আটক সোনিয়া-রাহুল-মনমোহন, অতঃপর মুক্তি

জনপ্রিয় অনলাইন : গণতন্ত্রকে বাঁচানোর দাবিতে দিল্লির রাজপথে নেমে পুলিশের হাতে আটক হলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, দলের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
 
শুক্রবার গণতন্ত্র বাঁচাও (সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ)-এর দাবিতে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে এক বিশাল পদযাত্রা বের হয় সংসদ ভবনের উদ্যেশ্যে। সোনিয়া ছাড়াও মিছিলে পা মেলান রাহুল গান্ধী, মনমোহন সিং, মল্লিকার্জুন খাড়গে, গুলাম নবি আজাদ, রেণুকা চৌধুরী, আনন্দ শর্মা, এক অ্যান্টনি সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা ও কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক।যন্তর মন্তর ছেড়ে মিছিল সংসদ ভবনের দিকে যেতেই পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়তে হয়। সেসময় ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে এগোনের চেষ্টা করলে আটক করা হয় সোনিয়া, রাহুল, মনমোহন ও এক অ্যান্টনি সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের। পরে অবশ্য আধা ঘণ্টার মধ্যেই সোনিয়া-রাহুল-মনমোহন সিংএর মুক্ত করে দেওয়া হয়।এর আগে এদিন যন্তর মন্তরে মঞ্চ থেকে মোদি সরকাকের বিরুদ্ধে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করে বলেন, অর্থের ক্ষমতা ব্যবহার করেই মোদি সরকার অরুণাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিতাড়িত করেছে। আজ উত্তরাখণ্ডের বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে অথচ সরকার না থাকায় আগুন নেভানোর কোনো কাজই হচ্ছে না। গণতান্ত্রিকভাবে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বিজেপি সরকার। আমরা তাদের কিছুতেই সফল হতে দেব না।সভায় উপস্থিত কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের গণতান্ত্রিক উপায়ে মোদি সরকারের মুখোশ খুলে দেওয়ারও ডাক দেন সোনিয়া। তিনি বলেন, তারা আর কোনো অবিচার করতে পারবে না। যারা আমাদের অবজ্ঞা করছে, আমরা সেই সব নিন্দুকদের মুখোমুখি লড়াই করতে চাই। জীবন আমাকে অনেক সহ্য করতে শিখিয়েছে। আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। তারা জানে না আমরা কি দিয়ে তৈরি।মোদিকে নিশানা করতে ছাড়েননি রাহুল গান্ধীও। মোদির আচ্ছে দিন (ভাল দিন)-এর স্লোগান দিয়ে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, ক্ষমতায় আসার পর মোদিজি আচ্ছে দিনর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আজ দেশের ৪০ শতাংশ এলাকা খরায় ধুকছে, অথচ মোদি কিছুই করছেন না। আইন ভেঙে, একটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে অরুণাচল প্রদেশ থেকে কংগ্রেস সরকারকে অপসারণ করা হয়েছে।
কংগ্রেস সহ-সভাপতি আরো বলেন বর্তমানে এই দেশে মাত্র দুই জন কথা বলতে পারেন-একজন হলেন নরেন্দ্র মোদি অন্যজন হলেন মোহন ভাগবত (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান)। এবং কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে তবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মনমোহন সিং। তিনি বলেন, উত্তরাখণ্ড ও অরুণাচল প্রদেশে একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে মোদি গণতন্ত্রের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এখন তারা কংগ্রেস শাসিত অন্য রাজ্যগুলোর ওপর কুনজর দিয়েছে। গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে যা যা দরকার কংগ্রেস সবসময় তা করার চেষ্টা করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করে যাবে।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget