বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক কত ?

জনপ্রিয় অনলাইন : বাংলাদেশে প্রতিবছর বিদেশি পর্যটক আসার সংখ্যা দুই লাখের বেশি নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বরাত দিয়ে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের (ইউএনডব্লিউটিও) প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ইউএনডব্লিউটিও এই তথ্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কাছেও পাঠিয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) কর্তৃপক্ষ এই তথ্যকে অসম্পূর্ণ বলছে। তবে এই তথ্য কেন অসম্পূর্ণ বা প্রকৃত তথ্য কী, সে ব্যাপারে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে সংস্থাটি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে ইউএনডব্লিউটিওকে পাঠানো হিসাবে দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৪এই চার বছরে বাংলাদেশে পর্যটক এসেছেন যথাক্রমে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৭, ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৩, ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ ও ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৪ জন।
যদিও ২০১৬ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করার সময় পুলিশের বিশেষ শাখার উদ্ধৃতি দিয়ে বিটিবি কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক আসেন প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার। এ ছাড়া সরকারের তিন বছর মেয়াদি
ভিজিট বাংলাদেশ প্রকল্পের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, তাতে উল্লেখ করা হয়‍, ২০১২ সালে ৫ লাখ ৮৩ হাজার বিদেশি পর্যটক আসেন। বিটিবির লক্ষ্য বলা হয়েছে প্রতিবছর পর্যটকসংখ্যা ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে।
বিবিএস ও বিটিবিএই দুই প্রতিষ্ঠানই বিশেষ শাখা থেকে তথ্য পেয়েছে দাবি করলেও সেই তথ্যে গরমিল রয়েছে।
বিটিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আখতারুজ্জামান খান কবির প্রথম আলোকে বলেন, বিটিবি এসব তথ্য পেয়েছে বিশেষ শাখা থেকে।
আর বিবিএসের ডেপুটি ডিরেক্টর শাহাবুদ্দিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, আমরা নিজেরা কোনো পরিসংখ্যান করি না। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এ বিষয়ে হালনাগাদ করা তথ্য আমাদের দিলে তা আমরা সেটি দিই। তিনি আরও বলেন, দেশে কত বিদেশি পর্যটক আসেন, সেই হিসাব একমাত্র পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) করে থাকে। পৃথিবীর সব দেশেই বিশেষ ব্রাঞ্চ তথ্য হালনাগাদ করে থাকে।

ইউএনডব্লিউটিও তাদের সদস্যদেশগুলোর পর্যটন পরিসংখ্যান নিয়ে প্রকাশনা বের করে থাকে। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের তথ্য বাংলাদেশ ইউএনডব্লিউটিওকে দিলেও ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান দিতে পারেনি। এ জন্য ইউএনডব্লিউটিও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডকে গত বছরের মার্চে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু ট্যুরিজম বোর্ড ২০১৫ সালের কোনো তথ্যই দিতে পারেনি ইউএনডব্লিউটিওকে। ২০১৬ সালের হিসাবও পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শাহাবুদ্দিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ কোনো তথ্য দেয়নি ২০১৫ সালের। ২০১৫এর পাশাপাশি সরকার ঘোষিত পর্যটনবর্ষ-২০১৬ সালেও কতজন বিদেশি পর্যটক এসেছেন, তা জানা যায়নি।
সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেশে ২০০০-০৯ সালে বিদেশি পর্যটক আগমনের পরিসংখ্যানের একটি তালিকা দেওয়া রয়েছে। এই তালিকার শেষ বর্ষ ২০০৯ সালে ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০ জন পর্যটক এসেছেন উল্লেখ করা হয়।
অবশ্য পুলিশের বিশেষ শাখার দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে চাননি। একজন কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের হিসাবে ভুল থাকার কারণ নেই।
বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটররাও দাবি করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০১৩ সাল থেকে দেশে ক্রমাগত বিদেশি পর্যটক কম আসছেন। জঙ্গি হামলার কারণে গত বছরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু বিটিবির নির্বাহী কর্মকর্তা (বিপণন ও পরিকল্পনা) এ কে এম রফিকুল ইসলাম পর্যটন ব্যবসায়ীদের এমন দাবি নাকচ করে বলেন, দেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। তবে পর্যটক ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে বিদেশিরা আর ভ্রমণে আসছেন না আগের মতো। সরাসরি নিজেরাই আসছেন।
জঙ্গি হামলার ব্যাপারে এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর জাপান ও ইউরোপ থেকে ট্যুর বাতিল হয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু একই সময়ে চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশের পর্যটকের আবার বেড়েছে। অবশ্য বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে বলেন, গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মধ্যে পর্যটক আসার সংখ্যা কমে গেছে।

বিটিবি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন) হয়েছে, তাতে বিটিবির সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছেবাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডে ক্যাটাগরিভিত্তিক পর্যটন আগমন-বিষয়ক কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এ-বিষয়ক ডেটাবেইস তৈরি করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, যেমন : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশেষ শাখা, বাংলাদেশ মিশন ইত্যাদির কাছে নির্ভরশীল হতে হয়। পর্যটক আগমনসংক্রান্ত ডেটাবেইস তৈরি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিত করে কার্যক্রম গ্রহণ বিটিবির অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget