2015

খালেদুর রহমান :  ২০১৫ সালটিকে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার বছর বলা যেতে পারে। অবশ্য মোবাইল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ বছর বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তবে সূচকটি সামনের দিকে অনেক এগিয়েছে। প্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট ইনফরমেশন উইক মোবাইল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০টি বিষয় তুলে এনেছে।

বছরটিকে মোবাইল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পরিশোধনের একটি বছর বলছে ইনফরমেশন উইক। সেটা স্মার্টফোন, ট্যাব, পরিধানযোগ্য কোনো যন্ত্র বা কোনো সফটওয়্যারের ক্ষেত্র বিবেচনায় ধরে হিসেব করেছেন গবেষকেরা। ২০১৫ সালকে তাই বিশাল কোনো উদ্ভাবনের বছর না বলে এটিকে বাজারে থাকা পণ্যে ও প্রযুক্তির কিছুটা হালনাগাদের বছর বলা যেতে পারে।

এ বছরের প্রথমার্ধে নতুন দুটি পণ্য ঘিরে আলোচনা ছিল। একটি হচ্ছে অ্যাপল ওয়াচ ও আরেকটি মাইক্রোসফটরে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম। যদিও অনেকেই উইন্ডোজ ১০ কে প্রচলিত ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম বলে মনে করেছেন, তবে মাইক্রোসফটের লক্ষ্য ছিল তাদের সব ধরনের পণ্যে এই সফটওয়্যারটির সুবিধা দেওয়া। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করেছে মাইক্রোসফট।

পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশের বিষয়টি এই শিল্পে রীতিমতো শোরগোল তোলে। অ্যাপলের স্মার্টওয়াচকে টেক্কা দিতে অ্যান্ড্রয়েড ওয়্যার চালিত স্মার্টওয়াচ নির্মাতারাও উঠে-পড়ে লাগে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাইক্রোসফটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন সত্য নাদেলা। তিনি মাইক্রোসফট থেকে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার বিভাগে ভালো করার প্রেরণা দেন। উইন্ডোজ ১০ এর পাশাপাশি মাইক্রোসফট সারফেস প্রো ৪ ট্যাব ও সারফেস বুক নামের হাইব্রিড পণ্য বাজারে নিয়ে আসে।

এ বছর আমাজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ঘটিয়ে ইকো নামের একটি স্মার্টহোম যন্ত্র বাজারে আনে যা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্মার্টহোমের ক্ষেত্রে এ বছরের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হিসেবে উঠে আসে আমাজনের ইকো।

এ বছর স্মার্টফোনের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্যের মোবাইল ফোন সেটের পাশাপাশি ভারচুয়াল রিয়েলিটি পণ্য বাজারে ছাড়ে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস ৬ ও গিয়ার ভিআর নামের এই দুটি পণ্য এ বছর মোবাইল প্রযুক্তিপণ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

এ বছরের আরেকটি আলোচিত বিষয় মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম। এই ক্ষেত্রটিতে গুগলের অ্যান্ড্রয়েডের আধিপত্য। এ বছর অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা মার্সম্যালো নামের সংস্করণ উন্মুক্ত করে নজর কেড়েছে গুগল।

এ বছর মটোরোলা মটো ৩৬০ স্মার্টওয়াচ অনেকের মন কেড়েছে। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ওয়্যার অপারেটিং সিস্টেম প্ল্যাটফর্মের এই স্মার্টওয়াচটি ধ্রুপদী ওয়াচ হিসেবে এ বছরের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

ইন্টারনেট অব থিংস বা সব পণ্যের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধার বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছে এ বছর। এ ক্ষেত্রে স্মার্ট হোম বা ঘরের প্রতিটি দরকারি পণ্যের সঙ্গে ইন্টারনেট যুক্ত করার সুবিধা দিতে শুরু করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রে রিং ডোরবেল নামের একটি প্রযুক্তিপণ্য অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোন ৬ এ ও ৬ এস প্লাসের কথা না বললেই নয়। স্মার্টফোনের দুনিয়ায় শোরগোল তোলা অ্যাপলের এই দুটি ফোন ২০১৪ সালে বাজারে আসা আইফোনের মতো হলেও এর বেশ কিছু ফিচার স্মার্টফোনপ্রেমীদের নজর কাড়ে। এর থ্রিডি টাচ ও লাইভ ফটোজ ফিচার দুটি পছন্দ করেন স্মার্টফোনপ্রেমীরা। বাজারে আসার প্রথম সপ্তাহ শেষে এক কোটি ৩০ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের কয়েকটি দেশে আইফোন বিক্রি শুরু করে অ্যাপল। ৯ সেপ্টেম্বর এর ঘোষণা দিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আগাম ফরমায়েশ নেওয়া শুরু হয়।

নতুন আইফোন সম্পর্কে অ্যাপল দাবি করে, এটি
বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্মার্টফোন। এই স্মার্টফোনে রয়েছে অ্যাপলের আইওএস ৯ অপারেটিং সিস্টেমে। ফোরকে মানের ভিডিও ধারণ করার জন্য এই ফোনের পেছনে উন্নত আই-সাইট ক্যামেরা যুক্ত করেছে অ্যাপল। ফোরকে ডিসপ্লেতে রেজুলেশন থাকে ৩৮৪০ বাই ২১৬০ যাতে পিক্সেল ঘনত্ব হয় ইঞ্চি প্রতি ৮০৬। গত বছরে বাজারে আসা আইফোন ৬ এ আট মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকলেও নতুন আইফোনের পেছনে ১২ মেগাপিক্সেল ও সামনে পাঁচ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে। লাইভ ফটোজ নামের নতুন একটি ফিচারও যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আইওএস ৯ এ ফিচার হিসেবে রয়েছে ডিজিটাল সহকারী সিরির উন্নত সংস্করণ। এমনকি এটি ব্যাটারির চার্জ বাড়তি এক ঘণ্টা পর্যন্ত বাঁচাতে পারে।


ঢাকা: আতিক রহমান। বাবা অবসর প্রাপ্ত আর্মি অফিসার, মা গৃহিনী। বড়ভাই একটি বেসরকারী ব্যাংকে চাকরি করেন, ছোট বোন এবার অনার্সে পড়ছে। সেও পড়াশোনা শেষ করেছে সম্প্রতি। কী করবে-আর কী করবে না তা নিয়েই দোটানায় সে। তবে করে না এমন কোন কাজ নেই! একটি নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি করে আবৃত্তি আর পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি।
অনেক রাত তারপরও ঘুম আসসে না। এরই মধ্যে ফেসবুকে হঠাৎ করেই নীলাঞ্জনা নামে একটি আইডিতে তার চোখ আটকায়। দেখতে সুন্দর! হাসিটাই যেন মন কেড়ে নিল তার। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতেই গ্রহণ। তারপর প্রতিদিনই টুকটাক কথাবার্তা। সখ্যতা গড়ে উঠলো খুব তাড়াতাড়িই। মেয়েটা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, কথাবার্তায় দুজন-দুজনার খুব চেনা-জানা হয়ে যায়। আতিকের সব কিছুই তার পছন্দের। ফেসবুকের পাশাপাশি ফোনেও কথা হয়, হয় কবিতা শোনা। নিজের অজান্তেই আতিক ভালোবাসতে শুরু করে নীলাঞ্জনাকে।
একদিন দুজনই চাইল দেখা করতে। কথা ছিল বিকেলে শিল্পকলা প্রাঙ্গণে দেখা করবে। নাটক দেখবে একসঙ্গে। আতিক একটু দ্বিধান্বিত ছিল নীলাঞ্জনা আসবে তো!!  হঠাৎ করেই তার সামনে এসে হাজির নীলা মানে নীলাঞ্জনা। ফর্সা শরীরে কালো একটা শাড়িতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল তাকে। আতিক এতটাই আশ্চর্য হয়েছিল যে কিছু বলার ভাষাটাও যেন সে হারিয়েছে। নাটক দেখার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তাকে নিয়ে রিক্সায় করে ঘুরার পরিকল্পনার কথা জানালো। নীলাও বাক্য ব্যবহার ছাড়াই মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। রিক্সা ঠিক হলো ঘণ্টা হিসেবে। যতদূর চোখ যায় ঘুরবে একসঙ্গে। কিন্তু কোথায় যাবে? কথার ফাঁকে কখন যে, নীলা তাঁর হাতটি বুকের কাছে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে বুঝতেই পারেনি আতিক। কাউকে কাছে পাওয়ায় যে এক অব্যক্ত ভালোলাগা ছুঁয়ে যাচ্ছিল তাদের দুজনের হৃদয়কে!
তবুও অজানা এক আশঙ্কা, নীলার পরিচিত কেউ যদি দেখে ফেলে! নীলার বাবা পুলিশ কর্মকর্তা। তাছাড়া তার বাবাও সাক্ষাত জল্লাদ! কেউ দেখলে কী হবে, ভেবেই অস্থির আতিক। নীলা এই ইতস্ততা দেখে বলেই বসলো, ‘তুমি কী আমার সঙ্গে ঘুরতে আসতে চাওনি? না বলে দিলেইতো হতো।কিন্তু আতিক কিছুতেই তার দুর্বলতার কথা বলতে পারছিলো না। যাক সন্ধ্যা আসন্ন। কোন অঘটন ছাড়াই দুজন বিদায় নিল! আতিক বাসায় চলে আসল।
এদিকে বাবা আজ কেন জানি রেখে আগুন হয়ে আছেন! ফ্রেস হয়েই কী করবে চিন্তা করছিল আতিক। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ! বুকটা ধপ করে উঠল। বাবা নয়তো! চাকরির কোন চেষ্টা না করায় প্রতিদিনই তাকে কিছু না কিছু শুনতে হয়, তাহলে আজও কী সে রকম কিছু!

ভয়ে-ভয়ে দরজা খুলতেই তার চোখ যেন কপালে উঠল! এ-কী, তার সামনে যে নীলাঞ্জনা! ভেতর থেকে বাবা জানতে চাইলো কে এসেছে? তাড়াতাড়ি নীলাকে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো, আর বাবাকে উত্তর দিল কেউনা বাবা। তাকে কোথায় বসতে দিবে, বা কী বলবে বুঝে উঠতে পারছিলো না আতিক। এদিকে ঘরে সে একা তারপর আবার একটি মেয়েও আছে সঙ্গে। যদি কেউ দেখে ফেলে! বাবা দেখলে তো কথাই নেই। আজই ঘর ছাড়া করবে তাকে।

ঘরে নীলার উপস্থিতির সময় যতই বাড়ছে ততই যেন কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না আতিক। এই অবস্থা দেখে নীলা যেন হেসেই খুন! আতিকের উদভ্রান্তের মতো আচরণ নীলার হাসির মাত্রাটা যেন আরো বাড়িয়ে দিচ্ছিল। নতুন এক ভয় যুক্ত হলো, হাসির শব্দ যদি বাবার কানে যায়? এ অবস্থায় আতিকের প্রাণ উষ্ঠাগত হওয়ার দশা। হঠাৎ যেন বাবার কন্ঠ শুনতে পেল সে, মনে হলো যেন তার ঘরের দিকেই আসছেন তিনি। কোন উপায় না পেয়ে নীলাকে লুকালো ঘরে পর্দার আড়ালে। দরজা খুলতেই বাবার জিজ্ঞাসা, ‘তোর ঘর থেকে মনে হয় মেয়ের হাসির শব্দ শুনলাম?’ তারেকের উত্তর- কই বাবা, না তো।বাবা পর্দাটা সরাতে গেলে সে সজোরে শক্ত করে ধরে থাকলো, যে না সরাতে পারে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আতিক গালে শক্ত কিছুর স্পর্শ অনুভব করলো, হু তার বাবা-ই তাকে থাপ্পর মেরেছে। চোখ খুলতেই দেখে, বাবা তার গায়ের চাঁদরটা ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতক্ষণে আতিক বুঝতে পারলো- রাতে কোন ফাঁকে যে ঘুমিয়ে পড়েছিল টেরই পায়নি সে। তবে এতক্ষণ যা হলো! নীলা, নীলাঞ্জলা!! পাশে বোনের রুম থেকে ভেসে আসছিল গানের সুর- ভালোবেসে সখি নিভৃতে.। আতিকের আর কিছুই বুঝতে বাকি রইল না।

ঢাকা: পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ভেদ্য, সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দুরন্ত এক মানবিক অনুভূতির নাম ভালোবাসা। এই ভালোবাসার জন্ম বা উৎপত্তি কখন, কবে ও কোথায় হয়েছিল আজ পর্যন্ত তা জানা সম্ভব না হলেও এটা যে সবসৃষ্টির প্রথম কথা, তা নিশ্চিত বলা যায়। পরম করুনাময় অসীম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর সৃষ্টিতে। সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা ও দরদ দিয়ে গড়েছেন এই মানব জাতিকে। জনম জনম ধরে ভালোবাসা সবকিছুকে তুচ্ছ করে নিজের আসনকে করেছে সমুন্নত। বছর ঘুরে এসেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডেবা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসসঙ্গে নিয়ে।
ভালোবাসা দিবস নিয়ে আলোচনার আগে জেনে নেয়া যাক বিশ্বজয়ী সেই ১৪ ফেব্রুয়ারির উৎপত্তি ও বিকাশের ইতিহাস। ভ্যালেন্টাইন দিবসের শুরুর কথা নিয়ে রয়েছে অনেক মত। সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত মতটি প্রদান করেছেন কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান গবেষক, অধ্যাপক নিওল লেন্সকি। তার মতে, খ্রিস্ট জন্মের আগে রোমানদের ছিল জয়জয়কার অবস্থা। রোমানরা খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার আগে প্যাগান (পৌত্তলিক) ধর্মের অনুসারী ছিলেন। প্যাগান ধর্মের লোকজন খ্রিঃ পূঃ চতুর্থ শতকে পূর্বপুরুষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত লিওপারসালিয়া বা ফেব্রুয়ালিয়া পূজা পালন করতো। এই ফেব্রুয়ালিয়া অনুষ্ঠানের নামানুসারে পরবর্তীতে মাসটির নামকরণ করা হয় ফেব্রুয়ারি। মাসটির ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত ছিল এই পূজা হতো। পূজার উদ্দেশ্য ছিল দেবতার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পুণ্যতা, উর্বরতা ও সমৃদ্ধি লাভ করা। অনুষ্ঠানের মাঝের দিনটি ছিল খুবই আকর্ষণীয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি দেবীরাণী জুনোর সম্মানে পবিত্রতার জন্য কুকুর আর উর্বরতার জন্য ছাগল উৎসর্গ করা হতো। উৎসর্গীকৃত কুকুর ও ছাগলের রক্তে রঞ্জিত হয়ে যুবকেরা চামড়ার তৈরী সামান্য পোশাক পরতো। তারপর চামড়ার বেত দিয়ে দেবীর নামে তরুণীদের পশ্চাতে আঘাত করতো। বিশ্বাস করা হতো দেবী এজন্য ওই তরুণীদের উর্বরতা বাড়িয়ে দেবেন। দিনটির আরও একটি বিশেষত্ব হল, এ দিনেই পরবর্তী এক বছর আনন্দ দেয়ার জন্য দেবীর ইচ্ছায় লটারির মাধ্যমে তরুণরা তাদের তরুণী সঙ্গিনীকে পেতেন। প্রথানুযায়ী বড় একটি বাক্সে তরুণীদের নাম লিখে রাখা হতো। সেখান থেকে তরুণরা একেকটি নাম তুলে পরবর্তী বছর লটারী পর্যন্ত নির্বাচিত যুগল একসঙ্গে থাকার সুযোগ পেতেন।

খ্রিস্ট ধর্মের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের ফলে প্যাগান অনুসারীরাও খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হতে লাগলেন। কিন্তু বিপত্তি সৃষ্টি হয় এই লিওপারসালিয়া পূজাকে কেন্দ্র করে। রোমানরা এই প্রথা বাদ দিতে চাইছিল না। এরই মাঝে ২৬৯ সালে ঘটে যায় আরেকটি ঘটনা। খ্রিস্টান ধর্মযাজক, সমাজ সেবক ও চিকিৎসক স্টিভ ভেলেন্টাইন ধর্ম প্রচারকালে রোমান সম্রাট ক্লাডিউয়াস এর নানা আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে গ্রেফতার হন। সম্রাটের যেসব আদেশ তিনি লঙ্ঘন করেছেন তার মধ্যে প্রধানত, রাজার পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য যুবকদের বিয়ে নিষিদ্ধ ছিল। কারণ অবিবাহিত সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে বেশি ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে পারতেন। কিন্তু স্টিভ ভেলেন্টাইন গোপণে এসব সেনাদের বিয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন ও বিয়ে দিয়ে দিতেন। তাছাড়া জনগণকে ধর্মদ্রোহী করা, সম্রাটের বিপক্ষের যুদ্ধাহত খ্রিস্টান সৈন্যদের চিকিৎসা করা এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের জন্য সম্রাটের রোষানলে পড়ে গ্রেফতার হন। কারাগারে যাওয়ার পর জনগণের সহানুভূতিতে তিনি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এই জনপ্রিয় মানুষটিকে দেখার জন্য প্রতিদিন অগণিত মানুষ কারাগারে যেতেন। তারমধ্যে কারারক্ষীর অন্ধ মেয়ে জুলিয়া ছিলেন অন্যতম। স্টিভ ভেলেন্টাইনের সঙ্গে তিনি প্রায়ই দেখা করতেন এবং দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে থাকতেন। একপর্যায়ে স্টিভ ভেলেন্টাইন আধ্যাত্মিক চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধ জুলিয়াকে সুস্থ করে তোলেন। জুলিয়াকে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করেন। এ সংবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে সম্রাট ২৭০ সালের কোন এক সময়ে জনসম্মুখে স্টিভ ভেলেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বলা হয়ে থাকে দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। স্টিভ ভেলেন্টাইন ফাঁসিকাষ্ঠে যাওয়ার আগে জুলিয়াকে একটি চিঠি লেখেন যার শেষে লেখা ছিল তোমার ভেলেন্টাইনের পক্ষ থেকে
এ ঘটনার পর আস্তে আস্তে খ্রিস্টানরা রোম পরিপূর্ণভাবে জয় করে ফেলে কিন্তু ধর্ম প্রসারের ক্ষেত্রে লিওপারসালিয়া পূজাকে কেন্দ্র করে বিপত্তি ঘটতে থাকে। খ্রিস্টান ধর্মগুরু ও রাষ্ট্রনায়কেরা ধর্মপ্রচার ও রাষ্ট্রশাসনের ক্ষেত্রে কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে। ৪৯৬ সালে পোপ গিলাসিয়াস রোমান লিওপারসালিয়া বা ফেব্রুয়ালিয়া পুজার নাম ও পদ্ধতি পরিবর্তন করে নিজ ধর্মের যাজক স্টিভ ভেলেন্টাইনের নামে অনুষ্ঠানের নামকরণ করেন। শুরু হয় ভ্যালেন্টাইন ডেবা বিশ্ব ভালবাসা দিবসএর পথচলা। কিন্তু লটারীর কুপ্রভাবের জন্য মধ্যযুগে সমস্ত ইউরোপে ভ্যালেন্টাইন ডেউদযাপন দীর্ঘকাল নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে ইংরেজি সাহিত্যের জনক জিওফ্রে চসার তার পার্লামেন্ট অব ফাউলস(১৩৮২) এর মধ্যে ভ্যালেন্টাইন ডেনিয়ে লেখেন। এরপর উইলিয়াম শেকসপিওয়রসহ খ্যাতিমান সাহিত্যিকগণ এ বিষয়টিকে সাহিত্যের উপাদান হিসেবে নিয়ে আসেন। ১৬৬০ সালে রাজা চার্লস টু আবার দিবসটি পালনের প্রথা চালু করেন।
পরবর্তীতে শিল্প বিপ্লবের ফলে বিষয়টি বাণিজ্যিক উপকরণে পরিণত হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবল স্রোতে এই বাণিজ্যিক ব্রান্ডআজ বিশ্ব অর্থনীতির বড় একটা অংশ দখলে নিয়ে নিয়েছে। ২০১০ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে এ দিনটি ঘিরে ১ বিলিয়নের বেশি শুধু ভ্যালেন্টাইন কার্ড বিক্রি হয়েছে। ২০১৫ সালে যা দেড় গুনের বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসলামী রাষ্ট্রগুলো ইসলামী শরীয়া ও সংস্কৃতির প্রতিবন্ধক আখ্যা দিয়ে দিবসটি পালন নিষিদ্ধ করে। ২০১৪ সালে সৌদি আরবের ধর্মীয় পুলিশ ভ্যালেন্টাইন ডেউদযাপনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করেন। তাছাড়া ইরান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ ইসলামী বিশ্ব ভ্যালেন্টাইন ডেউদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু ইসলামী বিশ্ব নয়, ভারতেও নিজস্ব সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় দিবসটি পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
বাংলাদেশে দিবসটি প্রবর্তন করেন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত সাংবাদিক শফিক রেহমান। ১৯৯৩ সালে যায় যায় দিন পত্রিকায় আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম বিষয়টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে সেই লিওপারসালিয়া বা ফেব্রুয়ালিয়া অথবা ভ্যালেন্টাইন ডেবাংলাদেশী সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সমস্ত দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম রূপ লাভ করলেও দিবসটি ঘিরে সমগ্র দেশে সাজ সাজ রব উঠেছে। ঠিক এমন সময়ে ফেসবুক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দিবসটি পালনের বিষয়ে চলছে তোলপাড়। উচিৎ-অনুচিৎ, সংস্কৃতি-অপসংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে চলছে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উত্থাপনের ধুম। আবেগী জাতি হিসেবে আমাদের নিন্দা ও প্রশংসা দুই-ই আছে। ভিনদেশী কৃষ্টি-সংস্কৃতি আমাদের বড়ই মোহিত করে। এই ক্ষেত্রে উচিৎ-অনুচিৎ বোধ কাজ করে অত্যন্ত ধীর গতিতে।
ভ্যালেন্টাইন ডে’, স্টার জলসা, জি বাংলা প্রভৃতি সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা। উপরি পাওনা হিসেবে সাংস্কৃতিক উপনিবেশের কবলে পড়ে দেশীয় কৃষ্টি, সভ্যতা, চলচ্চিত্র সবই ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অপসংস্কৃতির চরম স্রোতে স্বকীয়তা আজ মৃতপ্রায়। আমাদের বাংলাদেশীদের জন্য বিষয়টি আরো একটু পরিতাপের এজন্য যে, ঠিক সপ্তাহের যে দিনটিতে আমরা ভিনদেশী অপসংস্কৃতির একটি শব্দকে নিজের করে লিওপারসালিয়া, ফেব্রুয়ালিয়া অথবা ভ্যালেন্টাইন ডেউদযাপনে ব্যাকুল হয়েছি। পরবর্তী সপ্তাহের একই দিনে আমরা বাংলার গর্বিত সন্তান সেজে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে যাব। মসজিদে-মন্দিরে শহীদদের জন্য প্রার্থনাও করতে যাব। সত্যিই কতো বিচিত্র আমরা!

সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্ধ অনুকরণ আমাদের নিজস্বতাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। অগণিত শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে জননী, জন্মভূমি আমরা ১৯৭১ সালে লাভ করেছি, আমাদের সেই মা আজ বড় ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, আহত। প্রতিদিন এই জননী আরও বেশি আহত হচ্ছে। লিওপারসালিয়া, ফেব্রুয়ালিয়া অথবা ভ্যালেন্টাইন ডেউদযাপন বিষয়ে আমাদের যতটা ব্যাকুলতা, ভিনদেশী সিরিয়াল আর চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের যে আবেগ অন্তত সেটুকু দিয়ে যদি একটি বার আমাদের জন্মভূমিকে ভালবাসতে পারতাম! রাজনীতির নায়কদের মাঝে ভালোবাসার সেই অনুভূতিটি জাগ্রত করতে পারতাম!! তাহলে আমাদের ব্যাথিত জন্মভূমি কিছুটা স্বস্তি পেত। আমাদের মা আজ বড় বেশী জীর্ণ, শীর্ণ, ব্যাধিগ্রস্ত। আমরা কি তার পাশে দাঁড়াব না?

ঢাকা: ওয়াত পা লুয়াং তা বুয়া বা ব্যাঘ্রমন্দির। থাইল্যান্ডের কাঞ্চনবুড়ি প্রদেশের এক বৌদ্ধ মন্দিরে স্বাধীনভাবে ঘুরাফেরা করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সেখানে দর্শনার্থী ও পর্যটকরা ইচ্ছে মতো এসব হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে খাতির করেন, ছবি তোলেন। শতাধিক বাঘ আছে এখানে। এগুলোর দেখাশুনা করেন ওই মন্দিরের ভিক্ষু।

লুয়াংতা মাহাবুয়া বুদ্ধমন্দির কম্পাউন্ডে গত বৃহস্পতিবার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তারা কোনো অপরাধ খুঁজে পাননি। এখানে বাঘগুলোকে অত্যন্ত আদরযত্মে রাখা হয়েছে। মনে যেন এসব পোষা বিড়াল!

ঢাকা: ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে পরতে পরতে উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার ঢেউ আছড়ে পড়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও। সমর্থকরা ক্রিকেটারদের কাছে যে কোনো মূল্যে জয় চান। আর এই চাওয়াটা বাড়তি চাপ হয়ে দেখা দেয় ক্রিকেটারদের মাঝে। পাক-ভারত ম্যাচ মূলত চাপ সামলানোর ম্যাচ। বিশ্বকাপে বরাবরই এই চাপটা ভালোভাবেই সামলে আসছে ভারত। এখন অবধি যতবার ভারত-পাকিস্তান বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে ততবারই পরাজিত দলের কাতারে পড়েছে পাকিস্তান। কি এক রহস্যর কারণে বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে জিততে পারে না পাকিস্তান। রোববার অ্যাডিলেড ওভালে সেই গেঁরো কি খুলতে পারবে পাকিস্তান? সেটা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই জানা যাবে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৯.৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
পাকিস্তানের জন্য অুনপ্রেরণা হয়ে আছে বিরানব্বই। সেবারও বিশ্বকাপ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। ইমরান খান কী অসাধারণভাবেই না চ্যাম্পিয়ন করেছিল পাকিস্তানকে! ২৩ বছর পর আবারো মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপের সেই দু দেশেই। পুরো দস্তুর রাজনীতির মাঠে ঢুকে পড়ায় ক্রিকেট নিয়ে আর কথাই বলতে চান না ইমরান। বিশ্বকাপে আসার আগে মিসবাহ-উল-হকদের নিশ্চয় কোন টোটকা দিয়েছেন কিংবদন্তি এই অলরাউন্ডার। এদিকে ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে মিসবাহ-উল-হক সরাসরি বলে দিয়েছেন তিনি ম্যাচটি জিততে চান,‘ আমরা এখানে জিততে চাই। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চাপ অন্যরকম। আমরা এটা সবাই মেনে নিয়েছি। তাই জানাতে চাই ওই বিশেষ চাপটা নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। আগের পাকিস্তান হয়তো এতটা চাপ নিতে পারেনি সেজন্য জিততে পারেনি। কেন এত বছর ধরে বিশ্বকাপে ভারত অপরাজেয় রয়েছে এখন ময়নাতদন্ত করার সময় নয়।
টিম ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর রবি শাস্ত্রী পাকিস্তানকে হারানোর সব পরিকল্পনা ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ওদিকে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক মঈন খান ছেলেদের বলে দিচ্ছেন,‘ ভারতকে হারাও। পাকিস্তানের জনগণ তোমাদের মাথায় তুলে রাখবে।এটা বুঝতে বাকি থাকেনা মঈন মূলত ক্রিকেটারদের উদ্দীপ্ত করতেই এমন বাক্য ব্যবহার করেছেন। জীবনের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন ইউনিস খান। তিনি বলেন,‘ এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। শুরুতেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। আমরা জিতে দুর্দান্ত শুরু করতে চাই। ভারত খুব ভালো ফর্মে নেই, এটাই আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের আগে নাইট ক্লাবে গিয়ে জরিমানা গোনা শহীদ আফ্রিদি গজগজ করে বিবিসিকে বলেছেন, পাকিস্তান আগে সব খেলায় হেরেছে, তা তো আর আমরা এখন পাল্টাতে পারব না। কিন্তু ইতিহাস তো নতুন করে তৈরি করা যায়। আগে হয়নি বলে এখনো হবে না এটা ভাবা কি ঠিক হচ্ছে? ভারতকে হারাতে পারলে আমাদের দলের চেহারাই পাল্টে যাবে।

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অবস্থা খুব তথৈবচ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে চার টেস্টের সিরিজে হারতে হয়েছে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতেও ব্যর্থ হয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এটা ঠিক যে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করায় কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা পাবে ধোনিরা। ভারত অধিনায়ক বলেন,‘ আমাদের দরকার অতীত ভুলে যাওয়া এবং চেষ্টা করা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করা। এখানে দীর্ঘসময় কাটানো আমাদের জন্য ইতিবাচক। আমরা এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। ছেলেরা ভালো কিছু করতে মুখিয়ে আছে।বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। এর প্রতিবারই জিতেছে ভারত। কিন্তু ধোনি এসব পরিসংখ্যান মনে রাখতে চান না,‘ এই রেকর্ড নিয়ে সবাই কথা বলে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলায় আমার বিরক্ত লাগে না। সমর্থক এবং সংবাদমাধ্যমও এসব নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু আমাদের একটাই চিন্তা কিভাবে ম্যাচটি ভালো খেলা যায়।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget