2016-06-05

ঢাকা: পুলিশ শুধু সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় জনগণের নিরাপত্তার কথা ভুলতে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন 'মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির' নেতারা।

কল্পনা চাকমা অপহরণের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক মতবিনিময় তারা এ মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, সহিংসতা ও  রিমান্ডে নিয়ে পুলিশী নির্যাতনকে আদালতও প্রশ্রয় দিচ্ছে। দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতা বাড়ছে। মানুষ ভয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
মানবাধিকার নেত্রী শিরিন হকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)'র নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন প্রমুখ।
শাহদীন মালিক বলেন, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। রিমান্ডের অনুমতি দিয়ে আদালতও আইনশৃংখলা বাহিনীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। অথচ মানুষের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্ব আদালতের।
তিনি বলেন, সহিংসতা বাড়ছে অথচ আদালতে মামলার সংখ্যা কমছে। এ থেকে আদালতেরও বোঝার কথা যে, মানুষ বিচার বিভাগের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছে। এটি খুবই উদ্বেগের কথা।
শাহদিন মালিক বলেন, শুধু অবকাঠামো কিংবা অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে সমাজে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায় না। বড় প্রমাণ লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, আলজেরিয়া।
সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তাতে হত্যা,গুম, সহিংসতা আরও বাড়বে- এমন মন্তব্য পরিস্থিতির উত্তরণে জাতীয় সংলাপের দাবি জানান তিনি।

ঢাকা: সরকার সাঁড়াশি অভিযানের নামে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে গণগ্রেফতার করছে বলে মন্তব্য করে ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিল। এ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি দমনের নামে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে হয়রানী করা হচ্ছে বলে সংগঠনের দবি। এটি মানবাধিকারের চরম লংঘন বলেও মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের এই সংগঠনটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের ২০১ জন আইনজীবীর পক্ষে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংগঠনের পক্ষে বিবৃতি পাঠান অ্যাডভোকেট এস.এম জুলফিকার আলী জুনু।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের গুপ্ত হত্যায় জড়িতদেরকে গ্রেফতার করতে না পেরে পুলিশ এ ধরনের অভিযান চালাচ্ছে। গুপ্ত হত্যায় সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে বলেও মনে করেন ন্যাশনাল ল
ইয়ার্স কাউন্সিলের নেতারা। সাঁড়াশি অভিযানের নামে পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্য করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, এস এম জুলফিকার আলী জুনু, শফিউল্লাহ, মহিবউল্লাহ মারুফ, মোসলেম উদ্দীন, চেমন আক্তার, সুলতান মাহমুদ, তাহেরুল ইসলাম, মশিউর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, হাদিউল ইসলাম মল্লিক, রাশিদা আলিম ঐশী, ফারজানা সুলতানা সাথী, কবির হোসেন, আশিকুর রহমান, আকবর হোসেন, এমদাদুল হক, আরিফুল ইসলাম, নাসিমুল হাসান, নাজমুল হাসান, শেখ আব্দুস সালাম,হোসাইন আহমেদ আশিক প্রমুখসহ ২০১ জন আইনজীবী।

অনলাইন ডেস্ক : জঙ্গি ও সন্ত্রাসী ধরতে, সারা দেশে শুরু হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৯ শতাধিক গ্রেফতারের খবর মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে রংপুরে বিভিন্ন মামলার ১৬২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া, সিলেটে ১৫১ আসামি, চট্টগ্রামে ১৫৮, দিনাজপুরে ১শ, টাঙ্গাইলে ৬৮, যশোরে ৬৮, কুষ্টিয়ায় ৫৭, রাজশাহীতে ৩১, নাটোরে ২৭, মাগুড়ায় ২৪, ঝিনাইদহে ১৭, নোয়াখালীতে ৫ ও লক্ষ্মীপুরে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশব্যাপী এই অভিযান চলবে সাতদিন।

এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে সাঁড়াশি অভিযান নিয়ে বৈঠক হয়। এ বৈঠকে কমপক্ষে ১০ জেলার পুলিশ সুপারসহ উচ্চপদস্থ সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠক চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা।
সভায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়ানো, জঙ্গিদের তালিকা হালনাগাদ এবং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিংকে কার্যকর করা, আগন্তুক ও ভাড়াটেদের ওপর নজরদারি বাড়ানো, বিদেশিদের নিরাপত্তা দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের সব রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে পহেলা রমজান থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে শপিংমল, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন নামে চাঁদাবাজি, রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধেও কাজ শুরু করেছে আইনশৃক্সখলা বাহিনী। এদিকে রমজানে মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে এবং তারাবির নামাজের সময় অপরাধীদের তৎপরতা রোধ করতে গভীর রাত পর্যন্ত টহল দিচ্ছে পুলিশ। মহাসড়কে ডাকাতি রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখছে হাইওয়ে পুলিশ। রোজায় পুলিশের পাশাপাশি তৎপর রয়েছে র‌্যাবও।

অনলাইন ডেস্ক : তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি ধরতে দেশব্যাপী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিন শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) এলাকায় ১৭৭ জনসহ সারা দেশে সহস্রাধিক আটক হয়েছে। 

ডিএমপির আটকের সংখ্যাটি শুক্রবার রাতে বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেন গণমাধ্যম শাখার ডিসি মাসুদুর রহমান। কিন্তু পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) আটকের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে পুলিশ সদরদপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অভিযানের প্রথম দিনেই ডিএমপিসহ সারাদেশে সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকের বিষয়ে জানতে পুলিশ সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেশে ৬ শতাধিক থানা রয়েছে। এসব থানা থেকে ইতিমধ্যেই সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তারের তথ্য এসেছে। কিন্তু এখনো সেগুলো যোগ করা সম্ভব হয়নি। সব থানার গ্রেপ্তার সংখ্যা আগামীকাল (শনিবার) সকালে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। 
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি ধরতে পুলিশের এ সাঁড়াশি অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়।  
সভায় আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারণা জোরদার করতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিউনিটি পুলিশিংকে কাজে লাগাতে হবে।
আইজিপি এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী খুনের ঘটনাকে অত্যন্ত নির্মম, বর্বরোচিত ও দুঃখজনক ঘটনা বলে আখ্যায়িত করে তিনি এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।
এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ওপর করণীয় নির্ধারণ সম্পর্কে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, রেলওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি মো. আবুল কাশেম, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, সব কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং ঢাকা, টাংগাইল, গাজীপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, বগুড়া, ঝিনাইদহ ও নাটোর জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৃস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ঘোষণা দিয়ে জঙ্গি ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করলেও শুক্রবার ভোরের দিকেই পাবনায় হিন্দু সেবাশ্রমের কর্মী খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লুও জানা যায়নি।

অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে রোদাত অঞ্চলে একটি মসজিদে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে ঈমামসহ অন্তত চারজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরো ৪০ জনের মতো।

জানা গেছে, ওই সমজিদে তখন তারাবির নামাজ চলছিল। প্রচণ্ড ওই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মসজিদটি। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।নানগারহার প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আত্তায়ুল্লাহ খোগিয়ানি জানিয়েছেন, প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদের কাছেই একটি মসজিদে বোমা হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এতে ঈমামও নিহত হয়েছেন। 

অনলাইন ডেস্ক: রমজান মাস এলেই বেশি বেশি এবাদত বন্দেগি করতেন রাসুল (সা.)। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল, দান খয়রাত করতেন তিনি। অত্যন্ত আগ্রহ ও ব্যাকুলতার সঙ্গে সেহরি ও ইফতার করতেন।

রোজা ভাঙার সময় হলে দ্রুত ইফতার করে নিতেন, সেহরি করতেন অনেক দেরিতে। সেহরি সমাপ্ত করার কিছুক্ষণ পরেই পূব আকাশে আলো ফুটে যেত। ইফতার করতেন খুব পরিমিত। বেশিরভাগ সামান্য ভেজা বা শুকনো খেজুর আর পানি দিয়ে ইফতার করতেন তিনি। ভেজা খেজুর সেহরিতে পছন্দ করতেন তিনি। সেহরি ও ইফতারে কখনো জাঁকজমক ছিল না তার।
রমজানে রাসুলের এ আচরণ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়। এরকম কয়েকটি হাদিস হলো:
হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, (كان النبي صلي الله عليه و سلم يفطر قبل أن يصلي على رطبات، فإن لم تكن رطبات فتميرات، فإن لم تكن تميرات حسا حسوات من ماء ) রাসুল (সা.) নামাজ আদায়ের আগে কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, যদি ভেজা খেজুর না থাকত, তবে সাধারণ শুকনো খেজুরই গ্রহণ করতেন। যদি তাও না থাকত, তবে কয়েক ঢোক পানিই হত তার ইফতার। [তিরমিজি : ৬৯৬]
আরেকটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, উপরোক্ত কিছুই যদি না থাকে, তবে রোজাদার যে কোনো হালাল খাদ্য দিয়ে ইফতার করে নিবে। তবে, খাদ্যই যদি না থাকে, তাহলে ইফতারের নিয়ত করবে। ইফতারের নিয়তই হবে তার জন্য ইফতার।
আবু আতিয়া হতে বর্ণিত, আমি এবং মাসরুক আয়েশার (রা.) নিকট উপস্থিত হলাম। মাসরুক তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই সাহাবি উপস্থিত হয়েছে, যাদের কেউ কল্যাণে পশ্চাৎবর্তী হতে আগ্রহী নয়; তাদের একজন মাগরিব ও ইফতার উভয়টিকেই বিলম্ব করে, অপরজন দ্রুত করে মাগরিব ও ইফতার। আয়েশা বললেন: কে মাগরিব ও ইফতার দ্রুত করে? বললেন: আব্দুল্লাহ। আয়েশা উত্তর দিলেন: রাসুল (সা.) এভাবেই রোজা পালন করতেন। [মুসলিম : ১০৯৯।]
আব্দুল্লাহ বিন আবি আউফা হতে বর্ণিত, (كنا مع رسول الله صلى الله عليه و سلم في سفر في شهر رمضان، فلما غابت الشمس قال: يا فلان انزل فاجدح لنا! قال: يا رسول الله إن عليك نهاراً!، قال: انزل فاجدح لنا!، قال: فنزل فجدح، فأتاه به فشرب النبي صلى الله عليه و سلم ثم قال بيده: إذا غابت الشمس من ها هنا وجاء الليل من ها هنا فقد أفطر الصائم ) একবার, রমজান মাসে আমরা রাসুলের সাথে সফরে ছিলাম। সূর্য অস্তমিত হলে তিনি বললেন, হে অমুক ! নেমে এসে আমাদের জন্য ছাতু ও পানি মিশ্রিত ইফতার পরিবেশন কর। লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! এখনও তো দিবসের কিছু বাকি আছে। রাসুল পুনরায় বললেন: নেমে এসে আমাদের জন্য ছাতু ও পানি মিশ্রিত ইফতার পরিবেশন কর। বর্ণনাকারী বলেন: সে নেমে এসে ছাতু ও পানির ইফতার প্রস্তুত করে রাসুলের সামনে উপস্থিত করলে তিনি তা গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি হাতের ইশারা দিয়ে বললেন: সূর্য যখন এখান থেকে এখানে অস্ত যাবে এবং রাত্রি আগত হবে এতটুকু অবধি, তখন রোজাদার রোজা ভাঙবে। [বোখারি : ১৯৪১, মুসলিম : ১১০১।]
জনৈক সাহাবির সূত্র ধরে আব্দুল্লাহ বিন হারেস বর্ণনা করেন, আমি রাসুলের নিকট হাজির হলাম, তিনি সেহরি খাচ্ছিলেন। রাসুল বললেন: নিশ্চয় তা বরকত স্বরূপ, আল্লাহ পাক বিশেষভাবে তা তোমাদেরকে দান করেছেন, সুতরাং তোমরা তা ত্যাগ কর না। [নাসায়ি : ২১৬২, হাদিসটি সহি।]
যায়েদ বিন সাবেত হতে বর্ণিত, আমরা রাসুলের সাথে সেহরি খেলাম, অতঃপর তিনি সালাতে দণ্ডায়মান হলেন। আমি বললাম: সেহরি ও আজানের মধ্যবর্তী সময়ের স্থায়িত্ব কতটুকু? তিনি বললেন: পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াত পরিমাণ দৈর্ঘ্য। [বোখারি : ১৯২১।]
বিলম্বে সেহরি গ্রহণ রোজার জন্য সহজ, রোজাদারের জন্য প্রশান্তিকর; এবং বিলম্বে সেহরি গ্রহণের কারণে ফজরের সালাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, মুমিনের উত্তম সেহরি শুকনো খেজুর। [আবু দাউদ : ২৩৪৫, হাদিসটি সহি।]
আনাস রা. হতে বর্ণিত, (قال رسول الله صلي الله عليه و سلم -وذلك عند السحور-: يا أنس إني أريد الصيام، أطعمني شيئاً، فأتيته بتمر وإناء فيه ماء، وذلك بعد ما أذن بلال ) রাসুল (সা.) সেহরিকালে আমাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, হে আনাস, আমি রোজা রাখতে আগ্রহী। আমাকে কিছু আহার করাও। আমি তার সামনে শুকনো খেজুর ও একটি পাত্রে পানি উপস্থিত করলাম। বেলালের (প্রথম) আজানের পর তিনি সেহরি গ্রহণ করেছিলেন। [নাসায়ি : ২১৬৭]
রাসুল ইফতার করতেন দ্রুত। আনাসের (রা.) স্পষ্ট হাদিস এ বিষয়ের উৎকৃষ্ট প্রমাণ, তিনি বলেন: আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে, এমনকি এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও, ইফতার করা ব্যতীত মাগরিবের সালাত আদায় করতে দেখিনি। [ইবনে হিববান : ৩৫০৪, শাইখাইনের শর্ত অনুসারে হাদিসটির সূত্র বর্ণিত।]
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল বলেছেন تسحروا ولو بجرعة من ماء এক ঢোক পানি দ্বারা হলেও, তোমরা সেহরি গ্রহণ কর। [ইবনে হিববান : ৩৪৭৬, হাদিসটি হাসান।]
আমর বিন মায়মুন (রা.) বলেন: মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণ ছিলেন সকলের চেয়ে সর্বাধিক দ্রুত ইফতারকারী, এবং বিলম্বে সেহরি গ্রহণকারী। [আব্দুর রাজ্জাক : ৭৫৯১]
এই হলো সেহরি ইফতার গ্রহণের সুন্নতি তরিকা। এই হলো রাসুলের (সা.) আদর্শ। কিন্তু এখন মধ্যপ্রাচ্যের তো বটেই বাংলাদেশেও ইফতারের সময় যে আয়োজন করা হয় তাতে রোজা সঠিকভাবে পালন করাতো হয়-ই না বরং পবিত্র রমজান একটি অপচয়ের মাসে পরিণত হয়! সেহরিতেও তেমনি জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন লক্ষ্য করা যায়।
সংযমের মাসে এই অতিরিক্ত ভোগপ্রবণতার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরাও জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। রোজাদার ক্রেতা বা বিক্রেতা উভয়েই এভাবে অশেষ সওয়াব হাসিলের সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে।
শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও দেখা যায়, মানুষ হারাম ও অবৈধ খাদ্য দিয়ে ইফতার ও সেহরি গ্রহণ করছে, সেহরি ও ইফতারের পিছনে ব্যয় করছে অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ।

আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

অনলাইন ডেস্ক: সিয়াম বা রোজার প্রচলন হজরত আদম (আ.)-এর সময় থেকে। তবে সে সময় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো বিশেষ মাসে রোজা পালনে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে রসুল পাক (সা.)-এর পূর্ববর্তী নবীদের আমলেও রোজা ফরজ ছিল। অর্থাৎ আগের সব শরীয়তে রোজাকে ফরজ করা হয়েছে। হজরত নূহ (আ.) এবং হজরত দাউদ (আ.)-এর সময়ও রোজা পালন করা হতো।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ইবনে আমরকে রোজা পালনের আদেশ দেন এভাবে আল্লাহর কাছে যে রোজা উত্তম সে রোজা রাখ। আর সে রোজা হলো যা দাউদ রেখেছেন। তিনি একদিন রোজা রাখতেন আরেকদিন ইফতার করতেন। (মুসলিম) রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত হাদিস থেকে আমরা নিশ্চিত হতে পারি হজরত দাউদের আমলে রোজার প্রচলন ছিল। হজরত ইসা (আ.)-এর আমলেও রোজার প্রচলন ছিল। ইঞ্জিল শরিফে দার বাদশাহর সময়ে বাইতুল ইলের বাসিন্দা ও বনি ইয়াহুদাদের প্রতি রোজা রাখার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতদের আগে যে রোজা প্রচলিত ছিল তা ছিল কঠোর। কিন্তু আল্লাহ আখেরি নবীর উম্মতদের জন্য তা সহজ করে দেন। ইসলামে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এই বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী বা যারা শারীরিকভাবে রোজা পালনে অক্ষম তাদের জন্য শিথিলতার সুযোগ রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অসুস্থ অথবা ভ্রমণরত থাকবে, তার জন্য উল্লিখিত সংখ্যক রোজা অন্য সময় রাখতে হবে। আর যারা রোজা রাখতে অক্ষম, তাদের বিনিময়স্বরূপ (প্রতিদিনের জন্য) একজন করে মিসকিনকে খাবার দিতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক: মেধাবী ছাত্র, পড়েন মেডিকেল কলেজে। কিন্তু সন্তোষ নামে ২২ বছরের ওই মেডিকেল ছাত্রের মাথায় সামান্য টাক ছিল। তাতেই চিন্তিত।

এজন্য গতমাসে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। একটি সেন্টারে গিয়ে তিনি তার টাকে চুল লাগান। কিন্তু এর দুদিন পরই তার মৃত্যু হয়।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের চেন্নাইয়ে। সন্তোষের মা পি জোসেবিন জানিয়েছেন, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রক্রিয়া প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলে। প্রায় ১ হাজার ২০০ হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়। এজন্য সন্তোষের খরচ হয়েছিল ৭৩ হাজার রুপি। তবে এরপরই তার জ্বর শুরু হয়।
সন্তোষের বাবা-মায়ের অভিযোগ, যেখানে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয় সেখানকার চিকিত্সকরা কেউই সার্জেন ছিলেন না। সন্তোষের মৃত্যুর পরই তারা পালিয়ে গেছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারটির শুধুমাত্র সেলুন চালানোর লাইসেন্স ছিল। এমনকি ওই লাইসেন্সের মেয়াদও কয়েকমাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। সেখানে ন্যূনতম পরিকাঠামোও নেই। ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়।

এ ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। সন্তোষের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন ডেস্ক: বলিউডের বহুপ্রতীক্ষিত ছবি আশিকি থ্রি-এর নায়ক-নায়িকা কে হবেন, তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। এই তালিকায় ছিলেন হৃতিক রোশন, কঙ্গনা রনৌত ও সোনম কাপুর। গত মাসে বলা হলো সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও আলিয়া ভাট মূল দুটি চরিত্রে অভিনয় করবেন। কিন্তু এখন আলিয়া বলছেন ভিন্ন কথা। বলছেন, এই ছবিতে তাঁর চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়।

এক মাস আগে সিদ্ধার্থই খবরটা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আশিকি থ্রি-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় আবারও জুটিবদ্ধ হতে যাচ্ছেন তিনি ও আলিয়া। এমনকি ছবির প্রযোজক মুকেশ ভাটও বলেছিলেন, সিদ্ধার্থ ও আলিয়াকে আমরা এই ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছি। আমরা যথার্থ নায়ক-নায়িকার খোঁজে ছিলাম। আমার মনে হয়, তাঁরা এই ছবির জন্য পুরোপুরি মানানসই।

সব যখন ঠিকঠাক, তখন আলিয়ার আবার কী হলো? হাইওয়ে তারকা আলিয়ার ভাষ্য, এটা সত্যি, আমি আর সিদ্ধার্থ এই ছবির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সবে ছবিটির চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে। আমি এই ছবিতে থাকছি কি না, সে বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছি না।
সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও আলিয়া ভাট এর আগে
স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার কাপুর অ্যান্ড সন্স ছবিতে অভিনয় করেছেন। বলিউডে তাঁদের প্রেম নিয়ে আছে জোর গুঞ্জন। মিড ডে।

অনলাইন : নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭ টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মনসুর, মো. ফোরকান এলাহী অনুপম ও মো. আনিসুল ইসলাম। সহযোগীতা করেন শিক্ষানবীশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলি ও তানিয়া মুন।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান জানান, পণ্যে ভেজাল মেশানো, মূল্যবৃদ্ধি, পণ্যের মূল্যতালিকা না টানানোসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৭ টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এ অভিযান পরিচালনা করে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক লবণ ব্যবহার করে মুড়ি ভাঁজার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরো জানান, বহদ্দারহাট এলাকায় ৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩০ হাজার, আগ্রাবাদ কর্ণফুলি মার্কেট এলাকায় ১১টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৯ হাজার টাকা, কর্ণেলহাট বাজারে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সাভার: জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই টার্গেট কিলিং শুরু করা হয়েছে। বাঙ্গালীরা বীরের জাতি। আমরা যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি। দুএকটা খুন করে আমাদের মনে ভয় ধরানো যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষন কেন্দ্রের ৬১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানের সনদ বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, বাঙ্গালীর মনে ভয় ধরানোর জন্যই এ ধরনের হত্যাকান্ড ঘটানো হচ্ছে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। তারা অপরাধীদের ধরতে অভিযানও করছে।
প্রধান অতিথি এ সময় প্রশিক্ষন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করায় সকল প্রশিক্ষনার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ এর অসমাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অপরিহার্য দায়িত্ব। সুশাসনের একটি পূর্বশর্ত হলো সেবামুখী, জনমুখী সিভিল সার্ভিস যারা সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবেন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে তার বাস্তবায়ন করবেন।
এজন্য তিনি কেদ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদেরকে তাদের জ্ঞানের চর্চায় জনগন ও সরকারের প্রত্যাশা পূরনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তত্ত্ববধানে ৯টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন হওয়া ৬ মাস মেয়াদী এ প্রশিক্ষণ কোর্সে জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৭টি ক্যাডারের মোট ৫৪৫জন নবীন কর্মকর্তা অংশগ্রহন করেন।
জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি, খোরশেদ আরা হক এমপি, বিপিএটিসি
র রেক্টর আ, , , আবদুর রহমান এনডিসিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিএটিসির পরিচালকসহ আরো অনেকে।
সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সেরা ৫৫জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাকে সনদ ও মেরিট মেডেল প্রদান করেন। এছাড়াও সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী সহকারী পুলিশ কমিশনার আতিকুল ইসলাম প্রধানকে রেক্টর পদক প্রদান করা হয়।

ঢাকা: জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে পুলিশ। দেশব্যাপী এ অভিযান আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হবে। চলবে ৭ দিন।

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল এ কে এম শহীদুল হক এর সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ওপর করণীয় নির্ধারণ সম্পর্কে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, রেলওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ আবুল কাশেম, ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া, সকল কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং ঢাকা, টাংগাইল, গাজীপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, বগুড়া, ঝিনাইদহ ও নাটোর জেলার পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী প্রচারণা জোরদার করতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিউনিটি পুলিশিংকে কাজে লাগাতে হবে। আইজিপি এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী খুনের ঘটনাকে অত্যন্ত নির্মম বর্বরোচিত ও দুঃখজনক ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন। আইজিপি দৃঢ় মনোবল নিয়ে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, টিম স্পিরিট নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।সভায় দেশব্যাপী জঙ্গিদের তালিকা হালনাগাদ করা, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারী বাড়ানো, ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিংকে কার্যকর করা, আগন্তক ও ভাড়াটিয়াদের ওপর নজরদারী বাড়ানো, বিদেশীদের নিরাপত্তা দেয়া ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার শুরুতে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুনের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর জনসংযোগ কর্মকর্তা এ. কে. এম. কামরুল আহছান গণমাধ্যমে পাঠানো এ বিবৃতিতে জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল এ কে এম শহীদুল হক সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত মাহমুদা খানম মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তারের রাজধানীর বনশ্রীর বাসা পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, একজন পুলিশ সুপারের স্ত্রীর এভাবে খুন হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। আইজিপি এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
আইজিপি বাবুল আক্তারের দুই সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের খোঁজখবর নেন। তিনি মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় আইজিপি পত্মী বেগম শামসুন্নাহার রহমান এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা: পুলিশের এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যায় আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

আজ সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে সংঘটিত আলোচিত সব গুপ্তহত্যার সঙ্গেই আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা জড়িত। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সাত খুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করলে শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে। এঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর সঠিকভাবে বিচার হলে শেখ হাসিনা দোষী হবেন বলেও মন্তব্য করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।  

 ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, এঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর সঠিকভাবে বিচার হলে শেখ হাসিনা দোষী হবেন। আজ সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশের এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যায় আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা জড়িত। দেশে সংঘটিত আলোচিত সব গুপ্তহত্যার সঙ্গেই আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা জড়িত বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢ‍াকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট।বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয়।

বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী অংশগ্রহণ করেছেন।বৈঠকের আলোচিত বিষয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাত করতে গিয়েছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত। লুট হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রদূত আশা ব্যক্ত করেছেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৮২০ কোটি টাকা লুট হয়। এর মধ্যে শ্রীলংকা থেকে কিছু অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অর্থ রয়েছে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও হাতিয়ে নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির কাছে। ফিলিপাইন এখনো দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিয়েছে। অর্থ লুটের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে এমন রিপোর্ট দিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় অনলাইন : ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি তার দেশের গোয়েন্দা প্রধানসহ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিভাগের প্রধান এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন।
ইরাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এসব কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে ইরাকের কমার্শিয়াল ব্যাংকও রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে হায়দার আল-এবাদির কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ‌'নতুন কর্মকর্তারা ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জাতীয় পরিকল্পনার আওতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প, গৃহায়ণ এবং বাণিজ্যিক প্রকল্পকে ঋণ দেয়ার কাজে গতি আনবেন।'যেসব কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে তারা সবাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন। সম্প্রতি, ইরাকে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে। দেশটির শিয়া আলেমরা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।
সূত্র : রেডিও তেহরান

জনপ্রিয় অনলাইন : দুটি রাজনৈতিক দলের মদদে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে গুপ্তহত্যা চলছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট, আমি তথ্য ছাড়া কথা বলি না।

সব তথ্য হয়তো তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু আমি অমূলক কথা বলি না। সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এর আগে সৌদি আরব, জাপান ও বুলগেরিয়া সফর করেছেন তিনি। এই সফরে দেশগুলোর সরকার প্রধানদের সাথে বৈঠকের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা, বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উঠে আসে এই সংবাদ সম্মেলনে। সাম্প্রতিক সময়ে টার্গেট কিলিং সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি চায় না, যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচারে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে তারাই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। গুপ্ত হত্যার বিষয়ে আপনারা নিজেরা চিন্তা করে দেখেন, কারা টার্গেট কিলিং করছে। কারা বলে-গুলি কর, বৃষ্টির মতো গুলি কর, মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী। বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের সময় নাশকতার বিষয়ে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করলে তারা মানুষের রুদ্ররোষের স্বীকার হয়। এজন্য তারা এখন গুপ্তহত্যায় নেমেছে। তারা এমন মানুষকে হত্যা করছে যাতে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব করে পার পাওয়া যাবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের বিচার হবে। কোনো ঘটনা ঘটলে বিরোধী দলের প্রতি দোষারোপ করলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে চলে যায় কি-না, এমন এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই ধরনের চিন্তা করছে, পার পেয়ে যাওয়া জঙ্গিরা কারা তাদের পরিচয় যদি কেউ জেনে থাকেন তাদের বিষয়ে আমাদের অবহিত করুন। সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের ধরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে তুলে দিন। এসব ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের দিকে আঙুল তুলে শেখ হাসিনা আবারো বলেন, ভেবে দেখুন কারা একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। কারা স্বাধীনতার বিরোধীতাকারীদের গাড়িতে পাতাকা তুলে দিয়েছে, কারা ৭৫-এর খুনীদের পুনবার্সিত করেছে, কারা একুশে আগস্ট বোমা হামলা করেছে, কারা টুঙ্গিপাড়ায় বোমা হামলা করেছে। এসব ঘটনায় জড়িত সবাই বিএনপি-জামায়াতের লোক। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে জয় কি অপরাধ করেছে? তাকে অপহরণ করার জন্য কত টাকা ব্যয় করেছে, এটা তো আপনারা জানেন। এর সাথে কারা জড়িত। সবই তো আপনারা জানেন। কয়দিন আগে লালগোলাপ খ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিককে এই কারণে গ্রেফতার হলেন। তিনি কোন দলের লোক? অথচ এই কারণে আপনারা অনেকেই ভেঙে পড়েছেন। গ্রেফতারের বিরোধিতা করেছেন। এখন আবার গুপ্ত হত্যা চলছে। এ পর্যন্ত যারাই এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং ধরা পড়েছে তারা এ দুটো রাজনৈতিক দলের সাথে আছে। ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা নতুন নয়: প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গ। এবারের নির্বাচন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সহিংস ও প্রাণঘাতি-গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে বেশি সহিংস নির্বাচন-এটা আমি মানি না। কারণ, নির্বাচনে সহিংসতা নতুন নয়। অতীতকাল থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘর্ষ হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং এর আগের নির্বাচনগুলো কোনোভাবেই এবারের চেয়ে কম সহিংস ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে। ৮৬ সালের নির্বাচনে একই অবস্থা ছিল। ৯৬ সালের কথা কি আপনারা ভুলে গেছেন? ২০০১ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। ২০০৩ সালের ইউপি নির্বাচনে কত মানুষ মারা যায়। বরং আমরা অনেক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছি। এখন সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে। তারাই সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে হ্যাঁ, যেসব ঘটনা ঘটেছে তার কোনোটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী নির্বাচনে যেন এসব ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা দৃষ্টি রাখবো। এ সময় শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি আমলে বেশ কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। তারা এবার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা খবর নিয়ে দেখেছি, বেশ কিছু জায়গায় তারা গন্ডগোল ঘটিয়েছে। দলীয়ভাবে নির্বাচন করায় এবার বেশী সহিংসতা হয়েছে এ মতের বিরোধীতা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্থানীয় সরকারকে আরো বশেী মক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক করতেই দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত করি। তবে প্রথমবার কিছু করতে গেলে একটু সমস্যা হয়, ভবিষ্যতে তা কেটে যাবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সাথে দলের বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ বেশি হয়েছে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, বিষয়টি ঠিক নয়। কারণ, বেশিরভাগ সংঘর্ষ হয়েছে ইউপি সদস্য প্রার্থীদের সাথে। সেখানো তো আমাদের কোনো মনোনয়ন ছিল না। তবুও বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন নয়: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে কীনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো দেশের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বিশ্বাসী নই। পাকিস্তানের সাথে কটনৈতিক সম্পর্ক আছে এবং থাকবে। আর পাকিস্তান যা বলছে, তাদেরকে আরো বলতে দেন। তাদের বলার মাধ্যমে প্রমাণ হয়না যে, বিএনপি-জামায়াত তাদের এজেন্ট এবং দোসর ছিল? তিন দেশ সফর প্রসঙ্গ: এর আগে লিখিত বক্তব্যে বুলগেরিয়া, জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাথে এই তিনটি দেশের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো ভালো হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহী তিনটি দেশই। শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমবারের মতো সৌদি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ঈদুল আজহার পর তাদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। আমরা জমি দেবো, তারা বিনিয়োগ করবেন। আর এতে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে আমরা ভাবতাম সৌদি আরবে কেবল শ্রমিক পাঠাবো। কিন্তু এখন থেকে আমারা দক্ষ শ্রমশক্তি পাঠাবো, যারা যাবে তাদের কর্মনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সেটিও তারা নিরাপত্তা দেবে। বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিকদের সাথে তার পরিবারের সদস্যরাও যেতে পারবে। সেই সুযোগটিও আমরা নিশ্চিত করে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরব বসন্তের নামে যে রক্তপাত চলছে তা বন্ধে সৌদী সরকার নিয়েছে আমরা সেখানে নীতিগতভাবে সাড়া দিয়েছি। সৌদি আরব সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমরা বলেছি এই দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময় সহায়তা করবে। সৌদি সামরিক জোটে সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ৪০টি দেশ তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আমাদের সেনা প্রধানও সে দেশ ঘুরে এসেছেন।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget