জনগণই গণতন্ত্রের নায়ক


জনপ্রিয় ডেস্ক : তুরস্কে গত মাসে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ ইস্তাম্বুলে র‌্যালি করেছে। এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে ইস্তাম্বুল শহরে গণতন্ত্রের পক্ষে এক যৌথ সমাবেশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং দুই বিরোধী দলের নেতা। 

গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো যৌথ সমাবেশে অংশ নিলেন তারা। অভ্যুত্থানবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাতের বেলায় সমাবেশকে উৎসাহ দিয়ে আসছিল আঙ্কারা। এরই চূড়ান্ত প্রচারণা হিসেবে রোববার এই মহাসমাবেশে মিলিত হলেন দেশটির ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় নেতারা। জনগণের উদ্দেশে তুরস্ক প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, আপনারা সবাই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার যোদ্ধা। রোববারের ওই র‌্যালিতে এরদোগান সমর্থক ছাড়াও প্রধান দুই বিরোধী দলও এক কাতারে ছিল। এরদোগান বলেন, বিশ্ব আপনাদের দেখছে। আপনাদের গর্ব করা উচিৎ। আপনাদের প্রত্যেকেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আপনারাই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার নায়ক। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তুরস্কের সংসদ চাইলে তিনি দেশটিতে আবারো মৃত্যুদ-ের বিধান ফিরিয়ে আনবেন। বিবিসির খবরে বলা হয়, এরদোগান যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন সমবেত মানুষ জাতীয় পতাকা নেড়ে তাকে সম্ভাষণ জানায়। সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এরদোগান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামিক বোদ্ধা ফেতুল্লাহ গুলেনসহ তার সকল সমর্থককে তিনি তুরস্ক থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য গুলেনকে দায়ী মনে করে তুরস্ক সরকার। সেখানে বক্তৃতা দেয়ার সময় এরদোগান জানিয়েছেন, দেশের মানুষের সমর্থন পেলে এবং সংসদ অনুমোদন করলে তিনি আবারো মৃত্যুদ- ফিরিয়ে আনবেন। তিনি বলেন, ইউরোপে বা ইউরোপীয় কাউন্সিলে মৃত্যুদ- নেই। কিন্তু আমেরিকায় এটি আছে। জাপান, চীনসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এটি আছে। সুতরাং তুরস্কের মানুষও এটি পেতে পারে। তিনি আরো বলেন, এছাড়া আগেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এটি আমাদের ছিল। আর সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ। ফলে, জনগণ যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে রাজনৈতিক দল সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করবে। এদিকে, ইস্তাম্বুলের ইয়েনিকাপি স্কয়ারে এই সমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাদের সবার হাতেই ছিল তুরস্কের পতাকা। শেষ বিকেলে সমাবেশে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান এবং প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। এই সমাবেশের নাম দেয়া হয়েছে গণতন্ত্র ও শহিদ সমাবেশ। দলীয় কোনো ব্যানার না এনে শুধু তুরস্কের পতাকা নিয়ে সমাবেশে আসার জন্য কর্মীদের আগে থেকেই নির্দেশ দিয়েছিলেন এরদোগান। তবে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি পিপলস ডেমোক্রেসি পার্টির (এইচডিপি) কোনো নেতাকে। তুরস্কের নিষিদ্ধ ঘোষিত দল কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টিকে (পিকেকে) সমর্থন করার কারণে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, তুরস্কের অভ্যুত্থান চেষ্টার পর গুলেনের হাজার হাজার সমর্থক চাকরি হারিয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন। গত ১৫ জুলাইয়ের ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে প্রায় ২৭০ জন নিহত হয়েছিল। তুরস্কের টালমাটাল এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রেসিডেন্টের কট্টর অবস্থানকে অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমা বিশ্ব। আল-জাজিরা, রয়টার্স।

Labels:

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget