রাজনীতির শান্তিময় অঙ্গন বিয়ানীবাজারে আ.লীগ-বিএনপি’র ব্যতিক্রমী প্রচারণা ভোট চাচ্ছেন একে অপরের কাছে ॥ বাধা দিচ্ছেন না কেউ কাউকে

সুফিয়ান আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ দলীয় প্রতিকে একসময় দেশে কেবল সংসদ নির্বাচনই অনুষ্টিত হত । নির্বাচন আসলে দেশের মূল প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ-বিএনপি প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিত উত্তাপ।
হত সংঘাত-সংঘর্ষ, হতাহত হতেন অনেকেই। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যন্ত দলীয় প্রতিকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের এই স্বিদ্ধান্তে দেশের সর্বত্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আয়োজিত প্রথম নির্বাচনেই অন্যান্যবারের চেয়ে বিগত ইউনিয়ন নির্বাচনে সবচেয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় নির্বাচনকে দলীয় প্রতিকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো এবং এরজন্যই সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এরকম অনেক নজির বৃহত্তর সিলেটেও আছে। যার জন্য ওই সময় সরকারের সমালোচনা করেছেন অনেকেই।

কিন্তু সংঘাত-সংঘর্ষের এই রাজনীতিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অঙ্গন বিয়ানীবাজার। যার প্রমাণ বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন। দীর্ঘ ১৬ বৎসরের মামলা-মোকদ্দমার পর আগামী ২৫ শে এপ্রিল বিয়ানীবাজার পৌরসভার বহুল প্রত্যাশীত নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।
নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস শুকুর। তার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নাসের পিন্টু, জাসদের শমসের আলম, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোঃ জমির হোসেন, বর্তমান প্রশাসক মোঃ তফজ্জুল হোসেন ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব।

গত ৬ তারিখ প্রতিক পাওয়ার পর থেকেই জোর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নৌকা প্রতিকের মোঃ আব্দুস শুকুর ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের আবু নাসের পিন্টু। প্রচারণা চালাচ্ছে দলীয়  ও সতন্ত্র বাকী ৪ মেয়র পদপ্রার্থীও। তবে পৌরবাসীর মূল আকর্ষণ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর দিকে। দেশের নেতৃত্বদানকারী প্রধান এই দুরাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চলছে রাত-দিন প্রচার প্রচারণা। তবে তাদের মধ্যে নেই কোন উত্ত্বাপ ও বিশৃঙ্খলা। শান্তিপূর্ণভাবে কোন বিশৃঙ্খলা ছাড়াই চালাচ্ছেন প্রচারণা। এমনকি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মেয়র প্রার্থী কাজী মোঃ জমির হোসেনকেও বাধা দিচ্ছেন না কেউ। যে যার মত চালাচ্ছেন প্রচারণা।

তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগ ও রাজপথের বিরোধীদল বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা দলীয় প্রচারণায় গিয়ে একে অপরের সাথে দেখা হলেই করছেন কুশল বিনিময়। নিজেদের প্রার্থীর জন্য ভোট ও দোয়া  চাচ্ছেন হাসিমুখে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন উদার দৃশ্য যেখানে বিরল, সেখানে বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নেতাদের এমন সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে মুগ্ধ বিয়ানীবাজারবাসী। দেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও রাজপথের বিরোধীদল বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন সম্পর্ক শুধু যেন লোক দেখানো হয় এমন প্রত্যাশা পৌরবাসীসহ সচেতন মহলের। সবার একটাই দাবী, যে দলের ব্যক্তিই মেয়র নির্বাচিত হোন না কেন; বিয়ানীবাজার পৌরসভাসহ বিয়ানীবাজারকে একটি আলোকিত ও শান্তিময় আবাসভুমি গড়তে তারা যেন একসাথে কাজ করেন।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget