সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ দিনভর উত্তেজনা, পুলিশ-ছাত্র জনতা ধাওয়া-পাল্টা

 ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের আতংকিত অবস্থায় দিন কাটান বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী পূর্ব মুড়িয়া এলাকার লোকজন। সাবেক এক চেয়ারম্যান কর্তৃক পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে লাঞ্চিত করার জের ধরে গতকাল শনিবার পূর্ব মুড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে এখান দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বিকেলে পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩ দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসে ছাত্র জনতা রাত ৮ টায় তাদের অবরোধ তুলে নেয়। জানা যায়, গত বুধবার বিকালে সারপার বাজারের একটি ফার্মেসীতে ডাক্তারের সাথে মুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের একান্ত আলাপ-আলোচনাকালে পূর্বমুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হন। ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে শিক্ষকের সাথে চেয়ারম্যান নজরুলের কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনার পর শিক্ষক তাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে বলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের ক’জন সদস্যের কাছে বলেন। বিষয়টি এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাঁনে পৌছলে তারা বৃহস্পতিবার এর বিচার দাবী করে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষক লাঞ্চনাকারী সাবেক চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানান। এ নিয়ে শনিবার বিদ্যালয়ে শালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা জানিয়েছেন, বৈঠকে উপস্থিত হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম নিজের অবস্থান ব্যাখা করেন এবং তার চায়ের টেবিলের এ আলাপে কেউ দুঃখ পেলে তিনি বিনীত ভাবে ক্ষমা চান। সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে চলে যাওয়ার পর আবারো পরিস্থিতি ঘোলাটে হয় এবং ঘটনার সুষ্ট বিচার দাবীতে শিক্ষার্থী ও জনতা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ছাত্র জনতাকে অনুরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে ছাত্রজনতা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ তাদের ছত্র ভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। উদ্ভূদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হয়ে দাঙ্গা পুলিশের সাহায্য চায় স্থানীয় পুলিশ। সন্ধ্যায় সিলেট থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়োরম্যান আতাউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করেন পরবর্তীতে তারা বৈঠক করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাস দিলে উত্তেজিত ছাত্র জনতা রাত ৮টায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাবেক চেয়ারম্যানের ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেলেও রাজনৈতিক ভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্যই পুনরায় ছাত্রদের উস্কে দেয় একটি মহল। এদিকে মুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খয়ের জানিয়েছেন, পুলিশের সাথে ছাত্র জনতার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় একটি ককটেল বিস্ফোরনের শব্দ তিনি শুনেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন গুলি করা কিংবা কেউ আহত হননি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।