সমুদ্র সমাধী :: তৃতীয় পর্ব

এখলাছ মিয়া : অন্ধকার রোম ,কোথাও এক ফোঁটা অালো নেই , পেটের ক্ষুধায় সবাই অস্থির, তার ওপর প্রচন্ড ঠান্ডা ৷অন্ধকারে হঠাৎ কেউ একজন 'বাবু'র হাত ধরতেই সে ভয় পেয়ে যায়, শরীরের লোমগুলো খাড়া হয়ে বুকটা কেঁপে ওঠে ৷ ফিশ ফিশিয়ে কেউ একজন বলতে থাকে, বা....বু....ভা....ই অামি বাঁচব না, অামাকে পানি খাওয়ান ৷ হাতটা ছাড়িয়ে 'বাবু'অন্ধকারে পানি খুঁজতে থাকে ৷ পানির প্রচন্ড পিপাশা তারও পেয়েছে ৷ দেওয়াল হাতরিয়ে কোন পানি খোঁজে না পেয়ে সে পাগলের মত হয়ে যায় ৷
ভোর পাঁচটা, পাহাড়ের কুল ঘেঁষা নির্জন এ বাড়িটি নীরভ-নিস্তব্দ ৷ কোথাও কোন সাড়া-শব্দ নেই ৷ ক্ষুধার যন্রনায় চট-ফট করতে করতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে ৷ এমন সময় দরজা খোলার ওয়াজ অাসল ৷ কেউ একজন রোমে ডুকেই দরজার কাছে শোঁয়ে পড়া একজনকে সজোরে লাথি মেরে সবাইকে উঠার নির্দেশ করল ৷ এখনই নৌকায় ওঠানো হবে, হাতে মাএ বিশ মিনিট সময় ৷ নির্দেশ পেয়ে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত শরীর নিয়ে একে অপরকে টেনে-টুনে সবাই উঠে পড়ল ৷ ঘর থেকে বের হয়ে পাহাড়, বন-জংগল, উঁচু-নীচু-ঢালু জায়গা পার করে এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে লাঠি থাকা দুজন কুর্দিশ সামনে-পিঁছনে থেকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে সল, যেখানটায় অন্ধকারের মাঝেও প্লাস্টিকের ছোট একটি বুট (নৌকা) নিয়ে রও একজন অনেক গ থেকেই বসে ছে ৷
মুখে নৌকায় ওঠার নির্দেশ র হাতে থাকা লাঠির ঘাতে ঘাতে একে একে সবাই নৌকায় ওঠে পড়ে ৷ এত ট-শাঁট করে বসতে হয় যে, একজনের বুক তো রেক জনের পাঁ, রেক জনের কোমর তো অন্য জনের মাথা ৷ এভাবেই উপরাপুরি বসিয়ে একজন কুর্দিশ লোক নৌকায় ওঠে পড়ে র বাকী দুজন পিছন থেকে ধাক্কা মেরে নৌকাটিকে ভাসিয়ে দেয় ৷
হাতে বেঁয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরেই হঠাৎ চমকা ঝড় উঠে সাগরে ৷ প্রচন্ড ঠান্ডা, ঝড়, দমকা হাওয়া র উত্তাল ঢেউয়ের কাছে পরাজিত হয়ে নৌকাটি ফিরে সতে বাধ্য হয় ৷ এদিকে তীরে দাঁড়িয়ে বাকী দুজনও চাচ্ছিল নৌকাটি যেন ফিরে সে ৷ তীরে সার সাথে সাথে ঝড় থেমে যায় র ভোর কেটে গিয়ে সকাল হয়ে যায় ৷ পুলিশ বা বর্ডার সিকিউরিটির হাত থেকে বাঁচতে সবাইকে নিয়ে কুর্দিশ লোকগুলো বিশাল উঁচু এক পাহাড়ের উপর উঠতে থাকে ৷

(চলবে)

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget