ঈদ চলচ্চিত্রের জমজমাট লড়াই যৌথ প্রযোজনা বনাম দেশি: কোন পক্ষে শাকিব

ঢাকা: ঈদ মানেই শাকিবময় প্রেক্ষাগৃহ। এমন ধারণা থেকে যারা এই নায়ককে নিয়ে ছবি বানান, সবারই আশা থাকে তার ছবিটি ঈদের সময় মুক্তি দেয়া হোক। সেই কারণেই হয় তো, যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত শিকারিসহ ঈদে শাকিব খান অভিনীত আরও তিনটি ছবি মুক্তি দৌড়ে রয়েছে। চলচ্চিত্রগুলো হল, মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত সম্রাট, শামিম আহমেদ রনি পরিচালিত মেন্টাল নাম বদলে এখন রানা পাগলা

অন্যদিকে যৌথ প্রযোজনার আরেক ছবি বাদশাও ঈদে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহের দখল নিতে চায়। কিন্তু স্বয়ং শাকিব খান চান না একসঙ্গে তিনটি ছবি মুক্তি পাক। তার কথায় যুক্তি আছে, এত কম প্রেক্ষাগৃহে একসঙ্গে এত ছবি চালালে বিনিয়োগ উঠবে না।
তাহলে কলকাতার নায়ক জিৎকে মোকাবেলা করবেন
সম্রাট শিকারি দিয়ে? কিন্তু সমালোচকরা বলছে ভিন্ন কথা, তাদের মতে শেষ পর্যন্ত মুক্তির দৌড় থেকে ছিটকে পড়বে সম্রাট। তার মানে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত দুই ছবি শিকারি বাদশার দখলে থাকবে প্রেক্ষাগৃহ। তাহলে যে শাকিব চলচ্চিত্রে ভিনদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য কাফনে কাপড় গায়ে জড়িয়েছিলেন, তিনি এখন কার পক্ষে
ভারতীয় ছবি আমদানির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও চিত্রনায়ক শাকিব খান। যার ফল স্বরূপ কয়েকটি হিন্দি ও ভারতীয় বাংলা ছবি আমদানি করা হলেও, তা সফলতার মুখ দেখেনি। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই, পাল্টে যায় চিত্র। যৌথ প্রযোজনার দোহাই দিয়ে নাম মাত্র বাংলাদেশের কলাকুশলী নিয়ে নির্মিত হতে থাকে একের পর এক ছবি। শুরু থেকেই দেশিয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বিরাট একটি অংশ এ উদ্যোগকে যৌথ প্রতারণা দাবি করে বিরোধিতা করলেও, তা কাজে আসেনি। 
ফলাফল হিসেবে দেশের শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়াও এ পথে পা বাড়ায়। সম্প্রতি তাদের সে যাত্রায় সঙ্গী হন শাকিব খানও। নির্মিত হয় যৌথ প্রযোজনার ছবি শিকারি। এ পর্যন্ত সবকিছু নীরবে হলেও, ছবিটির মুক্তি দেয়া দিয়ে শুরু হয়েছে তুঘলকি কাণ্ড।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসছে ঈদে প্রথমবারের মতো যৌথ প্রযোজনা নির্মিত ছবির মুখোমুখি হতে চলেছে দেশিয় চলচ্চিত্র। যদিও মুক্তির দৌড়ে চারটি ছবির মধ্যে তিনটিই শাকিব খানের। যার মধ্যেশিকারি বাদশা ব্যতিত বাকি দুটি দেশিয় চলচ্চিত্র। 
ঈদের চলচ্চিত্রের লড়াই এবার যৌথ প্রযোজনা বনাম দেশিয় চলচ্চিত্র।
কিন্তু গণ্ডগোলটা লাগলো মেন্টাল ছবির নাম পরিবর্তন করে সেন্সর লাভ করার পর। নতুন নাম রানা পাগলা মেনে নিতে পারছেন না ছবির নায়ক শাকিব খান। কারণ ব্যক্তি জীবনে তার প্রকৃত নাম মাসুদ রানা। ছবিটিতেও নাম তার রানা। চরিত্রের নাম নিয়ে আপত্তি না থাকলেও ছবির নাম নিয়ে শাকিবের বক্তব্য, ছবির এ ধরনের নাম (রানা পাগলা) আমার ব্যক্তি ইমেজের জন্য ক্ষতিকর। ছবিটির নামের সূত্র ধরে মানুষ আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাও করতে পারেন। তাই আমি এই নাম নিয়ে জোর আপত্তি জানিয়েছি।
এদিকে সেন্সর বোর্ড শাকিবের আপত্তিকে আমলে না নেয়ায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে একটি চিঠিও মন্ত্রী বরাবর পাঠিয়েছেন। 
তবে ছবির প্রযোজক পারভেজ চৌধুরী বলছেন ভিন্ন কথা। তিনিও চেয়েছিলেন মেন্টাল নামটি রাখতে।  ছবিতে বাংলা নাম বাধ্যতামূলক করার কারণেই নাম পাল্টে রানা পাগলা রেখেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলানাম বাধ্যতা মূলক করার আগেই ছবিটির নাম এফডিসিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাহলে কেন এমন নাম রাখলেন? সে তথ্য খোঁজ করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে নতুন খবর। 
তা হলো, ঈদের ছবির দৌড়ে মেন্টাল যুক্ত হোক তা শাকিব চাননি। এ কারণে অনেকটা গোপনেই ছবিটির সেন্সর করাতে চেয়েছিলেন প্রযোজক। কিন্তু ইংরেজি নাম নিয়ে যদি সেন্সরে ঝামেলা হয়, এ কারণে নাম নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করে জমা দেন। যা শাকিবের অজান্তেই হয়েছে। তারপর ঈদে ছবিটি মুক্তির ঘোষণা দিলে শাকিব নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।  
শুধু কী তাই একই সঙ্গে তিন ছবি মুক্তি পাক শাকিব তাও চান না। তার মতে, প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। তাই এত কম প্রেক্ষাগৃহে একসঙ্গে এত ছবি চালালে বিনিয়োগ উঠবে না। 
শাকিবের কথায় যুক্তি থাকলেও সমালোচকদের মতে, ঈদে শাকিব খান অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে মুক্তির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত শিকারি 
অন্যদিকে দেশিয় ছবি সম্রাট ঈদে মুক্তির কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ সবার আগে ঈদে ছবিটি মুক্তির ঘোষণা দেয়া হলেও, হঠাৎ করেই প্রচার প্রচারণায় ভাটা দেখা যাচ্ছে। 
সবশেষে, শাকিবের নাম পাল্টে ঈদের ছবি হিসেবে মুক্তির দৌড়ে শামিল হয়েছে রানা পাগলা। কিন্তু নাম নিয়ে আপত্তি থাকায় শেষ পর্যন্ত এ ছবিটিও মুক্তির স্বাদ নিতে পারবে কিনা কিংবা মুক্তি পেলেও কয়টি প্রেক্ষাগৃহ দখল করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অথচ সম্রাট রানা পাগলা দুটোই সম্পূর্ণ দেশিয় চলচ্চিত্র। যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এখানকার কলাকুশলীদের ঘাম। 

অন্যদিকে শিকারি নামে যৌথ প্রযোজনার ছবি হলেও, আদতে ভারতীয় বাংলা ছবি বলেই মানছেন সমালোচকরা। 

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget