2016-10-02

জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক : সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের কথায় উঠে আসে এসব তথ্য। সে বলে, খাদিজা ক্তার নার্গিস দীর্ঘদিন থেকে আমাকে পাত্তা না দেয়ার কারণেই তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠি। নগরীর আম্বরখানার এক দোকান থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে চাপাতি কিনি এবং হত্যার উদ্দেশ্যেই তাকে কোপাই। ইচ্ছা ছিল ওখানেই তাকে শেষ করে দেয়ার।
গত দু
দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে নার্গিস। মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর মেয়ের এ সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা মনোয়ারা বেগম। তার আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে বাড়ি। গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসছেন সেখানে।
হাসপাতালে এখন পুলিশ ছাড়া পরিবার, স্বজন বা সংগঠনের কেউ নেই বদরুলের পাশে। এরই ফাঁকে কথা হয় বদরুলের সঙ্গে। সে বলে, আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সম্পাদক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর হলে সিট পাইনি। এ সময় লজিং ছিলাম নার্গিসদের বাড়িতে। এ সুবাদে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু পরে কথা রাখেনি নার্গিস। আমি তাকে নিয়ে সব সময়ই সিরিয়াস। কিন্তু আমার বেলায় সে ছিল একবারে উদাসীন। তাই তাকে শেষ করে দিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতি নেই।
বদরুল আরও বলে, সোমবার এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় চাপাতিটি লুকিয়ে রাখি সঙ্গে থাকা ব্যাগে। পরীক্ষার আগেই এমসি ক্যাম্পাসে পৌঁছাই। ওর কাছে গিয়ে কথা বলি। কিন্তু সে সন্তোষজনকভাবে কোনো কথার উত্তর দেয়নি। এতে আমি আরও প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে উঠি। পরীক্ষা শেষে নার্গিসকে হল থেকে বেরিয়ে আসতে দেখি। তাকে মসজিদের পাশে দেখে কাছে ভিড়তে থাকি। কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু সে আবারও পাত্তা দিতে চায় না। তখনই আমি ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে কোপাতে থাকি। ইচ্ছা ছিল ওখানেই তাকে শেষ করে দেয়ার। এরপর লোকজন নার্গিসকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় ও আমাকে গণপিটুনি দিতে শুরু করে।
খাদিজা যখন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তখন থেকেই খাদিজাকে মানসিকভাবে প্রায়ই অত্যাচার করত বদরুল। তখনি লজিং থেকে বদরুলকে বের করে দেয়া হয়। উঠে শাহপরান হলে। এ সময় সে ছাত্রলীগের রাজনীতি করত।
এর আগেও একবার সে খাদিজাকে মারতে যায়। ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি টুকের বাজারে দা নিয়ে খাদিজাকে মারতে গেলে এলাকাবাসী ধরে পিটুনি দেয়। মান বাঁচাতে শিবির মেরেছে বলে ক্যাম্পাসে প্রচার করে বদরুল। তারপর থেকে ক্যাম্পাসে খুব একটা দেখা যায়নি তাকে। এমনকি বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গেও খুব বেশি মিশত না সে। শিক্ষাজীবন সম্পন্ন না করেই সে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।
বেশ কিছুদিন পর সে ছাতকের আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করে। এ সময় বদরুল আবার সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় নার্গিসের সঙ্গে।

এনায়েত হোসেন সোহেল,প্যারিস,ফ্রান্স : মৌলভীবাজারের বড়লেখার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলামের ওপর ন্যাক্ষার জনক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্যারিসের গার দো নর্দে এ প্রতিবাদ ও মানববন্ধ অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বিপুলসংখ্যক বড়লেখা, জুড়ি ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রবাসী ও ফ্রান্সের বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের ওপর হামলা মানে গোটা শিক্ষক জাতির ওপর হামলা, এ অপমান গোটা সমাজের।

তাই এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। ফ্রান্স প্রবাসী কমিউনিটি নেতা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ওয়াহিদ বার তাহের।

আব্দুল্লাহ আল তায়েফ ও জসিম উদ্দিনের যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ সেন্টার ফ্রান্সের সভাপতি সালেহ আহমদ চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,সাংবাদিক আবু তাহির হুসাইন মাছুম সাবুল, আলী হোসেন, সাংবাদিক আব্দুল আজিজ সেলিম, আলিম উদ্দিন, ওয়াহিদ উদ্দিন, মুহিব উদ্দিন, বেলাল উদ্দিন, হীরা আহমদ, নুরুল ইসলাম এপলু, জিয়াউর রহমান, ওবায়দুল ইসলাম রুহেল, দেলোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন আলী, সাইদুল ইসলাম সাঈদ ,সরওয়ার আহমদ, ফখরুল ইসলাম, সুয়েদ আহমদ,আব্দুল্লাহ আল রিয়াদ, জাহাঙ্গীর আহমদ খান, মজির উদ্দিন, শাহীন আহমদ, তপু, হাবিবুর রহমানসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন সংঙ্গঠনের নেতারা ।

পরে গার দো নরদে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধন থেকে বক্তারা বর্তমান বাংলাদেশের সফল শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বড়লেখা আসনের এমপি শাহাব উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান সুন্দরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাহার উদ্দিন বকুল,জেদ্দা সৌদি আরব : গত অক্টোবর স্থানীয় লিমার হোটেলে উদ্ভাস- সাহিত্য-সংস্কৃতি ফোরামের আয়োজনে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক স্মরণসভা। উক্ত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন উদ্ভাস- সাহিত্য-সংস্কৃতি ফোরামের সভাপতি বিশিষ্ট কবি শেখ ফজলুল কবির ভিকু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম।

বিশেষ অতিথিগণের মধ্যে মঞ্চে আসনগ্রহণ করেন কাউন্সিলর মোকাম্মেল হোসেন, কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন, কাজী আমিন আহমেদ, মার্শাল কবির পান্নু, কাজী নওফেল, এ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান শামিম, ইউসুফ মাহমুদ ফরাজী, কাজী নেয়ামুল বশির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দিন ভূইয়া, মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির প্রমূখ।

অনুষ্ঠানের সূচনায় ছিল পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত এবং কবির রুহের শান্তি কামনায় দোয়া।
আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথিগণ ছাড়াও সৈয়দ হকের কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শারতাজুল আলম দিপু, আবুল বাশার বুলবুল, জাকির হোসেন, মাহফুজ আহমেদ, মারুয়া ওয়াজিউল্লাহ, সাইফুল ইসলাম মঞ্জুসহ অনেকে।

স্মরণসভায় কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম বলেন, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ হক ছিলেন বাংলাদেশের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। তাঁর সাহিত্যচর্চা সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে ধারণ করেছে, প্রেরণা যুগিয়েছে। 

শিল্প-সাহিত্যের সকল শাখায় অবাধ বিচরণ ছিল তাঁর।   কবি বেঁচে থাকবেন আমাদের পরানের গহিন ভিতর। তিনি আরো বলেন, সৈয়দ হকের কবিতা, গল্প-উপন্যাস, নাঠক, গান স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি মননে রেখাপাত করেছে, উদ্বুদ্ধ করেছে। রবি ঠাকুরের মতো তিনিও বেঁচে থাকবেন যুগযুগ ধরে।

কাউন্সিলর মোকাম্মেল হোসেন সৈয়দ হক রচিত আমার পরিচয় কবিতাটি আবৃত্তি করেন অত্যন্ত মর্মস্পর্শী কন্ঠে। কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন স্মৃতি চারণ করে বলেন, তিনিও কুড়িগ্রামের সন্তান এবং সৈয়দ হক যে হাইস্কুলে পড়ালেখা করেছেন, তিনিও সেখানে পড়ার সৌভাগ্যবান।

কর্মজীবনে কবির সান্বিধ্য পাওয়ার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, কবি ছিলেন প্রজ্ঞাবান, বন্ধুবৎসল এবং তারুণ্যে ভরপুর একজন পরিপূর্ণ মানুষ।


সমাপনী বক্তৃতায় ফজলুল কবির ভিকু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্যে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে কবিতার প্রতি, সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তুলার উপর তিনি গরুত্ব আরোপ করেন। 

জনপ্রিয় অনলাইন : কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে   দিয়ে বলেছেন, হামলাকারী বদরুল যে দলেরই হোক না কেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে সুস্থ করে তুলতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দিতে সিলেট আসেন।
ঢাকা থেকে বিমানযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সোমবার বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসের (২৩) ওপর হামলা চালায় শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল আলম।
এসময় সে চাপাতি দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপুরি কোপাতে থাকে। এতে খাদিজার মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করে সেলাই দেয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার ভোরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে।
সেখানে আরেকদফা খাদিজার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তার অবস্থা এখনও আশংকাজনক।

এদিকে ঘটনার সময় হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। সে বর্তমানে পুলিলি প্রহরায় ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। বদরুল ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে এবং খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ আউশা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে।

জনপ্রিয় অনলাইন : যেকোনো সময় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের একটি বিমান ঘাঁটি প্রস্তুত রেখেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। কলকাতাভিত্তিক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ খবর জানিয়েছে।


খবরে বলা হয়, স্থলে এবং আকাশপথে যাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ করা যায় সে কারণে সব বিমানঘাঁটিকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান বিমানবাহিনীর ঘাঁটি পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা এয়ারফোর্সকে।গোটা ভারতের কাছে ফাইটার পাইলট তৈরির আঁতুড়ঘর হিসাবে পরিচিত এই ঘাঁটি। কলাইকুণ্ডা এওসি রাজেশ পুরোহিত সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সোমবার সেই প্রস্তুতিই প্রাথমিকভাবে সেরে ফেলে এই ঘাঁটির দায়িত্বে থাকা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা। গতকাল দুপুরে বেশ কয়েকটি হক ফাইটার জেট একসঙ্গে যুদ্ধের মহড়া চালায়। রাজেশ পুরোহিত আরো জানিয়েছেন, বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তি এই ফাইটার জেট হক। এই বোমারু বিমানের মধ্যে উন্নত মিসাইল মোতায়েন রাখা হয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে এবং অবস্থায় এই বোমারু বিমান দিয়ে শত্রুপক্ষের উপর হামলা চালাতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যেকোনো যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাজ্যের এই ঘাঁটি প্রচণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৫ সালে এই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। ৭১-র যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল কলাইকুণ্ডা বিমান ঘাঁটি। কার্গিল যুদ্ধেও গুজরাত উপকূলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এই বায়ুসেনা ঘাঁটিকেই। একদিকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ, আরেকদিক প্রশিক্ষণ। দুই দিক থেকে সমান পারদর্শী কলাইকুণ্ডা। এখানে তিন ধাপে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ফাইটার পাইলটদের। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলাইকুণ্ডা বিমান ঘাঁটি তৈরি করেছিল ব্রিটিশরা।

জনপ্রিয় অনলাইন : সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার হামলার শিকার ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের অবস্থা সংকটাপন্ন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার শেষে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, খাদিজার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখন বলার মতো কিছু নেই। ৭২ ঘণ্টা পার হলে তবেই বলা যাবে।
হাসপাতালে খাদিজা বেগম
গতকাল সোমবার বিকেলে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজার ওপর হামলা চালান শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। হামলার পর আহত ছাত্রীকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আজ দুপুরে তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিকেলে স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জারির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক রেজাউস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, খাদিজাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এরপর তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালের দায়িত্বরত এক চিকিৎসক প্রথম আলোকে জানান, ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত ছাত্রীর সারা শরীরে কোপের দাগ। মাথার আঘাত গুরুতর। তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
সিলেটের এমসি কলেজে পরীক্ষা দিতে আসা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তারের ওপর হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দস। ছবিটি গতকাল সোমবার রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তোলা। 
গতকাল বিকেলে খাদিজা সিলেট এমসি কলেজের পরীক্ষা হলো থেকে বের হওয়ার পথে চাপাতি দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করেন বদরুল। প্রথমে খাদিজাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচার শেষে গতকাল রাতে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জারির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক রেজাউস সাত্তারের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন।
ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মীকে স্কয়ার হাসপাতালে ঢুকতে দেখা গেছে। বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বদরুল ছাত্রলীগের কেউ নয়।
জানা গেছে, খাদিজাকে কোপানোর পর তাঁর সহপাঠীসহ স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সহসম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মীকে আজ মঙ্গলবার স্কয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা যায়। 
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান সৈয়দ হাসানুজ্জামান শ্যামল জানান, বদরুল এ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল মুন্সি জানান, হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন আটক বদরুল। খাদিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি হামলা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

সিলেট : এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিস (২২) শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বখাটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক বদরুল ইসলাম দারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয় গুরুতর আহত করে।

যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কখন কাম্যনয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (সিলেট বিভাগ) সহ-সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সহ-সাধারন সম্পাদক আহমদ চৌধুরী ফয়েজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম নাচন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল বলেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ অবস্থার মধ্যে পার করছে তা এই ঘটনা প্রমাণ করে। প্রকাশ্যে একজন ছাত্রীকে এভাবে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত ন্যক্কার জনক। নেতৃবৃন্দ বলেন ঘটনাকে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত না করে বখাটে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থ নিন।

জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক : সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কোপানোর আগে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। সোমবার বেলা ৩টা ২১ মিনিটে ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষগুলোর কাছে আমি সবিনয়ে ক্ষমা প্রার্থী।

এই স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘণ্টা দেড়েক পরই এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের পুকুর পাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে খাদিজা আক্তার নার্গিসকে। ওই সময়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বের হয় খাদিজা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মঙ্গলবার ভোরে তাকে ঢাকায় এনে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বদরুল আলমকে আটক করে গণধোলাই দেয় শিক্ষার্থীরা।
হামলাকারী বদরুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার চেচানবাজারের সোনাইগাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। ছাতকের নূতন বাজার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়। ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে অনার্স শেষ করে। সে শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাবির এক ছাত্র জানান, বদরুল শাবিতে ভর্তির পর সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মাসুক মিয়ার বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে উঠে। এর আগে কলেজে থাকাকালীন সময় থেকেই খাদিজা আক্তার নার্গিসের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
দীর্ঘ ৬ বছর তারা প্রেম করে। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে ভাঙ্গন দেখা দেয়। খাদিজা আক্তার নার্গিস এড়িয়ে চলতে শুরু করে বদরুলকে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যও ছিলো। গত ২৫ আগস্ট বদরুল আলম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। এতে উল্লেখ করে, হৃদয়ের পার্লামেন্টে আজ স্পিকার নেই। মনের জনসভায় নেই কোনো বক্তা। অন্তরে হরতাল ডেকেছে বিরোধীদল। ভালবাসার ভোটকেন্দ্রে একটিমাত্র ভোট পেয়েছিলাম; তাও আবার জাল। হায়রে কপাল।’ ৩১ আগস্ট আরেকটি স্ট্যাটাসে দূরে সরে গেছ, তাতে কী/ দু’জনে এক আকাশের নিচেই তো আছি’ উল্লেখ করে সে।
এদিকে বদরুল আলম সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেকটা উগ্র মেজাজি ছিল সে। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে, বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করত। তার বিরুদ্ধাচরণ করলেই মারধোর করতো সে। বছর চারেক আগে শাবির হলে দলবল নিয়ে হামলা করে বদরুল। এ সময় সে কয়েকটি কক্ষে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এর জের ধরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি সদর উপজেলার জাঙ্গাইল এলাকায় তার উপর হামলা হয়। ওই সময় ছাত্রলীগ দাবি করেছিল, শিবির নেতাকর্মীরা বদরুলকে কুপিয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার ওসি শাহজালাল মুন্সি জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে বদরুল ও খাদিজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি খাদিজা বদরুলকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলে ৬ বছরের প্রেমে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এ কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে খাদিজাকে কোপায়।

সেলিম আলম,মাদ্রিদ : স্পেন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর মৃত্যুতে শোক সভা ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গত ২৮শে সেপ্টেম্বর মাদ্রিদে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের হল রুমে আয়োজিত শোক সভায় বক্তারা সৈয়দ শামসুলহকের জীবনী আলোচনা করে আরো বলেন,অসম্প্রদায়িক মনোভাব আর জীবন বৈচিত্রকে সহজ ভাবে তুলে আনার কারিগর সৈয়দ শামসুলহক বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। স্পেন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্তসভাপতি আব্দুল কাইয়ূম সেলিমের সভাপতিত্বেও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ শোক সভায় বক্তারা আরো বলেন, বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে জননেত্রী শেখ হাসিনাও শোকাক্রান্ত। 

তাই তাঁর জন্মদিন পালনের কর্মসূচি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্পেন আওয়ামীলীগ নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুস সাত্তার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্পেন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি দুলাল সাফা, উপদেষ্টা এ কে এম জহিরুল ইসলাম,সহ সভাপতি ফয়জুর রহমান,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান ,আয়ূব আলী সোহাগ, জসিম উদ্দিন,সায়েম সরকার ,তোতা গাজী,জসিম মাষ্টার,মাহবুবুল হক,ইফতেখার আলম,সবুজ আলম,আতাউর রহমান,মহিলা নেত্রী সামিমা আক্তার প্রমূখ। সভা শেষে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রূহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget