জনপ্রিয় অনলাইন : আমার বেগ কোথায় হারিয়ে গেল তাও বলতে পারি না।পাহাড়ের উঁচুনিচু গর্তে যে ঝাকুনি হচ্ছিলো তা ছিলো আরও ভয়াবহ।এভাবে একঘণ্টা পর আমাদের একটি ঘরে নামানো হলো।কেউ হাত সোজা করতে পারছে না আবার কেউ পা।

গরে ঢুকার পর আনুমানিক আমরা ৬০ জন। ৩০ মিনিট  পরে কয়েকভাগে গাড়ি করে আমাদের মূল স্পটে নিয়ে আসা হলো।একটি কারে কমপক্ষে দশজন করে।একটি পাহাড়ের খাঁদে আমাদের সবাইকে জড়ো করে সবার হাতে স্প্রে দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ইতিমধ্যে আরও ১৫০জনের মতো আমাদের সাথে যুক্ত হলো। দালালের সাথে আমাদের কথা ছিলো বর্ডার থেকে আধঘণ্টা হাঠলেই আমরা তুরস্ক ডুকে যাবো।আমরা ভাবছিলাম যেহেতু ৩০মিনিট বলেছে তাহলে বেশ থেকে বেশী হলে দুই অথবা তিন ঘন্টা হাঁটা লাগবে। লাইন ধরে প্রায় ২০০ জনের গ্রুপের হাঁটা শুরু।
জীবনের প্রথম এতো উঁচু উঁচু পর্বত সম পাহাড় দেখি।তুষার পড়ে পিচ্ছিল হয়ে আছে রাস্তা।আমরা বেশীর ভাগ সময় পাহাড়ের কিনারা দিয়ে হাটছিলাম।এই সময় নিচের দিকে চুখ গেলে মাথা গুরে যাওয়ার উপক্রম,তার উপর তুষার পড়তেছে।এইভাবে হাঠতে হাঠতে সকাল ৮ টায় প্রায় ১২ ঘন্টা পর একটি পাহাড়ের খাঁদে আমাদের দাঁড় করিয়ে বললো আমরা এখন তুরষ্ক আছি।কিছু সময় পর গাড়ি আসবে,আমরা বিভিন্ন ভাগ সেভহুমে যাবো।

আমি চারিদিকে থাকালাম, যে যেখানে আছে সেখানেই তুষারের মধ্য়ে শুয়ে পড়েছে। সবাই একে অপরের দিকে কেবল থাকিয়ে আছে, কারও কথা বলার শক্তিও নেই। এম্বুলেন্সের মতো করে তিনটা গাড়ি আসলো, এই দুইশত মানুষকে এই তিনটার মধ্যেই জায়গা করে নিলো। সেই ভ্যানের চাইতেও মারাত্মক অবস্থা। প্রায় ঘন্টা খানিক পর আমাদের একটি বাসায় নিয়ে আসা হলো। যাকে সেভহোম বলা হয়। সাধারনত গেইম শেষে টাকা পরিশোধের আগ পর্যন্ত এখানে রাখা হয়। টাকা পরিশোধ হয়ে গেলে তাঁরা ইস্তাম্ভুলের বাসে তুলে দেয়।
এখানে আরও অনেক করুন কাহিনী। কয়েকজনকে পাওয়া গেল যারা টাকা পরিশোধ না হওয়ার কারণে মাসের পর মাস পরে আছে। আবার কারও টাকা মধ্যেখানের দালাল নিয়ে লাপাত্তা।

আবার তাঁদের কাছে শুনলাম কাউকে মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার গল্প।আমরা ঘরে ঢুকে ৩০মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আস্তে আস্তে যখন পায়ের জুতা খুললাম তখন দেখি মুজার সাথে পায়ের তলার চামড়ার একটি প্রলেপ উটে আসতেছে।পায়ের তলায় নক লাগলেই রক্ত বের হবে এই রকম অবস্থা।ঠান্ডা আর বরফে তের ঘন্টা হাঠার দুঃস্বপ্নের এই রাত জীবনে ভুলবার নয়।আমরা সেভ্রুম থেকেই দালালের কাছ থেকে ৫০ ডলার দিয়ে একটা সিম কিনলাম।
Axact

Jonoprio

জনপ্রিয়২৪ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বিশ্বজুড়ে রেমিডেন্স যোদ্ধাদের প্রবাস জীবন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। স্পেনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল।.

Post A Comment:

0 comments: