স্পেনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী : গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশের জন্ম

কবির আল মাহমুদ, মাদ্রিদ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১১৬ বার পঠিত

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করেছে স্পেনের মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর)স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় কূটনৈতিক কোর এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে “Bangladesh@50: Emerging Bangladesh Economy: Reflections on the Spain-Bangladesh Relations”.শীর্ষক এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোঃ মুতাসিমুল ইসলাম উপস্থাপনায় আয়োজিত ভার্চুয়াল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত লে: কর্ণেল (অব:) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীর প্রতীক, স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক ও কলামিস্ট চাকলাদার মাহবুব উল আলম, স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নুরিয়া লোপেজ, স্পেনের সান্তিয়াগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সান্তিয়াগো ফেরনান্দেজ মসকেরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের প্রথম রাষ্ট্রদূত আরতুরো পেরেজ মার্টিনেজ এবং স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ, এনডিসি।

অনলাইন প্লাটফরমে যুক্ত হয়ে লে: কর্ণেল (অব:) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীর প্রতীক বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “স্বপ্নের সোনার বাংলা ” বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।

স্পেন প্রবাসী কলামিস্ট চাকলাদার মাহবুব উল আলম স্পেনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশংসনীয় অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি মায়ানমার থেকে বাস্তুুচ্যুৎ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নুরিয়া লোপেজ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরী পোষাক রপ্তানিকারক হলেও অন্যান্য শিল্প কারখানাও দ্রুতবেগে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি, সরকারি প্রনোদনা, ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করে বিদেশীদের বাংলাদেশে অধিকতর বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাণিজ্যের আহবান জানান ।

প্রফেসর সান্তিয়াগো ফেরনান্দেজ মসকেরা বলেন, বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে বাংলা ভাষার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের মধ্যে দিয়ে। স্প্যানিশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা যার গুরুত্ব বৈশিক সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক  সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অধিক সংখ্যক বাংলাদেশীকে স্প্যানিশ ভাষা শিক্ষার আহবান জানান।

রাষ্ট্রদূত আরতুরো পেরেজ মার্টিনেজ তার–দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ও স্পেনের বিদ্যমান সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি দু’ দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, ভাষা ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরো উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ এনডিসি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান, অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জন, ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নারীর আত্মত্যাগ স্মরণ করে জীবিত সব মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার করোনা অতিমারী সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন  উল্লেখ করে বলেন, অতিমারী মোকাবেলায় জীবন ও জীবিকার সমন্বয় সাধনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার কর্তৃক গৃহীত ১৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এর বেশি “প্রণোদনা কর্মসূচী”, যা জিডিপি এর ৪.৫% এর বিষয়টি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচক উল্লেখপূর্বক রাষ্ট্রদূত বলেন যে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অন্যতম উদিয়মান অর্থনেতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ-স্পেনের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, দু’ দেশের সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দু’ দেশের মধ্যে নিয়মিত ফরেন অফিস কনসাল্টেশন, দ্বৈতকর পরিহার, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বিদ্যমান সম্পর্ক আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিতে দু’ দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ সেমিনারে অংশ নেন।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ সবাইকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..