2016-05-01

জনপ্রিয় অনলাইন : যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, রায়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। রিভিউ খারিজ করে সর্বোচ্চ সাজা বহালের যে রায় আদালত দিয়েছে, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। বৃহস্পতিবার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ খারিজের পর সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে তিনি একথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডকে সীমাহীন অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিই এ অপরাধের একমাত্র সাজা। ফাঁসি ছাড়া এ অপরাধের অন্য কোনো বিকল্প সাজা নেই। আপিলের এ চূড়ান্ত রায় দেশে আইনের শাসনের জন্য আরো একটি মাইলফলক।
মাহবুবে আলম বলেন, নিজামীকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির দায়ে ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪টিতে মৃত্যুদণ্ড ও ৪টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ৩টি মৃত্যুদণ্ড ও ২টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ। তিনি বলেন, তিনটি অভিযোগের দণ্ড থেকে নিজামীকে খালাস দেয় আপিল বিভাগ। এর মধ্যে একটিতে মৃত্যুদণ্ড ও দুটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আপিলের রায় রিভিউ চেয়ে আনা আবেদনও আজ খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এর মধ্যদিয়ে মামলার চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখন এ রায়ের কপি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে কখন দণ্ড কার্যকর হবে। 

মাহবুবে আলম বলেন, নিজামী রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রাণভিক্ষার আবেদনের সূযোগ পাবেন। তাকে প্রাণভিক্ষার বিষয়টি জানানো হবে। রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করে দিলে দণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না। 

জনপ্রিয় অনলাইন  : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রতিক্রিয়া জানান।


বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট বিভাগ।এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, এই রায় ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ আদালত সম্পর্কে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হবে বলে তাঁরা মনে করেন। তিনি দলের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতের এই রায়কে সাধুবাদ জানান।এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সব সময় বিরোধী দল, মত দমন করতে চায়। নিজেদের ইচ্ছা পূরণের জন্যই তারা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এনেছিল।বিএনপি এই রায়কে স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের নেতারা বৃহস্পতিবার সংসদে এই রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে বলেন, হাইকোর্টের এই রায়ই সংবিধান পরিপন্থী। আপিল বিভাগে এটা টিকবে না।

জনপ্রিয় অনলাইন : নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সব জেলা, উপজেলা ও পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করবে ১৪ দল। 

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে এ কথা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।আগামী ৮ মে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়।তিনি বলেন, ১৪ দল মাঠে ছিল, মাঠে থাকবে। নাশকতা যারা করতে চেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ঢাকা শহরের পাড়া-মহল্লায় আমরা সমাবেশ করবো এবং ১৪ দলের নেতৃত্বে প্রতিরোধী কমিটি গড়ে তুলবো। সব নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।প্রধামন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যাচারের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, জয়ের বিরুদ্ধে তিনি যে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তা তাকে প্রমাণ করতে হবে। সাহস থাকলে আপনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে তাকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।অসাংবিধানিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যেই বিএনপি-জামায়াত দেশে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে দাবি করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আজ যখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি-জামায়ত চক্রান্ত শুরু করেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। উদ্দেশ্য একটাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারকে বিব্রত ও বিপর্যস্থ করা।
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র আরো বলেন, যারা নৈরাজ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারাই গুপ্তহত্যার মাধ্যমে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার বন্ধ করতে চায়। এই বিচার হচ্ছে, হবে। অতীতে যেমন ১৪ দল সব চক্রান্ত মোকাবেলা করেছে। আজকেও বিএনপি-জামায়াত জোটের যে কোনো চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মোকাবেলা করবে।
আগামী ৮ মে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান নাসিম। রাজধানীর কলাবাগান হত্যার ঘটনায় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে এই সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৪ দল।

মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রিপার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূরুর রহমান সেলিম, বাসদ আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।

জনপ্রিয় অনলাইন : গণতন্ত্রকে বাঁচানোর দাবিতে দিল্লির রাজপথে নেমে পুলিশের হাতে আটক হলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, দলের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
 
শুক্রবার গণতন্ত্র বাঁচাও (সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ)-এর দাবিতে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে এক বিশাল পদযাত্রা বের হয় সংসদ ভবনের উদ্যেশ্যে। সোনিয়া ছাড়াও মিছিলে পা মেলান রাহুল গান্ধী, মনমোহন সিং, মল্লিকার্জুন খাড়গে, গুলাম নবি আজাদ, রেণুকা চৌধুরী, আনন্দ শর্মা, এক অ্যান্টনি সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা ও কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক।যন্তর মন্তর ছেড়ে মিছিল সংসদ ভবনের দিকে যেতেই পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়তে হয়। সেসময় ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে এগোনের চেষ্টা করলে আটক করা হয় সোনিয়া, রাহুল, মনমোহন ও এক অ্যান্টনি সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের। পরে অবশ্য আধা ঘণ্টার মধ্যেই সোনিয়া-রাহুল-মনমোহন সিংএর মুক্ত করে দেওয়া হয়।এর আগে এদিন যন্তর মন্তরে মঞ্চ থেকে মোদি সরকাকের বিরুদ্ধে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করে বলেন, অর্থের ক্ষমতা ব্যবহার করেই মোদি সরকার অরুণাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিতাড়িত করেছে। আজ উত্তরাখণ্ডের বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে অথচ সরকার না থাকায় আগুন নেভানোর কোনো কাজই হচ্ছে না। গণতান্ত্রিকভাবে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বিজেপি সরকার। আমরা তাদের কিছুতেই সফল হতে দেব না।সভায় উপস্থিত কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের গণতান্ত্রিক উপায়ে মোদি সরকারের মুখোশ খুলে দেওয়ারও ডাক দেন সোনিয়া। তিনি বলেন, তারা আর কোনো অবিচার করতে পারবে না। যারা আমাদের অবজ্ঞা করছে, আমরা সেই সব নিন্দুকদের মুখোমুখি লড়াই করতে চাই। জীবন আমাকে অনেক সহ্য করতে শিখিয়েছে। আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। তারা জানে না আমরা কি দিয়ে তৈরি।মোদিকে নিশানা করতে ছাড়েননি রাহুল গান্ধীও। মোদির আচ্ছে দিন (ভাল দিন)-এর স্লোগান দিয়ে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, ক্ষমতায় আসার পর মোদিজি আচ্ছে দিনর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আজ দেশের ৪০ শতাংশ এলাকা খরায় ধুকছে, অথচ মোদি কিছুই করছেন না। আইন ভেঙে, একটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে অরুণাচল প্রদেশ থেকে কংগ্রেস সরকারকে অপসারণ করা হয়েছে।
কংগ্রেস সহ-সভাপতি আরো বলেন বর্তমানে এই দেশে মাত্র দুই জন কথা বলতে পারেন-একজন হলেন নরেন্দ্র মোদি অন্যজন হলেন মোহন ভাগবত (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান)। এবং কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে তবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মনমোহন সিং। তিনি বলেন, উত্তরাখণ্ড ও অরুণাচল প্রদেশে একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে মোদি গণতন্ত্রের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এখন তারা কংগ্রেস শাসিত অন্য রাজ্যগুলোর ওপর কুনজর দিয়েছে। গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে যা যা দরকার কংগ্রেস সবসময় তা করার চেষ্টা করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করে যাবে।

জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তাই আইন অনুযায়ী নিজামীর রায় কার্যকর হবে।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি স্মৃতি পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপির ১২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সন্ত্রাস দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা ও স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যুদ্ধাপরাধী নিজামীর রায়ের বিরুদ্ধে জামায়েত ইসলাম রবিবার যে হরতাল ডেকেছে সেটা জনগণই প্রতিহত করবে। আর হরতালের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোকাবেলা করবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে কাউকেই ছাড় দেবে না।  
তিনি বলেন, আজ যখন শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে সার্থক করেছেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে তৈরি করেছেন ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশে দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যারা বাংলাদেশের শুরু থেকেই দেশ বিরোধী ছিল, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল তারাই এখন এসব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।    
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারে সে জন্য টার্গেট কিলিং হচ্ছে। কিলিং এর আধ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষ একটি দেশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব জানানো হচ্ছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দেশে একটি আইএসের অস্তিত্ব পায়নি। 
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। এ দেশের মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ পছন্দ করে না। তাই বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ৩৩তম নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে। 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, শ্রমিক নেতা ইসরাফিল এমপি প্রমুখ। 

জনপ্রিয় ডেস্ক : নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার পর তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আমি স্তম্ভিত। তার বক্তব্যের দুটি দিক আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে। 

প্রথমত, তিনি বলেছেন  রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বিশেষ উদ্দেশ্যে এই বিচার করা হচ্ছে। একের পর এক ফাঁসি দেয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। তাহলে কি তিনি বলতে চাচ্ছেন আমাদের বিচারবিভাগ বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে কাজ করে যাচ্ছেন?  
আমরা জানি প্রত্যেকটি রায় আইনের সব নিয়ম-নীতি অনুসৃত হয়ে, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের মাধ্যমে পাওয়া। তার এই উক্তি বিচার বিভাগ এবং মাননীয় বিচারপতিদের স্বাধীনতা ও নিরেপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তাদের কে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে লিপ্ত বলে ইঙ্গিত করে। 
একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তিনি কিভাবে এই রকম হেয়ালিপূর্ণ মন্তব্য করলেন তা আমার বোধগম্য নয়। 
দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন  দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে কী মনোভাব প্রকাশ করে তা গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে খবর নিয়েও দেখতে বলেছেন তিনি। 
আমরা জানি তিনি একটি রাজনৈতিক দলকে প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি হয়ত ভুলে গেছেন তার রাজনৈতিক দলের বাইরেও বিশাল একটি জনগোষ্ঠী আছে যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় বলে এদেশে এখনও বিচারের দাবিতে গণজাগরণ হয়। 
তার উক্তির সব চেয়ে সন্দেজনক দিকটি হচ্ছে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রের আরও এক স্পর্শকাতর সংস্থাকে জড়িয়ে। জনগণের মতামত জানার জন্য গোয়েন্দা বাহিনী নাম উল্লেখ করা কি গোয়েন্দা বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। 
তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবার। 

সুত্র : তুরিন আফরোজের ফেসবুক

জনপ্রিয় অনলাইন ডেস্ক : হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ তিন বছর আগে অর্ধশতাধিক মামলা করলেও সরকারের সঙ্গে ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটির সম্পর্ক এখন ঘনিষ্ঠ। ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের নজিরবিহীন সমাবেশ ও তাণ্ডবের পর পুলিশ একে একে মামলাগুলো দায়ের করে।দুই পক্ষের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, সরকারের সঙ্গে একধরনের অলিখিত সমঝোতার ফলে হেফাজতের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। বিনিময়ে ১৩ দফা দাবি নিয়ে আগের উগ্র অবস্থান থেকে সরে এসেছে হেফাজত।তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সমঝোতার কথা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের যখন প্রয়োজন হয় তাঁদের নিবৃত্ত করার, বললেই তাঁরা কথা শোনেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দিয়ে একটি চক্র দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চেয়েছিল। এখন আর ওই চক্রের সঙ্গে তারা নেই।
সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছে হেফাজতে ইসলামও। অনেকের সন্দেহ, সরকারের সঙ্গে আপনাদের সমঝোতা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,
অসম্ভব। অন্যদের অনেক পুরোনো মামলাও সচল এবং দ্রুত বিচার চলছে, আপনাদেরগুলো নিষ্ক্রিয় কেন? জবাবে বাবুনগরী বলেন, আমাদেরটা ঝুলে আছে কেন, এটা তো সরকারই জানে। কেন তারা ঝুলিয়ে রাখছে, সেটা আমরা জানি না।৫ মের অভিযানে আড়াই থেকে তিন হাজার লোক শহীদ হয়েছে বলে সে সময় হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও এখন নেতারা এ বিষয়ে নিশ্চুপ। গত তিন বছরেও কথিত শহীদদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণও দিতে পারেনি তারা।সরকারি সূত্রগুলো বলছে, হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীসহ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সাংসদ, মেয়র এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রয়েছে। সংগঠনের নেতারা সরকারের কথা শোনেন এবং অনুরোধ রাখেন।
হেফাজতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংগঠনের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকও বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগ, সরকার ও ছাত্রলীগকে
হেফাজতের বন্ধু বলে গত বছরের ১১ এপ্রিল আহমদ শফীর বক্তৃতার পর এ বিশ্বাস আরও জোরালো হয়। সর্বশেষ গত ১৪ জানুয়ারি ব্যক্তিগত জীবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধর্ম পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে আহমদ শফী বলেন, তিনি আস্তিক, আমরাও আস্তিক। আমরা ও তাঁদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমাদের আন্দোলন নাস্তিকদের বিরুদ্ধে।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টির পর কথিত নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে হঠাৎ জেগে ওঠে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই বছরের ৫ মে ঢাকার ছয়টি প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি শেষে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছিল তারা। ৫ মে মতিঝিলে অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ওই সময়ের সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রাজধানীসহ সারা দেশে মোট ২৭ জন নিহত ও দেড় হাজারের মতো মানুষ আহত হন।পরে ওই দিন মধ্যরাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানের মুখে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন হেফাজতের কর্মীরা।
পুলিশ সূত্র জানায়, স্মরণকালের সেই ভয়াবহ তাণ্ডব ও সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে মোট ৬৮টি মামলা হয়েছিল। এরমধ্যে ৫৩টি মামলা হয় রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, শেরেবাংলা নগর ও কলাবাগান থানায়। ১৫টির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বর্তমানে সব মামলারই তদন্ত থেমে আছে। এসব মামলার তদন্ত নিয়ে পুলিশেরও আগ্রহ নেই। কোনো আসামিকেও ধরছে না পুলিশ।
জানা গেছে, রাজধানীর ৫৩টি মামলার মধ্যে কেবল কলাবাগান ও রমনা থানার তিনটি এবং শেরেবাংলা নগর থানার একটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বাইরের ১৫টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের জড়ানো হয়নি। ওই সময় হেফাজতের মহাসচিবসহ অন্তত ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে প্রায় সবাই জামিনে ছাড়া পান।
ডিএমপি কমিশনারের মুখপাত্র ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলাগুলোয় আসামির সংখ্যা অনেক। হেফাজতে ইসলামের সেই ধ্বংসযজ্ঞে লাখ লাখ লোক অংশ নিয়েছিল। তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে নাম-ঠিকানা যাচাই করতে সময় লাগছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এখন সরকারের
কৌশল হচ্ছে কিছু মামলার অভিযোগপত্র দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে রাখা, যাতে সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো কর্মসূচি দিতে না পারে সংগঠনটি।
এদিকে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, সরকারের একাধিক সংস্থার চাপ ও সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং হেফাজতের একাংশের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ থাকায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে হেফাজতও ৫ মে নিয়ে মাতামাতি না করে নীরব হয়ে গেছে। এবারও সারা দেশে কোনো কর্মসূচি রাখেনি। যদিও সংগঠনের নেতাদের দাবি, তাঁদের ১৩ দফা দাবি এখনো বহাল আছে।
৫ মের বিষয়ে জানতে সংগঠনটির আমির শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। তবে মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী প্রথম আলোকে বলেন,
৫ তারিখে যাঁরা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশে শান্তি, হক ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে ইনশা আল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা এখন শহীদদের তালিকা প্রকাশ করব না। সময় এলে করব। সে সময়টা কবেপাল্টা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সময়টা আসুক, দেখবেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম মাঝেমধ্যে হেফাজতের আমিরের পরিচালনাধীন হাটহাজারী মাদ্রাসায় যান। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা নিয়মিত মাদ্রাসায় যাতায়াত করেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম বলেন,
হাটহাজারী আসন থেকে নির্বাচন করেছি। এলাকার মাদ্রাসা হিসেবে বিভিন্ন কাজে যেতেই পারি। শাপলা চত্বরের ঘটনা ছিল ভুল-বোঝাবুঝি। এটার অবসান হয়ে গেছে। আর আপসের প্রসঙ্গ আসছে না।
সরকারি দলের নেতা, মন্ত্রী ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার কথা স্বীকার করেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন,
আসলে অসুবিধা কী? কোনো দলের নেতা বা সরকারের সঙ্গে হেফাজতের কোনো শত্রুতা নেই।

আজ (বৃহস্পতিবার) ২৭ রজব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)'র নবুওয়ত প্রাপ্তির ঐতিহাসিক দিবস। ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।বিশ্বের মুসলমানদের জন্য দিনটি সবচেয়ে বেশি খুশির দিন। কারণ, মানব জাতির ওপর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)'র ঐশী নেতৃত্ব এবং ইসলামের চিরন্তন ও বিশ্বজনীন বিধান পূর্ণতা পেয়েছিল পবিত্র এই দিনে।

মহানবী (স.) হিজরতের ৫২ বছর আগে পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।জন্মের আগেই তাঁর পিতা আবদুল্লাহ মারা যান। ফলে, দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁকে লালন-পালনের দায়িত্বভার নেন। তিনি আট বছর বয়স থেকে যৌবনে উপনীত হওয়া পর্যন্ত চাচা হযরত আবু তালিব (রা.)'র তত্ত্বাবধানে ছিলেন। সততা, বিশ্বস্ততা ও সুন্দর চরিত্রের জন্য তিনি আল-আমিন নামে জনগণের মাঝে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। যৌবনে কিছুকাল ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন। হযরত মুহাম্মাদ (স.) ২৫ বছর বয়সে মহীয়সী ও সম্ভ্রান্ত নারী হযরত খাদিজা (স.)-কে বিয়ে করেন।
মাঝেমধ্যেই তিনি মক্কার জাবাল আন-নূর পর্বতের হিরা নামক গুহায় এবাদাত ও গভীর চিন্তায় মগ্ন হতেন। মানবজাতিকে নানা বিচ্যুতি ও অধঃপতন থেকে মুক্ত করা ছিল তাঁর চিন্তাভাবনার মূল বিষয়।এসব সাধনার ধারাবাহিকতায় ৪০ বছর বয়সে আজকের এই দিনে হিরা গুহায় রিসালাতের দায়িত্ব লাভ করেন বিশ্বনবী (স.)। এখানেই নাজিল হয়েছিল পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত। এরপর ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন তিনি। মক্কার নানা গোত্রের কাফের ও মুশরিকদের নির্যাতন এবং জ্বালাতনের প্রেক্ষাপটে মক্কা থেকে ইয়াসরিব বা বর্তমানের মদিনা শহরে হিজরত করেন। সেখানে তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানরা প্রতি বছরই এ পবিত্র দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে উদযাপন করেন। মসজিদসহ ধর্মীয় স্থানগুলোতে পাঠ করা হয় আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল (স.)'র প্রশংসাসূচক কবিতা বা নাত। অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা; দান-সদকার পাশাপাশি বিতরণ করা হয় মিষ্টি, শরবত, ফলমূল ইত্যাদি। এই রাতে মুসলমানেরা মশগুল হন নানা ধরনের বিশেষ ইবাদাতে।পবিত্র ও খুশির এ দিনটি উপলক্ষে রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে সব মুসলমান ও মুক্তিকামী মানুষের প্রতি রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন ও মুবারকবাদ।

সুত্র: ই/রে/নি ।

পর্তুগাল প্রতিনিধি : লজ্জিত ! আমরা বাঙ্গালী মুসলিম সমাজ লজ্জিত। ধর্ম ও আজ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে গেল। আর তারই বলি আমাদের মসজিদটা ও চলে গেল তাদের দখলে। যারা বিতর্কিত ব্যাবসার সাথে জড়িত। আমরা প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিম হিসেবে অনেক গর্ববোধ করি

যে, সুদূর প্রবাসে থেকেও আমরা আজ ধর্মচর্চা করার জন্য বাংলাদেশী আমাদের অগ্রজ ভাইদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও পরিশ্রমের কারনে বায়তুল মোকাররম মসজিদ নামের প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা আমাদের বাংলাদেশীদের তথা সমগ্র মুসলিম উম্মার,কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের সহিত আমরা লক্ষ্য করছি যে, যে প্রতিষ্ঠানটির কারনে আমরা গর্বিত সে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন।

কারন কিছু স্বার্থান্বেশী মহলের ক্ষতার লোভ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত কুচক্রীরা মসজিদের নেতৃত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে মসজিদের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখার কারনে যোগ্য লোকরা মসজিদের নেতৃত্বে আসার ক্ষেএে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

 নৈতিক অধঃপতন নিয়ে শুধু টাকা ছড়িয়ে সমাজসেবা করা যায় না, তাই আজ সচ্ছার পর্তুগাল প্রবাসী বিভন্ন জেলার সাধারন বাংলাদেশীরা। লিসবন বাংলাদেশ ইসলামী সেন্টার বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ এই প্রবিত্র স্তানটি রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার জন্য প্রবাসীদের গন স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্বারক লিপি আজ জমা দেওয়া হয় পর্তুগাল বাংলাদেশীদের অভিবাবক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের নিকট জমা। স্বাক্ষর সম্বলিত স্বারক লিপিটি গ্রহন করে বাংলাদেশ দুতাবাসের প্রথম সচিব কনস্যুলার জনাব মোহাম্মেদ খালেদ। উক্ত গণ স্বাক্ষর সম্বলিত স্বারক লিপি জমাদানে উপস্থিত ছিলেন, হুমায়ন কবীর জাহাঙ্গীর(নোয়াখালী), মোহাম্মদ কচি (কুমিল্লা), এমএ খালেক (বরিশাল), শাহাদাৎ হোসেন (চিটাগাং), আবুল কালাম আজাদ(নোয়াখালী), ফখরুল ইসলাম রিপন (সিলেট), মাছুম আহমেদ (মুন্সীগঞ্জ), মোহাম্মদ আশরাফ (ঢাকা), লিটন (চিটাগাং), মোহাম্মদ আলো (কুমিল্লা), জসিম উদ্দিন (নোয়াখালী), জহুরুল হক (ফেনী) সহ প্রমুখ।

ফ্রান্স থেকে নুরুল ওয়াহিদ: বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক প্রচার ও যোগাযোগের অভাবে বহি বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারছে না। যার কারনে অনেকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে না জেনে নেতিবাচক ধারনা পোষন করে।তাই প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই সরকারের উচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশস্থ ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রদূত মিশেল লুমু।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের অকৃ্ত্রিম বন্ধু প্রখ্যাত দার্শনিক ফ্রান্সের সাবেক কালচারাল মিনিষ্টার আন্দ্র মারলোর হাতে গড়া সংগঠন এসোসিয়েশন ফ্রান্স বাংলাদেশর এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে দীর্ঘ চার বছর রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা মিশেল লুমু আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে ফ্রান্সের আরো বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া উচিত ছিল।কারন ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স সরকার ও ফ্রান্সের জনগণ বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছিল। জাতির জনক বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ফ্রান্স সরকার বার জন যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সে এনেছিল।কিন্তু পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাথে ফ্রান্স সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে এসোসিয়েশন ফ্রান্স বাংলাদেশর সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।


 বুধবার প্যারিসে ফ্রান্স বাংলাদেশ চেম্বার অব ইকোনমি কার্যালয়ে অনুষ্টিত সংগঠনের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত মিশেল লুমুর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের কোষাধক্ষ্য কাজী এনায়েত উল্লা র সঞ্চালনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্ব পুর্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ফরাসী নাগরিক ইনাল্কোর বাংলা বিভাগের প্রধান ফিলিপস বেনুয়া, ইনাল্কোর প্রফেসর জেরেমি করদো, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সহ সংগঠনের সদস্যরা। ইনাল্কোর বাংলা বিভাগের প্রধান ফিলিপস বেনুয়া বলেন, বাংলাদেশের একটি সুন্দর ইতিহাস রয়েছে। বায়ান্ন ও ৭১ সালের ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সংগঠন ইউনাস্কের কাছে দাবী তুলবে ফ্রান্সে একটি স্থায়ী শহিদ মিনার স্থাপনের। সংগঠনের কোষাধক্ষ্য কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন, যেহেতু সংগঠনের নব্বই ভাগ সদস্যই ফরাসী কূটূনীতিক ও সুশীল সমাজের তাই এই সংগঠন বাংলাদেশের সব ভালো দিকগুলো সঠিক ভাবে ফ্রান্স সরকারের কাছে উপস্থাপন করে দুদেশের মধ্যে বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের সাথে সু সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭২ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন সংস্কৃতি মন্ত্রী দার্শনিক আন্দ্রে মারলো প্যারিসে প্রতিষ্টিত করেছিলেন এসোসিয়েশন ফ্রান্স বাংলাদেশ। ফরাসী মানবতাবাদী ও কূটনীতিকদের সমন্বয়ে গঠিত এ সংগঠনটি মূলত বাংলাদেশের সাথে ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপন ও যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশকে পূর্নগঠনে সহায়তা করতেই সংগঠনটির মূল জন্ম হয়েছিল।

প্যারিস-বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, চ্যানেল আই ইউরোপ ও মিলিনিয়াম টিভি ফ্রান্স প্রতিনিধি এবং বাংলা কাগজ ফ্রান্সের ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক এনায়েত হোসেন সোহেল বার্মিংহাম বাংলা মেলা কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এক সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাজ্যে এসেছেন। তিনি আগামী ৮ মে রোববার বার্মিংহাম বাংলামেলায় অংশ গ্রহণ করবেন। পরে তিনি লন্ডনে ১৭ মে পর্যন্ত অবস্থান করবেন এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। সাংবাদিক এনায়েত হোসেন সোহেলের সাথে যোগাযোগ নাম্বার 07495238964, 07990517210  

মোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স প্রতিনিধি : ভবিষ্যত জীবনে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে থাকার আশায় যারা অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমাতে চান ,তাদের জন্য বর্তমান সময়টি অত্যন্ত দুঃসময়ের। সম্প্রতি অভিবাসী ঠেকাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও তুরস্কের মধ্যে ১৯শে মার্চ ২০১৬ তারিখের চুক্তি অনুযায়ী ২০শে মার্চ ২০১৬ তারিখ হইতে বাংলাদেশী সহ যে সকল রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীগণ বা অবৈধ অভিবাসীগণ গ্রীসের দ্বীপ সমূহে আসবে, তাদেরকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে। শুধু মাত্র যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ান নাগরিকদের জন্য আলাদা নিয়ম চালু করেছে ।একজন সিরিয়ানকে ইউরোপ থেকে তুরস্কে ফেরৎ পাঠানোর বিনিময়ে, তুরস্ক থেকে অপর একজন সিরিয়ান অভিবাসীকে ইউরোপ ঢুকতে দেওয়া হবে এবং সর্বোচ্চ ৭২,০০০ সিরিয়ান পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে। তাই বাংলাদেশী অভিবাসীরা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্রীসে প্র্রবেশ করলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভবনা খুবই বেশী। চুক্তি অনুযায়ী গ্রীসের দ্বীপসমুহ থেকেই শুধুমাত্র তুর্কী ফেরৎ পাঠানো হবে, গোটা ইউরোপ থেকে না। ইউরোপ প্রবেশের আরেক দ্বার বলকানের রাস্তাও মার্চের প্রথম থেকে বন্ধ রয়েছে। তাই বর্তমান সময়ে অবৈধ ভাবে ইউরোপে প্রবেশ করাটা অনেক দুরহ হয়ে পড়ছে। 
গ্রীস কতৃপক্ষ ইতিমধ্যে চুক্তি অনুযায়ী তিন দফায় গ্রীসের কস, লেসবোস এবং চিয়স দ্বীপে পাওয়া ৩২৬ অভিবাসীকে তুরস্কে ফেরত পাঠিয়েছে। তুরস্ক ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এই সকল অভিবাসীদের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।

Ø ফরাসী পত্রিকা www.leparisien.fr এর সূত্রে, প্রথম দফায় দুইটা জাহাজ/ফেরী করে ১৩১ জন অভিবাসীকে নিয়ে গ্রীসের লেসবোস দ্বীপ ত্যাগ করেছে তুর্কীর উদ্দেশ্যে, এর মধ্যে বেশির ভাগ বাংলাদেশী এবং পাকিস্তানী। এরা কেউ গ্রীসে রাজনৈতিক আশ্রয় এর আবেদন করে নাই (আবেদন প্রত্যাখ্যান হলেও তুরস্কে ফেরৎ পাঠানো হবে)।

Ø ফরাসী পত্রিকা www.liberation.fr এর সূত্রে, দ্বিতীয় দফায় ০৮/০৪/২০১৬ তারিখে গ্রীস লেসবোস এবং চিয়স থেকে ১২৪ জনকে তুর্কী প্রেরণ, ২ বাংলাদেশী, ১১১ জন পাকিস্তানী, ৪ জন ইরাকী, ৪ জন ভারতীয়, ১ জন মরক্কান, ১ জন মিসরীয়, ১ জন প্যালেষ্টাইনী পরিচয় দানকারী, কোন সিরিয়ান নাই। অজ্ঞাত কারণবশত একজন পাকিস্তানীকে তুরস্ক সরকার গ্রহণ না করে তাকে পুনরায় গ্রীস এর লেসবোস ফেরৎ পাঠিয়েছে।

Ø ফরাসী পত্রিকা www.liberation.fr এর সূত্রে, তৃতীয় দফায় ৪৯ জনের মধ্যে ১৮ বাংলাদেশী, ৯ জন বার্মীজ, ৪ পাকিস্তানীকে গ্রীস থেকে তুরস্কে পাঠিয়েছে।

(তথ্যসুত্রঃ সৈয়দ আবুল হাসান (সবুজ)

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও তুরস্কের চুক্তি অনুসারে ফ্রান্সের পুলিশ/CRS গ্রীস এবং তুর্কী সীমানাতে কাজ করছে। যে সকল বাংলাদেশী অভিবাসীদেরকে গ্রীস থেকে তুরস্ক পাঠানো হয়েছে, তাদেরকে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অবৈধভাবে এসকল বাংলাদেশী ইউরোপে ক্ষণিকের জন্য পাড়ি জমালেও, বর্তমানে এরা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে, আর অবৈধভাবে এলে তাদের জন্য তেমন কিছু করার সুযোগও থাকে না । তাই প্র্রবাসীরা দালালদের চাকচিক্যপূর্ণ বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ।  

ফ্রান্সের তুলুজে বসবাসরত প্র্রবাসীদের অকৃত্রিম বন্ধু ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর হোসেনের মতে স্বপ্ন পূরণে ও অতিরিক্ত টাকা উপার্জনের আশায় বাড়িঘর ও পরিবার পরিজন ত্যাগ করে গ্রীস হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোটা এই সময়ে অনেকটা বিপদজনক, অনেকটা নিজের পায়ে কূড়াল মারার সমান। কারণ বর্তমান সময়ের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও তুর্কির মধ্যে চুক্তির দরুন উদ্ভব এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশীরা গ্রীসের দ্বীপে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে গোটা ইউরোপে থাকা অধিক পরিমাণে অধিবাসীদের সমস্যার দরুন, তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভবনা খুবই বেশী।অপরদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বর্ডার ক্রসিং এর নিয়ম অনুযায়ী যারা অবৈধ ভাবে প্রবেশ করবে, তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আজ্ঞুলের ছাপ নিবে গ্রীস কতৃপক্ষ, তাই তিনি যদি ভবিষ্যতে বৈধভাবেও ইউরোপের যে কোন দেশে প্রবেশ করতে চান, সেই ক্ষেত্রে তা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসাবে কাজ করবে। তাই তিনি বাংলাদেশের আদম পাচারকারী দালালদের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে মোটা অংকের টাকা খরচ না করার ও পরিবারকে নিঃস্ব না করার জন্য আহ্বান এবং একই সাথে জন সচেতনায় প্র্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়কে এই ব্যপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্র্রবাসীদের পক্ষ থেকে দাবী জানান ।

অনলাইন : ইরানের সিনিয়র সাংসদ আলাউদ্দিন বোরুজেরদি বলেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে ৯০টি নতুন মামলার মোকাবেলায় ইরানি আদালতে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ১৯০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা যায়। ইরান এইসব মার্কিন শত্রুতার জবাব দেয়ার দেয়ার জন্য নানা মাধ্যম ও উপকরণ জড়ো করছে বলেও তিনি জানান।গত কয়েক দশকে মার্কিন শত্রুতার কারণে ইরানের যেসব নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন ইরানি সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এই সাবেক কর্মকর্তা।১৯৫৩ সালে ইরানের জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী সরকার মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালিত সামরিক অভ্যুত্থানসহ ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন শত্রুতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদেরকে আমেরিকার বিরুদ্ধে মামলা করতে বলেছেন বোরুজেরদি। ১৯৫৩ সালের ওই অভ্যুত্থানে সিআইএর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে আমেরিকা। ওই অভ্যুত্থানের ফলে আরও ২৬ বছর ধরে ইরানের ক্ষমতায় ছিল মার্কিনপন্থী স্বৈরশাসক শাহ।ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে সাদ্দামকে অস্ত্র ও অর্থসহ সব ধরনের সহায়তা দেয়া, ইরানের ইসলামী সরকার-বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকেও একই ধরনের সহায়তা দেয়া এবং ইরানি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করা ও ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু তৎপরতায় বাধা দেয়া ইসলামী বিপ্লবী এই দেশটিতে মার্কিন অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং ধ্বংসাত্মক তৎপরতার কিছু দৃষ্টান্ত।১৯৮৩ সালে বৈরুতে হস্তক্ষেপকামী মার্কিন সেনাদের ওপর লেবাননী সংগ্রামীদের হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে গত মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ক্ষতিপূরণের নামে আটক ইরানি সম্পদ থেকে ২০০ কোটি ডলার তুলে নেয়ার রায় দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে আমেরিকায় আটক ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ থেকে ওই অর্থ তুলে নেয়ার মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ইরান।
ইরান ওই হামলায় তার কোনও ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর জাওয়াদ জারিফ মার্কিন এই পদক্ষেপকে মহাসড়কে চালানো ডাকাতি বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং এইসব অর্থ আদায় করে নেয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন।

সুত্র :ইরান/বা/নি ।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীকে মোকাবেলার জন্য সীমান্তে আরো তিন ডিভিশন সেনা মোতায়েন করবে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এ কথা জানিয়েছেন। পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো বাহিনীর অব্যাহত সম্প্রসারণের মুখে রাশিয়া এ পরিকল্পনা ঘোষণা করল।
শোইগু বলেন, রুশ সীমান্তের কাছে ন্যাটো সেনাদের অনেক বেশি সক্ষম করে তোলার পরিপ্রেক্ষিতে মস্কো বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে তিন ডিভিশন সেনা মোতায়েন করা হবে। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স এ খবর দিয়েছে।চলতি বছরের শেষ দিকে এ তিনটি ডিভিশন গঠন করা হবে এবং দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। গত সপ্তাহে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ন্যাটো বাহিনী রুশ সীমান্তের কাছাকাছি চলে আসছে। এর বিরুদ্ধে মস্কো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

সুত্র : ইরান/বা/সিরাজুল ইসলাম ।

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ ৫২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত আন্তঃসেক্টর তায়কোয়ান্ডো প্রতিযোগীতা-২০১৬ এর সমাপনী অনুষ্টান সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকাল

১১ ঘটিকায় বিয়ানীবাজারস্থ ৫২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের হেডকোয়ার্টারে এসমাপনী অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়। সমাপনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়বৃন্দের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ফজলে কাদের আহম্মেদ, পিবিজিএম (বার), পিএসসি, জি, রিজিয়ন কমান্ডার, উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইল।এতে আরো উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল জাকির হোসেন, পিএসসি, সেক্টর কমান্ডার, শ্রীমঙ্গল, লেঃ কর্ণেল মোঃ নেয়ামুল কবির, অধিনায়ক, ৫২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন, ব্যাটালিয়নে উপস্থিত অফিসার, জেসিও এবং সর্বস্তরের সৈনিকবৃন্দ। গত সোমবার বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় বিজিবিতে নতুন প্রবর্তিত এই খেলা। খেলাটি মুলতঃ আত্মরক্ষার্থে মার্শাল আর্ট এর আদলে প্রচলন করা হয়েছে। আয়োজিত এই প্রতিযোগীতায় ৮টি ওজন শ্রেনীতে ৪টি সেক্টরের সর্বমোট ৬২ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। সমাপনী দিবসে ৪টি সেক্টরের মধ্যে শ্রীমঙ্গল সেক্টর ৫টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৩টি তাম্র পদক পেয়ে চ্যাম্পিয়ন এবং সিলেট সেক্টর ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ৩টি তাম্র পদক পেয়ে রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়ন আয়োজিত এই জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়  এখেলায় সিপাহী শ্রী উজ্জল কুমার শ্রেষ্ঠ নবীন এবং সিপাহী মোঃ ময়নাল হোসেন শ্রেষ্ঠ প্রবীন খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

জনপ্রিয় ডেস্ক : আজ রাতে ঢাকাসহ সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ পালিত হবে। বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে এ রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ।

মুসলিম জাহানের কাছে এ রাতের তাৎপর্য অপরিসীম। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পবিত্র কোরান তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, দিনভর নফল রোজা রাখা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শবে মেরাজ পালন করেন। 

অনলাইন ডেস্ক : ওজন কমানোর জন্য নিচের পাঁচটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি-

ডায়েট : আপনি যদি শারীরিক কোনো পরিশ্রম না করেন তবে দিনে ১৫০০ কিলো ক্যালরির বেশি শক্তিসম্পন্ন খাদ্য থেকে বিরত থাকুন। এর পরিমাপ করা খুব সহজ। ১ গ্রাম ভাত বা রুটি আপনাকে দেবে ৪ কিলো ক্যালরি, ১ গ্রাম চর্বিজাতীয় খাদ্য দেবে ৯ কিলো ক্যালরি, ১ গ্রাম আমিষ (মাছ, মাংস) ৪ কিলো ক্যালরি। অতএব দেখা যায় চর্বি জাতীয় খাদ্য সবচেয়ে বেশি এনার্জি দেয়। যেহেতু সব ধরনের খাদ্যই শরীরের জন্য প্রয়োজন, তাই উপর্যুক্ত হিসাব থেকে অতি সহজেই খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো খাদ্য ফর্মুলা দিতে পারবে।
ব্যক্তিগত অভ্যাস ও লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনা জরুরি। যদিও এটি খুবই কঠিন কাজ। টিভির রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার কমিয়ে দিন। অল্প দূরত্বের জন্য গাড়ি বা রিকশা পরিহার করুন। কম্পিউটার ব্যবহার ও গেম খেলা কমিয়ে দিন।

খাদ্যাভ্যাস : সময়মতো ও পরিমাণমতো খাদ্য ধীরে ধীরে গ্রহণ করুন। খাদ্য তাড়াতাড়ি গ্রহণ করা উচিত নয়। তিন বেলার খাদ্যের মাঝের সময়ে স্ন্যাকস পরিহার করুন। যদি ক্ষুধার্ত হন তবে সবজি (যেখানে ক্যালরি কম থাকে) খাদ্য গ্রহণ করুন। খাওয়ার পরপরই পানি বা অন্য কোনো পানীয় গ্রহণ করবেন না। খাওয়ার কমপক্ষে এক ঘণ্টা পর পানি পান করুন। টিভি দেখতে দেখতে খাদ্য গ্রহণ করবেন না। এতে খাদ্য বেশি গ্রহণ করা হয়ে যায় নিজের অজান্তেই।

ব্যায়াম ও শারীরিক কাজকর্ম 
ওজন কমানোর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম করা একটি ভালো অভ্যাস। সাঁতার কাটা একটি ভালো ব্যায়াম। নিয়মিত সাইক্লিং ও দ্রুত হাঁটা খুবই ভালো। দিনে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম শুরু করুন। পরে সম্ভব হলে ব্যায়ামের সময় বাড়ান।সবকিছুই বিফলে যায় তবে আপনাকে মেডিক্যাল বা সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। আপনি BMI (Body Mass Index) নিরূপণ করতে হবে এটি মাপার জন্য নিম্নের ফর্মুলা ব্যবহার করতে হবে BMI = Weight in kg/(High in meter)2। যদি BMI ১৮.৫ থেকে ২৫ হয় তবে আপনি স্বাভাবিক ওজনের অধিকারী। BMI ২৫.১ থেকে ৩০ হয় তবে আপনার ওভার ওয়েট।

জনপ্রিয় অনলাইন : নিজের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সেই আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠলো তার কথাও। জানালেন, কেউ তাকে ভালো না বাসলেও ইতিহাসে তার হয়ে তার গোলের সংখ্যাই কথা বলবে। তিনবার ব্যালন'ডি অর জয়ী এই ফুটবলার আজ বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দ্বিতীয় লেগের সেমিফাইনালে মাঠে নামবেন ম্যানচেস্টর ইউনাইটেডের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১টায় ম্যাচটি শুরু হবে। চোঁটের কারণে ইউরোপ সেরা এই টুর্নামেন্টের শেষ চারের প্রথম লেগে খেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু পরের ম্যাচগুলোতে নিজেকে মেলে ধরেছেন। রিয়াল মাদ্রিদকে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে তুলতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সর্বোচ্চ ৯৩ গোলের রেকর্ড তার। মাঠে নামার আগে এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছেন, 'মানুষ আমাকে ভালোবাসুক অথবা না বাসুক, ইতিহাসে আমার নাম থাকবে। আমার গোলের সংখ্যা আমার হয়ে কথা বলবে।' 

বিনোদন ডেস্ক : কন্যাসন্তানের মা হয়েছন সংগীতশিল্পী ন্যান্সি। বুধবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে 

ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মা হন।এটা ন্যান্সির তৃতীয় কন্যাসন্তান। ন্যান্সির স্বামী জায়েদ জানান, মা ও নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছে। সন্তানের সবার কাছে জন্য দোয়া চান জায়েদ।ন্যান্সি বড় দুই মেয়ের নাম রোদেলা ও নায়লা। এখনো নবজাতকের কোনো নাম রাখা হয়নি। পারিবারিক আলোচনার মধ্য দিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে সন্তানের নাম ঠিক করা হবে বলে জানালেন জায়েদ। 

অনলাইন : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৪৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় ভাংচুর অগ্নিসংযোগের পৃথক ২ মামলায় চার্জশীট দিয়েছে আদালতে। আজ বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই তবিবুর রহমান ঢাকা সি.এম.এম আদালতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে চার্জশীট দুটি দাখিল করেন। মামলা দুইটির চার্জশীটে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, বিএনপির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব বরকতুল্লাহ, আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির নেতা সুলতান সালাউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা তাছলিম আজাহার, মকবুল আহম্মেদ ও মজিবুর রহমান। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল চলাকালে পল্টন মোড়ে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহন করা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পল্টন থানার এএসআই আবদুল মালেক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় অধিকাংশ আসামিদের পলাতক দেখানো হয়েছে। 

জনপ্রিয় অনলাইন : বাংলাদেশ সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। আজ বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে বৈঠক চলে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। আজ সকাল ৮টায় তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসেন নিশা দেশাই বিসওয়াল। এই সফরে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা দমনে ঢাকা-ওয়াশিংটনের সহযোগিতাবিষয়ক আলোচনাকে গুরুত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের ধারণা, সমসাময়িক ইস্যু হিসেবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মুক্ত মতের চর্চায় বাধা, মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা, শিক্ষক ও ব্লগার খুনসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করবেন মার্কিন এই কূটনীতিক। নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি বাংলাদেশকে চাপ দেবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন নিশা দেশাই। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আরো দুই দফা ঢাকায় আসেন তিনি। 

জনপ্রিয় ডেস্ক : ব্যক্তিগত গাড়িতে পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সব ধরনের লেখা বা স্টিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে 

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগরের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অপরাধীরা সংবাদপত্র, পুলিশ এবং অ্যাডভোকেটের আলগা স্টিকার ব্যবহার করে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। কাউকে হয়রানির জন্য নয়, মূলত অপরাধীরা যেন অপরাধ করে অন্য কারো নাম ব্যবহার করে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্যই এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন,ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সম্মানিত নাগরিককে উইদাউট অ্যানি রিজন (কোনো কারণ ছাড়া) যদি হয়রানি করা হয়, তবে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি মনে করি, এগুলো লাগানো হয় হয়রানি না যাতে উল্টা পথে যাওয়া যায়, ট্রাফিক রুল ভায়োলেশন (অমান্য) করা যায়, যাতে অন্যায় সুযোগ নেয়া যায়। মোস্ট অব দ্য কেসে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) সেটাই হয়। এটা কিন্তু আমাদের মানতে হবে। প্রতিটি মহল্লায়, প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ এবং পুলিশের সমন্বয়ে সার্ভেইলেন্স (নজরদারি) টিম গঠন করব। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নাম যানবাহনের ওপর লিখে চলাচলের পরামর্শ দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৪০ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য ডিএমপির কাছে এসেছে বলেও জানান আছাদুজ্জামান মিয়া। সাংসদ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ ধরনের নতুন স্টিকার গাড়িতে ব্যবহার করতে হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পুরোনো স্টিকারের পরিবর্তে সাংসদ ও তাদের পরিবারের জন্য ব্যবহৃত গাড়িতে দুই ধরনের এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত গাড়িতে তিন ধরনের স্টিকার ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনে হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, যানবাহনে হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহার করার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এ ধরনের হর্ন ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ৪০৭টি মামলা ও ব্যবহৃত হাইড্রলিক হর্নগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া গাড়িতে হুটার ও বিকন লাইট ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। রাজধানীতে উল্টো পথে যানবাহন চলতে দেয়া হবে না জানিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, উল্টো পথে যেসব যানবাহন চলে, এগুলোর বড় অংশ সমাজের কর্তাব্যক্তিদের গাড়ি। আমরা ট্রাফিক আইন মানতে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছি। রাস্তায় চলাচলের সময় পথচারী ও চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বলে মন্তব্য করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটে থাকে। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে যানজট সৃষ্টিসহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ২৪ এপ্রিল থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন, মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি আরোহী ওঠা, হেলমেটবিহীন, উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ২ মে পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৫১টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে ২১ হাজার ৪১৫টি মামলা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত আছে। এ ছাড়া রিকশামুক্ত রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নাশকতার পরিকল্পনা করতে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।এ সময় পাঁচটি ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের বড়-মনোহরা গ্রামের আয়নুল হকের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে একজন মেম্বর প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী বৈঠক করার সময় পুলিশ তাদেরকে আটক করেছেন।
আটককৃতরা হলেন: ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি নরুল ইসলাম (৫৫), সহ সেক্রেটারি বেলাল হোসেন (৫৫), ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুল সরকার (৫০), বিএনপি কর্মী সিদ্দিক হোসেন (৪০), মেরাজ আলী (৫৫), সাইদুল প্রমানিক (৫৫), আশরাফ আলী (৫০), জামায়াত আলী (৪৫), জামায়াত সদস্য রেজাউল করিম (৫৫), জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮), আবু সাইদ (৩০), শিবিরের সদস্য লিটন হোসেন (১৯), ওমর ফারুক (১৮) ও আনিছুর রহমান (১৮)।
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, জামায়াতের চার নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর রাতে জামায়াত অধ্যুষিত মনোহরা গ্রামের আয়নুল হকের বাড়িতে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী নাশকতার পরিকল্পনা করার জন্য গোপন বৈঠকে করছিল। সংবাদ পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অন্যরা পালিয়ে গেলেও ১৪ জনকে আটক করা হয়।

এ সময় বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যা চেষ্টার মামলায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ফের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (০৪ মে) শুনানি শেষে এ আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রণব কুমার হুইয়ের আদালত।

নুরুল ইসলাম নাহিদ ১৯৪৫ সালে ৫ জুলাই সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার উপজেলার কসবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিয়ানীবাজার পঞ্চখন্ড হরগোবিন্দ হাই স্কুল, সিলেট এমসি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন।তাঁর রয়েছে সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি সকল মহলে প্রশংসিত। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মধ্যে যে কয়জন আজও রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় অবদান রাখছেন, জনাব নাহিদ তাঁদের অন্যতম। তিনি মানুষের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং তাদের জন্য সংগ্রামকেই প্রধান পেশা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। আজও সেই কঠিন ব্রত নিয়ে আছেন জনগণের সঙ্গে, তাদেরই একজন হিসেবে।ষাটের দশকের সূচনালগ্নে এমসি কলেজের ছাত্রাবস্থায় আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর প্রত্যক্ষ সংগ্রামী জীবনের সূচনা হয়েছিল। সিলেটে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রথম মিছিল ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং সক্রিয় কর্মী ও সংগঠকদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। পরবর্তীকালে জাতীয় পর্যায়ে ষাটের দশকের সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, শিক্ষার দাবি ও অধিকার অর্জন এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতন্ত্র ও জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলন, ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ ঐ সময়ের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে একজন বিশিষ্ট ছাত্রনেতা এবং সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। ষাটের দশকের প্রথম থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তৎকালীন গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র আন্দোলনে তিনি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র আন্দোলনের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠতা ও বিশেষ স্নেহ লাভের সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর।মুক্তিযুদ্ধকালে একজন সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তৎকালীন অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ যৌথ গেরিলাবাহিনী সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী-সমর্থকদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তিনি দিল্লিতে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা লাভের প্রচেষ্টা গ্রহণ করে সফল হন। ন্যাপ-সিপিবি-র সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নে সম্মিলিত গেরিলাবাহিনী গড়ে তোলেন। এই তিন সংগঠনের যৌথ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের নিকট থেকে এই বাহিনীর জন্য ট্রেনিং, অস্ত্র ও অন্যান্য সাহায্য আদায় করা এবং শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।৬ মে, ১৯৭১ দিল্লিতে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে গণহত্যা ও প্রতিরোধ সংগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সেখানে প্রায় সকল দেশের প্রচার মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্য দুনিয়ার সর্বত্র ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের কোন নেতার এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম সংবাদ সম্মেলন, যেখানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন সারা দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে ১০ মে, ১৯৭১, আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়ন (IUS) এবং বিশ্ব যুব ফেডারেশন (WFDY) সহ বিশ্বের সকল আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব সংগঠন এবং সকল দেশের ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানিয়ে তিনি চিঠি পাঠান। তারপর সারা বিশ্বের ছাত্র-যুব সংগঠনগুলো দ্রুত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেন।মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে সারা দেশে ছাত্র বিগ্রেড গঠন করে সর্বক্ষেত্রে গঠনমূলক সৃজনশীল বহু কর্মকা- শুরু করেছিল। তাঁদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্র ইউনিয়ন সর্বশ্রেষ্ঠ ছাত্র সংগঠন হয়ে উঠেছিল। সে বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন জয়লাভ করেছিল।স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ৯-১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ত্রয়োদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এত বড় আকারের বৈচিত্র্যময় ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এটাই ছিল সর্বপ্রথম সম্মেলন। স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সকল সদস্য, বিদেশের রাষ্ট্রদূত, সমাজের সকল স্তরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়নের মহাসচিবসহ বিশ্বের ১৯টি ছাত্র ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধি এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রধান অতিথি এবং নুরুল ইসলাম নাহিদ ছিলেন এই সম্মেলনের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সকল ছাত্র সংগঠনকে একটি সংগঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঐতিহাসিক আহবান জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রয়োজনে তাঁর নিজ সংগঠন বিলুপ্ত করতেও প্রস্তুত আছেন বলে ঘোষণা দিয়ে এক অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন-স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা এখনও সক্রিয়। তাদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করতে না পারলে জাতির জন্য মহাবিপদ নেমে আসতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন এবং লক্ষ্যও পূরণ হবে না। বিশ্বের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, স্বাধীনতা অর্জন করা খুবই কঠিন, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা রক্ষা ও তা জনগণের জন্য অর্থবহ করা অনেক বেশি কঠিন ও জটিল। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুরা তাদের পরাজয় কখনও মেনে নেবে না। সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্বের অন্যান্য প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সমর্থন ও সহযোগিতায় তারা তাদের ষড়যন্ত্রের কৌশল পরিবর্তন করে নানা দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুর পথে জাতির সকল অর্জন ও বিজয়কে ধ্বংষ করতে মরিয়া হয়ে উঠবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে সকলে মিলে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জাতির শত্রুদের পরাজিত করে প্রকৃত স্বাধীনতাকে জনগণের জন্য অর্থবহ করার কঠিন ও জটিল সংগ্রামের স্বার্থে ঐতিহাসিক ঐক্য অপরিহার্য। আমার এই ঐক্যের আহবানকে কেউ দুর্বলতা ভাববেন না, এটা আমাদের সংগঠনের দেশপ্রেমের তাৎপর্য।। বঙ্গবন্ধুর ঐ সম্মেলনে (এবং অন্যান্য সময়েও) ছাত্র ইউনিয়ন এবং এই সংগঠনের সভাপতি নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক সেলিমসহ নেতা-কর্মীদের ভূমিকাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করে তাঁর ভাষণে নাহিদের ঐক্যের বক্তব্যকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।১৯৭০ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে নুরুল ইসলাম নাহিদ তৎকালীন এই বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন। এর পূর্বে সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরপর দু-বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হন। স্কুল জীবনেই তিনি ছাত্রসমাজের দাবিদাওয়া আদায়, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য কর্মকান্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যার ফলে তিনি পঞ্চখন্ড হরগোবিন্দ হাইস্কুলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্কুল ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি সামরিক শাসনামলে বেআইনি ঘোষিত গোপন ছাত্র আন্দোলন ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। সিলেট এমসি কলেজ ছাত্র সংসদে তিনি পরপর দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।১৯৫৯ সালে যখন নবম শ্রেণীর ছাত্র, তখন তাঁর নিজ গ্রাম কসবা শিশু-কিশোর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ এসোসিয়েশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। খেলাধুলা বিশেষ করে ভলিবল, সাঁতার, হাই জাম্প, লং জাম্প প্রভৃতি প্রতিযোগিতায় তৎকালীন বৃহত্তর সিলেট জেলায় স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।যুবসমাজকে নতুন চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৬ সালে গঠিত যুব সংগঠন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে যুবসমাজের মধ্যে নতুন ধারায় কাজ, চেতনা ও সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন।নববইয়ের দশকের প্রথম দিকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাক-বাহিনীর দালাল খুনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাত সদস্যবিশিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে ঐ আন্দোলন ও গণ-আদালত সংগঠিত করাসহ নববইয়ের দশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার ঐতিহাসিক সংগ্রামে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।১৯৯৩ সালে ভারতে বাবরি মসজিদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল, তা প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য শেখ হাসিনাকে আহবায়ক করে দেশের সকল অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল, ছাত্র, শ্রমিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বদলীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়।১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনের (সাংগঠনিক সম্পাদক) দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া পার্টির আদর্শগত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে সিপিবি-র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের বাস্তবতা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পার্টিকে রূপান্তরিত করা এবং জাতীয় ঐতিহ্য এবং দেশ ও সমাজের বাস্তবতার সাথে সঙ্গতি রেখে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে কমিউনিষ্ট পার্টিকে রূপান্তরিত ও সংস্কারের লক্ষ্যে পরিবর্তনের চেষ্টায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যসহ তিনি উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে গুনগত পরিবর্তন দেখা দিলে বাস্তবতার বিবেচনায় সেই প্রক্রিয়াতেই পরবর্তীকালে ১৯৯৩ সালে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে তিনি যোগদান করেন। বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মেহনতি মানুষের সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। নববইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের নেতা হিসেবে তিনি জোটের লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। কিছু সময় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।১৯৯৬-২০০১ ও ২০০৮-২০১৪ এবং ২০১৪ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা (সিলেট-৬) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭ম জাতীয় সংসদে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়াও তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা পরিষদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, জাতীয় শিশু পরিষদ, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় প্রেস কাউন্সিল প্রভৃতি বহু প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য মনোনীত হন।বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ট্রাস্টের পরিচালনা পরিষদের প্রথম সভাপতি। ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সভাপতি। কাউন্সিল অব মিলিটালি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজী (এমআইএসটি) এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম) বোর্ড অব গভর্নান্স চেয়ারম্যান। সভাপতি এনটিআরসি।জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালে তাঁর নিজ এলাকা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে সকল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করতে সক্ষম হন, সাধারণ জনগণের ভাষায় অতীতে পঞ্চাশ বছরেও এত উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে সিলেটে শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি তাঁর নিজ এলাকা ও সিলেট বিভাগের সমস্যা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য জাতীয় সংসদে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন এবং সব সময় সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণে করেছেন। সংসদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। জাতীয় সংসদে প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তার উজ্জ্বল ভূমিকার মধ্য দিয়ে একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে সকল মহলের কাছে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া, অর্ধ-শতাব্দী ধরে সিলেট বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বৈষম্য প্রভৃতি বিষয়সহ শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেট বিভাগের জন্য সুনির্দিষ্ট করণীয় ও দাবি জাতীয় সংসদে অব্যাহতভাবে তুলে ধরেন। সিলেটে শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুটি উপ-পরিচালকের দপ্তর স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ স্থাপন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্রিটিশ শাসনামল থেকে চলে আসা দু-শিক্ষক পদের প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থার অবসান করে চার শিক্ষকের জাতীয় সমপর্যায়ে উন্নীত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন প্রভৃতি সার্বিক কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছেন।তাঁর লেখা বাঙালি রুখে দাঁড়াও (২০০৬), বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, লক্ষ্য ও সংগ্রাম (২০০৭), রাজনীতির সুস্থধারা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম (২০০৯), শিক্ষানীতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০০৯), বাংলাদেশের অভ্যদয় ও গণতন্ত্রের পথ পরিক্রমা (২০১০) সালে প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অন্যান্য বহু বিষয়ে বিশ্লেষণমূলক কয়েক শ নিবন্ধ বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন।ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। মণিসিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাষ্টের অন্যতম ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য। তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্টারের আজীবন সদস্য।১৯৭১ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপে তৎকালীন চেকোশেস্নাভাকিয়ার (বর্তমানে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিশ্লাভায়) অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়নের (International Union of Students-IUS) দশম কংগ্রেসে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন এবং IUS-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এটাই ছিল একজন ছাত্রনেতার প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান।বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে বিশ্বের ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বশীল সর্ববৃহৎ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বাঙালি জাতির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং সকলকে সমর্থন করার আহবান জানান। তাঁরই উদ্যোগে সেই সম্মেলনে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়, যার ফলে পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের ছাত্র যুবসমাজের সমর্থন লাভ সহজ হয়েছিল।১৯৭১ সালে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকা ফিরে আসার আগে পাকিসত্মান সরকারকে ফাঁকি দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোতে এক সপ্তাহ অবস্থান করে এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ছাত্র-যুব সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ছাড়াও নাহিদ সোভিয়েত ইউনিয়নের পার্টি ও রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের যৌক্তিকতা ও বৈধতা এবং সমগ্র জাতির দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে ব্যাপক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের সমর্থন ও সাহায্যের জন্য আহবান জানান। সিবিপি-র অনুরোধে এই ব্যবস্থা হয়েছিল এবং ঐ এক সপ্তাহের কার্যক্রম ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাস পূর্বে এই তৎপরতা ছিল এক বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনারে যোগদানের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া, ইউক্রেইন, বেলরুশিয়া, উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, লাতভিয়া ও লিথুনিয়া), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, মরিসাস, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, চেকোশ্লোভাকিয়া, রুমানিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, আজারবাইজান, কিউবা, সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইরান, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি দেশ সফর করেছেন।১৯৯৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৫৩তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্যালেস্টাইন ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ইউনেস্কো এর ৩৪ তম (২০০৯) এবং ৩৫ তম (২০১১) সাধারণ অধিবেশনে তার বক্তৃতা বিশেষভাবে প্রশংসা ও সমর্থন অর্জন করেছিল। ২০০৯ সালে এবং পরবর্তী মেয়াদের জন্য আবারও বাংলাদেশ ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ ২০১৫ সালে ইউনেস্কোর ৩৮ তম জেনারেল কনফারেন্সে অন্যতম সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে (২০০৯-২০১৬) শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনের মাধ্যমে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধনে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রথমবারের মত সকল মহলের মতামত নিয়ে সমগ্র জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন, জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন (চলমান) সম্ভব হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আধুনিক বাংলাদেশের নির্মানে প্রস্ত্তত করার জন্য, শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন করে বর্তমান যুগের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশ্বমানের শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন এবং নৈতিক মূল্যবোধ, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা, নিষ্ঠা এবং দেশেপ্রেমে উজ্জীবিত পরিপূর্ণ মানুষ তৈরীর লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে এক মহা কর্মযজ্ঞ চলছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্যোগ, শৃংঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ভর্তি নীতিমালা বাস্তবায়ন, যথাসময়ে ক্লাশ শুরু, নির্দিষ্ট দিনে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ, ৬০ দিনে ফল প্রকাশ, সৃজনশীল পদ্ধতি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম প্রতিষ্ঠা, তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রভৃতি ব্যাপক কার্যক্রম এবং অভূতপূর্ব সফলতা সমগ্র জাতির কাছে প্রশংসিত হয়েছে এবং বিশ্ব সমাজে পেয়েছে স্বীকৃতি ও মর্যাদা।শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও তিনি একইসঙ্গে ২০০৯ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৩-২০১৪ সালে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৫ সালের এই সময়টি ছিল শিক্ষার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং। বিএনপি ও জামাতের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসায় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে। একই দিনে শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেয়ার উদাহরণ দুনিয়ার কোনো দেশে নেই।শিক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা ও অবদানের জন্য ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস বিশ্ব সম্মেলনে ২০১২ সালে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে পরিবর্তনের অগ্রদূত আখ্যায়িত করে ‘World Education Congress Global Award for outstanding contribution to Education’ পদকে ভূষিত করা হয়।ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সৎ ও সহজ সরল জীবনযাপন বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রম হিসেবেই সকলের কাছে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর স্ত্রী জোহরা জেসমিন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। দুই মেয়ে, নাদিয়া নন্দিতা ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং নাজিয়া সামান্থা ইসলাম বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা

সুত্র :ফে/বুক ।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget