বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন কাউন্ট ডাউন শুরু ॥ মনির আলীর রিটে নির্বাচন স্থগিতের গুজব

সুফিয়ান আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ তারিখ মঙ্গলবার অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশীত  বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাউন্ট ডাউন শুরু করে দিয়েছেন প্রার্থীরা। যে যার মত চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা। তবে নতুন কোন আইনী জটিলতা সৃষ্টি না হলে এই দিনই অনুষ্টিত হবে নির্বাচন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসে প্রেরণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের চিঠি পেয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় নির্বাচন অফিস।

এবিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ কামাল হোসেন জানান, আগামী ২৫ এপ্রিল বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। এ উপলক্ষ্যে ২৭ মার্চ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, ২৯ মার্চ বাছাই ও ৫ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তফশীল অনুযায়ী অফিস চলাকালীন সময়ে স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। নির্বাচনে রিটার্ণিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন আর সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি (সৈয়দ মো: কামাল হোসেন)।
এদিকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আয়োজনে আইনী সকল বাধা দূর হওয়ায় স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রার্থীরাও কৌশলে চালাচ্ছেন জোর প্রচার প্রচারণা। পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝড় উঠেছে চাঁয়ের কাপে। দীর্ঘদিন পর যখন বহুল কাংখিত নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা ব্যস্ত ঠিক সেই সময়েই ভোটারদের সেই বাধভাঙ্গা আনন্দ উচ্ছাস ধ্বংস করে দেয়ার জন্য ও ভোটারদের ভোটাধিকার আবার হরণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন পৌরসভার আলোচিত-সমালোচিত কমিশনার মনির আলী। তিনি গত ১৯/৩/২০১৭ ইং ও ২১/৩/২০১৭ ইং তারিখে পরপর দুটি রিট দায়ের করেছেন হাইকোর্টে। তার দায়েরকৃত রিট পিটিশনগুলোর নাম্বার হচ্ছে ৩৩৩৫/২০১৭ এবং ৩৮৪০/২০১৭। তাঁর এই রিট পিটিশনের খবর পৌরশহরে ছড়িয়ে পড়লে ফিঁকে হয়ে আসে পৌর নির্বাচনের আনন্দ। পৌরশহরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেছে বলে। ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন পৌর নাগরিকরা। তবে এই রিট পিটিশনে পৌরবাসীকে না ঘাবড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে পৌর নির্বাচন আদায় সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা ও পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুশ শুক্কুর বলেন, আমরা যতবার বিয়ানীবাজার পৌরসভার নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের চেষ্টা করছি ; ঠিক ততবারই তা বানচাঁল করারও চেষ্টা হয়েছে। বর্তমানেও তা হচ্ছে। কিন্তু তারা কখনো সফল হবেন না। তিনি বলেন, আগামীতেও যদি কেউ নির্বাচন বানচাঁল করার চেষ্টা করেন, তাহলে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন এবং পৌরবাসীর কাছে আজীবন অসম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।
এবিষয়ে রিট পিটিশনকারী পৌর কমিশনার মনির আলীর বলেন, আমি ও আমার বাড়ির আশপাশ এলাকা পৌর সীমানার বাহিরে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসীর হয়ে আমি এই রিট পিটিশন দায়ের করেছি। তবে কবে এই রিট পিটিশনের শুনানী হবে তা তিনি জানেন না।

জানা যায়, বিগত ১৯শে আগষ্ট ২০০১ সালে বিয়ানীবাজার সদর ইউনিয়নকে পাশর্^বর্তি মুল্লাপুর ইউনিয়নের কিছু সীমানা অর্ন্তভুক্ত করে পৌরসভা ঘোষণা করা হয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের এক স্বাক্ষরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন তৎকালীন সদর  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তফজ্জুল হোসেন। উক্ত মামলা বিগত ১লা ডিসেম্বর ২০০৯ সালে মহামান্য হাইকোর্ট শুনানী শেষে খারিজ করে দিলে তফজ্জুল হোসেন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল মামলা দায়ের করে প্রশাসক হিসেবে আবারো বহাল হন। এরপর বিয়ানীবাজার পৌরবাসী নির্বাচনের দাবীতে সোচ্চার হয়ে বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন আদায় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের ব্যানারে পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেনের সীমাহীন দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে পৌরশহরে মিছিল মিটিং ও সভা সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় দূর্নীতির অভিযোগে বিগত ২০১২ সালের নভেম্বরে পৌরপ্রশাসককে বহিষ্কার করেন। উক্ত বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে পৌর প্রশাসক হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করলে আদালত তা গ্রহণ করে স্থগিতাদেশ দেন। অবশেষে পৌর নির্বাচন আদায় সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ পৌর প্রশাসকের সিভিল আপীল মামলা (৬০১/০৯) নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের স্মরণাপন্ন হলে দীর্ঘ দুই বৎসর রাষ্ট্র পক্ষের সহায়তায় আইনী কার্যক্রম চলে। এরই অংশ হিসেবে গত ২০ জানুয়ারী ২০১৬ ইং তারিখে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে  প্রধান বিচারপতি এস.কে সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানী শেষে পৌরপ্রশাসকের মামলাটি খারিজ করা হয় এবং খরচ বাবত একশত টাকার রায় প্রদান করা হয়। আর এই আদেশের পুর্ণাঙ্গ সত্যায়িত রায় প্রকাশের ফলে পৌরপ্রশাসক তফজ্জুল হোসেন প্রশাসক হিসেবে াকার আইনগত সুযোগ হারান। কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একই আদালতে প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন আবারো রিভিউ পিটিশন করায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গেলে গত ৭ই নভেম্বর ২০১৬ তারিখে তা খারিজ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত সোমবার হাইকোর্টে পৌর প্রশাসকের রিট পিটিশন (নং ৯০৬/২০১৩ ও ৯৪৪২/২০১৪ ) দুটি খারিজ করে দেন মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার, আবু তাহের ও মোঃ সাইফুর রহমানের বেঞ্জ । আর এই রিট পিটিশন দুটি খারিজ করার ফলে পৌরসভার প্রশাসককে তার পদ থেকে সরাতে কোন আইনী বাধ্য বাধকতা আর থাকলো না। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চের রায়ে অবিলম্বে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে ইতোমধ্যে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। পত্র পাওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন আগামী ২৫ শে এপ্রিল বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই চলছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা। এবার কেবল বহুল প্রত্যাশীত সেই দিনের অপেক্ষা।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget