বিয়ানীবাজারে আকস্মিক বৃদ্ধি পেয়েছে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা আহত হচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র  করে  বিয়ানীবাজারে  আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে  সহিংসতা। নির্বাচন পরবির্ত এ সহিংসতায় আহত হচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। এনিয়ে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোন সময় ওই এলাকাগুলোতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন অনেকে। যদিও নির্বাচনের দিন  ভোটগ্রহণের সময় বিয়ানীবাজারের ১০ ইউনিয়নের কোথাও কোন সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই শুরু হয় প্রতিদ্বন্ধি  প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা। এমনকি গুপ্তভাবে হামলা হচ্ছে অনেকের উপর। আর এতে করে বৃদ্ধি পাচ্ছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও আশংকা। তবে উদ্ভুট পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ।
জানা যায়, শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্টিত হয় গত ৪ জুন শনিবার। নির্বাচনের দিন ভোট চলাকালীন সময়ে কোন ধরনের সংঘাত সংঘর্ষ অথবা হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচন শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই শুরু হয় হামলার ঘটনা। আর এর সুত্রপাত শুরু হয় মুল্লাপুর ইউনিয়ন থেকে। এদিন সন্ধ্যার পর আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের পুত্র নাবিল গোডাউন বাজারে আকস্মিক হামলা করে এবং কুপিয়ে আহত করে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর সমর্থক পাতন গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল ইসলামকে। এসময় স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিলে সে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং আহত ময়নুলকে গুরুত্বর অবস্থায় প্রথমে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকের কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত রয়েছে। এর পরদিন রোববার সন্ধ্যার বিয়ানীবাজার পৌরশহরের উত্তরবাজারে দুবৃর্ত্তদের হামলায় গুরুত্বর আহত হন ৪নং শেওলা ইউনিয়ন বিএনপি’র  সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম তাজুল। গুরুত্বও অবস্থায় তাকেও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।  তবে কে বা কারা তাজুলের উপর  হামলা করেছে তা জানা না গেলেও তাজুল দাবী করেছেন, নির্বাচনের রেশ ধরে তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই দিন রাতে ৫নং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের ৬নং ওয়র্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী তালা প্রতিকের আলী আহমদ ও তাঁর প্রতিদ্বন্ধি টিউবওয়েল প্রতিকের প্রার্থীর আলী নুরের সমর্থকদের মধ্যে স্থানীয় বৈরাগীবাজারে বাকবিতন্ডা হয়। এর একপর্যায়ে আলী আহমদ সমর্থকেরা আলী নূরের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। একপক্ষ আরেকপক্ষের উপর ইটপাটকেল দিয়ে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার  পরদিন সোমবার রাতে নিজ গাড়িতে করে বাড়ি যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার স্বীকার হন ১০নং মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম বেবি। দুর্বৃত্তদের হামলায় তাঁর মাইক্রোবাসটি একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগলে সে মাথায় গুরুত্বর আঘাত পায়। এসময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে এই ঘটনায় বেবি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে দাবী করলেও পুলিশ জানায়, গাছের সাথে গাড়ির ধাক্কা লাগায় গাড়ির গ্লাসের আঘাতে বেবি মাথায় আঘাত পান। গুলির কোন ঘটনা ঘটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের রেশ ধরেই বেবির উপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এদিন দুপুরে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে ১০ নং মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল খায়েরের ভাগিনা শিবির কর্মী জালাল আহমদ ও মিছবাহ উদ্দিনের উপর হামলা করে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ, রাফি, কাওছারসহ আরো অনেকে। হামলায় আহতরা জানায়, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী  আবুল খায়েরের পক্ষে প্রচারণা চালানোয় তাদের উপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা উভয়েই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৯নং মুল্লাপুর ইউনিয়নের গোডাউন বাজারে  ৫নং ওয়ার্ডের মোরগ প্রতিকের মেম্বার পদপার্থী অলিউর রহমান ও টেবিলফ্যান প্রতিকের প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় গ্রুপের দু’জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, লুৎফুর রহমান ও আবুল কাশেম। আহতাবস্থায় উভয়কে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখান থেকে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

এবিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জুবের আহমদ জানান, ইউনিয়নগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। বড়ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget