে নির্দেশনা আসবে। বুধবার স্প্যানিশ শেয়ারবাজারেও ধস নামে। ব্রেক্সিটের পর এটিই সর্বোচ্চ দরপতন। মাদ্রিদ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা সংগঠনগুলোও শোনাচ্ছে অশনি সংকেত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলোও কাতালোনিয়ায় ভোটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর বিনিযোগে আগ্রহ হারাচ্ছে। কাতালোনিয়া বংশদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জ্যাভিয়ের এডাম দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, তিনি এই পরিস্থিতিতে স্পেনে সবরকম বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। লন্ডনে স্প্যানিশ দূতাবাসে পাঠানো এক চিঠিতে অ্যাডাম বলেন, তার এএমসি নেটওয়ার্ক কোম্পানি ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। নেতিবাচক প্রচারণা, শুধু ভোট দিতে চাওয়া নিরপরাধ মানুষের উপর চড়াও হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্পেনর অর্থমন্ত্রী লুইস দে গুইন্দোও কাতালোনিয়ায় আলাদা হওয়ায় ব্যাংকগুলো চলে যাবে ও অস্থিতিশীল অবস্থার তৈরি হবে বলে ইঙ্গিত দেন। ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এ থেকেই বোঝা যায় কাতালোনিয়ার সরকার কতটা পাগল।অবশ্য কাতালান প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইজেমন্ত বুধবার নিজ অবস্থা অটল থাকলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বাধীনতার ঘোষণা তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেননি। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়ের ভাষায় কাতালোনিয়ার সংলাপের আশা আরও কমে গেছে। তিনি জানান, তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন এবং কোনোরকম স্বাধীনতার ঘোষণা আসবে না।
Labels:

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget