আবার ভারত না পাকিস্তান?

ঢাকা: ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে পরতে পরতে উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার ঢেউ আছড়ে পড়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও। সমর্থকরা ক্রিকেটারদের কাছে যে কোনো মূল্যে জয় চান। আর এই চাওয়াটা বাড়তি চাপ হয়ে দেখা দেয় ক্রিকেটারদের মাঝে। পাক-ভারত ম্যাচ মূলত চাপ সামলানোর ম্যাচ। বিশ্বকাপে বরাবরই এই চাপটা ভালোভাবেই সামলে আসছে ভারত। এখন অবধি যতবার ভারত-পাকিস্তান বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে ততবারই পরাজিত দলের কাতারে পড়েছে পাকিস্তান। কি এক রহস্যর কারণে বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে জিততে পারে না পাকিস্তান। রোববার অ্যাডিলেড ওভালে সেই গেঁরো কি খুলতে পারবে পাকিস্তান? সেটা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই জানা যাবে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৯.৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
পাকিস্তানের জন্য অুনপ্রেরণা হয়ে আছে বিরানব্বই। সেবারও বিশ্বকাপ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। ইমরান খান কী অসাধারণভাবেই না চ্যাম্পিয়ন করেছিল পাকিস্তানকে! ২৩ বছর পর আবারো মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপের সেই দু দেশেই। পুরো দস্তুর রাজনীতির মাঠে ঢুকে পড়ায় ক্রিকেট নিয়ে আর কথাই বলতে চান না ইমরান। বিশ্বকাপে আসার আগে মিসবাহ-উল-হকদের নিশ্চয় কোন টোটকা দিয়েছেন কিংবদন্তি এই অলরাউন্ডার। এদিকে ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে মিসবাহ-উল-হক সরাসরি বলে দিয়েছেন তিনি ম্যাচটি জিততে চান,‘ আমরা এখানে জিততে চাই। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চাপ অন্যরকম। আমরা এটা সবাই মেনে নিয়েছি। তাই জানাতে চাই ওই বিশেষ চাপটা নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। আগের পাকিস্তান হয়তো এতটা চাপ নিতে পারেনি সেজন্য জিততে পারেনি। কেন এত বছর ধরে বিশ্বকাপে ভারত অপরাজেয় রয়েছে এখন ময়নাতদন্ত করার সময় নয়।
টিম ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর রবি শাস্ত্রী পাকিস্তানকে হারানোর সব পরিকল্পনা ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ওদিকে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক মঈন খান ছেলেদের বলে দিচ্ছেন,‘ ভারতকে হারাও। পাকিস্তানের জনগণ তোমাদের মাথায় তুলে রাখবে।এটা বুঝতে বাকি থাকেনা মঈন মূলত ক্রিকেটারদের উদ্দীপ্ত করতেই এমন বাক্য ব্যবহার করেছেন। জীবনের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন ইউনিস খান। তিনি বলেন,‘ এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। শুরুতেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। আমরা জিতে দুর্দান্ত শুরু করতে চাই। ভারত খুব ভালো ফর্মে নেই, এটাই আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের আগে নাইট ক্লাবে গিয়ে জরিমানা গোনা শহীদ আফ্রিদি গজগজ করে বিবিসিকে বলেছেন, পাকিস্তান আগে সব খেলায় হেরেছে, তা তো আর আমরা এখন পাল্টাতে পারব না। কিন্তু ইতিহাস তো নতুন করে তৈরি করা যায়। আগে হয়নি বলে এখনো হবে না এটা ভাবা কি ঠিক হচ্ছে? ভারতকে হারাতে পারলে আমাদের দলের চেহারাই পাল্টে যাবে।

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অবস্থা খুব তথৈবচ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে চার টেস্টের সিরিজে হারতে হয়েছে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতেও ব্যর্থ হয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এটা ঠিক যে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করায় কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা পাবে ধোনিরা। ভারত অধিনায়ক বলেন,‘ আমাদের দরকার অতীত ভুলে যাওয়া এবং চেষ্টা করা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করা। এখানে দীর্ঘসময় কাটানো আমাদের জন্য ইতিবাচক। আমরা এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। ছেলেরা ভালো কিছু করতে মুখিয়ে আছে।বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। এর প্রতিবারই জিতেছে ভারত। কিন্তু ধোনি এসব পরিসংখ্যান মনে রাখতে চান না,‘ এই রেকর্ড নিয়ে সবাই কথা বলে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলায় আমার বিরক্ত লাগে না। সমর্থক এবং সংবাদমাধ্যমও এসব নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু আমাদের একটাই চিন্তা কিভাবে ম্যাচটি ভালো খেলা যায়।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget