ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্পেনে ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উদযাপন

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় দূতাবাসের সভাকক্ষে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। আলোচনা সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতৃর্ক প্রেরিত মুজিবনগর দিবসের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শণ করা হয় এবং দিবসটির তাৎপর্যের উপর আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ, এনডিসি ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্যের উপর আলোচনা করতে গিয়ে সর্বপ্রথমে  স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। তিনি  আরো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এইচ এম কামরুজ্জামানকে যাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল মুজিবনগর সরকার। জাতির পিতার নেতৃত্বে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামের পথ পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদনাথতলার আ¤্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দানের মাধ্যমে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগন কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সাংবিধানিক সরকার আত্ম প্রকাশ করে। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙ্গালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করে। মুজিবনগর সরকার বিশ্ব জনমত সৃষ্টি, শরনার্থী ব্যবস্থাপনা, যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ ও বাঙ্গালির স্বাধীনতা অর্জনকে বেগবান করে।তিনি আরো বলেন যে বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী—সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অবস্থান নিয়েছে। তিনি মুজিব নগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত—সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা—কর্মচারী, স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। সভা শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে আপ্যায়ন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্পেনে ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উদযাপন

আপডেট সময় : ০১:৩০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় দূতাবাসের সভাকক্ষে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। আলোচনা সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতৃর্ক প্রেরিত মুজিবনগর দিবসের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শণ করা হয় এবং দিবসটির তাৎপর্যের উপর আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ, এনডিসি ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্যের উপর আলোচনা করতে গিয়ে সর্বপ্রথমে  স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। তিনি  আরো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এইচ এম কামরুজ্জামানকে যাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল মুজিবনগর সরকার। জাতির পিতার নেতৃত্বে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামের পথ পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদনাথতলার আ¤্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দানের মাধ্যমে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগন কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সাংবিধানিক সরকার আত্ম প্রকাশ করে। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙ্গালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করে। মুজিবনগর সরকার বিশ্ব জনমত সৃষ্টি, শরনার্থী ব্যবস্থাপনা, যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ ও বাঙ্গালির স্বাধীনতা অর্জনকে বেগবান করে।তিনি আরো বলেন যে বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী—সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অবস্থান নিয়েছে। তিনি মুজিব নগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত—সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা—কর্মচারী, স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। সভা শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে আপ্যায়ন করা হয়।