2016-04-17

ঢাকা: প্রথম ও দ্বিতীয় দফার মতো তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী ভোট ডাকাতির মহোৎসব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সারা দেশে ভোট ডাকাতি ও ব্যাপক অনিয়ম করছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা গতকাল (শুক্রবার) রাত থেকেই ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছেন। আজকে সকাল থেকেই বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে নিয়েছেন। তারা সকল এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
তিনি বলেন, সরকার ও সরকার সমর্থিতদের ভোটকেন্দ্র দখল, বিএনপির এজেন্টদের বের করা দেওয়া, প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সিল মারাসহ নানা অভিযোগ করা হলেও নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এসব ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তৃতীয় ধাপেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে গোপন  লিখিত চুক্তি করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য, সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদেরকে নির্বাচনে জয়ী করা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য হত্যা, নির্বাচনকে রক্তাক্ত করা। সেই পৈশাচিক ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছে। রক্তাক্ত করেছে ইউনিয়েনের পর ইউনিয়ন, অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষেও অনেককে হত্যা করেছে। রিজভী বলেন, সব কয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই  ভোট জালিয়াতি, ভোট ডাকাতি, বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি প্রশাসনের হামলা, তাদের গ্রামছাড়া করা, এলাকাছাড়া করা হয়েছেআওয়ামী ভোটারবিহীন সরকারের জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তাদের অধীনে যতোগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সবগুলোতেই আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সহিংস ও ভোট ডাকাতির ঘটনা প্রত্যক্ষ করে আসছে দেশবাসী- যোগ করেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রাণঘাতি রক্তাক্ত সহিংসতা ঠেকাতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ সমস্ত গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন না নির্বাচন কমিশন। কারণ, ঝুঁকি নিলে যদি চাকরি চলে যায়! সরকার আজ পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সরকার উপহাসে পরিণত করেছে। আর তাতে সহায়তা করেছে নির্বাচন কমিশন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিদায়ী কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

গাজীপুর: গাজীপুর কোনাবাড়ি বিসিক শিল্প এলাকায় কাদের সিনথেটিক ফাইবার্স লিমিটেড কারখানার পুরাতন ভবন ভাঙার সময় ছাদ ধসে পড়ে হান্নান মিয়া (৩২) নামের এক ভাড়াটিয়া নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো ৩ জন।শনিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টা দিকে ভাঙার সময় পাশের টিনসেড বাড়ির উপর পড়লে এ দুর্ঘনা ঘটে। নিহত হান্নান কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার শরীয়তপুর এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন, মো. দাউদ মিয়া (২২), মুজিবুর রহমান (২৮) ও রুজিনা আক্তার (৭)। তারা সকলেই কোনাবাড়ী পুকুরপাড় এলাকার সাইফুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া। ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী জানায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাদের সিনথেটিক ফাইবার্স লিমিটেড কারখানার চারতলা পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ করছিলো। এসময় ছাদ ও দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙ্গে পাশেই সাইফুল ইসলামের দুইতলা টিনশেড বাড়ির উপর পড়ে। এতে ওই বাড়ির চার ভাড়াটিয়া আহত হন। পরে স্থানীয়রা হান্নান মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মো. দাউদ মিয়া, মুজিবুর রহমান ও রুজিনা আক্তারকে আহত অবস্থায় কোনাবাড়ী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাদের সিনথেটিক ফাইবার্স লিমিটেড কারখানায় গেলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা কর্মীরা লুকিয়ে যান। কারখানার কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. হাসিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হান্নান মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

জনপ্রিয় ডেস্ক : পবিত্র কোরআনে কারিমের দ্বিতীয় বৃহত্তম সূরার নাম আল ইমরান। এ সূরার আয়াত সংখ্যা ২০০টি। সর্বশেষ আয়াতটিকে দীর্ঘ এ সূরার সারাংশ মনে করা হয়। বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা গুরুত্বপূর্ণ চারটি কাজের আদেশ দিয়েছেন। যথা- সবর, মুসাবারা, মুরাবাতা ও তাকওয়া।
আয়াতের প্রথম নির্দেশ সবর করা। সবর অতি প্রয়োজনীয় একটি মানবিক গুণ। আরবি এ শব্দটি বাংলা ভাষায় অহরহ ব্যবহার হয়ে থাকে । অর্থ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা ইত্যাদি। আরবিতে সবর বলতে বুঝায়- বেঁধে রাখা, আটকে রাখা, ধরে রাখা। অর্থাৎ মনের বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেকে সংবরণ করার নাম সবর।
ইসলামের দৃষ্টিতে মনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ মন থেকে মেনে নেওয়ার নাম সবর। আর সবর করতে হবে তিন সময়ে। যথা-
১. সবর আলাত‌ তায়াত
ইবাদত আদায় করতে যেয়ে যদি দেহ ও মনে কষ্ট লাগে তবে সে কষ্ট সহ্য করে ইবাদত-বন্দেগি করার নাম সবর। ব্যস্ত মানুষের জন্য কাজ ফেলে রেখে নামাজের জামাতে শরিক হওয়া কষ্টকর। পূর্ণ দিবস পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা করা কষ্টকর। প্রচন্ড শীতের শেষ রাতে অজু করে ফজরে জামাতে শরিক হওয়া কষ্টকর। সময় নিয়ে নিয়মিত জিকির করা কষ্টকর। নিজের কষ্টের উপার্জন দিয়ে আর্ত, পীড়িত, ঞ্চিত মানুষের সেবা করা কষ্টকর। ঘাম ঝড়ানো অর্থ দিয়ে দ্বীন ও ইলমে দ্বীনের খেদমত করা কষ্টকর। কিন্তু কষ্ট হলেও এগুলো করতে হবে। আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য, আল্লাহকে পাওয়ার জন্য এ ধরণের কষ্ট করতে হবে।
২. সবর আনিল মাআসি
হারাম থেকে বিরত থাকতে যদি কষ্ট হয় তবে কষ্ট সহ্য করে হারাম থেকে বিরত থাকার নাম সবর। ঘুষ গ্রহনের অবাধ সুযোগ থাকার পরেও চাকরি জীবনে ঘুষ গ্রহণ না করে বেতনের সীমিত পয়সার সংসার চালাতে কষ্ট হয়। সংসারে অনেক চাহিদা ও সাধ অপূরণ থেকে যায়। বেপর্দার পরিবেশে পরনারীর সৃষ্টিসৌন্দর্য অবলোকন করা থেকে দৃষ্টির হেফাজত করা অত্যন্ত কষ্টকর একটি কাজ। গুনাহর সহায়ক সমাজে বাস করে বিভিন্ন সামাজিক গুনাহ থেকে নিজেকে নির্লিপ্ত রাখা কষ্টকর। সমাজ ও সভ্যতার দিক থেকে প্রতিনিয়ত বাহ্যিক ও মানসিক চাপ থাকে সে সব সামাজিক গুনাহতে নিজেকে জড়িত করতে। এ সমাজ, সভ্যতা, পরিবেশ ও সোসাইটিকে উপেক্ষা করে আল্লাহর নাফরমানী থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা বড় কষ্টের কাজ। কিন্তু আল্লাহর জন্য এতটুকু করতেই হবে। প্রিয় মালিকের ভালোবাসা লাভের জন্য এ ধরণের কষ্ট সহ্য করে সবরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে।
৩. সবর আলাল মাসায়িব
জান ও মালের ক্ষয়-ক্ষতিতে অধৈর্য না হওয়া। পার্থিব জীবনে জমির আবাদ-ফসল নষ্ট হতে পারে। পাকা ধানে শিলা পড়ে নষ্ট হতে পারে। গর্ভবতী গরু মারা যেতে পারে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। দাম্পত্য জীবনের বহু বছর পর লাভ করা সন্তান আকস্মিক মৃত্যুবরণ করতে পারে। আগুন লেগে বসত-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যেতে পারে। তাসবিহর সুতা ছিড়ে দানাগুলো পরপর পরে যাওয়ার মতো চারদিক থেকে বিপদের সংবাদ একের পর এক আসতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে, মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে পার্থিব জীবনের ভালো-মন্দ সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ ও পরম করুময় আল্লাহ যা করেছেন তা আল্লাহর সিদ্ধান্ত জেনে সহ্যের সঙ্গে মেনে নিতে হবে।
আয়াতের দ্বিতীয় নির্দেশ মুসাবারা। অর্থাৎ জাতির শত্রুদের মোকাবেলায় অবিচল থাকা, পিছপা না হওয়া। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দশ বছরের মাদানি জীবন এবং হজরত সাহাবাদের হিজরত পরবর্তী জীবন আল্লাহর এ নির্দেশ পালনের অসংখ্য দৃষ্টান্তে সমৃদ্ধ।
আয়াতের তৃতীয় নির্দেশ মুরাবাতা। কোরআন ও হাদিসে মুরাবাতা শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যথা-
ক. ইসলামি দেশের সীমানা পাহারা দেওয়া।
খ. নামাজের জামাতের সময়ানুবর্তীতা।
এ প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এক দিন এক রাত ইসলামি দেশের সীমানা পাহারা দেওয়া এক মাস রোজা রাখা ও রাত জেগে ইবাদাত করার চেয়ে শ্রেয়। এ অবস্থায় মারা গেলে তার নেকআমলগুলো (কিয়ামত পর্যন্ত আমলনামায়) লেখা হবে। (মৃত্যু পরবর্তী জীবনের) সকল বিভীষিকাময় পরিস্থিতি থেকে সে নিরপদে থাকবে। -সহিহ মুসলিম: ৫০৪৭
একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দিব না; যা পাপ মোচন করবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবে? সাহাবারা বললেন, অবশ্যই বলুন। তিনি ইরশাদ করলেন, কষ্টের সময় ভালোভাবে অজু করা, বেশি বেশি মসজিদে যাওয়া, এক নামাজের পর থেকেই পরবর্তী নামাজের অপেক্ষা করা। -সহিহ মুসলিম: ৬১০
৪. তাকওয়া
আয়াতের চতুর্থ নির্দেশ তাকওয়ার জীবন-যাপন করা। পুরো জীবন বা জীবনের সকল অঙ্গন তাকওয়ার আলোয় আলোকিত করা। তাকওয়া বলতে বুঝায় আল্লাহর ভয়। প্রকাশ্যে-গোপনে, জনসম্মুখে-নির্জনে এক জন মানুষ প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে যত কাজ করে থাকে সব কাজে এ কথা স্মরণ রাখা যে, হাশরের মাঠে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে এ কাজের কৈফিয়ৎ দিতে হবে, জবাব দিতে হবে। পৃথিবীর কেউ না দেখলেও আল্লাহ দেখছেন। পৃথিবীতে কৈফিয়ৎ নেয়ার কেউ না থাকলেও আল্লাহ ঠিকই কৈফিয়ৎ নিবেন।
আয়াতের সারকথা হলো- সুখে-দুঃখে, অভাবে-প্রাচুর্যে, পছন্দে-অপছন্দে সবক্ষেত্রে আল্লাহর পছন্দনীয় জীবনব্যাবস্থা ইসলামকে অনুসরণ করা এবং নিজের জীবন দিয়ে হলেও এর হেফাজত করা।

যে ব্যক্তি তাকওয়ার সঙ্গে সামগ্রিক ইসলামের চর্চা করবে এবং ইসলামের হেফাজত করবে আয়াতের শেষাংশে তার জীবন সফল হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। জীবনের সফলতা বুঝানোর জন্য আরবিতে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে- ফালাহ। প্রতিদিনের আজানেও আহ্বান জানানো হয়, এসো ফালাহের দিকে। ফালাহ বলতে এমন সফলতাকে বুঝায়, যার পর আর কখনোই কোনো ধরণের ব্যর্থতা আসবে না। যে সফলতা লাভের পর কোনো ইচ্ছা অপূরণ থাকবে না। কোনো কষ্ট থাকবে না। এ ধরণের সফলতা একমাত্র জান্নাতেই পাওয়া সম্ভব।

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে এবার রানি এলিজাবেথের ৯০তম জন্মদিনের আনুষ্ঠানিক কেকটি বানিয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী নাদিয়া হোসেন। গতকাল নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে জন্মদিন পালনের পর আজ সেই কেকের ছবি ব্রিটেনের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বেশ অন্যধরনের দেখতে কেকটি, দেখে মনে হবে যেন তিনটি সোনালী, বেগুনী এবং ডোরাকাটা কেক - একটি আরেকটির ওপর বসানো। নাদিয়া নিজেই বলেছেন, তিনি সনাতনী ডিজাইনের তুলনায় সম্পূর্ণ অন্যরকম চেহারার একটি কেক বানাতে চেয়েছিলেন, এবং এই আইডিয়াটা তার মাথায় হঠাৎ করেই এসেছে।

কেকটা দেখে রানি এলিজাবেথ নাদিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন, এর ভেতরে কি আছে?
নাদিয়া উত্তর দেন, "অরেঞ্জ ড্রিজল।"
রানি তখন আবার প্রশ্ন করেন - "এটা কি কাটা যাবে?"
নাদিয়া বললেন " আমি বুঝলাম তিনি হয়তো ভয় পাচ্ছেন যে কেকটা কাটা যাবে না, অথবা তার এমন কোন কেকের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে যা কাটা যায় নি।"
"কিন্তু আমার তেমন কোন দুর্ভাবনা ছিল না। বললাম, হ্যাঁ এটা কাটা যাবে। এবং কেকটা কাটতে রানীর কোন অসুবিধাই হয় নি।"
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লুটন শহরের বাসিন্দা নাদিয়া হোসেন বলছিলেন, টিভিতে একটি কেক বানানোর অনুষ্ঠানে পুরস্কার পাবার পর যখন তিনি বাকিংহাম প্রাসাদ খেকে রানির ৯০তম জন্মদিনের কেক বানানোর আমন্ত্রণ পেলেন - তিনি তা বিশ্বাসই করতে পারেন নি।

নাদিয়া তার বাড়িতে বসেই কেকটি বানিয়েছেন, তবে তা রানির কাছে পাঠাতে তিনি একজন কুরিয়ার ব্যবহার করেছেন, নিজে নিয়ে যান নি।

সুত্র :বিবিসি বাংলা ।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল : গত শনিবার আমাকে একটা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি বললেন, স্যার, আপনি নিশ্চিন্ত মনে আসতে পারেন! আপনাকে স্টেজে বসতে হবে না, বক্তৃতা শুনতে হবে না, বক্তৃতা দিতেও হবে না! যে অনুষ্ঠানে স্টেজে বসতে হয় না, বক্তৃতা শুনতে হয় না কিংবা বক্তৃতা দিতে হয় না সেটা দেখার আমার খুব আগ্রহ হলো তাই শনিবার দিন সকাল বেলা আমি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে হাজির হলাম। গিয়ে দেখি এটি একটি বৈশাখী হাট, তবে অন্য দশটা বৈশাখী হাট থেকে ভিন্ন, গেটে বড় বড় করে লেখা বৈশাখী উদ্যোক্তা হাট! আমি অনেক রকম হাট দেখেছি, আমাদের দেশে ছবির হাট আছে, গাড়ির হাটও আছে, আমস্টার্ডামে উল্কি (Tattoo) হাট দেখেছিলাম কিন্তু কখনো উদ্যোক্তা হাট দেখিনি। এখানে দেখে আমি চমৎকৃত হলাম। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে ভেতরে গেলাম। মনে পড়ল বছর খানেক আগে এই উৎসাহী কিছু তরুণরা মিলেই উদ্যোক্তাদের একটা আন্দোলন গড়ে তুলতে শুরু করেছিল, সেই আন্দোলনের মূল স্লোগানটি ছিল খুব মজার, চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব। আমাদের দেশের মানুষের জন্য এ রকম একটা স্লোগান যথেষ্ট সাহসী স্লোগান। কোনো একটা অজ্ঞাত কারণে এই দেশের মানুষ চাকরির জন্য খুব ব্যস্ত। বিশেষ করে সেই চাকরিটা যদি সরকারি চাকরি হয় তাহলে তো কথাই নেই। এ রকম একটা অবস্থায় নিজের জন্য চাকরিকে অস্বীকার করে অন্যকে চাকরি দেয়ার কথা বলতে নিশ্চিতভাবেই বুকের পাটা দরকার।
আয়োজকদের কাছে জানতে পারলাম তারা যেখানে এই হাটের আয়োজন করেছেন সেই জায়গাটা খুব বড় নয় তাই বাধ্য হয়ে শত শত উদ্যোক্তার ভেতর থেকে মাত্র চল্লিশজনের মতো উদ্যোক্তাকে লটারি করে বেছে নিতে হয়েছে। এখানকার এই গোটা চল্লিশেক উদ্যোক্তার বাইরেও দেশে অসংখ্য উদ্যোক্তা কাজ করে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তা শব্দটির ইংরেজি আন্ট্রেপ্রেনিউর (entrepreneur) শব্দটার বানান কিংবা উচ্চারণ দুটিই যথেষ্ট কঠিন হলেও এটা আজকাল পৃথিবীর মাঝে খুব প্রচলিত একটা শব্দ। পৃথিবীতে নানা ধরনের ব্যবসায়ী আছে, ভালো ব্যবসায়ীর পাশে পাশে মন্দ ব্যবসায়ী আছে, সৎ ব্যবসায়ীর পাশে পাশে অসৎ ব্যবসায়ী আছে, নিরীহ ব্যবসায়ীর পাশে পাশে দুর্ধর্ষ ব্যবসায়ী আছে। শুধু তাই নয়, আমাদের দেশে অনেক ব্যবসায়ী আজকাল রাজনীতি করেছেন, নির্বাচন করে সাংসদ হয়েছেন, সাংসদ হয়ে অনেকেই অপকর্ম করে দুর্নামের ভাগী হয়েছেন তাই ব্যবসায়ী শব্দটা শুনলেই আমাদের অনেকেরই মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়, আমরা খানিকটা দুশ্চিন্তা নিয়ে ভ্রæ কুঁচকে তাকাই। যারা উদ্যোক্তা তারাও কিন্তু ঘুরেফিরে ব্যবসাই করার চেষ্টা করেন কিন্তু কোনো একটি বিচিত্র কারণে এই শব্দটিতে কোনো নেতিবাচক গন্ধ নেই। বরং উদ্যোক্তা শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে উৎসাহে টগবগ করা কমবয়সী একজন তরুণ কিংবা তরুণীর চেহারা ভেসে ওঠে। মনে হতে থাকে সেই তরুণ-তরুণী সৃজনশীল কোনো একটা নতুন আইডিয়া নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটা কিছু করতে চাইছেন। নতুন কিছু করতে গিয়ে সফল হতে না পারা অনেক উদ্যোক্তার ইতিহাস থাকার পরও আমাদের উদ্যোক্তা শব্দটা শুনলে বিল গেটস, স্টিভ জবস কিংবা জুকারবার্গের কথা মনে পড়ে। তাই আমরা সব সময়ই চারপাশে অসংখ্য উদ্যোক্তা দেখতে চাই। উদ্যোক্তা হাটে এসে আমার সেই আশা পূরণ হলো। আমি একসঙ্গে অনেক কয়জন কম বয়সী উৎসাহী উদ্যোক্তার দেখা পেলাম। কেউ কেউ মাত্র শুরু করেছে, কেউ কেউ গত কয়েক বছরে নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে সত্যি সত্যি অন্যদের চাকরি দিতে শুরু করেছে! আয়োজকদের নিয়ে বেলুন উড়িয়ে উদ্যোক্তা হাট উদ্বোধন করা হলো। ঢাকা শহরের আকাশে বেলুন উড়ানো খুব কঠিন কাজ। উঁচু উঁচু বিল্ডিং এবং ইলেকট্রিক তারের ফাঁক গলে বেলুন খুব বেশি দূর উঠতে পারে না তাই আমাদের বেলুনগুলোও কাছাকাছি একটা ইলেকট্রিক তারে আটকে গেল। সেটি নিয়ে কেউ বিচলিত হলো না, উদ্বোধনের পর আমরা উদ্যোক্তা হাটে উদ্যোক্তাদের দেখতে গেলাম। উদ্যোক্তা হাটের উদ্যোক্তাদের মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক ভাগ তাদের নিজেদের তৈরি কোনো এক ধরনের পণ্য বিক্রি করেন, অন্য ভাগ নিজেদের উদ্ভাবিত কোনো এক ধরনের সেবা বিক্রি করেন। পণ্যগুলোর বৈচিত্র্যের কোনো শেষ নেই। আমাদের পরিচিত পোশাক, বুটিক, জুয়েলারি কিংবা হ্যান্ডিক্র্যাফটস তো আছেই, এর সঙ্গে আছে চামড়াজাত নানা রকম ব্যাগ, ফোল্ডার কিংবা স্যুভেনির। আমরা যখন বিদেশে যাই তখন সব সময়েই ভ্রমণের স্মৃতি হিসেবে সেই দেশের ছাপ দেয়া কোনো কিছু কিনে আনি ঠিক সে রকম বাইরের দেশ থেকে কেউ এলে তারাও যেন বাংলাদেশের ছাপ দেয়া কোনো একটা স্যুভেনির কিনে নিয়ে যেতে পারে সে জন্য দেশের নানা ধরনের স্মারক দিয়ে তৈরি নানা কিছুর পসরা নিয়ে বেশ কয়জন উদ্যোক্তা হাজির আছেন। আজকাল ভেজালের কারণে অনেকেই বিষমুক্ত খাবার খুঁজে বেড়ান, তাদের জন্য পুরোপুরি বিষমুক্ত অর্গানিক খাবারও আছে এবং সেই কৃষি পণ্যের তালিকা দীর্ঘ। সফটওয়ারকে পণ্য বলা যাবে কি না আমি নিশ্চিত নই কিন্তু সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি সুনির্দিষ্ট সফটওয়ার যদি বিক্রয় করার জন্য হাজির করা হয় তাহলে আমরা সেটাকে পণ্য না বলি কেমন করে? এ ধরনের সফটওয়ার নিয়েও বেশ কিছু উদ্যোক্তা হাজির হয়েছেন। একটি খুব মজার পণ্য ছিল রুটি তৈরি করার একটি মেশিন, যারা নিজের হাতে রুটি বেলার চেষ্টা করেছে শুধু তারাই জানে কাজটি কত কঠিন কিন্তু এই মেশিনটি দিয়ে প্রতিবারই নিখুঁতভাবে পুরোপুরি গোল রুটি বানানো যায়! মেশিনটি দেখে আমার প্রায় তিন যুগ আগের একটি স্মৃতি মনে পড়ে গেল। এই লেখাটির সঙ্গে সেই স্মৃতি পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক তারপরও সেটা না বলে পারছি না। আমি এবং আমার স্ত্রী তখন যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার জন্য সিয়াটল শহরে থাকি। শহরের বাঙালিদের দুইভাগে ভাগ করা যায়- এক ভাগ আমাদের মতো কমবয়সী ছাত্রছাত্রী অন্যভাগ একটুখানি বয়স্ক চাকরিজীবী। সেই বাঙালিদের ভেতর বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবাংলা দুই অঞ্চলের বাঙালিই আছে। আমাদের ঈদে পশ্চিম বাংলার বাঙালিরা আমাদের সঙ্গে আনন্দ করতে চলে আসে, তাদের পূজা পার্বনেও আমরা তাদের সঙ্গে উৎসব করতে চলে যাই। সে রকম কোনো একটি পূজা অনুষ্ঠানে সিয়াটল শহরের বাঙালিরা মিলে অনেক বড় একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, অনুষ্ঠানের জন্য সবাইকে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কয়েক শত লুচি তৈরি করার জন্য। সন্ধ্যাবেলা আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, চল আজকে লুচি তৈরি করার বিশাল দক্ষ যজ্ঞ দেখে আসি। আমরা তো লুচি তৈরি করতে পারি না, বিষয়টা শিখে আসি।
নির্দিষ্ট বাসায় গিয়ে আমার আক্কেল গুড়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলার সব ছাত্রছাত্রী লুচি তৈরি করার জন্য চলে এসেছে কিন্তু তাদের কেউই জীবনে কখনো লুচি তৈরি করেনি- কিভাবে তৈরি করতে হয় সেটাও তারা জানে না! সবচেয়ে আতঙ্কের ব্যাপার সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে, আমার নেতৃত্বে তারা এই লুচি তৈরি প্রজেক্টে ঝাঁপিয়ে পড়বে। কোনো উপায় না দেখে আমি প্রবাসী বাঙালির অমূল্য গ্রন্থ সিদ্দিকা কবীরের রান্নার বই নিয়ে লুচি তৈরির কাজে লেগে গেলাম। কিছুক্ষণের মাঝেই আমরা আবিষ্কার করলাম যতভাবেই চেষ্টা করা হোক লুচি কোনোভাবেই গোল হতে চায় না। বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বড় বড় বিষয়ের পিএইচডি করতে থাকা ছাত্রছাত্রীরা নানা বিষয়ে গবেষণা করতে শিখেছে কিন্তু শত গবেষণা করেও তখন কেউ গোলাকৃতির লুচি তৈরি করতে পারছিল না। আমাদের লুচি পৃথিবীর নানা দেশের ম্যাপের আকৃতি নিতে শুরু করল এবং আমরা এক সময় হাল ছেড়ে দিয়ে তাতেই সন্তুষ্ট থাকলাম। পরের দিন সেই পূজা উৎসবে আমাদের ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের তৈরি লুচি নিয়ে যা হাসি তামাশা হলো সেটি আর বলার মতো না! উদ্যোক্তা হাটে আমি গোলাকার রুটি তৈরি করার এই মেশনটির দিকে তাকিয়ে তিন যুগ আগে ঘটে যাওয়া সেই হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা স্মরণ করে বিশাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলাম। তখন যদি আমার হাতে এই যন্ত্রটি থাকত তাহলে কেউ আমাদের মতো ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে হাসি তামাশা করতে পারত না! উদ্যোক্তা হাটে বিচিত্র পণ্যের যে রকম সমাহার ছিল ঠিক সে রকম ছিল বিচিত্র সেবার সমাহার। আমার মনে হয় এক হিসেবে সেবাগুলোর মাঝেই বৈচিত্র্য কিংবা সৃজনশীলতা ছিল বেশি। যে রকম আমাদের সবারই অসুখ-বিসুখ হয়, আমরা সবাই জানি এই দেশে অসুখ-বিসুখ হলে সত্যিকারের চিকিৎসা পেতে হলে নিজের পরিচিত ডাক্তার থাকতে হয়। যাদের ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ডাক্তার নেই তাদের জীবনে কী ধরনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হতে পারে আমার কাছে তার বিশাল একটা তালিকা আছে! সম্ভবত সেই ধরনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাওয়া কোনো একজন উদ্যোক্তা সঠিক এবং সত্যিকারের ডাক্তারের সঙ্গে এপয়ন্টমেন্ট পাওয়ার জন্য একটি ব্যবস্থা করে রেখেছে, দেশের যে কোনো জায়গায় ফোন কিংবা নেটের মাধ্যমে ডাক্তারের সঙ্গে এপয়ন্টমেন্ট করা যাবে! সেবাগুলোর মাঝে স্বাভাবিকভাবেই কেনাকাটা করার অনেকগুলো উদ্যোগ আছে, কিন্তু তার মাঝেও বৈচিত্র্য আছে! একটা সময় ছিল যখন বাইরে কোথাও কোনো ছোটখাটো যন্ত্রপাতি (সাধারণ ভাষায় অনেক সময় আমরা সেগুলোকে গেজেট বলি) বের হলেও দেশে বসে আমরা সেগুলো পেতাম না। একজন উদ্যোক্তা শুধুমাত্র সেগুলো নিয়ে এসে বিক্রি করার ব্যবস্থা রেখেছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির একটা ছোট গেজেট যেটা চোখে লাগিয়ে ভার্চুয়াল জগৎ দেখার একটা হুজুগে সারা পৃথিবীতে মাতামাতি হচ্ছে আমি দেখলাম সেটিও এখানে আছে। এটাকে বড় মানুষের খেলনা বলা যায়- এ রকম বড় মানুষের খেলনার কোনো অভাব নেই এবং এই উদ্যোক্তা দেশে বসে সেগুলো পাওয়ার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। ভেজাল কসমেটিক্সে দেশ ভরে গেছে, তাই একজন একেবারে শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে খাঁটি কসমেটিক্স এনে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন! বাইরের পৃথিবীতে ই-কমার্সে কেনাকাটা করার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হয়, আমাদের উদ্যোক্তারা কেনাকাটার কাজটা ক্রেডিট কার্ড থেকে সহজ করে রেখেছেন। নেটে কোনো কিছু অর্ডার দিলে পণ্যটা একেবারে বাসায় পৌঁছে দিয়ে হাতে হাতে দাম নিয়ে যাবে! এত আরামের কেনাকাটা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। সেবা দেয়ার ভেতর ফটোগ্রাফাররাও আছেন! বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানোর কাজে সাহায্য করার জন্য ভ্রমণের সেবাও আছে। একটু শীত পড়তেই আমাদের ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা শিক্ষা ছুটিতে বের হয়ে যায়, মনে আছে কয়েক বছর আগেও সেই শিক্ষা ছুটির সবকিছু ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের ব্যবস্থা করতে হতো- আজকাল কারো ঘাড়ে দায়িত্ব দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা নিশ্চিন্ত মনে শিক্ষা ছুটিতে বের হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে এখন নানা ধরনের কুরিয়ার সার্ভিস রয়েছে। উদ্যোক্তা হাটে এসে আমি আরো নতুন এক ধরনের কুরিয়ার সার্ভিস আবিষ্কার করলাম! এই কুরিয়ার সার্ভিস বাইসাইকেলে জিনিসপত্র জায়গামতো পৌঁছে দেয়। সাইকেল বাহনটা আমার খুব পছন্দের বাহন, অপেক্ষা করে আছি কখন ঢাকা শহরের বড় বড় রাস্তার পাশে আলাদা আলাদা ছোট ছোট সাইকেল লেন তৈরি করে দেয়া হবে এবং রাতারাতি ঢাকার যানজট ম্যাজিকের মতো অদৃশ্য হয়ে যাবে! যতদিন না হচ্ছে বাই সাইকেল চালকদের বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর রাস্তায় সাহস করে সাইকেল চালানোর জন্য অভিনন্দন জানিয়ে যাই। বাই সাইকেলে করে কুরিয়ার সার্ভিস নিঃসন্দেহে অতি চমৎকার একটা সেবা। উদ্যোক্তা হাটে এসে আমি আরো একটি নতুন সেবা আবিষ্কার করেছি, হয়তো এটি আগেও ছিল কিন্তু আমার চোখে পড়েনি। এই সেবাটি হচ্ছে অফিসের জন্য জায়গা ভাড়া দেয়া। আমার ধারণা একেবারে নতুন উদ্যোক্তাদের বড় একটা সমস্যা হচ্ছে একটা অফিস এবং একটা ঠিকানা। কমবয়সী একজন তরুণ কিংবা তরুণীর পক্ষে ঢাকা কিংবা ঢাকার মতো বড় শহরে একটা অফিস ভাড়া করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তাদের হাতে এত টাকা নেই, টাকা যদিও বা থাকে কমবয়সী তরুণ-তরুণীকে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় না। আমার কন্যা টেলিফোনে মানসিক সেবা দেয়ার জন্য কান পেতে রই নামে একটা সংগঠন দাঁড় করিয়েছিল। খুব উৎসাহ নিয়ে কাজ শুরু করার আগে রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে আমাকে জানিয়েছিল সে আমার কিংবা আমার স্ত্রীর কোনো সাহায্য না নিয়ে কিংবা আমাদের পরিচয় ব্যবহার না করে পুরো সংগঠনটি দাঁড় করাবে। সত্যি সত্যি আমাদের কোনো সাহায্য ছাড়াই কমবয়সী তরুণ-তরুণী ভলান্টিয়াররা মিলে সংগঠনটি প্রায় দাঁড় করিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু যখন একটা বাসা ভাড়া করার প্রয়োজন হলো হঠাৎ করে আবিষ্কার করল তাদের মতো কমবয়সী তরুণীদের বাসা ভাড়া দেয়া দূরে থাকুক, বাড়িওয়ালারা তাদের সঙ্গে বাসা ভাড়া সংক্রান্ত কথা বলতেই রাজি নয়। আমাদের কন্যা তখন তার সব অহঙ্কার বিসর্জন দিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল এবং আমরা টেলিফোনে কথা বলে বাড়িওয়ালাদের আশ্বস্ত করে একটা বাসা ভাড়া করিয়ে দিয়েছিলাম! আমি নিশ্চিত এই দেশের তরুণ-তরুণী উদ্যোক্তাদের আমার কন্যার মতোই একটা অফিস ভাড়া করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় এবং বড় মানুষদের পেছনে ছোটাছুটি করতে হয়। উদ্যোক্তা হাটে অফিস ভাড়া করার এই চমৎকার ব্যবস্থাটি দেখে আমি স্বস্তি পেয়েছি যে, খুব নতুন একজন উদ্যোক্তার নিজস্ব একটি ঠিকানা নিয়ে কাজ শুরু করার কাজটি খুব সহজ হয়ে গেল!
সেবা দেয়ার মাঝে একটি উদ্যোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। সেটি হচ্ছে উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করার উদ্যোক্তা! এই উদ্যোক্তা নতুন উদ্যোক্তাদের সাহায্য করেন, কী কী করতে হবে, কিভাবে করতে হবে সেই বিষয়ে বুদ্ধি-পরামর্শ দেন। শুধু তাই নয়, উদ্যোক্তা হতে হলে কী করতে হয় তার ওপর একটি বই পর্যন্ত লেখা হয়েছে, বইটির নাম উদ্যোক্তার অ আ ক খ। আমি অনেকগুলো কপি কিনে এনেছি আমার পরিচিত ছাত্রছাত্রী যারা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের উপহার দেয়ার জন্য। আমাদের দেশ থেকে সবাইকে আমরা শুধু শ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাঠাতে চাই। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সে আমাদের অর্থনীতি সচল হচ্ছে কিন্তু প্রবাসে এই নিঃসঙ্গ শ্রমিকদের জীবনটি কি আনন্দময় নাকি দুঃসহ সেটি কখনো ভেবে দেখি না! আমরা যদি এই দেশের তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আলাদাভাবে সাহায্য করতাম তাহলে হয়তো একজন নিজ দেশেই মায়ের স্নেহে, ভাইয়ের সহায়তায়, বোনের ভালোবাসায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারত।বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের কথা ভেবে হাহাকারের মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হতো না।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

অনলাইন ডেস্ক : সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। শনিবার সকাল ১১টায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সংবাদ সম্মেলন করবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া  উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান মানবজমিনকে এ তথ্য জানান। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেপ্তার ও দফায় দফায় রিমান্ড এবং ইউপি নির্বাচনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করবে বিএনপি।

অনলাইন ডেস্ক : বাসর রাতেই বরের কাছে নববধূর আকুতি, আমাকে নষ্ট করবেন না। আমি আমার প্রেমিকের। তাকে আমার সবকিছু সঁপে দিয়েছি। কিন্তু পিতার চাপে আপনাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। স্ত্রীর এমন আকুতি শুনে মাথায় বাজ পড়ে আলম হোসেনের। সংসারে শান্তির জন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করে বিয়ে করেছিলেন মসজিদের ইমামের মেয়েকে। দিশেহারা হয়ে পরদিন খবর দেয়া হয় কনের পিতাকে। সমাজকে ডেকে তুলে দেয় পিতার কাছে। কিন্তু ৫ দিন পর আলমের বিরুদ্ধে ওই কনে করেন নারী নির্যাতন মামলা। হতবাক হয়ে যান সবাই।কনে আফরোজা বেগম জেসমিন। বয়স ১৯ বছর। পিতা মাওলানা নজরুল ইসলাম। বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রূপচেং গ্রামে। আর বর আলম হোসেন। বয়স ৩০। পিতা নাজিমউদ্দিন ইরান। বাড়ি সিলেট শহরতলির মোগলাবাজারের তিরাশিগাঁওয়ে। আলম হোসেন পেশায় একজন সিএনজিচালক। তিনি বছরের বেশির ভাগ সময় কাটান তাবলিগের চিল্লায়। এ কারণে আলমের ইচ্ছা বিয়ে করবেন ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক। ধর্মপ্রাণ মেয়ে বিয়ে করবেন তিনি। পাশের গ্রামের তাবলিক জামাতের সাথী নজরুল ইসলাম কনে দেখেন। কনের পিতা নজরুল ইসলাম মসজিদের ইমাম। মোগলাবাজারের একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তাবলিগ জামাতের কর্মী নজরুল ইসলাম বর আলমের কাছে জেসমিনের বিয়ের প্রস্তাব দেন। আর এই প্রস্তাবের সূত্র ধরে কনে দেখা হয়, বিয়ের কথাবার্তা হয়। এরপর ৬৫ হাজার টাকার কাবিনে বিয়েও ঠিক হয়। উভয় পরিবারের সম্মতিতে ৭ই মার্চ বিয়ে হয়। বিয়ের দিনই ইসলামী বিধান মতে আলম হোসেন নগদ কাবিন দিয়ে বিয়ে করেন। এরপর নববধূ জেসমিনকে জৈন্তাপুর থেকে নিয়ে আসেন নিজ বাড়ি মোগলাবাজারের তিরাশিগাঁও গ্রামে। বাসর রাতে ঘটে বিপত্তি। আলম যখন স্ত্রীর কাছে যান তখনই বাদ সাধলেন জেসমিন। জেসমিন বলে বলেন, আমি অন্যের। ওর সঙ্গে মেলামেশা করেছি। এসব কথা নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন আলম। ওই রাতে আলমকে জেসমিন জানায়, তার চাচাতো ভাই ছয়ফুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের কারণে তাদের মধ্যে মেলামেশা হয়েছে। এখন পিতা নজরুল ইসলামের চাপাচাপিতে বিয়ে করেছে। তার ইজ্জত নষ্ট না করার জন্য বর আলমকে অনুরোধ জানায় জেসমিন। এ কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান আলম। খবর দেন শ্বশুর নজরুল ইসলামকে। ডেকে আনা হয় বিয়ের উকিল নজরুল ইসলাম ও বিয়ের মাওলানা সাঈদ আহমদকে। ১০ই মার্চ এ নিয়ে বৈঠক হয় বর আলমের বাড়িতে। ওই বৈঠকে আলম সবকিছু খুলে বলেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। এ অবস্থায় স্থানীয় মেম্বার আবদুল মতিনসহ সালিশ-ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার জন্য ২৫শে মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই সময় পিতা মাওলানা নজরুল ইসলামের সঙ্গে মেয়েকে জৈন্তাপুরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বরের বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার ৫ দিন পর ১৫ই মার্চ জেসমিনকে ভর্তি করা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে। এক দিন ভর্তি থাকার পর ১৬ই মার্চ জেসমিন বাদী হয়ে আলমের বিরুদ্ধে মোগলাবাজার থানায় এজাহার দাখিল করে। ওই এজাহারে জেসমিন জানায়, বিয়ের রাতেই সিএনজি ক্রয় বাবদ ৪ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আর এ টাকার জন্য সে তাকে নির্যাতন করে। ৯ই মার্চ রাতে তাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, এজাহার দাখিলের পর সিলেটের মোগলাবাজার থানা পুলিশ ১৯শে মার্চ মামলা রেকর্ড করে। আর এ মামলা রেকর্ড নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, পিতার বাড়িতে যাওয়ার দিনই হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ৫ দিন পর হাসপাতালে নির্যাতিত হয়ে ভর্তি হওয়া রহস্যজনক। আর স্বামীর বাড়িতে কেউ জেসমিনকে নির্যাতন করেনি। এদিকে, এ মামলায় ক্ষেপেছেন স্থানীয়রা। তারা ১৭ই এপ্রিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে স্থানীয় মেম্বার আবদুল মতিনসহ অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী স্বাক্ষর করেন। তারা পুলিশ কমিশনারকে জানান, স্থানীয় মেম্বার আবদুল মতিন, প্রবীণ মুরব্বি শামসুল ইসলাম কাসেম, মো. কুনু মিয়া, ফরহাদ হোসেন ও শায়েস্তা মিয়া এলাকার মুরব্বিদের মধ্যস্ততায় মেয়েকে দেয়া হয়েছিল। ওই সময় সবাই দেখেছেন মেয়েকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। কিন্তু এখন যৌতুক ও নির্যাতন মামলা করে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারে শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম হিরণের বডিগার্ড ফিদু মন্ডলকে গণপিটুনি দিয়ে নাক কেটে নিয়েছে নারী ভোটাররা। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় আজাদ হোসেন,আব্দুল মান্নান ওরফে ভিম, ইকতিয়ার,আব্দুর রশিদ,ওয়াজেদ আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পোড়াহাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম হিরোনের সমর্থক ফিদুর নেতৃত্বে ১৫টি মটরসাইকেলসহ রামদা নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। এসময় তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকনের সমর্থক ও থানা যুবদলের সদস্য আব্দুল মান্নান ওরফে ভিমের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকেসহ তার ভাই আজাদকে পিটিয়ে আহত করে। বাড়ির মহিলারা বাধা দিতে আসলে তাদেরকেও মারপিট শুরু। এ সময় বাসুদেবপুর বাজারের লোকজন জোটবদ্ধ হয়ে হামলাকারীদের উপর চড়াও হয়ে গণপিটুনি দেয়। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিরোনের সমর্থক ফিদু,ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর ও শেরআলী মারাত্মক আহত হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বাকিরা পালিয়ে যায়।এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই হাসান হাফিজুর রহমান জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এখানে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত।ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জানান,পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রথমে আব্দুল মান্নান ওরফে ভিমের উপর হামলা হয়। পরবর্তীতে মহিলারা জোটবদ্ধ হয়ে ফিদু মন্ডলকে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। 

ঢাকা : আগামীকাল শনিবার দেশের ৬২০ ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৃতীয় দফার ভোট। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে বারবার আশ্বাস দেয়া সত্ত্বেও ইউপি নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তৃতীয় দফায় পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। দলীয় আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে কেন্দ্র দখলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বলেই ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বিরোধী দলের অভিযোগ পুলিশ, বিজিবি, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে প্রথম দু'দফা ভোট ডাকাতির পর আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে তারা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ডিসি, এসপি, রিটার্নিং অফিসার ও ওসিরা ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণেই স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে মাঠে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলেও তারা থানা সদরের বাইরে যাচ্ছেন না। রিটার্নিং অফিসারদের কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কথায় চলছেন। ক্ষমতাসীনদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ডিসি-এসপিরা সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে ডিসি-এসপিদের ফোন করলেও তারা বিরক্ত হচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।এদিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘর্ষ-সংঘাতে হতাহত এবং প্রাণনাশের হুমকির খবরাখবরও আসছে।গতকাল নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর বাজারে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আলী ও আলীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস বাবুলের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এছাড়া কুমিল্লায় সরকারদলীয় সমর্থকদের তান্ডব চলছে। বিএনপি প্রার্থী ও সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার ৩ নম্বর কান্দিরপাড় ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী নূর হোসেন হামিরাবাদ গ্রামে তার নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেলে সরকারদলীয় সমর্থকরা প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাগরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একই কায়দায় ইউপি সদস্য প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়। সরকারের ছত্র-ছায়ায় থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী বিরোধী প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় চলাকালে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করে ও মাইক ছিনিয়ে নেয়। বিএনপি প্রার্থী মীর হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেও কোনো ফল পান নি।আগামীকাল কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৬টি ইউনিয়নেই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রার্থী ও এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এর মধ্যে ময়নামতি ইউনিয়ন, রাজাপুর ইউনিয়ন, মোকাম ইউনিয়নে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তা-ব চালাচ্ছে। এসব ইউনিয়ন থেকে গত বুধবার বেশ কয়েকজন বিএনপি সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রার্থীদেরও গ্রেফতার করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রার্থী ও সমর্থকরা গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে নিজ দলের এক মেম্বার প্রার্থীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আক্তার হোসেনকে মঙ্গলবার রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার নাটোর সদরের হালসা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন, কার ঠ্যাং ভাংবো আর কার হাত ভাংবো তা জানি না। সকাল ১১টার মধ্যে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। নইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সানজিদা খাতুন নাসিমার নৌকা প্রতীকের পক্ষে কর্মীসভায় প্রকাশ্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
গত মঙ্গলবার রাজবাড়ীর পাংশায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সরিষা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কর্মীরা শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে নারী ও একজন প্রতিবন্ধী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে তিনজন। গুলিবিদ্ধরা হলেন ইউনিয়নের বেছপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মন্দির মোল্লা, খামারডাঙ্গা গ্রামের মোক্তার হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সকাল ১০টার মধ্যে ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোটের বাক্স সিল মেরে নৌকা প্রতীকের অনুকূলে ফলাফল ঘোষণা দেয়ার হুমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ হাবিবুর রহমান লিখিত অভিযোগে বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শাহজাহান মিয়া ও তার লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নির্বাচনের দিন সকাল ১০টার মধ্যে লোপাড়া ভোটকেন্দ্র, চুন্টা হাইস্কুল কেন্দ্র, ঘাগড়াজুর প্রাইমারি স্কুলকেন্দ্র, রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র জোরপূর্বক দখল করে নৌকা প্রতীকের অনুকূলে ফল ঘোষণা দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে শেখ হাবিবুর রহমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বুধবার রাতে লক্ষীপুরে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদের বাড়িতে আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তার বাড়ি ও গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সিরজাগঞ্জ জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ এনামুলকে ৬ দিন আগে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর অপহরণ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত তার হদিস মিলেনি। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিএনপি প্রার্থী, এজেন্ট ও সমর্থকরা যেন নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে না যায়, সেজন্য বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন-এমন অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীদের। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে গেলে হত্যা ও লাশ ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের পুলিশ গণগ্রেপ্তার শুরু করছে বলেও অভিযোগ বিএনপির। বেশ কয়েকটি জেলায় বিএনপি প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর চালিয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের লোকদের ভয়ঙ্কর তা-বে গ্রামীণ জনপদ বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ভোটাররা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়া তো দূরে থাক, তারা প্রাণ নিয়ে এলাকায় থাকতে পারবেন কি-না সে আতঙ্কে নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান ইউপি নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে ইসিতে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গেছেন। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ। নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগের দুই ধাপ থেকে কমিশন যথেষ্ট শিক্ষা নিয়েছে। সামনের ধাপগুলোতে ভুল কম হবে। আশা করি, সন্ত্রাস-সহিংসতা হবে না, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্যকে নিছক আই-ওয়াশ বলে অভিহিত করেছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলেছেন, অতীতের মত কেবল আশ্বাসের বাণী দিয়েই জনগণকে  আশ্বস্ত করতে চান তারা।

সুত্র : শীর্ষ নিউজ ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের ছোট্ট একটি দেশ লাটাভিয়া। যার রাজধানী রিগা। মূলত লাটাভিয়ান, রাশিয়ান, ইউক্রেন এইসব জাতিগত গোষ্ঠীর বাস এই লাটাভিয়াতে। এখানে মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষেরাও বসবাস করেন। কোনো রকম ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত না করে, লাটাভিয়াতে নিষিদ্ধ করা হল নেকাব। লাটাভিয়ার আইন মন্ত্রী জানিয়েছেন, "২০১৭ সালের মধ্যে লাটাভিয়াতে আর কোনো মহিলা নেকাব পরবে না। এটা এখনই সম্ভব নয়, তবে দেশের এবং সংস্কৃতির ওপর পূর্ণ মর্জাদা ও সম্মান রেখেই আমাদের এটা করতে হবে। আমরা শুধু লাটাভিয়ার মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই ভাবি তা নয়, দেশের আচার-আচরণ ও সংস্কৃতি নিয়েও সহানুভূতিশীল।"সারা বিশ্বে যেভাবে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে মুসলিম মহিলাদের বোরখা পরায় নিষেধাজ্ঞার পিছনে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তার বিষয়, এমনটাই জানিয়েছে লাটাভিয়ার সরকার। সন্ত্রাসের কবল থেকে বাঁচতে ও সাবধান হতেই এই সিদ্ধান্ত। অনেক ক্ষেত্রেই বোরখার আড়ালে বেআইনিভাবে অস্ত্রপাচার করে সন্ত্রাসবাদীরা। এই ধরণের ঘটনাকে ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত।

জনপ্রিয় ডেস্ক : নানা জটিলতা কাটিয়ে, জন দুর্দশা লাঘবে ফের চালু হচ্ছে বহু প্রতিক্ষিত ঢাকা-বাহরাইন সরাসরি ফ্লাইট গালফ এয়ার বিমান। ফলে কোনোরকম হয়রানি ও বিড়ম্বনা ছাড়া মাত্র ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে বাহরাইনে যাতায়াত করা সম্ভব হবে যাত্রীদের।  আগামী ৩০ মে থেকে এটি কার্যকরী হচ্ছে বলে গত সোমবার একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল কে এম মমিনুর রহমান। তিনি জানান, এই ব্যাপারে আরো কিছু বিষয় পর্যবেক্ষণে গালফ এয়ার বিমান কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধি দল গত রবিবার থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। যার ফলে নির্ধারণ করা হবে ফ্লাইট সংখ্যা ও সময়সীমা। এমন সংবাদে অন্ধকারের মেঘ কাটিয়ে আলোর মুখ দেখছেন বাহরাইন প্রবাসী প্রায় দেড় লক্ষ বাংলাদেশি। অার অভিনন্দন জানাচ্ছেন এমন সিদ্ধান্তে কার্যকরী ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস,বাংলাদেশ সরকার ও বিমান কর্তপক্ষকে। ২০১০ সালের শেষের দিকে নানা প্রতিকূলতা ও জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ-বাহরাইন সরাসরি বিমান চলাচল। প্রয়োজনের তাগিদে অনেক লেখালেখি আর যাত্রীদের দাবির মুখে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উদ্যোগ নেন বাংলাদেশ সরকার।সরকারের এমন উদ্যোগে সাড়া দেন বিমান সংস্থা ও বাহরাইন সরকার।  গত ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাছান মাহমুদ আলী বাহরাইন সফর করেন। এ সময় উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বাহরাইনের রাজা (কিং) হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা, প্রধানমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন সালমান আল খলিফা ও ক্রাউন প্রিন্স শেখ সালমান বিন হামাদ আল খলিফাসহ আরও অনেকের সাথে। আলোচনায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে স্থান পায় সরাসরি বিমান ব্যাবস্থা। সেই প্রেক্ষিতে সিভিল এভিয়েশনের সাথে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ও একই ভাবে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল কে এম মমিনুর রহমান তার সঙ্গীয় মিনিস্টার মেহেদী হাসান ও লেবার কাউন্সিলর মহিদুল ইসলামকে নিয়ে বাহরাইন সরকার ও বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক চালিয়ে যান। এতে উভয়পক্ষ উভয়ের শর্ত পূরণের মাধ্যমে উক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হন। 

জনপ্রিয় ডেস্ক : প্রায় ১৫০ বছরের গবেষণায় উঠে এসেছে আশ্চর্য তথ্যটি। বিজ্ঞানীরা জানালেন, ৬ কোটি বছর আগে এমন এক পাখি পৃথিবীতে ছিল, যে পাখি উড়তে পারতো, সেই পাখির জাত থেকেই জন্ম ডানাহীন পাখির।  বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একসময় উড়তে পারা পাখির সমস্ত গুণাবলী এই পাখির মধ্যে থাকলেও বিবর্তিত হতে হতে সেই পাখি এখন স্তন্যপায়ী প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আরওজানাচ্ছেন বলছেন, কিউই এবং হাতি পাখির সমন্বয়ে এই ডানাহীন পাখি। ১৯৯০ সালের এক গবেষণায় এই পাখিকে কিউই প্রজাতির 'আত্মীয়' বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল। 

জনপ্রিয় ডেস্ক : ভারতের তিরুপতি বালাজি মন্দির রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ১৩১১ কেজি স্বর্ণ জমা করেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। সোমবার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকে ১৩১১ কেজির স্বর্ণের বার জমা করা হয়েছে। তিন বছরের স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পে এই স্বর্ণ জমা করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে এই প্রকল্পের সর্বাধিক বার্ষিক সুদ ১.৭৫ শতাংশ পাওয়া যায়। অন্ধ্রপ্রদেশে অবস্থিত বালাজি শ্রী ভেংকটেশ্বর স্বামী মন্দির পৃথিবীর অন্যতম বিত্তশালী মন্দির বলে পরিচিত। প্রতি বছর এই মন্দিরে প্রণামী হিসেবে ভক্তরা কোটি কেটি টাকার অর্থ ও অলংকার জমা করে থাকেন। এবারে মন্দিরের বাজেটে বার্ষিক আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬শ' কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ বাবদ আয় হবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, মন্দিরে কর্মচারীদের বেতন বাবদ খরচ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। 

জনপ্রিয় ডেস্ক: উজ্জ্বল সাদা দাঁতের হাসি কে না পছন্দ করে।এই হাসির জন্য চাই দাঁতের সঠিক পরিচার্যা। আর এ জন্য সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করা চাই।তবে বেশিরভাগ মানুষই দাঁতের সঠিক যত্ন নিতে পারেন না বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল উপায়ে দাঁত ব্রাশ করি। এর ফলে দাঁতে প্লাক তৈরি হয়। আর এই প্লাকের কারণে দাঁত ক্ষয় এবং মাড়ির রোগে আক্রান্ত হয়। মাড়ির রোগ জিনজিভিটিস নামেও পরিচিত। জিনজিভিটিসের কারণে হৃদরোগ, কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে প্যানক্রিয়াটিক বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের একটি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। সঠিক উপায়ে দাঁত ব্রাশ করতে বিশেষজ্ঞ প্রদত্ত ছয়টি ধাপের কথা এখানে উল্লেখ করা হলো।
প্রথম ধাপ: টুথব্রাশের মাথাটি দাঁত বরাবর ধরুন। এরপর মাড়ির লাইন অনুযায়ী ৪৫ ডিগ্রি কোনাকুনিভাবে ব্রাশ রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে কয়েক বার প্রতিটি দাঁতের উপরিভাগে ব্রাশ করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রতিটি দাঁতের বাহিরের অংশে ওপরে নিচে ব্রাশ করুন। তবে লক্ষ্য রাখবেন দাঁতের শলাকাগুলো যেন কোনাকুনি মাড়ি বরাবর থাকে।
তৃতীয় ধাপ: একই পদ্ধতিতে দাঁতের ভিতরের উপরিভাগ পরিষ্কার করুন।
চতুর্থ ধাপ: এবার দাঁতের অগ্রভাগের(যে অংশ দিয়ে কামড় দেয়া হয়) অংশ ব্রাশ করুন।
পঞ্চম ধাপ: দাঁতের সামনের পাটির ভিতরের উপরিভাগ পরিষ্কার করতে ব্রাশটি উলম্বভাবে ধরুন। এরপর ব্রাশের সামনের অংশ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করুন।

ষষ্ঠ ধাপ: সতেজ নিঃশ্বাস এবং মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করার জন্য ব্রাশ দিয়ে জিহবা পরিষ্কার করুন। তারপরও দাঁত ব্রাশ করার কৌশল রপ্ত করতে সমস্যা হলে দন্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

ঢাকা : গরমের দিনে একটু ভারী কাপড় পরে থাকা যেমন কষ্টকর, তেমনি খোলা চুলে থাকা আরও কষ্টকর। এতে গরম বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি। তারওপর আবার প্রকৃতিতে উড়ছে ধুলাবালি। তাই

বলে তো ঝামেলামুক্ত থাকতে আর ঘরে বসে থাকা যাবে না। প্রয়োজনে বাইরে বের হতেই হবে। তবে বের হওয়ার আগে নিজের গেটআপটা যদি আরামদায়ক হয় তবে ঝামেলা কমে যায় অনেকটায়। সেজন্য, মেয়েদের চুলের সাজের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আসুন দেখে নেয়া যাক গরমের দিনে বিভিন্ন পোশাকে আরামদায়ক কিছু চুলের সাজ।
ফ্রেঞ্চ বেণি

মুখের সঙ্গে মানিয়ে সিঁথি করে নিতে হবে। এবার সিঁথির এক পাশ থেকে অল্প চুল নিন। এই চুলগুলো তিন ভাগ করে ফ্রেঞ্চ বেণি শুরু করুন। বেণির বাঁধনের প্রতিটি ধাপে নিচ থেকে একগোছা চুল বেণিতে ঢুকিয়ে দিতে হবে। এক পাশের বেণি শেষ করে কানের কাছে আটকান। একইভাবে সিঁথির অন্য পাশেও বেণি করুন। এবার পেছনের সব চুল নিয়ে খেজুর বেণি করুন। ফ্রেঞ্চ বেণির মতোই খেজুর বেণি করা হয়। শুধু চুল তিন ভাগ না করে দুই ভাগ করুন। এক ভাগ থেকে একগোছা চুল নিয়ে অন্য ভাগে মিলিয়ে দিন। এভাবে পরপর একগোছার চুল আরেক গোছায় দিন। চুলের আগায় এসে একটা সুন্দর ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে নিন। হয়ে গেল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ বেণি। গরমের দিনে চুলও আটকে থাকলো, ধুলোময়লা কম জমলো। উপরন্তু গরম লাগবে কম।
লো পনিটেল

চুল আঁচড়ে এক পাশে সিঁথি করে নিতে হবে। মাথার তালুর অংশের চুল একটু পাফ করে অল্প ফুলিয়ে নিতে পারেন। এবার সামনের অংশে সিঁথির এক পাশের চুল থেকে একগোছা চুল নিয়ে দড়ির মতো পেঁচিয়ে টুইস্ট করুন। এভাবে পাশের আরেক গোছা চুল টুইস্ট করুন। এক পাশের সব চুল টুইস্ট হলে কানের পাশে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। একইভাবে অন্য পাশের চুলগুলো টুইস্ট করে কানের পাশে আটকান। এবার পেছনের সব চুল একত্র করে মাথার নিচে ঘাড়ের কাছে রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে ফেলুন। চাইলে এভাবেই রাখতে পারেন। আবার গরমে বেশি আরাম পেতে পনিটেল করা চুলগুলো একটু উঁচু করে একটা পাঞ্চ ক্লিপ আটকে দিতে পারেন।
হাই পনিটেল
ভাপসা গরমে চটজলদি চুলের সাজ চাইলে ট্রাই করুন এই স্টাইলটি। এক পাশে সিঁথি করে মাথার মাঝের চুলগুলো হালকা পাফ করুন। সামনের চুলে লেয়ার কাট থাকলে ছেড়েই রাখুন। চাইলে সিঁথির দুই পাশের চুল কানের দুই পাশে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিতে পারেন। এবার পেছনের সব চুল আঁচড়ে উঁচু করে রাবার ব্যান্ড দিয়ে একটা পনিটেল (ঝুঁটি) করুন।
টুইস্ট খোঁপা


দাওয়াতের সাজে এই মৌসুমে শাড়ির সঙ্গে একটা খোঁপা না হলেই নয়। সাজে জমকালো ভাব আনতে সহজ এই খোঁপার জুড়ি নেই। টুইস্ট খোঁপার জন্য চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। সামনে লেয়ার কাট থাকলে এক পাশে সিঁথি করতে পারেন। সিঁথি ছাড়াও খোঁপাটি বেশ ভালো দেখায়। প্রথমে কপালের সামনের চুলগুলো আলাদ করুন। মাথার মাঝের চুলগুলো পাফ করে অল্প করুন। এবার সমনের চুলগুলো কয়েকটি গোছা করে নিন। প্রতিটি গোছাকে একে একে পেঁচিয়ে টুইস্ট করে পাফ করা চুলের ওপর দিয়ে পেছনে এনে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। সামনের সব চুল টুইস্ট হয়ে গেলে পেছনের চুলগুলো রাবার দিয়ে আটকে নিন। সামনের মতো পেছনের চুলগুলোকে বেশ কয়েকটি গোছা করে নিন। প্রতিটি গোছাকে টুইস্ট করে পেঁচিয়ে খোঁপার শেপ করুন। আকর্ষণীয় লুক পেতে খোঁপার এক পাশে ফুল গুঁজে দিতে পারেন।

ঢাকা: আইপিএল-এর নবম আসরে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচেও বল হাতে জাদু দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। বল হাতে সবচেয়ে কম রান দিয়েছেন। উইকেটও পেয়েছেন। তার বোলিং ঝলকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সামনে সহজ লক্ষ্য। জয়ের জন্য তাদের দরকার মাত্র ১৩৬। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান করেছে গুজরাট লায়ন্স।
বৃহস্পতিবার সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে লায়ন্সের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে লায়ন্সদের রানের গতি থেমে গেল। প্রথম তিন ওভারে ২৪ রান করলেও মুস্তাফিজের এক ওভারে নিতে পারল মাত্র ২ রান।
মুস্তাফিজের প্রথম দুটি বলে ম্যাককালাম কোনো রান নিতে পারেননি। তৃতীয় বলে এক রান নেন তিনি। চতুর্থ বলে এক রান নেন সুরেশ রায়না। শেষ দুটি বলও ডট যায়।
দ্বিতীয় ওভারে ফিল্ডিং মিসের কারণে মোট ৯ রান নিতে পারে গুজরাট। কিন্তু নিজের তৃতীয় ওভারে ফের জাদু দেখালেন। প্রথম চার বলে চার রান দিলেও পঞ্চম বলে বোল্ড করে দিলেন জাদেজাকে। এই ওভারে আর কোনো রান হয়নি।
শেষ ওভারেও মুস্তাফিজ দিলেন মাত্র চার রান। দ্বিতীয় বলে ২ রান ও শেষ দুই বলে ২ রান। বাকি বলগুলো ডট যায়। মুস্তাফিজের ওভারে বাউন্ডারি হাঁকানোর স্বপ্ন না দেখায় উইকেট বঞ্চিত হন তিনি।
চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে এক উইকেট পেয়েছেন কাটার মাস্টার। তার ইকোনমি ৪.৭৫ সবচেয়ে কম।
এই নিয়ে আইপিএল-এ নিজের প্রথম চার ম্যাচেই উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে দুটি উইকেট পাওয়ায় তার মোট উইকেটের সংখ্যা ৫।
এই ম্যাচে সানরাইজার্সের হয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন ভুবনেশ্বর।  শেষ ওভারেই পেয়েছেন তিনি উইকেট। ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে মোট ৪ উইকেট শিকার করেছেন। 
গুজরাটের সর্বোচ্চ স্কোর করেছেন সুরেশ রায়না। ৫১ বলে ৯টি চারে ৭৫ রান করেছেন তিনি। এছাড়া ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ১৮ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।
গুজরাট লায়ন্স একাদশ: অ্যারোন ফিঞ্চ, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, সুরেশ রায়না (অধিনায়ক), দিনেশ কার্তিক, ডোয়াইন ব্রাভো, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষদিপ নাথ, ডেইল স্টেইন, প্রবীণ কুমার, দাওয়াল কুলকারনি ও প্রবীণ টাম্বে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ একাদশ: শিখর ধাওয়ান, ডেভিড ওয়ার্নার (অধিনায়ক), হেনরিকস, দীপক হুদা, ইয়ন মরগান, নামান ওঝা, বিপুল শর্মা, অদিত্য তারে, ভুবনেশ্বর কুমার, মুস্তাফিজুর রহমান ও বারিন্দার স্রান।

জনপ্রিয় ডেস্ক : বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানবে। রাজধানী ঢাকার আশপাশে বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে ঢাকা মহানগরীর।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে আর্থ অবজারভেটরি। ভূমিকম্পের প্রবণতা নিয়ে ২০০৩ সাল থেকে গবেষণা করছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার। তার গবেষণা মডেল বলছে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা তিনটি গতিশীল প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। তিনি জানান, বাংলাদেশের দুই দিকের ভূ-গঠনে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়েছে।
একটা হচ্ছে উত্তরপূর্ব কোনে সিলেট অঞ্চলে ডাউকি ফল্টে, আরেকটা হচ্ছে আমাদের পূর্বে চিটাগাং ত্রিপুরা বেল্টে পাহাড়ি অঞ্চলে। এখানে আসলে দুইটা বড় ধরনের ভূমিকম্প আমাদের বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। উত্তর প্রান্তে যেটা ডাউকি ফল্ট এখানে সংকোচনের হার হচ্ছে প্রতি একশ বছরে এক মিটার। গত ৫শ থেকে ৬শ বছরে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কোনো রেকর্ড নেই। তারমানে ৫-৬ মিটার চ্যুতি ঘটানোর মতো শক্তি অর্জন করেছে। এটা যদি আমি রিখটার স্কেলে প্রকাশ করি তাহলে এটা হচ্ছে ৭.৫ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। এবং এখান থেক ঢাকা শহর হচ্ছে দেড়শ কিলোমিটার
মিস্টার আখতার বলেন, ঢাকার মধ্যে বড় ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো ভূতাত্ত্বিক অবস্থা না থাকলেও সিলেট এবং চট্টগ্রামে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা।
ভূমিকম্প সহনীয় নিরাপদ অবকাঠামো তৈরি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করছে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ। এ বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী জানা বলছেন, ঢাকা শহরে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রয়েছে চার লাখের বেশি ভবন। রাজউক এলাকায় যে সংখ্যা ১২ লাখেরও বেশি যার অধিকাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়।
দুর্যোগটা খালি আর্থকোয়েকের হ্যাজার্ডের দিক থেকে নয়। ঢাকার অবকাঠামো যেমন দুর্বল তেমনি মানুষের জনসচেতনতা কম। সেজন্য যদি একটা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয় আমাদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হবে
মিস্টার আনসারী বলেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের পর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গাও নেই ঢাকা শহরে। ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত উন্মুক্ত জায়গা দরকার।
ইভাকুয়েশন স্পেস যদি আগে থেকে ক্রিয়েট করা না থাকে তাহলে ইভাকুয়েশন প্ল্যানটাই কোনো কাজে আসবে না। সিডিএমপি যে কন্টিনজেন্সি ও ইভাকুয়েশন প্ল্যান করেছে সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে উই নিড ওপেন স্পেস। এবং সেটার জন্য এখনই সরকারি খাস জায়গাগুলো উন্মুক্ত করে ইভাকুয়েশন স্পট হিসেবে পিন পয়েন্ট করতে হবে।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ঢাকা মহানগরীতে বড় ভূমিকম্প ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
বুয়েটের সঙ্গে যৌথভাবে সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি সিডিএমপির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাড়ে সাত মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকার ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে। যেখানে তৈরি হবে সাত কোটি টন কনক্রিটের স্তুপ। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ এ প্রশ্নে সিডিএমপির সাবেক ন্যাশনাল প্রজেক্ট ডিরেক্টর মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম বলেন ঝুঁকি কমানোর জন্য জনসচেতনা বাড়ানো দরকার।
এটুক প্রস্তুতিগুলো আছে যে কোন এলাকাটা নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী বা আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের- কে কোনটা দেখবে ফায়ার ব্রিগেড কোনটা দেখবে কী কৌশলে কাজ করবে এটা মোটামুটি কিন্তু অবহিত আছে। এখন যেটা দরকার জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাতে করে রিস্কটাই কমানো যায়। যাতে করে বিল্ডিং বানানোর সময় যেন আমরা বিল্ডিং কোড মেনে চলি, তাহলে বিল্ডিংটা নিরাপদ করা যাবে
মিস্টার কাইয়ূম বলেন, ভূমিকম্পের ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এ দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সিডিএমপির পক্ষ থেকে কিন্তু এ পর্যন্ত ৩২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করেছি। বিভিন্ন স্কুল ড্রিল করেছি, বিভিন্ন কলকারখানায় তা করা হয়েছে কিন্তু এটা সাফিশিয়েন্ট নয়। তাহলে প্রস্তুত নই এটা যেমন ঠিক না, তেমনি প্রস্তুত সব হয়ে গেছে এটাও ঠিক না। এটার ধারাবাহিকতার রাখতে এটা প্র্যাকটিসে রূপান্তর করতে হবে

সুত্র :বিবিসি বাংলা ।

জনপ্রিয় ডেস্ক: ভারতে নদনদীকে যেখানে দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয়, জীবনরেখা বলা হয়, সেখানে সবথেকে নদী দূষণ হয় এ দেশেই৷ আর রাজধানী দিল্লি ও তার আশেপাশের রাজ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদী বিশ্বের অন্যতম দূষিত নদী৷ প্রশ্ন হলো, এ জন্য দায়ী কে? গঙ্গার দীর্ঘতম শাখানদী যমুনা পৌরানিক ও ঐতিহাসিক দু'দিক থেকেই প্রেমের নদী৷ তা সে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের জলকেলি হোক বা মোগল বাদশাদের নৌকা বিহার, অথবা সম্রাট শাহজাহানের প্রেমের স্মারক তাজমহল হিমালয়ের যমুনোত্রী হিমবাহ থেকে নেমে উত্তরভারতের উত্তরাখন্ড, হরিয়ানা, দিল্লি ও উত্তর প্রদেশের মধ্য দিয়ে গিয়ে মিশেছে বারাণসীতে গঙ্গার সঙ্গে৷ এহেন এক নদী আজ হেজে মজে মরতে বসেছে দূষণের কারণে৷ যেটুকু জল আছে তা এত বিষাক্ত যে পান করা তো দূরের কথা, স্নান করা এবং কাপড় কাচাও বিপজ্জনক৷ তাছাড়া যমুনার জল বিভিন্ন রোগের উত্স হয়ে উঠেছে, উঠছে ক্রমশই৷ এক স্বাস্থ্য সমীক্ষায় বলা হয় যে, এই দূষিত জল ব্যবহার করলে কলেরা, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, আমাশা, চর্মরোগ, এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে৷ যমুনার প্রবাহ পথের উভয় তীরের জনজীবনের শিয়রে এখন শমন৷
কেন এমন দশা হলো? এর কারণ কী? কারণ নির্বিচারে বর্জ্য পদার্থ নদীতে ফেলা, যার মধ্যে আছে যমুনার দু'পাশের কলকারখানা থেকে নিসৃত অশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ, আছে ক্রোমিয়াম,আর্সেনিক ও কোডমিয়াম, আছে শহরের নালি নর্দমার নোংরা জল, প্লাস্টিক, চাষাবাদের কীটনাশক পদার্থ৷ এর সঙ্গে আছে মানুষ, গবাদি পশুর মলমূত্র৷ এমনকি হাতি, উটও বাদ নেই৷ রয়েছে ফুল বেলপাতা থেকে যাবতীয় সব পুজো সামগ্রী৷ দূষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় যমুনার জলে অক্সিজেন না থাকার মতো৷ তাই মাছ বা অন্যান্য জলজ প্রাণীও লুপ্তপ্রায়৷ দিল্লির রাজধানি এলাকায় যমুনার প্রবাহপথের ২২ কিলোমিটারের মধ্যে দিল্লি মহানগরীর ৬০ শতাংশ আবর্জনা পড়ে যমুনার জলে৷ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দিল্লির নির্মিয়মান মেট্রো রেলের ৫১ হাজার টন রাবিশ ফেলা হয়েছে এই জলে৷
বুজে আসছে যমুনার দুই পাড়৷ তাই যমুনা এখন একটা বড় খাল, আবার কোথাও কোথাও একটা বড় নালার মত হয়ে গেছে৷ জলের বহমানতা না থাকায় যমুনা এখন একটা অগভীর বদ্ধ জলাশয়৷ সেই সুযোগে যমুনা নদীর একপাড়ে দ্রুত গজিয়ে উঠছে বস্তি, অন্য পাড়ে তৈরি হয়েছে কৃষি ক্ষেত৷ আগ্রায় যমুনার তীরে যে তাজমহল, সেই যমুনাও আজ মজে গিয়ে তাজমহলের সৌন্দর্যকে করেছে ম্লান৷
সরকার ও জনসমাজের কারোরই যেন কোনো হেলদোল নেই৷ অথচ ঢাকঢোল পিটিযে ৯০-এর দশক থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে যমুনা অ্যাকশন প্লান৷ বরাদ্দ ২০০০ কোটি টাকা৷ খরচ দেখানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কাজ কি হয়েছে? হলে কতটুকু হয়েছে? হিসেবটা অতি নগণ্য৷ যে কয়েকটা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট বা জল পরিশোধন প্লান্ট বসানো হয়েছে তার বেশির ভাগই নিষ্ক্রিয়৷ যমুনা পাড়ে গজিয়ে ওঠা বস্তি তুলে দেবার কথা, কিন্তু ভোট ব্যাংকের তাগিদে সেখানেও বাধা৷ নদীবক্ষের পলি তোলা যমুনা অ্যাকশন প্লানের আবশ্যকীয় শর্ত, তা ফাইলবন্দি থেকে গেছে আজ অবধি অবোধ্য কারণে৷ একমাত্র আশার দীপ জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল৷ এর প্রধান বিচারপতি সতন্ত্র কুমার হুঁশিয়ারি জারি করেছেন, কোনো সংস্থা যদি যমুনায় রাবিশ ফেলে তাহলে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে৷

শিল্প কারখানাগুলির ওপর অশোধিত বর্জ্য পদার্থ ফেলার ওপর আরোপ করা হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা৷ গ্রিন ট্রাইব্যুনালের মতে, যমুনার জলকে দূষণমুক্ত করতে পারলে সরকার চিকিত্সা বা ওষুধপত্রের জন্য যে কোটি কোটি টাকা খরচ কোরে থাকে, সেটা অনেক কমে যাবে. নদী বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেদিন বেশি দূরে নেই, যেদিন যমুনা নদীও সরস্বতী নদীর মতোই অদৃশ্য হয়ে যাবে৷

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget