বাংলাদেশ দূতাবাস পর্তুগালে বিজয় ফুল ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন

সেলিম উদ্দীন,পর্তুগাল : ১৬ ডিসেম্বর লিসবন সময় সকাল ১০.৩০টায় শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।পর্তুগালে অবস্হানরত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও পর্তুগালে অবস্হানরত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ।

পরে অনুষ্ঠানে একে একে বাণী পাঠ করে শুনানো হয় মহামান্য রাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী ,পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীর বানী।এ সময় পুরো দূতাবাস চত্বর প্রবাসী বাংলাদেশীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগী শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পর্তুগাল শাখা সহ  বিভিন্ন  সামাজিক সংগঠন ।
পরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে দেখানো হয় ২০মিনিটের একটি প্রামাণ্য চিত্র এবং আগত অতিথিবৃন্দকে প্রদান করা হয় অসমাপ্ত আত্মজীবনীর একটি করে সিডি কপি।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেস ক্লাব এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত এবং আগত অতিথিবৃন্দকে পড়ানো হয় বিজয়ের প্রতীক বিজয় ফুল.এই সময় উপস্থিত ছিলেন অল ইউরোপীয়ান বাংলা প্রেস ক্লাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন(বাংলা টিভি ইউকে) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ (চ্যানেল আই পর্তুগাল প্রতিনিধি).প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণে ব্রিটেনসহ আরও কয়েকটি দেশে চালু থাকা পপি ফুল পরার চল দেখে এই
বিজয় ফুল চালু করার ধারণা মূলত কবি শামীম আজাদের।
রাষ্ট্রদূত পরে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।তিনি এই সময় কিছুটা আবেগ্লাপুত হয়ে বলেন আজ আমি বাংলাদেশের রাষ্টদূত হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পারি আজকের এই দিনের জন্য।আজকের এই দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।
পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দিন। এদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ
, বাংলাদেশ। যা বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।
যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন আজ সেসব শহীদকে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিপাগল মানুষের প্রবল প্রতিরোধ আর লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ থেকে পরাজিত হয়ে এ দিনে আত্মসমর্পণ করেছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
৪৫ বছর আগে আজকের এই দিনে পূর্ব আকাশে উদয় হয়েছিলো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সূর্য।পরে আগত অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরিদপুর এসোসিয়েশন পর্তুগাল শাখার এর সভাপতি মাহবুবুল আলম
,পর্তুগাল আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম, পর্তুগাল আওয়ামীলীগ এর সিনিয়র সহ -সভাপতি ফরহাদ মিয়া
,পর্তুগাল আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান ,যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রনি হোসাইন ,পর্তুগাল আওয়ামীলীগের সদস্য ও উদীয়মান রাজনীতিবিদ দেলোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের স্থায়ী সদস্য মোহাম্মদ খালেক ,নোয়াখালী এসোসিয়েশন এর সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ , কমিনিটি ব্যাক্তিত্ব ও ব্যাবসায়ী লিহাজ মিয়া সহ অনেকে। পরে মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন রিবোলেইরা বাংলা জামে মসজিদ এর খতিব মাওলানা শাহান মীর।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget