2016-08-14

জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা সিস্টেম চালু করেছে মালয়েশিয়া সরকার।

মঙ্গলবার (১৬ অগাস্ট) এ ভিসা চালু করে দেশটি। বাংলাদেশি নাগরিকরা ঘরে বসে এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ই-ভিসায় আবেদনকারীকে ৩০ দিনের ভ্রমণ ভিসা দেওয়া হবে। ভিসা আবেদনের জন্য প্রথমে ওয়েবসাইট থেকে সাইন আপ করতে হবে।
ই-ভিসার আবেদন করতে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, পাসপোর্টের প্রথম পাতার স্ক্যান কপি, রিটার্ন টিকেট, ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থের প্রমাণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট ইত্যাদি) এবং জন্মসনদ প্রয়োজন হবে।
আদেন প্রক্রিয়া শেষে প্রাপ্ত ভিসা কনস্যুলেট অফিসার কর্তৃক অনুমোদন করতে হবে। ভিসা অনুমোদন হলে তা প্রিন্ট করে ইমিগ্রেশনে প্রদর্শন করতে হবে।
ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে ভিসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। প্রয়োজনে ডাকা হতে পারে মালয়েশিয়া দূতাবাসে।
বাংলাদেশি ছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা ও ভারতীয় নাগরিকরাও ই-ভিসায় আবেদন করতে পারবেন।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন https://www.windowmalaysia.my/evisa/evisa.jsp ওয়েব সাইটে।


সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সংযুক্ত আরব- আমিরাত প্রবাসী সংগঠক, সাংবাদিক ও ছড়াকার লুৎফুর রহমানের পিতা বিয়ানীবাজার উপজেলার নিদনপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদ আলী (৬০) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহিৃ. রাজিইন)। শনিবার ভোর সাড়ে ৪ টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৩ পুত্র ও ২ মেয়ে সন্তানসহ আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্যগুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ ঘটিকার সময় নিদনপুর কমিউনিটি স্কুল প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে তাকে সমাহিত করা হবে।

এদিকে প্রবাসী সাংবাদিক ও ছড়াকার লুৎফুর রহমানের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও  পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মুফতি শিব্বির আহমদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম লিমা,পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলী আহমদ, লেখক ও গবেষক মোঃ ফয়জুর রহমান, যুক্তরাজ্যস্থ সংহতি পরিষদের সভাপতি ফারুক আহমদ রনি, দৈনিক সমকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আজিজুল পারভেজ, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সহকারি সচিব দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, বৃটেন প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক ফারুক যোশী, বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, বিশিষ্ট ছড়াকার লোকমান আহমদ আপন, প্যারিস-বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এনায়েত হোসেন সোহেল, কবি ও সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম অভি, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান,সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক শাবুল আহমেদ, সাপ্তাহিক বিয়ানীবাজার বার্তা সম্পাদক ছাদেক আহমদ আজাদ, দিবালোক সম্পাদক হাসান শাহরিয়ার, নবদ্বীপ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহীন আলম হৃদয়, মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি এমসিন উদ্দিন,এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি সুফিয়ান আহমদ,সকালের খবর প্রতিনিধি শিপার আহমদ,সিলেট সুরমা প্রতিনিধি মোহাম্মদ জসিমসহ দুবাই সাহিত্য সংহতি, মুকুল পরিবারসহ দেশ- বিদেশের শিক্ষা, শিল্প- সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক- সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে প্রতিপক্ষ গ্রুপের দুকর্মীর হামলায় আহত হয়েছেন ছাত্রলীগের মুলধারা গ্রুপের এক কর্মী। আহত রেদোয়ান বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সহপাঠিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেই তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। শনিবার দুপুরে সংগঠিত এই ঘটনায় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জানা যায়, উপজেলা ছাত্রলীগের মূলধারা গ্রুপের কর্মী একাদশ শ্রেণীর ছাত্র রেদোয়ানের সাথে বিবদমান পল্লব গ্রুপের কর্মী ও একই শ্রেণীর ছাত্র নাদিম আহমদের সাথে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের মূলধারা গ্রুপের কর্মী রেদোয়ানকে কলেজ ক্যাম্পাসে আকস্মিক হামলা করে পল্লব গ্রুপের কর্মী নাদিম ও তাঁর বন্ধু। আহত অবস্থায় রেদোয়ানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। সৃষ্ট এঘটনায় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে সংগঠিত ঘটনার সুষ্টু সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উভয় গ্রুপের নেতারা। এব্যাপারে পল্লব গ্রুপের নেতা বাবুল হোসেন জানান, এটি একটি অনাকাংখিত ঘটনা। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য মূলধারা গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করছি, আশা করি বিষয়টির সুষ্ট সমাধান হবে। এবিষয়ে মুলধারা গ্রুপের নেতা জাফর আহমদ বলেন, পল্লব গ্রুপের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। অচিরেই এই ঘটনার সমাধান হবে।
যোগাযোগ করা হলে বিয়ানীবাজার থানার উপপরিদর্শক দেবাশীষ শর্মা জানান, কলেজের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 


সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তি নয়াগ্রাম এলাকা দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশকারী এক মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তিকে আটকের পর বিয়ানীবাজারে অবস্থিত বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। শুক্রবার বিকেলে উভয় দেশের সীমন্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা স্বাপেক্ষে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আটক মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার ফাতেহাবাদ গ্রামের বিমল চন্দ্র মজুমদারের পুত্র রিপন চন্দ্র মজুমদার।  পরে বিজিবি বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের মাধ্যমে ধৃত ব্যক্তিকে শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নয়াগ্রাম এলাকা দিয়ে রিপন চন্দ্র মজুমদার শুক্রবার সকালে ভারতে প্রেেবশের চেষ্টা করে। এসময় ১৩৩ বিএসএফ লাতু ক্যাম্পের টহল দল তাকে আটক করে নিয়ে যায়। বিষয়টি বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নকে জানায় বিএসএফ। এসময় বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ নেয়ামুল কবির আটক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে  ফেরত পাঠানোর জন্য বিএসএফ,র সাথে আলোচনা করলে তাঁরা আটক ব্যক্তিকে ফেরত পাঠাতে রাজি  হয়। একই দিন বিকেল ৪টার দিকে নয়াগ্রাম ক্যাম্পে বিজিবির কাছে আটক ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বিএসএফ। হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আটক রিপনকে বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি এবং  থানার মাধ্যমে তাঁর বাড়িতে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে রিপনের ছোট ভাই রুবেল মজুমদার বিয়ানীবাজার থানায় এসে তাঁর ভাইকে চিহ্নিত করে। এরপর সকাল সাড়ে ১১ টায় বিয়ানীবাজার থানা কম্পাউন্ডে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজ পরিবারের হাতে তুলে দেয় রিপন মজুমদারকে। এসময় উপস্থিত ছিলেন,বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী,বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের নায়েক সুবেদার হারুন অর রশিদ,হাবিলদার মোস্তাফিজুর রহমান,নায়েক রুহুল আমিন ও জিতেন্দ্র, ল্যান্স নায়েক জাকির হোসেন প্রমুখ।
এব্যাপারে উদ্ধার হওয়া রিপন চন্দ্র মজুমদারের ভাই রুবেল চন্দ্র মজুমদার জানান, আমার ভাই রিপন মানসিক বিকারগ্রস্ত। ব্রেনের সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তারপর কিছু দিন গেলে তিনি আবার ফিরে আসেন। কিন্তু গত ১মাস পূর্বে তিনি বাড়ি থেকে বের হলে তাকে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে আমরা তাঁর আশা ছেড়ে দেই। অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজার থানা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার ভাইকে থানায় আটক করা হয়েছে মর্মে আমাদেরকে জানানো হলে আমি আমার ভাইকে নিতে এসেছি।

আব্দুস সামাদ আজাদ,প্যারিস-ফ্রান্স থেকে: বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ফ্রান্সের প্যারিসে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৭২ তম জন্মদিনে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদ ফ্রান্স । 

সংগঠনের সভানেত্রী শামীমা আক্তার রুবীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল রুবেলের পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদের উপদেষ্টা ডঃ কামরুল হাসান,সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান,সহ সভাপতি আব্দুল করিম মাষ্টার, সহ সভাপতি কাকন খান সজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আকাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক আব্দুল লতিফ টিপু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দুলাল, দপ্তর সম্পাদক লাবনী হোসেন, অর্থ সম্পাদক প্রফেসর তাসলিমা আক্তার, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এমরান হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মেহেরা বেগম, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইকরামুল হক, সমন্বয়কারী বিষয়ক সম্পাদক পলাশ সরকার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাজরিন নাহার, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বাবুল, তানিয়া খানম, আলামিন সরকার,মো ইলিয়াছ সরকার, রুবেল, আজিম, আবু তাহের, এস আলম,মহিন উদ্দিন, আইন উদ্দিন,আশরাফ, মো লিটন, প্রমুখ ।
আলোচনা সভায় বক্তারা গনতন্ত্রের সংগ্রামে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় । এসময় সংগঠনের সভানেত্রী সহ বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার আভির্ভাবের ছোঁয়া লেগেছিল বলেই বাংলা অভিধানে আপোষহীন শব্দটির সার্থক হয়েছে, তাহার পদচারনা ছিল বলেই গণতন্ত্রের জন্ম হয়েছিল, খালেদা জিয়া আছেন বলেই জাতীয়তাবাদী শক্তির পাল এতো গতিশীল ও শক্তিশালী, তিনি আছেন বলেই মানুষ আজো গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে । পরিশেষে কেক কেটে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করেন নেতৃবৃন্দরা ।

সিরাজুল ইসলাম,তেহরান : ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান শহরের নোজেহ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে রাশিয়ার কয়েকটি টিইউ-২২এম৩ দূর পাল্লার বোমারু বিমান এবং এসইউ-৩৪ ফ্রন্টলাইনার বোমারু বিমান সিরিয়ায় সহিংসতায় লিপ্ত উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস এবং জাবহাত ফাতেহ আশ-শাম বা নুসরা ফ্রন্টের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার সর্বপ্রথম এক বিবৃতিতে এ খবর দেয়া হয়।

রুশ মন্ত্রণালয় ওই বিবৃতিতে বলেছে, ১৬ আগস্ট টিইউ-২২এম৩ এবং এসইউ-৩৪ বোমারু বিমান ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান বিমানঘাঁটি থেকে বোমা ভর্তি করে নিয়ে সিরিয়ার দেইর-আজ জোর ও ইদলিব প্রদেশে আইএস এবং জাবহাত ফাতেহ আশ-শামের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
বিবৃতি অনুসারে, রুশ বিমান হামলায় কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ও জ্বালানি ডিপো ধ্বংস হয়েছে। বিমান অভিযানের সময় বহুসংখ্যক সন্ত্রাসীও নিহত হয়
রাশিয়ার এই বিবৃতির পর প্রায় পুরো বিশ্ব নড়েচড়ে বসে। শুরু হয় নানা ধরনের খবর প্রচার। কেউ বলছেন- রাশিয়াকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে ইরান। কেউ বলছেন, ইরানে রাশিয়ার স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে। কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব লঙ্ঘন হয়েছে। আবার কেউ কেউ ইরানের সংবিধান লঙ্ঘনের দোহাই দিচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে- আসলে কী হয়েছে?
রুশ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, ইরান ও রাশিয়া কৌশলগত সহযোগিতায় জড়িত। এছাড়া, দু দেশ সিরিয়ায় সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা বিনিময় করছে। আলী শামখানি জোর দিয়ে বলেন- ইরান, রাশিয়া ও সিরিয়ার মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা সন্ত্রাসীদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে; এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ইরানের আরো প্রতিক্রিয়া: ইরানের ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক সম্পর্কে দেশটির জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. আলী লারিজানি। তিনি বলেছেন, তার দেশে রাশিয়ার বা অন্য কোনো দেশের স্থায়ী ঘাঁটি নেই; দেশের সংবিধান অনুযায়ী কোনো বিদেশি শক্তিকে ইরান বিমানঘাঁটি দিয়েও দেয় নি।
বুধবার সকালে ইরানের জাতীয় সংসদের উন্মুক্ত অধিবেশনে মস্কোর সঙ্গে তেহরানের কৌশলগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেছেন, সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের যে সম্পর্ক রয়েছে তার অর্থ এই নয় যে, ইরান একটি সামরিক ঘাঁটি রাশিয়ার কাছে দিয়ে দেবে। ইরানের ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বের হওয়া অতিরঞ্জিত খবরকেও নাকচ করে দেন স্পিকার লারিজানি।
রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের কৌশলগত সম্পর্ক ও গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ ও আমেরিকার সমর্থনে এ অঞ্চলে যে সংকট তৈরি হয়েছে সে কারণে ইরান অনেকটা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। ড. লারিজানি সুস্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সংবিধানের ১৪৬ নং ধারা অনুযায়ী দেশের ভেতরে কোনো বিদেশি শক্তির উপস্থিতি নিষিদ্ধ এবং এটি বলা নিষ্প্রয়োজন যে, ইরান কোনো বিমানঘাঁটি কোনো দেশকে দিয়েও দেয় নি।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান আলাউদ্দিন বোরেুজেরদি জানিয়েছেন, ইরানের অনুমতি নিয়েই হামেদানের নোজেহ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে রাশিয়া। তিনি জানান, রিফুয়েলিংয়ের জন্য হামেদানের নোজেহ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে রুশ বিমান এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন দিয়েছিল। আলাউদ্দিন বোরুজেরদি বলেন, সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে রাশিয়া, ইরাক ও সিরিয়ার সঙ্গে ইরান যে সহযোগিতা করে যাচ্ছে তার অংশ হিসেবে রাশিয়াকে বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের এ সিদ্ধান্ত মোটেই দেশের সংবিধান পরিপন্থি নয়, কারণ রাশিয়ার কোনো বিমান ইরানের কোনো ঘাঁটিতে মোতায়েন করতে দেয়া হয় নি।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া: সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলার জন্য রুশ বিমানের ইরানি ঘাঁটি ব্যবহার করাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার মঙ্গলবার বলেছেন, এ ঘটনা দুঃখজনক হলেও বিস্ময়কর নয়। ইরানি বিমানঘাঁটি ব্যবহারের ঘটনা এবং সিরিয়া সহিংসতায় ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আমেরিকা এখনো পর্যালোচনা করছে বলে জানান তিনি।
রাশিয়া বলেছে, সিরিয়ার সহিংসতা নিয়ে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে যে সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে তারই আওতায় ইরানি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ সম্পর্কে মার্ক টোনার বলেন, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই সম্পর্কে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে যে চুক্তি হতে যাচ্ছে, রুশ বিমানের ইরানি ঘাঁটি ব্যবহার সে পথে বাধা সৃষ্টি করবে না।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান: ইরানের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন দিয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বুধবার বলেছেন, রাশিয়ার এ পদক্ষেপের কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করা হয় নি। নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ সংস্থার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কাছে যুদ্ধবিমান সরবরাহ, বিক্রি কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না।
ল্যাভরভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা ইরানের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রি, সরবরাহ কিংবা হস্তান্তর নিয়ে কথা বলছি না। আমরা কথা বলছি ইরানের বিমানঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে। সিরিয়ার সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের জন্য ইরানের অনুমতি নিয়েই দেশটির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে রুশ বিমান।
সিরিয়ায় তৎপর উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দামেস্ক সরকারকে সহযোগিতা করছে ইরান ও রাশিয়া। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে, সিরিয়া সংকটের শুরু থেকে বাশার আল-আসাদের সরকারকে সামরিক পরামর্শ দিয়ে আসছে ইরান। এ পর্যায়ে রাশিয়ার বিমানকে ইরানের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়ার মাধ্যমে এ লড়াই নতুন মোড় নিল বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানি বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের খবর বের হওয়ার পরপরই চীন বলেছে, সিরিয়ার সেনাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেবে তারা। এছাড়া, ইরাকের আকাশসীমা রাশিয়াকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে বলে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি ঘোষণা দিয়েছেন।
সুত্র : পূর্ব পশ্চিম ।



সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ যথাযোগ্য মর্যাদায় বিয়ানীবাজারে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক নানকার (কৃষক বিদ্রোহ) দিবস। অধিকার আদায়ের চেতনাদ্বীপ্ত প্রতীক হিসেবে ১৯৪৯ সালের ১৮ই আগষ্ট থেকে বিয়ানীবাজারের পালিত হয়ে আসছে দিনটি। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নানা আয়োজনে পালিত হয় নানকার বিদ্রোহ দিবস। নানকার বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষ্যে বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হাতে নেয় নানা অনুষ্টানমালা। এসব আয়োজনের মধ্যে ছিলো,পুষ্পাজ্ঞ অর্পন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান।

এদিকে নানকার বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলার তিলপারা ইউনিয়নের সানেশ্বর-উলুউরি গ্রামের মধ্যবর্তি নানকার স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড, নানকার স্মৃতিসৌধ রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি, উলুউরি উন্নয়নমুখি যুব সংঘ, সানেশ্বর নানকার স্মৃতি সংঘ উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টি, যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়নসহ সানেস্বর উলুউরি গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ বছর পালন হলো নানকার বিদ্রোহের ৬৭ তম দিবস। বিকেলে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড এর আয়োজনে বিদ্রোহস্থলে মঞ্চস্থ হয় নানকার বিদ্রোহ নিয়ে নির্মিত নাটক হদ বেগারী ও আলোচনা সভা। বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন জাবেদর পরিচালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খাঁন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৮ আগস্ট ঐতিহাসিক নানকার (কৃষক বিদ্রোহ) দিবস। ১৯৪৯ সালের এই দিনে মানব সভ্যতার ইতিহাসে জন্ম নিয়েছিল এক নির্মম ইতিহাস। ১৯৩৭ সালের ঘৃণ্য নানকার প্রথা রদ ও জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে ওইদিন  বিয়ানীবাজার উপজেলার সানেশ্বর উলুউরি গ্রামের সুনাই নদীর তীরে পাকিস্থান ইপিআরের ছোড়া গুলিতে প্রাণ দেন ব্রজনাথ দাস (৫০), কুটুমনি দাস (৪৭), প্রসন্ন কুমার দাস (৫০), পবিত্র কুমার দাস (৪৫) ও অমুল্য কুমার দাস (১৭) নামের পাঁচজন কৃষক। উর্দু-ফার্সি শব্দ নান-এর বাংলা প্রতি শব্দ রুটি। আর রুটি বা ভাতের বিনিময়ে যারা কাজ করতেন তাদেরকে বলা হতো নানকার প্রজা। তাই নানকার আন্দোলন নামেই এটি দেশবাসীর কাছে পরিচিত।
১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্টের প্রায় ১৫ দিন আগে সানেশ্বরে সুনাই নদীর বুকে জমিদারের লাঠিয়ালদের হাতে শহিদ হন রজনী দাস। এ নিয়ে নানকার আন্দোলনে মোট শহিদের সংখ্যা হয় ছয়জন। তাদের এই আত্মত্যাগের ফলেই ১৯৫০ সালে তৎকালীন পাকিস্থান সরকার জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল ও নানকার প্রথা রদ করে কৃষকদের জমির মালিকানার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। তাই বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে, বিশেষ করে অধিকারহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সকল গৌরবান্বিত আন্দোলন বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কৃষক বিদ্রোহ বা নানকার আন্দোলন।
 বৃটিশ আমলে সামন্তবাদী ব্যবস্থার সবচেয়ে নিকৃষ্ট শোষণ পদ্ধতি ছিল এই নানকার প্রথা। নানকার প্রজারা জমিদারের দেয়া বাড়ি ও সামান্য কৃষি জমি ভোগ করতেন, কিন্তু ওই জমি বা বাড়ির উপর তাদের মালিকানা ছিল না। তারা বিনা মজুরিতে জমিদার বাড়িতে বেগার খাটতো। পান থেকে চুন খসলেই তাদের উপর চলতো অমানুষিক নির্যাতন।
নানকার আন্দোলনের সংগঠক কমরেড অজয় ভট্টচার্যের দেয়া তথ্যমতে, সে সময় বৃহত্তর সিলেটের ৩০ লাখ জনসংখ্যার ১০ ভাগ ছিল নানকার এবং নানকার প্রথা মূলত বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ বৃহত্তর সিলেট জেলায় চালু ছিল। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় নানকার আন্দোলন গড়ে ওঠে।
ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহের সুতিকাগার ছিল বিয়ানীবাজার উপজেলা। সামন্তবাদী শোষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার অঞ্চলের নানকার কৃষকরা সর্বপ্রথম বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৯০ সালে নানকার আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে সুনাই নদীর তীরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনগণের দেয়া জমিতে স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন নানকার স্মৃতি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সে সময় স্মৃতিসৌধ পূর্ণতা না পেলেও দীর্ঘ ৬০ বছর পর ২১ আগস্ট ২০০৯ সালে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের উদ্যোগে স্থানীয় ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় নির্মিত স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।


জহুর উল হক,  লিসবন প্রতিনিধি : পর্তুগাল আওয়ামীলীগ কর্তৃক আয়োজিত আজ ১৮ই আগষ্ট বৃহস্পতি বার রাত ৯ ঘটিকায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান এর পরিচালনায় ও সংগঠনের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম এর সভাপতিত্বে পর্তুগালের রাজধানী  লিসবনের বাঙগালী অধ্যুসিত এলাকা ২৪৪ নং রুয়া দা বেনফোরমোস এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরর ৪১ তম শাহাদত বার্ষিকী ও ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় ।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি ছিলেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব এম এ গনি, বিশেষ অতিথি উপস্থিতি ছিলেন অধ্যাপক আবুল হাসেম সহ সভাপতি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, জনাব শামীম হক-যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ, জনাব রাফিক উল্লাহ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পর্তুগাল আওয়ামী লীগ । 

সভার শুরুতেই কোরান তেলোয়াত করেনআইয়ুব আলী খাঁন এবং ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয় । আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দেলোয়ার হোসেন  আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও পর্তুগাল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আইয়ুব আলী খাঁন এবং ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয় । আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দেলোয়ার হোসেন  বক্তাগন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন 

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে আরও উপস্তিত ছিলেন সর্ব ইউরোপিয়ানের নেতৃবৃন্দ, সাইপ্রাস আওয়ামিলীগ এর সভাপতি জামাল, ডেনমার্ক আওয়ামিলীগ এর সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ বড়ুয়া, স্পেন আওয়ামিলীগ নেতা রিজভি, গ্রীস আওয়ামিলীগ নেতা মিজান  ও পর্তুগাল আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা মন্ডলির সদস্য মিয়া মাহবুব, সি: সহসভাপতি ফরহাদ মিয়া সহসভাপতি মহসিন হাবিব, এমএ খালেক, আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক  শফিকুল ইসলাস, এনামুল হক মিথুন বাদল,ইমরান, বেল্লাল, পারভেজ খান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গ সহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা ও জাতীর কল্যানে জননেত্রী শেখ হাসিনার দির্ঘায়ু কামনায় করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্টিত হয় । মোনাজাত পরিচালনা করেন  বাইতুল মোকারম জামে মসজিদের খতিব অধ্যাপক আবু সাইদ 


মাহবুবুল হক,ডেনমার্কঃ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ই আগস্ট ২০১৬ বাংলাদেশ দূতাবাস ডেনমার্ক এর উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। 

প্রত্যুষে বাংলাদেশ দূতাবাস ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত দূতাবাস চত্ত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে দিবসের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। বিকেলে দূতাবাস কর্তৃক দূতাবাস মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ডেনমার্কের হেড অব চ্যান্সারি শাকিল শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত এম আবদুল মুহিত , ডেনমার্কস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, শিল্পী , ও বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার ব্যাক্তিবর্গ সহ ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের বাবু সুভাষ ঘোষ, মাহবুবুল হক, মোস্তফা মজুমদার , মোহাম্মদ আলী মোল্লা লিঙ্কন, মাহবুবুর রহমান, সাব্বির আহমেদ , জাহিদ বাবু , নাছির উদ্দিন সারকার তাইফুর ভুঁইয়া, সাহাবুদ্দিন ভুঁইয়া, রুবেল হাসনাত, নিজান উদ্দীন, খোকন মজুমদার, মোহাম্মদ শহীদ, সাফিকুর রহমান আরিফ খালেক , নইম উদ্দিন বাবু, নুরুল ইসলাম টিটু , সামি দাস, মঞ্জুর আহমেদ, বোরহান আহমেদ, শামিম, রাসেল আহমেদ, বেলাল হোসেন রুমি , এবং গিনেজ বুকে স্থান করে নেয়া একমাত্র বাংলাদেশী ডেনমার্ক প্রবাসী চিত্র শিল্পী রুহুল আমিন কাজল অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমানের সাধীনতাত্তোর সরকারের সাড়ে তিন বছরের সাফল্যের উপর নির্মিত একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশীরা এ আলোচনা অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বক্তাগণ তাঁদের আলোচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক গুলোর উপর আলোকপাত করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর জীবনদর্শণ থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের উপর যে নির্মম ও ঘৃণিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় তার তীব্র নিন্দা জানান। রাষ্ট্রদূত জাতির পিতার স্বপ্ন ও আদর্শকে সামনে রেখে একটি অসাম্পদ্রায়িক, প্রগতিশীল এবং গনতান্ত্রিক স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন । পরিশেষে তিনি বাঙ্গালী জাতির সত্যিকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে সবাইকে যাঁর যাঁর অবস্থানে থেকে অবদান রাখার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। দূতাবাসের আয়োজনে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


বাহার উদ্দিন বকুল, জেদ্দা, সৌদি আরব :  গত ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে।

কনস্যুলেট প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আয়োজনে কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম সকাল ৮টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে তা অর্ধনমিত রাখেন।

এসময় কনস্যুলেটের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।কাউন্সিলর আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে মহামন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান,কাউন্সিলর মোঃ মোকাম্মেল হোসেন,কাউন্সিলর আলাতাফ হোসেন এবং কনসাল জাহিরুল ইসলাম।

এসব বাণীতে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অর্জন সমূহ উল্লেখসহ যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর ও তাঁর পরিবার পরিজনের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় অর্জন সমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তিনি আরো বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।

সন্ত্রাসকে কঠোর হাতে দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে, ধর্মের নামে জঙ্গী কর্মকা- রুখে দিতে স্বদেশে এবং প্রবাসে সকলকে সচেতন থাকা এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান কনসাল জেনারেল। অনুষ্ঠানে জতির জনক, তাঁর পরিবারের সদস্যগণসহ ১৫ আগষ্ট শাহাদৎ বরণকারী সকলের রূহের মাগফেরাত কমনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয় ।

শেষ পর্বে ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের স্তবক অর্পণ। অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রথমে ফুলের স্তবক অর্পণ করেন কনসাল জেনারেল ও কনস্যুলেট কর্মকর্তাবৃন্দ। অতঃপর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ জেদ্দার বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীগণ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের স্তবক অর্পণ করেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিনিধি, সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীগণসহ মক্কা-জেদ্দার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলা মিডিয়াম এবং বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইংলিশ মিডিয়াম এর পক্ষ থেকেও দিবসটি মর্যাদার সাথে পালিত হয়। উভয় স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উভয় স্কুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে তা অর্ধনমিত রাখেন। এর পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের স্তবক অর্পণসহ জতির জনক, তাঁর পরিবারের সদস্যগণসহ ১৫ আগষ্ট শাহাদৎ বরণকারী সকলের রূহের মাগফেরাত কমনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।



Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget