ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সুইডেনে ফের কোরআন পোড়ানোর অনুমতি

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩ ৩৭০ বার পড়া হয়েছে

কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছে সুইডেনের পুলিশ। দেশটির বার্তাসংস্থা টিটির বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

টিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনভিত্তিক একটি সংগঠন রাজধানী স্টকহোমে ইরাকের দূতাবাসের সামনে কোরআন এবং ইরাকের পতাকা পোড়ানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করার পর বুধবার তা মঞ্জুর করেছে স্টকহোম পুলিশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত জুন মাসে স্টকহোম মসজিদের সামনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুইজন ব্যক্তিও আবেদনকারী হিসেবে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে স্টকহোম পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি; কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা কোরআন পোড়ানোর অনুমতির ব্যাপারটি এড়িয়ে গিয়ে জানান, ইরাকের দূতাবাসের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল একটি সংগঠন এবং স্টকহোম পুলিশ তার অনুমোদন দিয়েছে।

এএফপির পক্ষ থেকে আবেদনপত্রের একটি অনুলিপি চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্টকহোম পুলিশ তা সরবরাহ করেনি।

গত ২৯ জুন স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এক প্রতিবাদ মিছিলে কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। এই কাজ যিনি করেছিলেন, সেই সালওয়ান মোমিকা (৩৭) একজন ইরাকি মুসলিম এবং শরণার্থী হিসেবে সুইডেনে গিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব নেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশসহ মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ (ওআইসি)। মুসলিম বিশ্বের উদ্যোগে গত ১২ জুলাই এ বিষয়ক একটি প্রতিবাদ প্রস্তাব (রেজোল্যুশন) পাস করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। পরিষদের ৪৭টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ২৮টি সেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোটও দিয়েছে।

এই ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ১৪ জুলাই এক ব্যক্তি ইসরায়েলের দূতাবাসের সামনে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তোরাহ এবং খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল পোড়ানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে স্টকহোম পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তিকে শর্ত দেওয়া হয়— কর্মসূচির সময় কাউকে আঘাত বা সহিংস কোনো ঘটনা ঘটানো যাবে না।

প্রসঙ্গত, পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ উন্নত দেশের মতো সুইডেনের সংবিধানে জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ১৯৭০ সালে ব্লাসফেমি আইন বাতিল হয়েছে সুইডেনে এবং দেশটির রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সুইডেনে ফের কোরআন পোড়ানোর অনুমতি

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩

কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছে সুইডেনের পুলিশ। দেশটির বার্তাসংস্থা টিটির বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

টিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনভিত্তিক একটি সংগঠন রাজধানী স্টকহোমে ইরাকের দূতাবাসের সামনে কোরআন এবং ইরাকের পতাকা পোড়ানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করার পর বুধবার তা মঞ্জুর করেছে স্টকহোম পুলিশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত জুন মাসে স্টকহোম মসজিদের সামনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুইজন ব্যক্তিও আবেদনকারী হিসেবে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে স্টকহোম পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি; কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা কোরআন পোড়ানোর অনুমতির ব্যাপারটি এড়িয়ে গিয়ে জানান, ইরাকের দূতাবাসের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল একটি সংগঠন এবং স্টকহোম পুলিশ তার অনুমোদন দিয়েছে।

এএফপির পক্ষ থেকে আবেদনপত্রের একটি অনুলিপি চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্টকহোম পুলিশ তা সরবরাহ করেনি।

গত ২৯ জুন স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এক প্রতিবাদ মিছিলে কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। এই কাজ যিনি করেছিলেন, সেই সালওয়ান মোমিকা (৩৭) একজন ইরাকি মুসলিম এবং শরণার্থী হিসেবে সুইডেনে গিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব নেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশসহ মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ (ওআইসি)। মুসলিম বিশ্বের উদ্যোগে গত ১২ জুলাই এ বিষয়ক একটি প্রতিবাদ প্রস্তাব (রেজোল্যুশন) পাস করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। পরিষদের ৪৭টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ২৮টি সেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোটও দিয়েছে।

এই ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ১৪ জুলাই এক ব্যক্তি ইসরায়েলের দূতাবাসের সামনে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তোরাহ এবং খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল পোড়ানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে স্টকহোম পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তিকে শর্ত দেওয়া হয়— কর্মসূচির সময় কাউকে আঘাত বা সহিংস কোনো ঘটনা ঘটানো যাবে না।

প্রসঙ্গত, পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ উন্নত দেশের মতো সুইডেনের সংবিধানে জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ১৯৭০ সালে ব্লাসফেমি আইন বাতিল হয়েছে সুইডেনে এবং দেশটির রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।