2016-05-08

ঢাকা: ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এবং মিশন প্রধান ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের নৃশংসতায় লিপ্ত ইসরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে বাংলাদেশের 
যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা।তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের নেতারা যদি ইসরায়েলের কোনো রাজনৈতিক দল, তাদের নেতা এবং এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে, সেটি হবে তাদের রাজনৈতিক আত্মহত্যা। এই ধরনের কাজ ফিলিস্তিনি জনগণের চেয়েও দলের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর হবে।ওয়াই রামাদান বলেন, ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই দৃঢ়। রাজনৈতিক ও ধর্ম বিশ্বাস নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশির নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি দৃঢ় সমর্থন রয়েছে।ফিলিস্তিন দূতাবাসে এক সাংবাদিক সম্মেলনের পর সম্প্রতি ভারতের আগ্রায় ইসরায়েলি লিকুড পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি একথা বলেন। নকবা দিবসের ৬৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আল নকবা অর্থ হচ্ছে ধ্বংস। ১৯৪৮ সালে নতুন রাষ্ট্র ইসরায়েল গঠনের পথে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের শত শত নগর ও গ্রাম ধ্বংস এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের পৈতৃক বসতবাড়ি থেকে বহিষ্কারের ঘটনাকে এই দিবসে পালন করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে দূত বলেন, এ ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ এবং দলের নীতির পরিপন্থি বলে বিএনপি প্রধানের উচিত দলের নেতাকর্মীদের কাছে সুস্পষ্ট বার্তা পাঠানোর জন্য আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।এ সাক্ষাতের বিষয়ে বিভিন্ন দৈনিকে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, বিএনপি নেতা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে দলের (বিএনপি) কোনো সম্পর্ক নেই। ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতি দলের খুবই জোরালো সমর্থন রয়েছে।মির্জা ফখরুলের উদ্ধৃতি দিয়ে রামাদান আরও বলেন, আসলাম চৌধুরী ইসরায়েলের লোকটিকে চিনতেন না এবং সবকিছুই ভুলক্রমে ঘটেছে।এই দূত বলেন,বিএনপির মহাসচিব সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক অস্বীকার করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এই বিষয়ে দল দুঃখিত।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধকারীদের চলমান বিচার সম্পর্কে তার মন্তব্য জানতে চাইলে দূত সুস্পষ্টভাবে বলেন,এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বাইরে থেকে কারোর এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়।
তিনি আরো বলেন,আমরা ফিলিস্তিনিরা ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের হত্যাকা- সম্পর্কে মর্মাহত। এই ধরনের নৃশংসতা ও হত্যাকা- কেউ সমর্থন করতে পারে না।
বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন,দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ১৯৭১ সাল থেকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের মধ্যে যে সম্পর্কে ছিল তা দুটি দেশের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
সূত্র: বাসস

জনপ্রিয় ডেস্ক : ৭ মিনিটেই দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার জালে বল পাঠালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা স্বপ্নও তাতে বেড়ে গেল। ম্যাচের আগেই তো কোচ জিনেদিন জিদান নিজেদের কর্তব্য বলে দিয়েছেন, শুরুতেই গোল করে বার্সেলোনাকে চাপে ফেলে দিতে হবে। কিন্তু রিয়ালের যদি একজন রোনালদো থাকে তবে বার্সেলোনারও তো আছে একজন লুইস সুয়ারেজ। এই স্ট্রাইকারের হ্যাটট্রিকেই ২৪ তম লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত হলো বার্সেলোনার।

বার্সেলোনার জন্য সমীকরণটি ছিল খুব সহজ। নিজেদের ম্যাচে জিতলেই হবে। আর রিয়ালের ক্ষেত্রে একটু জটিল। শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই চলবে না। বার্সেলোনাকেও পয়েন্ট হারাতে হবে। বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের চাপে রাখতে জিদান বলেছিলেন, শুরুতেই গোল। রোনালদোর গোলের খানিক পরই গ্রানাডার গোললাইন থেকে জেরার্ড পিকের হেড ফিরে এল। তখন মনে হচ্ছিল জিদানের কথাই বুঝি সত্য হয়ে গেল। চাপেই কী পড়তে যাচ্ছে বার্সেলোনা?
একটু পরেই মেসির চমৎকার এক পাস পেয়েও হেলায় সুযোগ হারালেন নেইমার। একটু হলেও শঙ্কা জাগছিল, মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি সময় এগিয়ে থেকে শেষ দিনে এসে কি শিরোপা হাতছাড়া হচ্ছে বার্সেলোনার? কিন্তু ২২ মিনিটে জর্ডি আলবার পাসে সুয়ারেজের গোলে স্বস্তি ফিরে পেল বার্সা। অন্যদিকে করুনিয়ার মাঠে একটু পরেই রোনালদোর দ্বিতীয় গোল আবারও আশা জাগাল রিয়াল সমর্থকদের মনে। ১টি গোলই তো, গ্রানাডা গোল করে ড্র করলেই যথেষ্ট; শিরোপা উঠে যাবে রিয়ালের হাতে। কিন্তু রিয়ালের সব আশা ফুরোল ৩৮ মিনিটে। দানি আলভেজের ক্রস থেকে সুয়ারেজের হেড যখন আশ্রয় নিল গ্রানাডার জালে। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে বার্সা তখন থেকে পেতে শুরু করল শিরোপার সুবাস। 


অন্য মাঠে রিয়ালের খেলাতেও পড়ল সেই ছাপ। শিরোপা জেতা অসম্ভব দেখে এতক্ষণ দারুণ খেলা রিয়ালের খেলায়পড়ল আলস্যের ছাপ। বার্সেলোনা শিরোপা ধরে রাখার আনন্দে আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে গেল। তার ফল মিলল ৮৬ মিনিটে। নেইমারের বাড়িয়ে দেওয়া পাসে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন সুয়ারেজ। ৪০ গোল করে দলকে শিরোপাজেতানোর পাশাপাশি নিজের পিচিচি ট্রফিও নিশ্চিত করে নিলেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার।
গোলের খেলাতেও রিয়ালকে হারিয়ে দিল বার্সেলোনা। এ মৌসুমে লা লিগায় ১১২ গোল করেছে বার্সেলোনা। আর রিয়াল মাদ্রিদের গোল ১১০টি। বার্সার রাতে হতাশাই সঙ্গী হলো রিয়ালের। গত ৮ মৌসুমে মাত্র ১ বার লা লিগাজিতেছে ক্লাবটি। ১৯৫৩ সালের পর এতটা বাজে সময় পার করেনি লস ব্লাঙ্কোরা।

রনি মোহাম্মদ,(লিসবন,পর্তুগাল): শৈল্পিক অনুপ্রেরণা, বিশ্বর বিভন্ন দেশের অভিবাসীদের হাতের তৈরি সুস্বাদু  খাবারের প্রতিভার মধ্যে দিয়ে পর্তুগালে রাজধানী লিসবনে ''কম্পার্তের'' আয়োজনে

অনুষ্ঠিত হলো ফুড ফ্যাষ্টিবল। ''কম্পার্তে'' পর্তুগালে বিশ্বর বিভন্ন দেশের সাংস্কৃতি ও অভিবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে প্রতিষ্টিত হয়। প্রতিষ্টাতার পর থেকে বিশ্বর বিভন্ন দেশের অভিবাসীদেরকে নানান ভাবে অভিবাসন সমস্যা সমাধানের সহযোগীতা করে আসছে।''কম্পার্তে'' পর্তুগালের একটি অলাভজনক সংস্থা। তারই প্রেক্ষিতে শুক্র বার ''কম্পার্তে'' পর্তুগালের কার্যলয়ে বিশ্বর বিভিন্ন দেশের খাদ্যের সাথে এবং বিভিন্ন ভাষাবাসি অভিবাসিদেরকে পরিচিতি করার জন্য আয়োজন করা হয় ''কম্পার্তে'' ফুড ফ্যাষ্টিবল। এতে অংশ নেয় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মরক্কো, নেপাল, ক্যামেরুন, গিনি বিচাও, সোমালিয়া, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল সহ ১৮টি দেশের ৬০ জন ''কম্পার্তের'' সদস্য। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ''কম্পার্তে'' সদস্য এনামুল হক ও লিসবন বাংলা রেষ্টোরেন্টের সৌজন্যে বাংলাদেশী খাবার চিকেন বিরানী, সাদা পোলাও, বাংলা সালাদ, দেশী জিলাপি পরিবেশন করা হয়।


 বিভন্ন দেশের সাংস্কৃতি, পোশাক, খাবারের সাথে সকলকে পরিবার আত্মার আত্মায় বন্দনে সংযুক্ত করার জন্য এই আয়োজন বলে জানায় ''কম্পার্তের'' পর্তুগালের মুখপাএ মার্গারিডা আল্পুইম, বরুনা আলভেস, মারিয়া মিনাস। 
ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন : 

জনপ্রিয় ডেস্ক: জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ দলটির অন্য নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ও অন্যান্য দেশের কাছে তুলে ধরবে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ এ কথা জানিয়েছেন।পাকিস্তানের দৈনিক ডেইলি পাকিস্তান-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।আজ শুক্রবার সিনেটে বক্তব্য দেওয়ার সময় সারতাজ আজিজ বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধী নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় তিনি দুঃখ পেয়েছেন। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।আজিজ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দাবি করেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় চুক্তিরও লঙ্ঘন।
সিনেটের প্রধান রাজা জাফারুল হক বলেন,
বাংলাদেশে যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আর কাউকে ফাঁসি দিতে না পারে, সে জন্য মুসলিম দেশগুলোকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।এর আগে সিনেট সদস্যরা নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় তুরস্ক ঢাকায় নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেওয়ার খবরকে স্বাগত জানান। এমনকি এ বিষয়ে পাকিস্তানেরও এমন শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। যদিও তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সন্ধ্যায় বলেন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের তথ্যটি সঠিক নয়। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেউরিম ওজতুর্ক কয়েক দিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে জানান, ১২ মে তিনি ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন, সেটিও তিনি উল্লেখ করেছেন। তা ছাড়া কোনো দেশ তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কথা। তুরস্ক তেমন কিছু বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
নিজামীর ফাঁসিতে উদ্বেগ জানিয়ে আগেও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে প্রস্তাব পাস হয়েছে ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এ ছাড়াও পাকিস্তানে বিভিন্ন মহল থেকে শোক ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিভিন্ন সংগঠন। 

অনলাইন ডেস্ক: প্রথম বাংলাদেশি নারী মেয়র হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে নাম লেখালেন সিলেটেরে মেয়ে নাদিয়া শাহ। কেমডেন কাউন্সিলের রিজেল্ট পার্ক ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর নাদিয়া শাহ। তিনি ২০১৬-২০১৭ সালের জন্য মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বুধবার রাতে।

একই সঙ্গে পুরো যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি নারী মেয়র হিসেবেও তার নাম লেখা থাকবে। কেমডেনে এর আগে যুক্তরাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী বাংলাদেশি মেয়র ছিলেন নাসিম আলী। তিনিও সিলেটের সন্তান, ওসমানীনগর উপজেলার বড় হাজীপুরে তাদের গ্রামের বাড়ি।
নাদিয়া শাহর জন্ম ও বড় হয়ে উঠেছেন লন্ডন সিটিতে। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম ও মায়ের নাম আম্বিয়া ইসলাম। নাদিয়া শাহর স্বামী জলিল শাহ একজন আইটি স্পেশালিস্ট। তাদের তিন সন্তান রয়েছে।

ব্যাংকার নাদিয়া শাহর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায়। কেমডেনের মেয়রের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আমার দায়িত্বের মধ্যদিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

অনলাইন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী অক্টোবরে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুব্রামানিয়াম জয়শংকরের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান পররাষ্ট্রসচিব এম শহীদুল হক। এর আগে বুধবার বিকেলে দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে ভারত সফরে মোদির আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারত সফরের ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। সাংবাদিকদের তিনি জানান, আগামী অক্টোবরে পাঁচ দেশের সংগঠন ব্রিকসের সম্মেলন হবে ভারতে। এ সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান মোদি। আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। বৈঠক শেষে জয়শংকর সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে ঢাকার পাশে নিবিড়ভাবে প্রতিবেশী ভারত থাকবে। 

অনলাইন : নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, পাকিস্তান ৭১ সালে যেভাবে পরাজিত হয়েছে, তাতেও ওদের লজ্জা হয়নি। নৌমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনষ্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করে দিয়েছে। তাই বিজ্ঞানকে আমাদের জীবনের অংশ হিসেবে নিতে হবে। মন্ত্রী আজ মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিন দিনব্যাপী সপ্তম বিজ্ঞানমেলা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের এ আহ্বান জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি। বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন, গভর্নিং বডির সদস্য দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ। শাজাহান খান বলেন, পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করা উচিত। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করে তাদেরকে অবশ্যই বিজ্ঞানমনষ্ক হতে হবে। বিজ্ঞান মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেয়। তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা দেখেছ একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পেট্রলবোমা মারার নির্দেশ দিয়ে পুলিশ, রিকশাওয়ালা, বাসের ড্রাইভার হেলপারসহ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হত্যা করেছে। তিনি বলেন, পকিস্তানের জামায়াতে ইসলাম যুদ্ধাপরাধী নিজামীর জন্য মায়াকান্না করছে। ওদের কত বড় স্পর্ধা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে। '৭১ সালে যেভাবে তারা পরাজিত হয়েছে, তাতেও ওদের লজ্জা হয়নি। 

জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম  শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করা হয়েছে- এ রকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়ে গেছেন যে তিনি বাংলাদেশের বাইরে যাচ্ছেন। তার অবর্তমানে দায়িত্বপালনকারী কূটনীতিকের নামও উল্লেখ করে গেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ঢাকা ছাড়ার আগে যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন, তা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কোনো দেশ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিলে তা সাধারণত বলে করা হয়। তুরস্ক সেটা করেনি। শাহরিয়ার আলম বলেন, পাকিস্তান আর তুরস্কের প্রতিক্রিয়াকে এক পাল্লায় মাপার সুযোগ নেই। পাকিস্তানের বিষয়টা অনেক বেশি গুরুতর। আমাদের জন্য তা খুবই বিরক্তিকর। তিনি বলেন, পাকিস্তান শুধু যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির নিন্দাই করেনি, অতি সম্প্রতি কমনওয়েলথের একটি বৈঠকে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষাবলম্বন করে বক্তব্য দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সেটা মাথাব্যথার কারণ। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টা আমরা মাথায় রাখব। শাহরিয়ার আলম বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের চেয়ে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রই বেশি হচ্ছে। 

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর কবর জিয়ারতে আজ শুক্রবার হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। কবর জিয়ারত করেন বিভিন্ন 

বয়সের নারী-পুরুষ। এসময় তার রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আজ শুক্রবার কবরস্থান সংলগ্ন মসজিদের জুমায়ার নামাজের পূর্বে খুৎবা পাঠ ও দোয়া পরিচালনা এবং কবরস্থানে কবর জিয়ারতে উপস্থিত হাজারো মানুষের সাথে দোয়া পরিচালনা করেন নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাপাইনবাবগঞ্জের সাবেক এমপি লতিফুর রহমান, রাজশাহী মহানগরীর সাবেক আমীর আতাউর রহমান, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, সেক্রেটারী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, নিজামীর ছেলে ডা: নাইমুর রহমান খালিদ, চাপাইনবাবগঞ্জের সাবেক আমীর রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।


শুক্রবার সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে থাকে কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। জুমার আগে প্রায় ২০ দফায় জিয়ারত করে পৃথক পৃথক মোনাজাত করা হয়। প্রত্যেক দলে শতশত লোক মোনাজাতে অংশ নেয়। নিজামীর বাড়ি সংলগ্ন জামে মসজিদে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নামাজের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ মসজিদের পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও আশপাশের বাগানে চটের ছালা বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে কবর জিয়ারত করেন মুসল্লিরা। এসময় রাস্তায় মানুষের ঠাসা ভীড়ে প্রায় দেড় ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জেলার বাইরে থেকে বাস ও মাইক্রো নিয়ে জিয়ারতে অংশ নেয় নেতাকর্মীরা। 

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ ঋণ খেলাপির অভিযোগে বিয়ানীবাজারের দুবাগ ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্ণিং কর্মকর্তা। আজ বুধবার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাঁছাইকালে বিএনপির এই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে দেন রিটার্ণিং কর্মকর্তা আবুল মনসুর আসজাদ।
জানা যায়, ইসলামি ব্যাংক বিয়ানীবাজার শাখায় নুরুল কিবরিয়ার ভাই নুরুল আম্বিয়ার ঋণ ছিলো। এ ঋণের জিম্মাদার ছিলেন নুরুল কিবরিয়া। আর একারণেই মুলত ব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রিটানিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

এব্যাপারে নুরুল কিবরিয়ার ভাই নুরুল আম্বিয়া বলেন, ব্যাংকের সাথে আলোচনায় চলছে। তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করলে আইনি ঝামেলা পোহাতে হবে না। নতুবা আদালতের মাধ্যমে মনোনয়ন ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালানো হবে।

মোহা: আব্দুল মালেক হিমু, প্যারিস-ফ্রান্স  : প্যারিসে বাংলাদেশ দুতাবাসের আয়োজনে  দূতাবাস প্রাঙ্গণে ৮ মে রোববার  একযোগে উদযাপিত হল বাংলা নববর্ষ-১৪২৩ এবং রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ২০১৬ । অনুষ্ঠানকে ঘিরে উৎসবের আমেজে ভরপুর ছিল দূতাবাস প্রাঙ্গণ। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী নারী-পুরুষ এবং শিশু-কিশোর রং বেরং-এর পোশাক পরিধান করে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

দূতাবাসের প্রথম সচিব ফারহানা আহমেদ চৌধুরীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত এম, শহিদুল ইসলাম তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের লৌকিক উৎসব; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর মানুষ এ উৎসবকে  ঐতিহ্যগতভাবে পালন করে আসছে, এ ধারাবাহিকতায় দুতাবাস প্রতি বছরই নববর্ষ ও রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালন করে আসছে । তিনি নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ এবং বিদ্রোহী কবি নজরুলের কাব্যিক ও সঙ্গীত জীবনের উপর আলোকপাত করে বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সমৃদ্ধিকরণে এই দুই মহান কবির অবদান অনন্য সাধারণ। তিনি আরো বলেন যে, বাঙালীর জাতীয় সংস্কৃতিতে সবিশেষ গুরুত্ব বহনকারী তিনটি দিবসই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে।

দূতাবাসের নিজস্ব আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহারী খাবার পরিবেশন করা হয় । খাবারের মধ্যে ছিল পান্তা ভাত, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, শুটকিমাছ ভর্তা, ডাল, দেশী মাছ, তেলি ভাজা পিঠা, পাটিশাপ্টা পিঠা সহ হরেক রকমের পিঠা ।


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দূতাবাস পরিবার, ফ্রান্স-বাংলা স্কুলের শিশুরা, স্বরলিপি শিল্পিগোষ্ঠির শিল্পিরা ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পীরা বাংলা নববর্ষ সংশ্লিষ্ট সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি ও লালন গীতি পরিবেশন করেন।  কবিতা আবৃতি করেন দুতাবাসের হেড অব চান্সেরি হজরত আলী খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড সৈয়দ কামাল আহমেদ এবং ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয় ইনালকোর বাংলা বিভাগের ছাত্রী মিস নিনা । এ সময় অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ফ্রান্সে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পী-কলা-কুশলী, সাংবাদিক এবং পেশাজীবিগণ ।

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ জামায়াত শিবিরের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে মিছিল করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা, কলেজ ও পৌর ছাত্রলীগ। আজ বেলা ২টায় উপজেলা ছাত্রলীগ 

আয়োজিত মিছিলটি বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ গেইট থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় ডাক বাংলো প্রাঙ্গনে এক প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে শেষ হয়। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল হক রাজুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, জামায়াত শিবিরের আজকের অযৌক্তিক হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্রলীগ অতন্ত্র প্রহরীর মত রাজপথে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এসময় বক্তারা, চট্রগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নিঃশর্ত মুক্তিও দাবী করেন। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ছিদ্দিকুর রহমানের পরিচালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা মাসুম আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের অন্যতম সদস্য কাওছার আহমদ ও জাফর আহমদ,ছাত্রলীগ নেতা অনির্বান চন্দ্র পল্লব, আল নোমান, এবি ছিদ্দিক, জামিল আহমদ, রাসেল আহমদ, পৌর ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া আহমদ, সাইদুজ্জামান অপু, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা নাহিদুল ইসলাম, আহমেদ ফয়েজ হানিফ, রনি আহমদ, মাসুদ আহমদ জনি, ছাব্বির আহমদ, জাফরান আহমদ, দিপন, ফুরাদ, শুয়েব, জয়, পায়েল, শিবলী, নিজু, ছাদিক, ইমরুল, রাফি, শাকের প্রমুখ।  

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইতিহাসের দায়মুক্তির ক্ষেত্রে আরও অনেক দূর এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১০ মে) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে এই দায়মুক্তির পথ সুগম হয়েছে।
নিজামীর ফাঁসির রায়কে ঘিরে দিনভরই দেশীয় সংবাদমাধ্যম ছিল দারুণ তৎপর। প্রতিটি মুহূর্তে ফাঁসির প্রস্তুতি, কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও সবশেষে ফাঁসির খবর দেশবাসীকে জানিয়েছে তারা। এ নিয়ে তৎপর ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও।
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খবরটি স্ক্রল দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ব্রেকিং নিউজ আকারে প্রতিবেদন করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি, রয়টার্স, ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এএফপি, পাকিস্তানভিত্তিক ডন অনলাইন, জিও টিভি ইত্যাদি সংবাদমাধ্যম।
এছাড়া তৎক্ষণাৎ গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি প্রচার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এপি, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, ইয়াহু নিউজ, যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, জার্মানির ডয়েচে ভেলে, ভারতের এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, ওয়ানইন্ডিয়া, ফিলিপাইনের ৠাপলার.কম, ইসরায়েলের জেরুসালেম পোস্ট, লেবাননের ডেইলি স্টার, ফ্রান্সের ফ্রান্সটোয়েন্টিফোর.কম, পাকিস্তানের পাকিস্তান টুডে প্রভৃতি সংবাদমাধ্যম।
তবে, এ খবর প্রচারে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তাদের তৈরি প্রতিবেদনই। বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমই নিজামীর যুদ্ধাপরাধী পরিচয়ের চেয়ে ইসলামী দলের নেতা বিরোধী নেতা ইসলামী নেতা পরিচয় দিতে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে যেন। প্রতিবেদনগুলোতে নিজামীর যুদ্ধাপরাধের কোনো কোনো বর্ণনা না থাকলেও ছিল ট্রাইব্যুনাল ও রায়কে ঘিরে কথিত অভিযোগর ফিরিস্তি।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হলো শিরোনামে স্ক্রল দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আল জাজিরা তাদের প্রধান খবর হিসেবে প্রচার করতে থাকে এ খবরটি।
স্ক্রলকেই শিরোনাম বানিয়ে এ খবরে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করার দায়ে নিষিদ্ধঘোষিত জামায়াত-ই-ইসলামীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে বাংলাদেশ।
নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর উদযাপন করতে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমেছে বলেও খবরে উল্লেখ করে আল জাজিরা।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হয়েছে বললেও আল জাজিরার সংবাদে ছিল না নিজামীর অপকর্মের কোনো বর্ণনা। বরং বেশিরভাগজুড়েই ছিল তাকে দণ্ড দেওয়া আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কথিত অভিযোগ
ব্রেকিং নিউজ আকারে প্রথমে প্রকাশের পর এখন এ খবরটিকে প্রধান খবর হিসেবে প্রচার করছে বিবিসি অনলাইন। তবে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও সংবাদমাধ্যমটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে শীর্ষ ইসলামী নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সবচেয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখা বিবিসির বিতর্কিত এ শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধে অপরাধের দায়ে বাংলাদেশে এক ইসলামী নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।... তিনি গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
বিবিসিতেও নিজামীর যুদ্ধাপরাধের কোনো বর্ণনা ছিল না। তারা কেবল প্রচার করতে চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকে ঘিরে কথিত বিতর্ক
গুরুত্ব দিয়ে এপির প্রকাশ করা এ সংক্রান্ত সংবাদের শিরোনাম করা হয়, বাংলাদেশে ইসলামী দলের নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ইসলামী দলের প্রধানকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।
এপির বরাত দিয়ে প্রায় একই ধরনের খবর প্রচার করে ওয়াশিংটন পোস্টও।
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবরের শিরোনামে যুদ্ধাপরাধী পরিচয় আড়াল করে লেখা হয়েছে বাংলাদেশে বিরোধী নেতার ফাঁসিতে সহিংসতার আশঙ্কা
খবরে বলা হয়১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে বাংলাদেশে এক জ্যেষ্ঠ বিরোধী নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। মতিউর রহমান নিজামী নামে বিরোধী ওই নেতা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী দল জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
এতেও নিজামীর অপকর্ম আড়াল করে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে বিচার প্রক্রিয়াকে ঘিরে কথিত বিতর্ক ও অভিযোগগুলো।
এএফপির এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির শিরোনাম করা হয়, যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে শীর্ষ ইসলামী নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
যুদ্ধাপরাধের দায়ে সবচেয়ে বড় ইসলামী দলের নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জানিয়ে প্রতিবেদনটিতে অদ্ভূতভাবে দাবি করা হয়, এই পদক্ষেপ মুসলিম-প্রধান অস্থিতিশীল দেশটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের ডন অলাইন এই খবর এএফপির বরাত দিয়ে প্রচার করলেও শিরোনাম করেছে তাদের নিজেদের মতো। শিরোনামে শীর্ষ জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হলেও তার অপরাধকে কোটেশন করে লেখা হয়েছে, ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধের জন্য
তবে, প্রতিবেদনের শুরুটি ঠিক এএফপির মতোই করা হয়।

এছাড়া, অন্য শীর্ষ ও আলোচিত সংবাদমাধ্যমগুলো এ সংক্রান্ত খবর প্রচারের ক্ষেত্রে বরাত দিয়েছে এপি, এএফপি, বিবিসি ও আল জাজিরার মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোকেই। সে হিসেবে স্বভাবতই তারাও নিজামীর যুদ্ধাপরাধের চেয়ে বেশিরভাগ ফলাও করে প্রচার করতে চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল ও বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘিরে কথিত অভিযোগগুলো।

অনলাইন : জামায়াতের ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সাথে সাক্ষাতের জন্য কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে তারা কারাগারের গেটে পৌঁছান।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে তিনটি গাড়িতে কারাগারের পথে রওনা হন মাওলানা নিজামীর পরিবারের সদস্যরা।

স্বজনদের মধ্যে নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী, ছেলে ব্যারিস্টার নাজীব মোমেন, পুত্রবধূ, দুই নাতি, মেয়ে মহসীনা, নিজামীর চাচাতো ভাই, ভাইয়ের মেয়েসহ আটজন নিকটাত্মীয় রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে জানা গেছে।

অনলাইন : ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকরের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ যেভাবে প্রস্তুত করা হয়, আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে মঞ্চ ঘিরে সে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিকেলেই ফাঁসি কার্যকরের স্থান পরিদর্শন করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো কারাগারে আনা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও দেখা হয়েছে।


কারা সূত্রে এসব কথা জানা গেছে। সূত্র জানায়, ফাঁসির মঞ্চ এলাকায় ফ্লাড লাইট লাগানো হয়েছে। শামিয়ানা টানানো হয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত থাকেন সরকারের এমন কয়েকজন কর্মকর্তাও কারাগারে আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ সাংবাদিকদের জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া ছাড়া নিজামীর অন্য সব আইনিপ্রক্রিয়া শেষ হয়। সর্বোচ্চ আদালত ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর সরকার ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। নিজামীকে ফাঁসি বহাল থাকার রায় পড়ে শোনানো হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে নিজামীকে রাখা হয়েছে। আজ রাত পৌনে আটটার দিকে তিনটি মাইক্রোবাসে করে পরিবারের ২১ জন সদস্য কারাগারের ফটকে আসেন। এরপর তাঁরা ভেতরে ঢোকেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারাগারের আশপাশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। লোক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কারাগারের আশপাশে যুদ্ধাপরাধের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য কারাগারের চারপাশে অবস্থান করছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের চূড়ান্ত রায়েও ফাঁসি বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু কোথায় কি করছেন নিজামীর সন্তানেরা?
চার ছেলে এবং দুই মেয়ে সহ মোট ছয় সন্তানের জনক নিজামী। ছোট ছেলে নাদিম তালহা এখনো ছাত্র হলেও বাকি পাঁচ সন্তানই প্রতিষ্ঠিত।

নিজামীর সন্তানদের পরিচয় তুলে ধরা হলো:
সন্তানদের মধ্যে সবার বড় মেয়ে মোহসিনা ফাতেমা। তিনি পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। আর মোহসিনা ফাতেমার স্বামী সাইফুল্লাহ মানসুর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিটিভির সংবাদ পাঠক ছিলেন। তবে মহাজোট সরকার ক্ষমাতায় আসার পর তিনি আর সুবিধা করতে পারেননি। বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন তিনি।
বড় ছেলে ড. নাকিবুর রহমান পড়ালেখা করেছেন মালয়েশিয়ার আন্তজার্তিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ করোলিনা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালোই আছেন তিনি। তবে দূরে থাকলেও দেশ বা দেশের রাজনীতি নিয়ে ভার্চুয়াল জগতে সর্বদাই ব্যস্ত তিনি ।
দ্বিতীয় ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। রাবেয়া ভূঁইয়া একাডেমীতে আইন বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করে লন্ডন গিয়ে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ ছাড়া নিজামীর এই ছেলে তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা থেকেও কামিল পাশ করেছেন। ছেলেদের মধ্যে কেবল নাজিব মোমেনই দেশে অবস্থান করছেন। তিনি বর্তমানে হাইকোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
ডা. নাইমুর রহমান খালেদ। তিনি নিজামীর তৃতীয় ছেলে। পড়াশোনা করেছেন পাকিস্থানের একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে অস্টেলিয়ায় চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। চিকিৎসা সেবায় তিনি বেশ মনযোগী হওয়ায় দেশ বা দেশের রাজনীতি নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই তার। ব্যস্ত শুধু নিজেকে নিয়েই।
ছোট ছেলে নাদিম তালহা মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ালেখা করছেন। নিজামীর এই ছেলেই কেবল ছাত্রজীবনে রয়েছেন। তবে এখনো ছাত্র হলেও ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে রয়েছে তার ব্যাপক বিরোধিতা। প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে ট্রাইব্যুনালবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান তিনি।
ছোট মেয়ে খাদিজা পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে লন্ডনের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ছোট মেয়ের স্বামী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। তিনি এক সময় শিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। নজরুল ইসলাম বর্তমানে লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

নিজামীর স্ত্রী সামসুন্নাহার নিজামীও পিছিয়ে নেই। তিনি গুলশানে অবস্থিত ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে জামায়াতের নারী শাখার নেত্রীও তিনি।

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ ট্রাক ভর্তি মানুষ আর শত শত মোটর সাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে বিয়ানীবাজারে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। যদিও এভাবে ট্রাক ও মোটর সাইকেল দিয়ে শোডাউন করা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্গন এরপরও এব্যাপারে নিরব ছিল প্রশাসন। রহস্যজনক কারণে তারাও দর্শকের ভুমিকা পালন করে। তবে এর ব্যতিক্রম ছিলেন অন্যান্য দলের প্রার্থীরা।

জানা যায়,বিয়ানীবাজারে আগামী ৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আজ ছিল শেষ দিন। এউপলক্ষ্যে সকাল ১০টা থেকেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে আসতে থাকেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী বিভিন্ন দলের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা। তবে এসব প্রার্থীদের মধ্যে সব থেকে চোঁখে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যাপক লোকসমাগম ও শোডাউন। ক্ষমতাসীন এই দলের কম বেশি সব প্রার্থী নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মোটর সাইকেল, সিএনজি, কার র‌্যালী সহকারে উপজেলা প্রাঙ্গনে সমর্থকদের নিয়ে আসেন। এসবের মধ্যে চোঁখে পড়ার মত ছিলো ৪নং শেওলা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ জহুর উদ্দিনের ট্রাক র‌্যালীটি। তিনি তাঁর মনোনয়নপত্র জমাদানের জন্য ২টি ট্রাক ও কয়েকশ মোটর সাইকেল নিয়ে উপজেলা প্রাঙ্গনে এসে  মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এরপর একে একে মোটর সাইকেল শোডাউন সহকারে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়সহ নির্ধারিত রিটার্ণিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন, মুল্লাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাজাকারপুত্র মোঃ আশরাফুল ইসলাম,তিলপারা ইউনিয়নের এমাদ উদ্দিন,কুড়ারবাজার ইউনিয়নের  হাজী মাহমুদ আলী,চারখাই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমদ আলী,লাউতা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হাজী এম এ জলিল। এসময় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নৌকা নৌকা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। এসময় সিলেট থেকে আগত আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খাঁনসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময়  সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্গন ও প্রশাসনের নিরবতায় হতাশ ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাদের প্রতিদ্বন্ধিদলের প্রার্থীসহ সতন্ত্র প্রার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুচেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, আজ যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গন করেছেন সেভাবে যদি অপর কোন দলের প্রার্থী বা সতন্ত্র প্রার্থীরা তা করতেন তাহলে নিশ্চয় এতক্ষণে প্রাশসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নিত। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা না দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা ও রিটার্ণিং কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, আমরা তো প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানে ব্যস্থ ছিলাম তাই্ এবিষয়ে অবগত নই। তবে এরকম কেউ যদি আচরণ বিধি লঙ্গন করে থাকে তাহলে আমরা নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

পাবনা : শরীরের একবিন্দু রক্ত থাকতে মতিউর রহমান নিজামীর মরদেহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পাবনার মাটিতে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা, সদর উপজেলা ও নিজামীর নিজ এলাকার তরুণ প্রজন্ম ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা।

আর মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, কুলাঙ্গারের অবসান হবে ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিশেষ করে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ে এই নিজামী যে হারে হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, ধর্ষণে সহায়তা করা, বাড়িঘর লুট করেছে, সেই অপরাধের ধারাবাহিকতায় মৃত্যুদণ্ডই ছিল তার একমাত্র সাজা। যে সাজা কার্যকরের পথে। ফাঁসি কার্যকর হওয়া মানে বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্নের সোনারবাংলা রাজাকারমুক্ত, কুলাঙ্গার মুক্ত হওয়া। 
এদিকে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত আসামি জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে এমন খবরে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন তার আত্মীয় স্বজনরা। স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন নিজ জন্মভূমি সাঁথিয়ার মনমথপুরের পড়শীরা। 
স্বজনরা বলছেন, টেলিভিশনে খবর দেখে সঠিক তথ্য জানার আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। গত রাতে মনমথপুরের স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমন কথাই জানালেন। যুদ্ধাপরাধী রাজাকার মতিউর রহমান নিজামী জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামের লুৎফর রহমান খানের একমাত্র ছেলে। তারা ৩ ভাই-বোন। 
গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে অনুভূতি প্রকাশ করলেন নিজামীর ভাতিজা আব্দুর রহিম। তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, মতিউর রহমান নিজামী আমার চাচা। তিনি মানুষ হিসেবে একজন সৎ ও ভালো মানুষই ছিলেন। 
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী এবং পরোপকারী এমন দাবি করে বলেন, এমন মানুষ তিনি কখনও কারও ক্ষতির কথা চিন্তা করেননি। আর তার সম্পদ বলেও আমার জানা মতে কিছু নেই। যা আছে তা সবই ছেলে-মেয়েদের। মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের ওপর ভর করে সরকার তার বিরুদ্ধে এই রায় দিয়েছে। 
তিনি জোর দাবি করে বলেন, তার চাচা আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ নির্দোষ। সরকারের রায়ে তো আর তাদের হাত নেই। এখন এটা মেনে নেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। আত্মীয়-স্বজনরা মসজিদে ও বাড়িতে দোয়া দরুদ ও কোরআন খতম করে দোয়া করছেন। তাকে আল্লাহ হেফাজত করবেন।
নিজামীর চাচাতো ভাই আনছার আলী সাংবাদিকদের কাছে জানান, এবা আলেম কয়ডা আছে, সে যে দ্যাশের সম্পদ। সরকার বড়ই ভুল করতেছে, আমার বাইয়ের মতো সুন্মানী আমলকারী লোকেরে ফাঁসায়ে ফাঁসি দেচ্ছে। এতা হারালো কোনো দিনই পুরুণ হবিনানে।  
নিজামীর ভাতিজা আব্দুল মজিদ ওরফে মানিক খানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে টিবিত এসব খবর শুনতিছি। 
এলাকার যুবক আল-আমিন, ফয়সাল, মাহমুদ, রিপন, জুয়েল, মিম, ছালাম এরাও সাংবাদিকদের জানান, রাজনীতি মাজনীতি বুঝিনি। সে যে আমাদের গৌরব ছিলি এটা জানি। এমন মানুষকে ফাঁসি দেচ্চে খুব কষ্টতো হচ্ছেই। 
নিজামীর গ্রামের আত্মীয়-স্বজনরা জানায়, তার বাবা-মা গ্রামের মনমথপুর গোরস্থানে শায়িত আছেন। তিনি গ্রামে আসলেই তাদের কবর জিয়ারত করতেন এবং বলতেন তাকেও যেন এখানে কবর দেয়া হয়।
এদিকে, বাঁধ সেধেছে তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিক ধারক ছাত্রলীগ তথা প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চাকারীরা। পাবনা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, দাদু-নানুর মুখে শুনেছি। নিজেরা দেখিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ে এই কুলাঙ্গার রাজাকার নিজামী যে অন্যায় করেছে। তা আমরা তরুণ প্রজন্ম শুনেই মেনে নিতে পারিনি। তাকে ফাঁসি রায় দেয়া হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি অভিযোগের আলোকে উপযুক্ত শাস্তি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছি। 
আরমান আরও বলেন, পাবনার এই পবিত্র মাটি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই পুণ্যভূমিতে রাজাকারের মরদেহ প্রবেশ করতে দেব না। আমরা ছাত্র সমাজ এটা প্রতিহত করতে বদ্ধ পরিকর। 
সাংস্কৃতিক কর্মী আবুল কাশেম বলেন, দেরীতে হলেও কুলাঙ্গার, আলবদর বাহিনী প্রধান, কুখ্যাত রাজাকারের কলঙ্কিত অধ্যায় বন্ধ হতে যাচ্ছে এমন সংবাদ শোনার পর পাবনার মানুষ হিসেনে গর্বিত হচ্ছে। মনে হচ্ছে এবার বুঝি দীর্ঘ ৪৪ বছর পর হলেও কলঙ্কমুক্ত হতে চলেছে। তিনি রায় কার্যকরের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। 
এদিকে, বামপন্থি সংগঠন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য কমরেড জাকির হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যে নিজামীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করা হয়েছে। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়িঘরে লুটতরাজ করা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী হত্যা করা হয়েছে। সেই কুলাঙ্গার নিজামীর ফাঁসির রায় দেরিতে হলেও কার্যকর হতে যাচ্ছে এমন সংবাদ জানার পরপরই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছি। তিনি এই রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমাণ্ডার আব্দুল বাতেন আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হতে যাচ্ছে এমনটি জানার পর আবেগ ধরে রাখতে পারছি না। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ সত্যিই গর্বিত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের দিকে যাচ্ছি। 

তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে দেশের আরও যে সকল যুদ্ধাপরাধী রয়েছে। তাদেরও দ্রুত বিচারের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিয়ে সোনার বাংলাকে রাজাকার তথা যুদ্ধাপরাধী কুলাঙ্গারমুক্ত করতে হবে। এখনই উপযুক্ত সময়। এদের চিরতরে এই সোনার বাংলা থেকে মুছে ফেলতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর পরিবারের স্বজনদের কারাগারে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কনডেমড সেলে নিজামীকে রাখা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। সূত্র জানায়, নিজামীর পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যে বাসা থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও তারা জেনেছে।এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সড়কে ব্যারিকেড দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনা হয়েছে।

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে আট জল্লাদকে প্রস্তুত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে রাজু ও সাত্তার নামের দুজন আছেন, যারা যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করেছেন। 

তবে ওই সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধান জল্লাদ শাহজাহান ও জনিকে এবার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না।
প্রাণ ভিক্ষার আবেদন এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে চকবাজারের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারেই নিজামীকে ফাঁসির মঞ্চে ঝোলানো হতে পারে। নির্ভরযোগ্য একাধিক কারা সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত রোববার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজামীকে নিয়ে আসার পরই ফাঁসি কার্যকরের অনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ। কেরানীগঞ্জে নতুন কারাগার কমপ্লেক্সে ফাঁসি  কার্যকরের সম্ভাবনা তৈরি হলেও নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় পুরনো মঞ্চই বেছে নেয়া হয়েছে। 
সোমবার চকবাজারের কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চসহ আশপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে জল্লাদ হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে এমন আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানায় সূত্র। 
সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাজ্জামান খাঁন কামাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের জন্য কারা কর্তৃপক্ষও প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। 
কারা সূত্র জানিয়েছে, এবার রাজু ও সাত্তারই হচ্ছেন নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের প্রধান জল্লাদ। তালিকায় আছেন- আবুল, হযরত, ইকবাল, মাসুদ, মোক্তার ও মনি নামের আরও ছয় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি। তবে শেষ মুহূর্তে দণ্ড কার্যকরের জল্লাদ চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে সূত্র।
দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে যারা ফঁসি কার্যকর করেন, তাদের জল্লাদ বলে। ফাঁসির আসামিকে জম টুপি পরিয়ে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে গলায় দড়ি পরিয়ে দেয়া এবং পরে রুমাল ফেলে দেয়া নির্দেশনায় পায়ের নিচ থেকে প্যাডেল সরিয়ে ফেলাই তাদের দায়িত্ব। এসব কাজের মাধ্যমে জল্লাদদের শাস্তিও কমে।
সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে থাকা নিজামীকে ফাঁসির রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শোনানো হয়েছে।
গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে গত মঙ্গলবার রিভিউ শুনানি শেষে ৫ মে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগের মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতাসহ আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। 

২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করার পর একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অনলাইন :  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষনেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় আইন মেনেই কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, নিজামীকে কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা মানেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা নয়। রায় কার্যকরের নিয়ম-কানুন রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও পুর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলেই তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আজ বিকেলে নগরীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশিষ্ট পরমানু বিঞ্জানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাধনা সংসদ ফাউন্ডেশন সংসদ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, জামায়াতের এই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা না চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তার ফাঁসির রায় কার্যকরের ক্ষণ গণনা শুরু হবে।
নিজামীর রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের হুমকি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই কোনো ধরণের হুমকি-ধমকিতে কোনো লাভ হবে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের এই নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য সব কিছু প্রস্তুত রয়েছে।
সাধনা সংসদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড.এ.এস.এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সুভাষ সিংহ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান ও ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি আলী নিয়ামত।
আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ।
অনুষ্ঠানে দেশের ২৫ বিশিষ্ট নাগরিককে ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। 

অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে আবারো তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা

 পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের ফাঁসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান পরস্পরের হাইকমিশনারকে এর আগে বেশ কয়েকবার তলব-পাল্টা তলব করেছে। বিষয়টি পরস্পরের হাইকমিশনের কর্মকর্তা প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি, এমনকি হাইকমিশন স্টাফকে অপহরন-পাল্টা অপহরণ পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মিজানুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সুজা আলমকে ডেকে পাঠান। পাকিস্তান হাইকমিশনারের হাতে প্রতিবাদ পত্র তুলে দেয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মিজানুর রহমান বলেন, পাকিস্তানী হাই কমিশনারকে ডেকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানান হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। গত শুক্রবার পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয়ায় বিষয়টি আমরা গভীর উদ্বেগ ও মনোবেদনার সাথে লক্ষ্য করলাম। পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ঘটনাগুলো পরবর্তী সময়ে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির চেতনায় দেখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছে। 

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget