‘বিয়ানীবাজারে কার গুলিতে নিহত হলো লিটু?’

সুফিয়ান আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :: শান্ত কলেজ, পরিবেশও স্বাভাবিক। কলেজে নেই উত্তেজনা,  নেই বিশৃঙ্খলা। যার যার অবস্থানে  গল্পগুজব করছেন সবাই। সকালে শ্রমিকদের দু\\\'গ্রুপে মারামারির ঘটনা ঘটলেও পুলিশের কড়া অবস্থানে স্বাভাবিক হয়ে উঠে জীবনযাত্রা। এরপরও কলেজ ক্যাম্পাসসহ আশপাশ এলাকায় কড়া অবস্থান নেয় পুলিশ। দুপুর ১২ টার দিকে কলেজ ছুটির পর একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা চলে গেলে আসতে থাকেন অন্যান্য শ্রেণীর পরীক্ষার্থীরা। সময় তখন আনুমানিক সাড়ে ১২ টা। হঠাৎ ক্যাম্পাসে গুলির শব্দ। শব্দটা আসে অর্থনীতি বিভাগের শ্রেণীকক্ষ থেকে। গুলির শব্দে কলেজে অবস্থানকারী ছাত্রলীগের অন্যান্য গ্রুপের নেতাকর্মীরা গিয়ে দেখেন মাথা থেতলানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে একটি রক্তাক্ত লাশ। এসময় ছুটোছুটি করছেন নেতাকর্মীরা। সবাই যেন নিস্তব্ধ। কারো মুখে যেন কথা নেই।

নির্মম এই হত্যাকান্ড যে কলংক রচিত করলো নতুন করে। তবে এই ঘটনার পর সময় যত গড়াচ্ছে রহস্যের দানা যেন ততই বাড়তে থাকছে। কেন এই হত্যাকান্ড, কার বন্দুকের গুলিতে নিহত হলো লিটু নামক যুবক-এমন প্রশ্ন এখন বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপের নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের মুখে মুখে?
সবার একটাই দাবী, যে হত্যাকান্ড বিয়ানীবাজার কলেজসহ পুরো বিয়ানীবাজারকে কলংকিত করেছে এর যেন সঠিক তদন্তস্বাপেক্ষে আসামীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয় এবং একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ লিটুর মা-বাবা যেন পান সঠিক বিচার। তাদের দাবী, নিহত লিটু যেন বলির পাঠা না হয়। 
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ফাঁকা শ্রেণী কক্ষে নিজ গ্রুপের নেতাকর্মীদের পাশেই আকস্মিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নির্মমভাবে নিহত হন উপজেলা ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের কর্মী, পৌরশহরের খাসা পন্ডিতপাড়ার খলিলুর রহমানের একমাত্র পুত্র খালেদ আহমদ লিটু(২৬)।
 
নিহত লিটু বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের ছাত্র না হলেও ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের কর্মী হওয়ায় প্রায় সময় কলেজে তাদের অবস্থানে যেত। সোমবারও একইভাবে কলেজ ক্যাম্পাসের অর্থনীতি বিভাগের সম্মুখে গ্রুপের নেতাকর্মীদের কাছে গিয়ে অবস্থান করে। এসময় অর্থনীতি বিভাগের একটি কক্ষ খালি থাকায় সেখানে তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের সাথে সেও গল্পগুজব করছিলো। হঠাৎ বন্দুকের গুলিতে তাঁর মাথা ঝাঝড়া হয়ে যায় এবং প্রচন্ড রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির শব্দ শুনে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা গিয়ে দেখেন মেঝেতে রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। এরপর নিহতের লাশ উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে
  চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে রাত ১০টায় পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রুপের ৩ জনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগের দু\\\'কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কলেজ ক্যাম্পাসে আমাদের অবস্থানে আমরা বসে গল্পগুজব করছিলাম। হঠাৎ গুলির বিকট শব্দ শুনে আমরা ওই কক্ষের দিকে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় একজনের লাশ পড়ে আছে। তবে কিভাবে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলো তা জানি না। এসময় ছাত্রলীগের কোন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের কোন ঘটনা ঘটে নি বলেও তারা জানান।
  
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ বলেন, আমরা পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি লাশ পড়ে আছে। নিহত লিটু বিয়ানীবাজার কলেজের ছাত্র নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এঘটনায় ২২ জুলাই পর্যন্ত কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
 
এদিকে নিহত লিটু কার গুলিতে এবং তার নেতাকর্মীরা পাশে থাকা সত্ত্বেও কিভাবে নিহত হলো এনিয়ে চলছে চুঁলছেড়া বিশ্লেষণ। সময় যত গড়াচ্ছে
  রহস্যের জট যেন ততই দানা বাঁধছে। পুলিশও রয়েছে ধূয়াশার মধ্যে।
ঘটনার মুটেভ উদঘাটনে একই গ্রুপের ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে জানিয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, এঘটনায় কেউ অভিযোগ দায়ের করে নি। তিনি বলেন,ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আশা করি শীঘ্রই আমরা এই ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারবো এবং দোষীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget