বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে সেই জনতা



এম এ লিঙ্কন মোল্লা, কোপেনহেগেনঃ  গত ২/৩ বছর ধরে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক গনি ভাইকে ঘিয়ে একটি নব্য,সুবিধাবাদী, হাইব্রিড , তদবিরবাজ বাণিজ্যিক গ্রুপ তৈরি হয়েছে । এদের পাল্লায় পরে গনি ভাই, আমার মতো দুর্দিনের পরীক্ষিত দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে ।সে একান্ত ঈর্ষান্বিত হয়ে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শামীম হককে অব্যাহতি দিয়েছে, জনাব শামীম হক আমাদের প্রিয় নেত্রী  কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ,জনাব গনি তার এক্তিয়ার বহির্ভূত, দায়িত্বের সীমা  ছাড়িয়ে দিনের পর  অসাংগঠনিক, অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিবারের আস্থাভাজন নেতা, জননেত্রী শেখ হাসিনার ইউরোপ উইংসের প্রধান শ্রী অনিল দাস গুপ্তের সাথে কোন রকম পরামর্শ না করে, সেচ্ছাচারী কায়দায় তিনি দলের দুর্দিনের পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন ।
এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া আজ তোলপাড় । তারা গনি ভাইকে, বিএনপি জামাতের এজেন্ট,তারেক রহমানের সাথে তার সম্পর্ক নিয়েও ভীষনভাবে  সন্দেহ করছেন । বিএনপি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের  তার গোপন মিশন পরিচালনার কথা তারা জোর গলায় বলছে । ইতিমধ্যে গনি ভাইকে সংগঠন বিরোধী  কর্মকাণ্ডের দায়ে ডেনমার্ক, নরওয়ে, তুরস্ক, হল্যান্ড, জার্মানীসহ ইউরোপের অনেক দেশে তাকে অবাঞ্চিত এবং প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছে । ঢাকায় সর্ব  ইউরপিয়ান আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা তার অতীত অপকর্মের জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে।  
এরমধ্যে দেশপ্রিয় নিউজ নামে এক অনলাইন পোর্টালে, গনি ভাই সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শ্রী অনিল দাস গুপ্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কিছু অসংগলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন , সেখানে তিনি হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি  বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঈদ ফারুক, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রশিদ বুলু, জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি বসিরুল আলম সাবু , তুরস্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রিন্স মাহমুদ প্রতি তার ব্যাক্তিগত ক্ষোভ থেকে অবাঞ্চিত কথাবার্তা  বলেছেন ।তাদের দোষ তারা গনি ভাইয়ের অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন । গনি ভাই, সম্প্রতি কয়েকটি দেশে গিয়ে কর্মী সম্মেলনের কথা বলে অনৈতিক সুবিধা পেয়ে নতুন কমিটি করেছেন । যারা সারা জীবন আওয়ামী লীগ করেছেন, তাদের তিনি বিএনপি বানিয়ে নব্য, আমদানিকৃতদের দিয়ে কমিটি করেছেন । এব্যাপারে আবার সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শ্রী অনিল দাস গুপ্তকে কিছুই জানানো হয়নি ।
সোশাল মিডিয়াতে অনেক স্বনামে, বেনামে লিখেছে কমিটি করার নামে বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকেন । তার একাজে সহযোগিতা করেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা রাজীব হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী, গনি ভাইয়ের কন্টাক্ট পারসন এক খুনি ।
সোশাল মিডিয়াতে আরো এসেছে, এই খুনী আওয়ামী বার্তা, জয় বাংলা, শফিক তুহিন , জয় বাং ,মুজিব বার্তা, মুজিব সেনা, আমিন রহমান,জন খানসহ কমপক্ষে ৫০টি ফেইস বুক এর এডমিন । কোনটায় নিজে লিখে  আবার অন্যগুলো দিয়ে নিজেই লাইক ও মন্তব্য করে । সে ডেনমার্কসহ সারা ইউরোপের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের নিয়েও কটূক্তি এবং মানহানিকর মন্তব্য লিখে । 
অতি সম্প্রতি সে, নতুন করে ইউরোপের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের পুরনো টেলিফোন কথাবার্তা কেটেকুটে ভয়েজ রেকর্ড ফেইসবুকে আপলোড করে নেতৃবৃন্দকে ব্লাক মেইল করছে । শুনা যাচ্ছে , গনি ভাইয়ের কিছু গোপন ভিডিও তার নিকট সংরক্ষিত আছে আর তা দিয়ে তিনি গনি ভাইকেও ব্লাক মেইল করছে । তার কথা মতো কাজ না করলে গনি ভাইয়ের সেই গোপন ভিডিও তিনি প্রকাশ করে দেবার হুমকি দেন প্রতিনিয়ত ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে , গনি ভাই আসলে কেন এসব করছে ! তিনি কি শামীম হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঈদ ফারুক,বজলুর রশিদ বুলু, বসিরুল আলম সাবুদের চিনেন না ! ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর এদের ভুমিকা কি ,১/১১ সময়ে তাদের ভুমিকা কি তা কি গনি ভাই জানেন না । তিনি যখন বিএনপি জামাতের সাথে আতাত করে চলেছেন, তিনি যখন সংস্কারবাদী হিসাবে আমাদের প্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন তখন তারা দলের জন্য ইউরপের রাস্তায় রাস্তায়  স্লোগান দিয়েছেন । আমারদের প্রিয় নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা উদ্দেশ্যে  ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বর্বর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদের নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশ এমব্যাসির ভিতরে গিয়ে ইয়াজদ্দিন এবং বেগম খালেদার ছবি ভাংচুরের নেতৃত্ব দিয়েছিলো বীর মুক্তিযুদ্ধা মাঈদ ফারুক, তার ফ্যামিলির চার ভাই মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেছে । তার নেতৃত্বে হল্যান্ডের দেন হাগে দুইবার মানব বন্ধন করা হয়েছে ।
২০০৬ সালে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় কনভেনশনের পুরো খরচ শামীম হক দিয়েছিলেন ।বাংলাদেশের  শামীম হকের নেতৃত্বে দলীয় সকল কর্মকাণ্ডে সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের অংশগ্রহন ও ব্যানার দেখে আমরা  গর্বিত হই । এর মুল কৃতিত্ব শামীম হকের ।   
১২ জুন ২০০৮  সালে নেত্রী মুক্তি আন্দোলনে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে শুনানির মুল সমন্বয়কের কাজ করেছে বজলুর রশিদ বুলু । ১/১১ এর সময়, নেত্রী মুক্তি আন্দোলনে বজলুর রশিদ বুলু প্রমান করেছেন তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর  আদর্শের এক অগ্রসৈনিক । আর তখন আমরা সকলেই জানি জনাব গনির ভুমিকা ।
সর্ব  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ যিনি ব্রান্ডিং করেছেন, সে আমাদের সকলের প্রিয় অনিল দা । তার সততা, দলের প্রতি অনুগাত্য, কর্মীদের প্রতি কেয়ারিং ,জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পরিবারের একান্তজন, তাকে নিয়ে গনি সাহেব যখন উল্টা পাল্টা কথা বলেন তখন সকল কর্মিদের গায়ে খুব লাগে ।
আজ সারা ইউরোপব্যাপী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের  সৈনিকরা গনি সাহেবের স্বৈরাচার বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিবাদ করছে । তিনি ইতিমধ্যে দলের অনেক ক্ষতি করে ফেলেছেন । এখন সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর ।তার অসৎ উদ্দেশ্য যাতে সফল না হয়, তার জন্য ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধন্ত নেয়ার জন্য সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের তৃতীয় কনভেনশন ডাকা জরুরী ।আগামীতে দল পরিচালনার সকল  সিদ্ধান্ত সেখানেই  নেয়া হোক ।
সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সকল নেতা কর্মীদের প্রাণের দাবী, নীতিহীন, আদর্শহীন,স্বেচ্ছাচারী অসৎএবং তারেক রহমানের এজেন্টদের হাত থেকে দলকে রক্ষা করে, জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে । এবার ভুয়া বিচারকের বিচার আমরা করবো ।   

লেখকঃ রাজনীতিক, কলাম লেখক ও সমাজ কর্মী

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget