সমুদ্র সমাধী :: চতুর্থ পর্ব

এখলাছ মিয়া : ক্ষুধার যন্রনা, ভীষন্ন দেহ-মন,বৈরী বহাওয়া, অনিশ্চিত গন্তব্য সব মিলিয়ে বাবু'দের শারিরীক ও মানষিক অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নৌকা থেকে উঠে ভূমিতে যে পা রাখবে, সে সামর্থটুকু কারও কাছে নেই ৷ কুর্দিশ লোকগুলোর বেদম লাঠির প্রহারে একে একে নৌকা থেকে উঠে সলে কুর্দিশরা তাদের অনুসরন করতে বলে ৷ হাত দিয়ে ইশারা করা হয় , পাদত ঐ উঁচু পাহাড়টায় শ্রয় নিতে হবে ৷ বহাওয়া ভাল হলে সন্ধ্যার দিকে বার নৌকায় উঠানো হবে ৷
বাবু' মানষিক শক্তি সঞ্চয় করে একবার পাহাড়ের দিকে তাকায় ৷ নীচ থেকে উপরে তাকাতেই চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে সে ৷ হঠাৎ বুঝতে পারে কেউ একজন কিছু একটা দিয়ে ঘাত করে সামনে চলার নির্দেশ করছে ৷ তাকিয়ে দেখে সে সবার পিছনে র বাকী সবাই তার সামনে লাইন ধরে হাঁটছে ৷ গভীর অরণ্যের মাঝখান দিয়ে হেঁটে পাহাড়ের কাছে সতেই মনে হল, এ যেন সম্পূর্ণ পাথরের তৈরী পাহার ৷ কিছুটা উপরে ওঠার পর ছোট ছোট ল্যান্ড স্কেপ, বার গাছ-পালা, বড় বড় পাথরের টুকরো ও গাছের শেকড় ধরে বেঁয়ে বেঁয়ে কিছুটা উপরে ওঠার পর র কেউ সামনে এগুতে পারছিল না ৷ হঠাৎ মাথার ওপর দিয়ে একটি হেলিকপ্টার উড়ে গেল ৷ নির্দেশ সল সবাই যেন পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে যার যার জায়গায় বসে পড়ে, না হয় ধরা পড়ে যাবে ৷
হেলিকপ্টার চলে গেলে বার শুরু হয় পাহাড় বেঁয়ে উপরে উঠা ৷ শরীরের সমস্থ শক্তি প্রয়োগ করে একেক জন উপরে উঠছে ৷ উপরে উঠতেই হবে, না উঠতে পারলে -হয় কুর্দিশরা গুলি করে মেরে ফেলবে র না হয় নীচে নেমে পড়লে গভীর অরণ্যে এমনিতেই মারা যাবে ৷
টানা এক ঘন্টা পাহাড় বেঁয়ে উপরে উঠার পর মনে হল: মাথার খুব কাছে খোলা সমান ৷ জায়গাটা একটু সমতল, স্যাঁত স্যাঁতে ৷ কারও শরীরে র কোন শক্তি অবশিষ্ট নেই , ক্ষুধার যন্রনা, পিপাসায় সবাই যে যার মত করে মাঠিতেই শুঁয়ে পড়ে ৷এর ফাঁকে কুর্দিশ রা নির্দেশ দেয়-যার যার কাছে ডলার/ইউরো ছে সব যেন বের করে তাদেরকে দেওয়া হয় ৷যদি না দেওয়া হয় তাহলে সবাই কে গুলি করে মেরে ফেলা হবে ৷ জীবন বাঁচানোর তাগিদে একে অন্যের মুখের দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে একে একে সবাই পরম যত্ন করে গলিয়ে রাখা বিপদের বন্ধু ডলার/ইউরো গুলো বাহির করতে থাকে ৷

সব ডলার/ইউরোগুলো জমা দিয়ে দেওয়া হয়ে গেলে- বাবু' খুব মিনতি করে বলে: মাদের কাছে যা ছিল মরা সব দিয়ে দিয়েছি, এখন দয়া করে মাদেরকে কিছু খেতে দিন, না হয় সবাই মারা যাব ৷ বাবু'র কথা শেষ হতে না হতেই সবাই হাউ-মাউ করে কান্নায় ভেংগে পড়ে ৷ সবাই বলতে থাকে-মরা যাবনা গ্রীস, মাদেরকে ইস্তানবুলে পাঠিয়ে দাও বলে, বারও সবাই বুক ফাঁটিয়ে কাঁদতে থাকে ৷এক পর্যায়ে কুর্দিশদের একজন তার ব্যাগ থেকে এক টুকরো খবুজ( এক প্রকার রুটি) ও এক বোতল(৫০০ মি:লি:) পানি বের করে দেয় খাওয়ার জন্য ৷ সবাই অবাক চোখে খাবারের দিকে তাকিয়ে রয় ৷ ছোট ছোট টুকরো করে একটা রুটিকে পনের জনে ভাগ করে অনেকটা কাড়া-কাড়ির মত এক সেকেন্ডেই খেয়ে ফেলে ৷ এক ডুক করে পানি যেন গলা দিয়ে নামতে চাচ্ছিলনা ৷ ক' দিনের ক্ষুধার্ত পেটে রুটির এই ছোট্ট টুকরোটি যেন গুন ধরিয়ে দিল ৷ সবাই রও খাবার ও পানির জন্য ছট-ফট করতে লাগল ৷ (চলবে.)

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget