2016-08-07


গোলাম মাওলা রনি : পৃথিবীর তাবৎ ধর্মমতগুলোতে রাজা-বাদশাহ, সম্রাট এবং শাহেনশাহদের বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আধুনিক গণতন্ত্রেও রাজা সম্পর্কে বলা হয়েছে- রাজা কখনো ভুল করতে পারে না। অর্থাৎ রাজা সর্বদা সত্য বলবেন, সত্য পথ অনুসরণ করবেন এবং তার মন-মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ স্তর ব্যবহার করে বিবেকবুদ্ধি এবং জ্ঞান অর্থাৎ হেকমত দিয়ে জনস্বার্থে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের আগে তার আমির-ওমরাহ, মন্ত্রী-কোতোয়াল, সভাসদ এবং সেনাপতিদের সাথে পরামর্শক্রমে নিজের নেয়া সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবেন। পৃথিবীর সর্বকালের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, নীতিবিজ্ঞান, মহামানবের নীতিবাক্য এবং ঐশী নির্দেশনা রাজার কর্ম সম্পর্কে এমনটিই বলে থাকে; কিন্তু বাস্তবে বেশির ভাগ রাজা ওসব নীতিবাক্য মানা তো দূরের কথা, উল্টো এমন সব অদ্ভুত কর্মকাণ্ড করে বেড়ান, যার ক্ষত বহন করতে হয় পুরো দেশ, জাতি ও মহাকালের ইতিহাসকে।
রাজার সব সময়ই কিছু রাজসিক বৈশিষ্ট্য থাকে। পাহাড়, পর্বত, নদী, সমুদ্র, মহাসমুদ্র, গাছপালা, পশু, পাখি, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি সব ক্ষেত্রেই প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে রাজা রয়েছে। আল্লাহর তাবৎ মাখলুকাত অর্থাৎ সব সৃষ্টিকুলের মধ্যে কাউকে না কাউকে আলাদা এবং স্বতন্ত্র রাজসিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। হিমালয়-আল্পস যেমন পৃথিবীর সব পাহাড়-পর্বত থেকে আকার-আকৃতি ও বৈশিষ্ট্যে রাজার অবস্থানে রয়েছে তেমনি নীলনদ, ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে অন্য কোনো নদী-সাগর এবং মহাসাগরের তুলনা চলে না। বটবৃক্ষ, বাঘ, সিংহ প্রকৃতির রাজসিকতার নমুনা। তেমনি চন্দ্র-সূর্য ছাড়াও অনেক তারকাকে আমরা চিনি ও জানি কেবল এদের অনুপম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বিভাময়তার জন্য।
প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির মতো মানবকুলের মধ্যে যারা রাজা হবেন বলে আসমানি ফায়সালা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যক্তির মধ্যে রাজার যাবতীয় গুণাবলি জন্মলগ্ন থেকেই প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। যারা ভুবনবিখ্যাত ও ইতিহাসের অমর মহানায়ক হবেন, তাদের রাজকীয় লক্ষণ মাতৃগর্ভে অবস্থানকালীন সময়ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মহাবীর আলেকজান্ডারের জন্মের আগে তার মাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল। একই রূপে মহামতি সাইরাস, রাজা কৃষ্ণ, সম্রাট আকবর, জুলিয়াস সিজার, নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মতো মহানায়কেরা মাতৃগর্ভে থাকার সময়ে তাদের পরিবারে এমন সব অতি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল; যাতে তাদের ভবিষ্যৎ রাজা হওয়ার লক্ষণগুলো ফুটে উঠেছিল। হজরত ইউসুফ আ:-এর শৈশবকাল এবং স্বপ্ন, হজরত মুসা আ: জন্মপূর্ব ভবিষ্যদ্বাণী এবং জন্মপরবর্তী অলৌকিক ঘটনা, হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর জন্মপূর্ববর্তী ঘটনা, মাতৃগর্ভে থাকাকালীন ঘটনা এবং শৈশবের বহু ঘটনার মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে ঐশী সিদ্ধান্ত পৃথিবীবাসীর কাছে স্পষ্ট করা হয়েছিল।
রাজার শারীরিক বৈশিষ্ট্য সব সময়ই অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। তার চোখ, মুখমণ্ডল ও শরীরের গঠন দেখে লাখো মানুষের মধ্য থেকে যে কেউ তাকে আলাদা করতে পারবেন। আজো যদি কেউ সম্রাট আকবর, সম্রাট আরোঙ্গজেব কিংবা বাদশাহ হারুন-আর-রশিদের কোনো ছবির দিকে মুহূর্তের জন্যও তাকান, তবে মনের অজান্তে এক মুহূর্তের মধ্যে দর্শকের মনোজগতে প্রকৃতির রাজসিক সম্ভ্রমের বিদ্যুৎ চমকিত হয়ে যাবে। রাজার শারীরিক সক্ষমতা, যুদ্ধ করার উদ্যমতা, কর্মের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, দূরদর্শী চিন্তা ও উৎপাদনশীল পরিকল্পনাগুলো অন্য কারো সাথে তুলনীয় নয়। তেমনি তার বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা, মানুষকে ভালোবাসা এবং আপন করে নেয়ার অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে তিনি জমিনে অমরত্ব লাভ করেন। তিনি কারো ক্ষতির চিন্তা করেন না। ক্রোধের কারণে তার ভুল হয়। মাঝে মধ্যে ভুলের পরিমাণ এত বড় হয়ে যায় যে, হাজার বছরের মানবসৃষ্ট সভ্যতাগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। মহামতি আলেকজান্ডার যখন পারস্য অভিযান করেছিলেন, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন সাম্রাজ্য ছিল সেটি। পারস্যরাজ তৃতীয় দারায়ুস ছিলেন তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভূখণ্ডের শাসক এবং সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনী এবং ধনভাণ্ডারের অধিকর্তা। রজাধানী পার্সিপোলিসের জাঁকজমক, ঐতিহ্য, আধুনিকতা ও জৌলুশের সাথে তুলনা করা যায়, এমন কোনো মহানগরী তৎকালীন দুনিয়ায় তো ছিলই না, বরং পরবর্তী হাজার বছরের মধ্যেও এমন সুন্দর ও সমৃদ্ধ কোনো রাজধানী পৃথিবীর কোনো মহারাজ নির্মাণ করতে পারেননি।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সম্রাট আলেকজান্ডার পার্সিপোলিস দখল করার পর সেখানে বিজয় উৎসব শুরু করেন এবং উৎসবের রাতে মাতাল অবস্থায় জনৈক মহিলার প্ররোচনায় রাজধানীতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দান করেন। সকালবেলা সম্রাট যখন নেশামুক্ত হয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন তখন হাজার বছরের পুরনো রাজধানীতে বসবাসের উপযোগী একটি অট্টালিকাও অবশিষ্ট ছিল না। তিনি যেমন পার্সিপোলিস ধ্বংস করেছিলেন, তেমনি মিসরের সুবিখ্যাত নগরী আলেকজান্দ্রিয়ার পতন ঘটিয়েছিলেন। শুধু আলেকজান্ডার নয়- তার সমপর্যায়ের আরো অনেক সম্রাট ক্রোধের বশে বহু নগর, মহানগর সভ্যতা ধ্বংস করেছেন বটে, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় তারা কোনো দিন মানবের অকল্যাণ তো দূরের কথা- অকল্যাণের চিন্তাও করেননি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আলেকজান্ডারের মতো মহান শাসকেরা সব সময় নিজেদের ক্রোধের মাধ্যমে সাধিত ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে পরবর্তী জীবনে বহুবার অনুশোচনা করেছেন এবং নিজেদের সেই কর্মকে পাপ ও অন্যায় আখ্যা দিয়ে আত্মসংশোধনের চেষ্টা করে গিয়েছেন।
আধুনিককালের একটি প্রবাদবাক্য হলো- সব মহামানবই একই প্রক্রিয়ায় চিন্তা করেন। রাজাদের ক্ষেত্রে এই প্রবাদবাক্যটি একটু বেশিই প্রযোজ্য। পৃথিবীর সব মহান শাসক জনকল্যাণে হাজার বছরের ব্যবধানে প্রায় একই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। পাঠকেরা শুনে অবাক হবেন, সম্রাট আকবরই সর্বপ্রথম আমাদের সুন্দরবনের আয়তন, জীববৈচিত্র্য ও বৃক্ষরাজি নিয়ে রাজকীয় জরিপ সম্পাদন করেছিলেন। তাকে অনুকরণ ও অনুসরণ করে প্রায় তিন শ
বছর পর ব্রিটিশরা আবারো সুন্দরবনের জরিপকাজ সমাধা করেন। পাক-ভারতের ভূমি জরিপ এবং ভূমির উর্বরতা অনুসারে কর নির্ধারণের নীতিমালা পৃথিবীতে সবার আগে চালু করেছিলেন সম্রাট আকবর। সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমল উদ্ভাবিত ভূমি জরিপ এবং ভূমি কর ব্যবস্থা আজ অবধি সারা দুনিয়ায় বলতে গেলে হুবহু অনুসরণ করা হচ্ছে।
জনকল্যাণে মহান রাজাদের সমচিন্তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হলো সুয়েজ খাল। ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে সংযোগকারী খালটি সর্বপ্রথম খনন করান মিসরের বিখ্যাত ফেরাউন দ্বিতীয় নিকো আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে। কালের বিবর্তনে খালটি মরুভূমির মরুঝড় দ্বারা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই ঘটনার চার শ
বছর পর পারস্য সম্রাট প্রথম দারায়ুস আবার সুয়েজ খাল খনন করেন, যা কিনা পরবর্তী ৫০-৬০ বছরের মধ্যে আবারো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। প্রথম দারায়ুসের মৃত্যুর প্রায় এগার শ বছর পর মুসলিম খলিফা হজরত উমর রা: তৃতীয়বারের মতো সুয়েজ খাল খনন করিয়েছিলেন, যা প্রায় এক শ বছর ধরে দৃশ্যমান ছিল। পরবর্তী সময়ে মিসরের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান মোহাম্মদ আলী পাশা সুয়েজ খালটিকে বর্তমান অবয়বে খনন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
মহৎ মানুষেরা যেমন সব সময় একই কায়দায় চিন্তা করেন তেমনি শয়তান, দুষ্ট ও দুর্বৃত্তরাও একই কায়দায় অপকর্ম করে আসছে সেই অনাদিকাল থেকে। আজকের প্রসঙ্গে আমরা সে দিকে যাবো না। কারণ ভালো ভালো উদাহরণের সাথে মন্দ ইতিহাস বর্ণনা করলে অসতর্ক অবস্থায় যেকোনো পাঠক মহামানবদের চরিত্র, কর্ম ও চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। আপনারা শুনে অবাক হবেন, প্রকৃতির মহান সৃষ্টিকুলের মধ্যে পৃথিবীর মালিক এমন এক বন্ধন সৃষ্টি করে দিয়েছেন যে, আল্লাহর উত্তম সৃষ্টিগুলো সব সময় একে অপরের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তারা একে অপরের কাছে নিজেকে মেলে ধরে- পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে, যা সচরাচর মধ্যম সৃষ্টিকুলের মধ্যে কোনো দিন ঘটতে দেখা যায় না।
পৃথিবীর সর্বকালের দুর্গম গিরিপথ হিন্দুকুশ পর্বতমালা অতিক্রম করার সুযোগ আলেকজান্ডারই পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে বহু রাজা বহুবার সসৈন্যে হিন্দুকুশ অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রকৃতির দয়ায় হিন্দুকুশ পর্বতমালা যেভাবে আলেকজান্ডারের পদতলে নিজেকে সমর্পিত করেছিল, সেভাবে সে আর দ্বিতীয়বার সমর্পিত হতে পারেনি। কারণ প্রকৃতি কোনো দ্বিতীয় আলেকজান্ডার পয়দা করেনি। অনুরূপভাবে তুষারাবৃত ভয়ঙ্কর দুর্গম আল্পস পর্বতমালা সসৈন্যে অতিক্রম করার দুর্লভ সুযোগ পেয়েছিলেন মহাকালের দুই মহামানব। প্রথমজন হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অন্যতম বীর সেনাপতি মহাবীর হানিবল এবং দ্বিতীয়জন হলেন বিস্ময়কর সামরিক প্রতিভাধর মহাবীর নেপোলিয়ান বোনাপার্ট। পাহাড়-পর্বতের মতো সমুদ্রের রাজা-বাদশাহরাও সব সময় তাদের মতো উন্নত শ্রেণীর মানুষজনের জন্য নিজেদের উত্তাল বক্ষ শান্ত করে দিয়েছিলেন। কলম্বাসের মতো মহানায়ক যেমন আটলান্টিক পাড়ি দিতে পেরেছিলেন, তেমনি ম্যাগিলান, ভাস্কো-দা-গামার মতো নাবিকেরা প্রকৃতির অবারিত সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার মাধ্যমেই নিজেদের কীর্তিকে অমর করার সুযোগ লাভ করেছিলেন।
প্রকৃতির দয়াপ্রাপ্ত রাজা-বাদশাহরা কোনো দিন প্রকৃতির অন্য কোনো শ্রেষ্ঠতর প্রাণী অথবা সৃষ্টিকুল দ্বারা আক্রান্ত হননি। কোনো মহান শাসক বাঘ-সিংহ থেকে যেমন আক্রান্ত হননি- তেমনি সমুদ্রেও তাদের সলিল সমাধি হয়নি। রাজারা কোনো দিন বড় বৃক্ষ নিধন করেন না- এবং বাঘ-সিংহ নিধনে নিজেদের বীরত্ব জাহির করেন না। সমুদ্র কোনো দিন পাহাড়কে নিমজ্জিত করেনি কিংবা নদী-সমুদ্রের ভাঙনে পাহাড় ধ্বংস হয়নি। আকাশের বজ্রপাত বটবৃক্ষকে আক্রমণ করে না তেমনি সাহারার প্রবল বালুঝড় কোনো পাহাড়কে আচ্ছাদিত করতে পারেনি বা কোনো দিন চেষ্টাও করেনি। সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা যেমন তুলনামূলক বেশি থাকে- তেমনি পাহাড় যত উঁচু ও বৃহৎ হবে তার মাথা তত ঠাণ্ডা থাকবে।
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে সব ভালো মানুষ কখনো নিজেরা পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-ফাসাদে জড়িয়ে পড়ে না। মহানায়কেরা প্রায় সবাই সমসাময়িককালের হয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সমঝোতা ও প্রীতিময় সম্পর্ক বহাল থাকে। সময়ের প্রয়োজনে অনেক মহামানব একজন অন্য জন্যের সাথে যুদ্ধ করেছেন বটে- কিন্তু কোনো দিন ভালোমানুষির সীমাটুকু অতিক্রম করেননি। আলেকজান্ডারের সময়কালে যেসব মহান শাসক দুনিয়ার বড় বড় সাম্রাজ্য শাসন করছিলেন, তাদের কারো সাথেই তার যুদ্ধ হয়নি। ভারতের নন্দ বংশ, চীনের শাসকবৃন্দ, উত্তর আফ্রিকা ছাড়াও পশ্চিম ইউরোপে তিনি অভিযান পরিচালনা করেননি। ইতিহাসের প্রায় কাছাকাছি সময়ে আলেকজান্ডার, অ্যারিস্টটল, পোন্টা সক্রেটিস, হিরোডোটাস, সাফাক্লিস প্রমুখেরা পৃথিবীতে ছিলেন। এমনতরো আরো বহু উদাহরণ ইতিহাস থেকে দেয়া যাবে।
বাদশাহ হারুন-আর-রশিদ, সম্রাট সার্লিমেন সমসাময়িক ছিলেন। তুর্কি সুলতান সুলেমান, ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী প্রথম এলিজাবেথ, মোগল সম্রাট আকবর ও পারস্য সম্রাট শাহ তামসনও ছিলেন সমসাময়িক। মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ডেভিড লয়েড জর্জ, উইনস্টন চার্চিল প্রমুখেরা যেমন সমসাময়িক ছিলেন তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মার্শাল টিটো, জন এফ কেনেডি, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, ইয়াসির আরাফাত, গামাল আবদেল নাসের, বাদশাহ ফায়সাল প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের কর্মযুগও ছিল প্রায় সমসাময়িক।
এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, প্রকৃতির মন্দ প্রাণীগুলোও কিন্তু একই সাথে জন্ম নেয় এবং একজন অন্যজনের সাথে পাল্লা দিয়ে দুনিয়ায় তাণ্ডব চালায়। তারা কখনো পরস্পর যুক্তি করে ধ্বংসলীলা চালায়- আবার মন্দলোকের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতেও পৃথিবীতে বহুমাত্রিক ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়। এখন যদি প্রশ্ন করা হয়- কেন এমনটি হয়! সে ক্ষেত্রে প্রকৃতির কার্যকারণ নিয়ে বহু গবেষক তাদের গবেষণাপত্র পৃথিবীতে রেখে গিয়েছেন। আপনার জানার আগ্রহ প্রবল হলে সেসব অমূল্য গবেষণা খুঁজে পেতে একটুও কষ্ট করতে হবে না- হাত বাড়ালেই পেয়ে যাবেন একদম নাগালের মধ্যে।


জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি কারিকুলাম প্রণয়নে কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে ধর্মমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি গেজেট জারি করে কমিশন গঠন করে দিয়েছি। প্রয়োজনে সময় বাড়িয়ে এবং আরো সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে কমিশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো এবং এখানে উপস্থিত ধর্মমন্ত্রীকে বলছি, এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর মিলনায়তনে এক উলেমা সম্মেলনে বক্তৃতাকালে এ নির্দেশনা দেন। আলেম-উলেমা, মাশায়েখদের সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল উলেমা ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয় শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সনদ প্রদানে একটি কমিশন গঠন করে দিয়েছি। কমিশন প্রণীত শিক্ষা কারিকুলামের ভিত্তিতে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক, কওমি মাদরাসা পাঁচ ভাগে বিভক্ত হওয়ায় তারা এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছতে পারছেন না। তবে আমি মনে করি, তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনি সময়। কেননা, এই সময়েই ধর্মের ওপর বড় আঘাত এসেছে।
তিনি বলেন, সবাই মিলে একটি শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করাই হবে সবচেয়ে ভালো কাজ। তবে এ বিষয়ে যারা মতৈক্যে পৌঁছতে চান, আমি তাদের বলবো, এটি গ্রহণ করুন।
শেখ হাসিনা দেশে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা প্রদান করবে এবং শিক্ষা সনদপত্র দেবে।
তিনি বলেন, যারা এ বিশ্বদ্যিালয়ে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে, তারা দেশে ও বিদেশে চাকরি করবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে চাই। ফলে যারা এটি চান, তাদের মতৈক্যে পৌঁছতে হবে। তাহলে আমরা এটি বাস্তবয়ন কাজ শুরু করতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর আমরা আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট দিতে সক্ষম হবো। তবে সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য ন্যূনতম কারিকুলাম প্রয়োজন। তা না হলে কিসের ভিত্তিতে সার্টিফিকেট দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এ সময়ে এটি খুবই প্রয়োজন, যাতে সরকার সার্টিফিকেট প্রদানে দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
বাংলাদেশ জমিয়াতুল উলেমার সভাপতি মওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ, আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সঙ্গের শুদ্ধানন্দ মহাথেরো এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ ও হাইকমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে মানব কল্যাণের জন্য শান্তির ফতোয়া প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া গ্রান্ড ইমাম আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসুদের তত্ত্বাবধানে এক লাখ মুফতি ও আলেম উলেমা এতে স্বাক্ষর করেন।


সিলেট: বিশিষ্ট শিল্পপতি ও কথিত দানবীর রাগীব আলী পরিবারের চার সদস্যসহ ৬ জন নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। বুধবার তিনি ও তার ছেলে, মেয়ে, জামাতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরই প্রেক্ষিতে গ্রেফতার এড়াতে রাগীব আলী তার ছেলে আবদুল হাই, আবদুল হাইয়ের স্ত্রী ও ছেলে এবং তার (রাগীব আলী) বাংলোর দুই শিশুসহ ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

বুধবার বিকেলে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে রাগীব আলীসহ ওই পাঁচজন ভারতে যান বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।
ওই সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে একটি নোয়া গাড়িতে করে রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, আবদুল হাইয়ের স্ত্রী ও ছেলে এবং রাগীব আলীর বাংলোর দুই শিশুকে সাথে নিয়ে জকিগঞ্জ যান। 
জকিগঞ্জে রাগীব আলীর এক ঘনিষ্ট ব্যক্তি ৬টি পাসপোর্ট নিয়ে জকিগঞ্জ সীমান্তের কাস্টমসস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে আসেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় রাগীব আলীসহ অন্যরা নৌকা দিয়ে কুশিয়ারা নদী পার হয়ে ভারতে পাড়ি জমান। রাগীব আলী ওই নৌকার মাঝিকে ভাড়া বাবত ৭শ টাকা দেন।
এদিকে রাগীব আলীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ কিছুই জানে না। জকিগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, রাগীব আলীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানার কথা নয়। এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।
জকিগঞ্জের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে জকিগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতি আবদুস সালাম জানান, বুধবার বিকেলে নোয়া মাইক্রোবাসযোগে কয়েকজন সঙ্গীসহ রাগীব আলীকে জকিগঞ্জ কাস্টমসের দিকে যেতে দেখেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ ও প্রতারণার আলোচিত দুটি মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে-মেয়েসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অন্যদিকে প্রতারণার মামলায় রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির, মেয়ে রুজিনা কাদির, রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 
৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গার উপর তারাপুর চা বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। আশির দশকে জালিয়াতির মাধ্যমে এটি দখলে নেন রাগীব আলী। এ নিয়ে চলা মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে গত ১৯ জানুয়ারি তারাপুরে রাগীব আলীর দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। একইসাথে বাগানের সকল স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন আদালত।


মোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স : ফ্রান্সের দক্ষিণ-পুর্বাঞ্চলীয় পর্যটক শহর মার্সাইয়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার বিকালে ছড়িয়ে পড়া দানাবলে কয়েকশ ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত এবং তিন জন আহত হয়েছে। আহতের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিন হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। মার্সাইয়ের ৪০ কিলোমিটার দুরে উত্তর পশ্চিমের শহর ফো সুর মেরেতে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়। অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রনে এক হাজার দুইশত অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি চারশত সেনা সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন এখনও নিয়ন্ত্রনের বাইরে এবং আগুনের ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।দাবানলের কারনে মার্সাই এলাকায় বিমান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং উপদ্রুত এলাকার অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহয়তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভাগীয় প্রধান মার্টিন ভেসেল অক্টোবর মাসে এক মিলিয়ন অতিরিক্ত ইউরো বাজেটের ঘোষণা দিয়েছেন।এছাড়া পিএসিএ অঞ্চলের সভাপতি ক্রিস্টিয়ান এস্ত্রোয়েসি জরুরী সহয়তার ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সম্পত্তি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।



জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক : তুরস্ক বৃহস্পতিবার সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জিহাহিদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্টের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এ আহ্বান জানানো হলো। তুরস্কের বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভিকে এক সরাসরি সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগ্লু বলেন, আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। আমরা রাশিয়াকে সবসময় দায়েশ (আইএস) বিরোধী যৌথ অভিযান চালাতে আহ্বান করেছি।
তিনি বলেন, প্রস্তাবটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে।


জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক :  ভারতের উদ্দেশ করে নতুন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন। বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে অযথা যেন ভারত নাক না গলায়। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ভারতে আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তার আগে চীনা সরকারি সংবাদপত্রে এই ভাবেই হুঁশিয়ারি দিল ভারতকে। যা নিয়ে নতুন করে চাপ বেড়েছে চীন এবং ভারতের সম্পর্কের উপর।

চীনের সরকারি সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস-এ একটি নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ‘‘ভারত যদি চায় চীনে মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্যগুলির রফতানি শুল্ক কম থাকুক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরো জোরদার হোক, তা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াঙ ইর ভারত সফরের সময় দিল্লি এটা বোঝানোর চেষ্টা করুক যে, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে অযথা নাক গলানো তারা বন্ধ করবে। ভারত যদি মনে করে, মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্যের ওপরে বেইজিং শুল্ক হ্রাস করলে তার রফতানি বাণিজ্য বাড়বে, তা হলে যে ইস্যুতে দিল্লির নাক না গলালেও চলে, সে ব্যাপারে দিল্লি আরো সতর্ক হোক। যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরো খারাপ না হয়ে যায়।

মৌলভীবাজার : গত ২৩ মার্চ ২০১৬ইং তারিখে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী সাদ মিয়ার ছেলে শিবলু মিয়া মৃতদেহ শিকলে বাধা অবস্থায় মনু নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এই গঠনাকে কেন্দ করে মৃত শিবলু মিয়ার চাচা নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একই গ্রামের ৩জনকে আসামী ও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত রেখে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন!! আসামীরা হলেনঃ টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের ১। জমির আলী (৪৮) ২। মশাঈদ মিয়া (৪২) ও ৩। জমসেদ আলী (৫০) এই হত্যাকান্ডে কেন্দ করা মামলার আসামী জমির আলীর পরিবারের দাবী জমির মিয়া সমপূর্ণ নির্দোষ, এই হত্যার সাথে তিনি কোনো ভাবেই জড়িত নয়, মৃত শিবলু মিয়া বাবা ও চাচার সাথে তাদের পুরোনো দিনের বিবাদ ছিল, তার জের ধরেই হিংসা পরায়ণ হয়ে জমির আলীর উপর প্রতিশোধ নিতেই থাকে মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়েছে! স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পুরোনো দিনের বিবাদ ছিলো, আর তার জের ধরেই বিত্তিহীন মামলার আসামী করা হয়েছে জমির আলী সাহেবকে! এই বিত্তিহীন, বানোয়াট মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন টেংরা ইউ/পি চেয়ারম্যান টিপু খাঁন, টেংরা ইউনিয়নের বিশিষ্ট মুরব্বি ধন মিয়া, ময়না মিয়া এবং জমির মিয়ার নিঃর্শত মুক্তি ও প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবী করেন স্থানীয় এলাকার সচেতন নাগরিক বৃন্দ।


জনপ্রিয় অনলাইন :  বলিউডে দুই প্রজন্মের দুই তারকা তারা। একজনকে বলা হয় বিগ-বি। অন্যজন মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট নামে খ্যাত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুজনের কেউই একসঙ্গে অভিনয় করেননি বলি সিনেমায়।

তবে এবার সিনে পর্দায় দেখা মিলবে এ দুই তারকাকে। বলা হচ্ছে কিংবদন্তী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও সুপারস্টার আমির খানের কথা। একসঙ্গে পর্দায় আসছেন তারা এমন খবরই জানাচ্ছে মিড ডে। সম্প্রতি পত্রিকাটির এক খবরে জানা গেছে, এই দুই অভিনেতাকে জুটিবদ্ধ করার দায়িত্ব হাতে নিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জশ রাজ ফিল্মস। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজক আদিত্য চোপড়া সংবাদমাধ্যমে এমনই আভাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অমিতাভ ও আমির দুজনের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা হয়েছে। সে সঙ্গে দুজনই সম্মতি জানিয়েছেন একই ছবিতে কাজ করার ব্যাপারে। এ ব্যাপরে চূড়ান্তভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও নিশ্চিত করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। সব ঠিক থাকলে দুই তারকার ভক্তকুলের অপেক্ষার অবসান ঘটবে খুব শিগগিরই। অমিতাভ ও আমিরকে নিয়ে যশ রাজ ফিল্মস যে ছবিটি নির্মাণ করবে সেটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন বিজয় কৃষ্ণা আচার্য। 


জনপ্রিয় অনলাইন :  স্বৈরাচারী প্রবণতার অভিযোগে ইইউ, অ্যামেরিকা সহ পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনার পাত্র৷ মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে রেকর্ড তেমন ভালো নয়৷ তাই বিবাদ ভুলে বন্ধুত্বের পথেই এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর এর্দোয়ান ও পুটিন ৷ শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু, বিশেষ করে আমরা দু'জনেই যখন কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছি...' অনেকটা এমন ভাবনা নিয়েই মিলিত হলেন রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ান ও ভ্লাদিমির পুটিন৷ অথচ কিছুদিন আগে পর্যন্ত তুরস্ক ও রাশিয়ার এই দুই শীর্ষ নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে তর্জন-গর্জন করে আসছিলেন৷ গত বছর নভেম্বর মাসে তুরস্কের আকাশে রুশ বোমারু বিমান ধ্বংসের পর দুই দেশ একে অপরের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞাও চাপিয়েছিল৷ কিন্তু তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর পুটিনই সবার আগে এর্দোয়ান-এর প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন৷ আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা দুই নেতাই ঘনিষ্ঠতার সেই সুযোগ ছাড়েননি৷ মঙ্গলবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হতে চলেছেন তাঁরা৷ দু'জনের মধ্যে উষ্ণতার কোনো ঘাটতি দেখা যাবে না এমনটা এখনই দাবি করা যেতে পারে৷অভ্যুত্থানের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এটাই এর্দোয়ানের প্রথম বিদেশ সফর৷ রাজধানী মস্কো নয়, পুটিনের শহর সেন্ট পিটার্সবার্গকেই বেছে নেওয়া হয়েছে এই কৌশলগত' সাক্ষাতের জন্য৷ সফরের আগে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এর্দোয়ান বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও আন্তরিকতার সঙ্গে পুটিন ও রুশ জনগণকে সেলাম' করছেন৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে ঢেলে সাজানোরও অঙ্গীকার করেন তিনি৷সম্পর্কের উন্নতির প্রচেষ্টা অবশ্য গত জুন মাসেই শুরু হয়ে গিয়েছিল৷ জুন মাসে এর্দোয়ান রুশ বিমান পতনের ঘটনার ফলে দুঃখ প্রকাশ করেন৷ সেই বিবৃতিকে ক্ষমা হিসেবে মেনে নিয়ে পুটিন তুরস্কের উপর রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে শুরু করেন৷ ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর পুটিনই সবার আগে টেলিফোনে এর্দোয়ানের সঙ্গে কথা বলেন৷কৃষ্ণ সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশই নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অ্যামেরিকার সঙ্গে দুই দেশের বর্তমান শীতল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সংঘাতের বদলে সহযোগিতার পথেই হাঁটতে চাইছে তুরস্ক ও রাশিয়া৷ ব্যক্তি হিসেবেও প্রায় সমবয়সি পুটিন ও এর্দোয়ানের চরিত্রে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়৷ দুজনেই কড়া হাতে শাসন করে নিজেদের দেশের গৌরব' ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর৷ পর্যবেক্ষকদের মতে, মানবাধিকার নিয়ে দু'জনেরই মাথাব্যথা কম৷তবে যে সব বিষয়ে তুরস্ক ও রাশিয়ার মতবিরোধ এখনো দূর হয়নি, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সিরিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ ও তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস সম্পর্কে সরকারি নীতি৷ রাশিয়া বাশার আল-আসাদকে পুরোপুরি সমর্থন করে৷ আইএস সহ সব বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সে দেশ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে৷ অন্যদিকে আসাদ-বিরোধী এর্দোয়ান আইএস-এর প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন বলে রাশিয়া অভিযোগ করে এসেছে৷ এর্দোয়ান-পুটিন নতুন মৈত্রীর ফলে সেই মনোভাবে পরিবর্তন আসে কিনা, তার উপর নজর রাখবে রাজনৈতিক মহল৷

সুত্রঃ ডয়েচে ভেলে


জনপ্রিয় ডেস্ক : তুরস্কে গত মাসে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ ইস্তাম্বুলে র‌্যালি করেছে। এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে ইস্তাম্বুল শহরে গণতন্ত্রের পক্ষে এক যৌথ সমাবেশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং দুই বিরোধী দলের নেতা। 

গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো যৌথ সমাবেশে অংশ নিলেন তারা। অভ্যুত্থানবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাতের বেলায় সমাবেশকে উৎসাহ দিয়ে আসছিল আঙ্কারা। এরই চূড়ান্ত প্রচারণা হিসেবে রোববার এই মহাসমাবেশে মিলিত হলেন দেশটির ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় নেতারা। জনগণের উদ্দেশে তুরস্ক প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, আপনারা সবাই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার যোদ্ধা। রোববারের ওই র‌্যালিতে এরদোগান সমর্থক ছাড়াও প্রধান দুই বিরোধী দলও এক কাতারে ছিল। এরদোগান বলেন, বিশ্ব আপনাদের দেখছে। আপনাদের গর্ব করা উচিৎ। আপনাদের প্রত্যেকেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আপনারাই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার নায়ক। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তুরস্কের সংসদ চাইলে তিনি দেশটিতে আবারো মৃত্যুদ-ের বিধান ফিরিয়ে আনবেন। বিবিসির খবরে বলা হয়, এরদোগান যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন সমবেত মানুষ জাতীয় পতাকা নেড়ে তাকে সম্ভাষণ জানায়। সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এরদোগান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামিক বোদ্ধা ফেতুল্লাহ গুলেনসহ তার সকল সমর্থককে তিনি তুরস্ক থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য গুলেনকে দায়ী মনে করে তুরস্ক সরকার। সেখানে বক্তৃতা দেয়ার সময় এরদোগান জানিয়েছেন, দেশের মানুষের সমর্থন পেলে এবং সংসদ অনুমোদন করলে তিনি আবারো মৃত্যুদ- ফিরিয়ে আনবেন। তিনি বলেন, ইউরোপে বা ইউরোপীয় কাউন্সিলে মৃত্যুদ- নেই। কিন্তু আমেরিকায় এটি আছে। জাপান, চীনসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এটি আছে। সুতরাং তুরস্কের মানুষও এটি পেতে পারে। তিনি আরো বলেন, এছাড়া আগেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এটি আমাদের ছিল। আর সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ। ফলে, জনগণ যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে রাজনৈতিক দল সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করবে। এদিকে, ইস্তাম্বুলের ইয়েনিকাপি স্কয়ারে এই সমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাদের সবার হাতেই ছিল তুরস্কের পতাকা। শেষ বিকেলে সমাবেশে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান এবং প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। এই সমাবেশের নাম দেয়া হয়েছে গণতন্ত্র ও শহিদ সমাবেশ। দলীয় কোনো ব্যানার না এনে শুধু তুরস্কের পতাকা নিয়ে সমাবেশে আসার জন্য কর্মীদের আগে থেকেই নির্দেশ দিয়েছিলেন এরদোগান। তবে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি পিপলস ডেমোক্রেসি পার্টির (এইচডিপি) কোনো নেতাকে। তুরস্কের নিষিদ্ধ ঘোষিত দল কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টিকে (পিকেকে) সমর্থন করার কারণে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, তুরস্কের অভ্যুত্থান চেষ্টার পর গুলেনের হাজার হাজার সমর্থক চাকরি হারিয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন। গত ১৫ জুলাইয়ের ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে প্রায় ২৭০ জন নিহত হয়েছিল। তুরস্কের টালমাটাল এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রেসিডেন্টের কট্টর অবস্থানকে অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমা বিশ্ব। আল-জাজিরা, রয়টার্স।


জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এ যুগের ঘষেটি বেগম বলেও অভিহিত করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সন্ত্রাস নয় শান্তি চাই শীর্ষক আলোচনা সভায় নৌমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শাজাহান খান বলেন,
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কর্নেল রশীদ তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি যখন জিয়াউর রহমানের কাছে বললেন রাষ্ট্রপতিকে তাঁরা হত্যা করতে চান। তখন জিয়া বলেছিলেন, আমরা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, এগুলোর সঙ্গে জড়িত হতে পারি না। তোমরা যদি পারো এগিয়ে যাও। এগুলো ইতিহাসের কথা। এ কথার মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হয় যে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। জেলহত্যার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন,
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যার পর তাঁর হত্যাকারীরা ঘষেটি বেগমকে নেতা নির্বাচন করেন। এখন খুনিরা মিলে নেতা বানিয়েছে খালেদা জিয়াকে। তাহলে এ যুগের ঘষেটি বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং আমাদের সাবধান থাকতে হবে।
হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, আপনাদের যে সমস্যা আছে, সেটা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে চাকরিতে যেন আপনাদের জন্য কোটা সিস্টেম থাকে, এ জন্য সবাই মিলে চেষ্টা করব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল হরিজন সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৈষম্য নিরোধ আইন করার দাবি জানিয়ে বলেন,হরিজন সম্প্রদায় যে সামাজিক যন্ত্রণায় ভোগে, এ জন্য প্রয়োজন বৈষম্য নিরোধ আইন। কিন্তু আইনটি মানবাধিকার কমিশন ও আইন কমিশন গ্রহণ করেছে। আমরা শুনেছি, এটা আইন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। আইনটি পাসের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভা​পতি কৃষ্ণলাল দাস এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস।


জনপ্রিয় অনলাইন : নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। আসামির জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মো. বশির উল্লাহ। পরে বশির উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, লালবাগ ও মতিঝিল থানায় করা মামলায় আসলাম চৌধুরীর জামিন দিয়েছেন আদালত। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানান ডিএজি মো. বশির।
গত ১৫ জুন নাশকতার এই দুই মামলায় আসলাম চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত বছরের জানুয়ারি মাসে বিএনপির হরতাল ও অবরোধ চলাকালে এ দুটি মামলা হয়।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আসলাম চৌধুরীকে গত ১৫ মে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন তিনি।


গাজীপুর  গাজীপুরের  কাপাসিয়ায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে শ্বাসরোধ করে স্কুলছাত্র ছানাউল্লাহ (২০) হত্যার দায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সকল আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের স্বজনরা আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, আলম শেখ, সেলিম শেখ, নয়ন শেখ ও আনার হোসেন শেখ। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন- আনোয়ারা বেগম, আব্দুল মোতালেব ও শেখ শামসুদ্দিন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে ছানাউল্লাহ (২০) গত ২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মনোহরদী যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে সিংগুয়া এলাকার ফকির সাহাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়। রায়ে বলা হয়, পারিবারিক বিরোধ ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আনোয়ারা বেগমের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে  সানাউল্লা সরকারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এঘটনায় ছানাউল্লাহর বড় ভাই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় ১২জনকে আসামী করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মজিবুর রহমান ১২জন আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালতের বিচারক এ রায় দেন।
রাষ্ট্র পক্ষে  মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন কাজল।


রনি মোহাম্মদ,বিশেষ প্রতিনিধি : সদ্য ঘোষিত বিশাল আকারের বিএনপির কমিটি  নানা দিক দিয়ে ব্যাপক মিডিয়া কাভারেজ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘোষিত কমিটিতে বেশ কিছু নতুন মুখের ছড়াছড়ি যেমন আছে, একই সাথে একই নেতা কর্মীর আত্মীয় পরিজনের স্থান পাওয়াও কমিটি নিয়ে কৌতুহলের  জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া সকলের আবদার এবং বিশেষ ফর্মুলা আর অন্য ব্যবস্থায় এমনও অনেকের স্থান পেলেও কিছু কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে পরীক্ষীত বেশ কিছু স্থানের নেতা কর্মীদের কোন ভাবে জায়গা না হওয়ায় নানা প্রশ্ন এবং মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনার জন্মও দিয়েছে। আবার ঘোষিত কমিটির নেতা কর্মীরা মাঠের এবং তৃণমূলের রাজনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে সেটার উপর নির্ভর করছে আগামীর রাজনীতির পথচলার নির্দেশিকা। অন্ধকারের আলোকবর্তিকা বা আলোর রশ্মি যেমন পথের দিশা দেখায়, একটি কমিটির অবয়ব বলে দেয়- আন্দোলন সংগ্রামের রূপ- রেখা এবং  লাখো কোটি জাতীয়তাবাদীদের মনের চাহিদা পূরণে কতোটুকু সফল হবে। এই মুহুর্তে বাংলাদেশে যা ভীষণ প্রয়োজন। বিশাল পরিসরের কমিটির চাইতে জাতীয়তাবাদীদের যে কাজ সব চাইতে বেশী প্রাধান্য দেয়া উচিৎ ছিলো- বাংলাদেশের জনগনের মনের গহীনে স্থান করে নেয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে সাহস ও পথের দিকনির্দেশনা দেয়া। বিএনপির সেদিকে কোন খেয়াল আছে বলে মনে হয়না। ক্রান্তি কালে যে দল জনগনের সাহসের স্থলের ভরসা না হয়ে  কতিপয় নেতার খুশীর জন্যে ব্যস্ত থাকে, সবাইকে খুশী করার জন্য বিশাল এক কমিটি উপহার দেয় ! সে কমিটি এতো বিশালতার ভারে আদৌ উঠে দাঁড়াতে কী পারবে ? সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। বিএনপি যেন অন্ধকারের চোরাবালিতে দিন দিন হারিয়ে যাচেছ।
ইউরোপের বিএনপি বিগত ১০টি বছর একাধারে বিএনপি জন্য  ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী  লবিষ্টদের সাথে লবি করলো, লিয়াজো করলো, দেশে বিদেশে বিএনপির রাজনীতির বক্তব্যকে সামনে তথা ফ্রন্ট লাইনে নিয়ে এলো, জিমিয়ে পড়া হাজারো লাখো নেতা কর্মীর প্রাণে উজ্জীবীত করে রাখলো, দেশে এবং প্রবাসে তারুন্য ও শক্তি জাগিয়ে তুললো !
শুধু তাই নয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশন ও পার্লামেন্টে এবং ডেলিগেট পাঠিয়ে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের কৌশল প্রতিনিয়ত করলো,  ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতির বক্তব্যের পক্ষে বিবৃতি ও রেজ্যুলোশন আনলো, সেই বেলজিয়ামের মতো জায়গায় থেকে বিএনপির কমিটিতে একজন ও স্থান নেই। অক্লান্ত পরিশ্রম আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশে বিএনপির জন্য কাজ করেছেন অথচ এতো বিশাল আকারের কমিটিতে গোটা ইউরোপ থেকে একজনও নেতা কর্মীকে এই কমিটিতে স্থান দেয়ার মতো জায়গা হয়নি। এই অবস্থায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিএনপির নেতা কর্মীরা বড় হতাশ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নীরবে আড়ালে। তাদের হ্নদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাদের একটাই প্রশ্ন যে দলের জন্যে যারা এতো শ্রম ঘাম দিলেন, দলীয় হাই কমান্ড সব কিছু অবগত হওয়া সত্যেও সামান্যতম মূল্যায়নের কোন ব্যবস্থা করলেননা। স্বাভাবিকভাবে হতাশা তাদের গ্রাস করেছে। আজ ইউরোপের বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ এবং হতাশার কালো ছায়া আচ্ছন্ন করেছে তাদের।
এই ব্যাপারে আলাপের সূত্রে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইতালি, বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, সুইডেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ডের বিএনপি শাখার নেতা কর্মীরা তাদের হতাশার কথা জানালেন।
তাছাড়াও ইউরোপের মধ্যে বেলজিয়াম বিএনপি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রচার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের লবি ও চাপে রাখার কৌশলে ব্যাপকভাবে এগিয়ে থাকা সত্যেও তাদের কোন নেতা কর্মীকে হাই কমান্ড কিছুতেই মূল্যায়ন না করাও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতা কর্মীরা আশ্চর্য হয়েছেন।


জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান বিএনপির রাজনীতিতে এলে ভালো হবে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জোবায়দা উচ্চ শিক্ষিত ভালো বংশের মেয়ে এবং তিনি যদি রাজনীতিতে আসেন তাহলে ভালো করবেন। অন্তত একজন শিক্ষিত মানুষ বিএনপির রাজনীতিতে আসবে। ওর পরিবারের ঐতিহ্যও ভালো। শিক্ষিত মানুষ রাজনীতিতে এলে রাজনীতির জন্য ভালো হবে।

সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এক অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে আসে বিএনপির নতুন কমিটি। ষষ্ঠ কাউন্সিল শেষে সদ্য গঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে দুটি পদ খালি থাকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন বলে বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে দুটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভার নির্ধারিত এজেন্ডা শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলোচনার সূত্রপাত করেন। এ অনির্ধিারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে নিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যে দুটি পদ খালি রাখা হয়েছে সেখানে খালেদা জিয়ার দুই পুত্রবধূকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে শুনেছি। অপর এক মন্ত্রী বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এ দুটি পদ খালেদা জিয়া হয়তো তাঁর দুই ছেলের বউয়ের জন্য রেখেছেন। এসময় অন্য মন্ত্রীরাও নানা ধরণের মন্তব্য করতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী তাদের বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখার পরামর্শ দিয়ে উল্টো ডা. জোবায়দা রহমানের প্রশংসা করে বলেন, সে (জোবায়দা) শিক্ষিতা এবং ভালো বংশের মেয়ে। সে রাজনীতিতে এলে তো ভালোই হবে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত পারিবারিক সম্পর্কে বেয়াই (মেয়ের শ্বশুর) এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি (জোবাইদা) তো আবার উনারও আত্মীয়। তখন মন্ত্রিসভায় অনেকে কৌতূহল প্রকাশ করলে মোশাররফ হোসেন সম্মতি জানিয়ে বলেন, হ্যাঁ তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান আমার চাচার শ্যালিকার মেয়ে। ফলে উনি সম্পর্কে আমার খালাতো বোন হন। এছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ২১ আগস্ট বোমা হামলার আসামিসহ কমিটির আকার নিয়েও মন্ত্রিসভার কোনো কোনো সদস্য টিপ্পনি কেটেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে মন্ত্রিসভার অনির্ধারিত এক আলোচনায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে গণপূর্তমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বড় সড়কের পাশে বাণিজ্যিক সুবিধা থাকতে পারে। কিন্তু, কোনো আবাসিক এলাকার কোনো রাস্তার পাশে যেন হোটেল রেস্টুরেন্ট না থাকে। ওইসব জায়গায় আকাম...হয়ে থাকে। ফলে কোনো অবস্থাতেই আবাসিক এলাকায় হোটেল-রেস্তোরা অ্যালাও করা যাবে না।



এম এ লিঙ্কন মোল্লা, কোপেনহেগেনঃ  গত ২/৩ বছর ধরে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক গনি ভাইকে ঘিয়ে একটি নব্য,সুবিধাবাদী, হাইব্রিড , তদবিরবাজ বাণিজ্যিক গ্রুপ তৈরি হয়েছে । এদের পাল্লায় পরে গনি ভাই, আমার মতো দুর্দিনের পরীক্ষিত দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে ।সে একান্ত ঈর্ষান্বিত হয়ে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শামীম হককে অব্যাহতি দিয়েছে, জনাব শামীম হক আমাদের প্রিয় নেত্রী  কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ,জনাব গনি তার এক্তিয়ার বহির্ভূত, দায়িত্বের সীমা  ছাড়িয়ে দিনের পর  অসাংগঠনিক, অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিবারের আস্থাভাজন নেতা, জননেত্রী শেখ হাসিনার ইউরোপ উইংসের প্রধান শ্রী অনিল দাস গুপ্তের সাথে কোন রকম পরামর্শ না করে, সেচ্ছাচারী কায়দায় তিনি দলের দুর্দিনের পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন ।
এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া আজ তোলপাড় । তারা গনি ভাইকে, বিএনপি জামাতের এজেন্ট,তারেক রহমানের সাথে তার সম্পর্ক নিয়েও ভীষনভাবে  সন্দেহ করছেন । বিএনপি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের  তার গোপন মিশন পরিচালনার কথা তারা জোর গলায় বলছে । ইতিমধ্যে গনি ভাইকে সংগঠন বিরোধী  কর্মকাণ্ডের দায়ে ডেনমার্ক, নরওয়ে, তুরস্ক, হল্যান্ড, জার্মানীসহ ইউরোপের অনেক দেশে তাকে অবাঞ্চিত এবং প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছে । ঢাকায় সর্ব  ইউরপিয়ান আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা তার অতীত অপকর্মের জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে।  
এরমধ্যে দেশপ্রিয় নিউজ নামে এক অনলাইন পোর্টালে, গনি ভাই সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শ্রী অনিল দাস গুপ্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কিছু অসংগলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন , সেখানে তিনি হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি  বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঈদ ফারুক, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রশিদ বুলু, জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি বসিরুল আলম সাবু , তুরস্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রিন্স মাহমুদ প্রতি তার ব্যাক্তিগত ক্ষোভ থেকে অবাঞ্চিত কথাবার্তা  বলেছেন ।তাদের দোষ তারা গনি ভাইয়ের অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন । গনি ভাই, সম্প্রতি কয়েকটি দেশে গিয়ে কর্মী সম্মেলনের কথা বলে অনৈতিক সুবিধা পেয়ে নতুন কমিটি করেছেন । যারা সারা জীবন আওয়ামী লীগ করেছেন, তাদের তিনি বিএনপি বানিয়ে নব্য, আমদানিকৃতদের দিয়ে কমিটি করেছেন । এব্যাপারে আবার সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শ্রী অনিল দাস গুপ্তকে কিছুই জানানো হয়নি ।
সোশাল মিডিয়াতে অনেক স্বনামে, বেনামে লিখেছে কমিটি করার নামে বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকেন । তার একাজে সহযোগিতা করেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা রাজীব হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী, গনি ভাইয়ের কন্টাক্ট পারসন এক খুনি ।
সোশাল মিডিয়াতে আরো এসেছে, এই খুনী আওয়ামী বার্তা, জয় বাংলা, শফিক তুহিন , জয় বাং ,মুজিব বার্তা, মুজিব সেনা, আমিন রহমান,জন খানসহ কমপক্ষে ৫০টি ফেইস বুক এর এডমিন । কোনটায় নিজে লিখে  আবার অন্যগুলো দিয়ে নিজেই লাইক ও মন্তব্য করে । সে ডেনমার্কসহ সারা ইউরোপের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের নিয়েও কটূক্তি এবং মানহানিকর মন্তব্য লিখে । 
অতি সম্প্রতি সে, নতুন করে ইউরোপের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের পুরনো টেলিফোন কথাবার্তা কেটেকুটে ভয়েজ রেকর্ড ফেইসবুকে আপলোড করে নেতৃবৃন্দকে ব্লাক মেইল করছে । শুনা যাচ্ছে , গনি ভাইয়ের কিছু গোপন ভিডিও তার নিকট সংরক্ষিত আছে আর তা দিয়ে তিনি গনি ভাইকেও ব্লাক মেইল করছে । তার কথা মতো কাজ না করলে গনি ভাইয়ের সেই গোপন ভিডিও তিনি প্রকাশ করে দেবার হুমকি দেন প্রতিনিয়ত ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে , গনি ভাই আসলে কেন এসব করছে ! তিনি কি শামীম হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঈদ ফারুক,বজলুর রশিদ বুলু, বসিরুল আলম সাবুদের চিনেন না ! ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর এদের ভুমিকা কি ,১/১১ সময়ে তাদের ভুমিকা কি তা কি গনি ভাই জানেন না । তিনি যখন বিএনপি জামাতের সাথে আতাত করে চলেছেন, তিনি যখন সংস্কারবাদী হিসাবে আমাদের প্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন তখন তারা দলের জন্য ইউরপের রাস্তায় রাস্তায়  স্লোগান দিয়েছেন । আমারদের প্রিয় নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা উদ্দেশ্যে  ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বর্বর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদের নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশ এমব্যাসির ভিতরে গিয়ে ইয়াজদ্দিন এবং বেগম খালেদার ছবি ভাংচুরের নেতৃত্ব দিয়েছিলো বীর মুক্তিযুদ্ধা মাঈদ ফারুক, তার ফ্যামিলির চার ভাই মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেছে । তার নেতৃত্বে হল্যান্ডের দেন হাগে দুইবার মানব বন্ধন করা হয়েছে ।
২০০৬ সালে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় কনভেনশনের পুরো খরচ শামীম হক দিয়েছিলেন ।বাংলাদেশের  শামীম হকের নেতৃত্বে দলীয় সকল কর্মকাণ্ডে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের অংশগ্রহন ও ব্যানার দেখে আমরা  গর্বিত হই । এর মুল কৃতিত্ব শামীম হকের ।   
১২ জুন ২০০৮  সালে নেত্রী মুক্তি আন্দোলনে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে শুনানির মুল সমন্বয়কের কাজ করেছে বজলুর রশিদ বুলু । ১/১১ এর সময়, নেত্রী মুক্তি আন্দোলনে বজলুর রশিদ বুলু প্রমান করেছেন তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর  আদর্শের এক অগ্রসৈনিক । আর তখন আমরা সকলেই জানি জনাব গনির ভুমিকা ।
সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ যিনি ব্রান্ডিং করেছেন, সে আমাদের সকলের প্রিয় অনিল দা । তার সততা, দলের প্রতি অনুগাত্য, কর্মীদের প্রতি কেয়ারিং ,জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পরিবারের একান্তজন, তাকে নিয়ে গনি সাহেব যখন উল্টা পাল্টা কথা বলেন তখন সকল কর্মিদের গায়ে খুব লাগে ।
আজ সারা ইউরোপব্যাপী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের  সৈনিকরা গনি সাহেবের স্বৈরাচার বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিবাদ করছে । তিনি ইতিমধ্যে দলের অনেক ক্ষতি করে ফেলেছেন । এখন সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর ।তার অসৎ উদ্দেশ্য যাতে সফল না হয়, তার জন্য ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধন্ত নেয়ার জন্য সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের তৃতীয় কনভেনশন ডাকা জরুরী ।আগামীতে দল পরিচালনার সকল  সিদ্ধান্ত সেখানেই  নেয়া হোক ।
সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সকল নেতা কর্মীদের প্রাণের দাবী, নীতিহীন, আদর্শহীন,স্বেচ্ছাচারী অসৎএবং তারেক রহমানের এজেন্টদের হাত থেকে দলকে রক্ষা করে, জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে । এবার ভুয়া বিচারকের বিচার আমরা করবো ।   

লেখকঃ রাজনীতিক, কলাম লেখক ও সমাজ কর্মী
Newer Posts Older Posts

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget