রাজশাহীতে আলুখেতে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমানটি

আদনান রহমান
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১
  • ১১১ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আলুখেতে বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাবের একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে। একইভাবে গত ৯ জানুয়ারি রাজশাহীর হযরত শাহমখদুম বিমানবন্দরে অবতরণের সময় চাকা ফেটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমির একটি প্রশিক্ষণ বিমান। দুটি দুর্ঘটনায়ই কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র ২ মাস ৬ দিনের ব্যবধানে দুটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, এসব দুর্ঘটনা নিয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিবেদন তৈরি করে বেবিচককে দেবে। সেই প্রতিবেদন দেখে ফ্লাইং একাডেমির উড্ডয়নের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা যাচাই করবে বেবিচকের ফ্লাইট সেফটি বিভাগ।

সাধারণত যাত্রীবাহী বিমানগুলোয় একাধিক ইঞ্জিন থাকে। একটি ইঞ্জিন বিকল হলে আরেকটি ইঞ্জিনের সাহায্যে বিমানগুলো নিকটস্থ কোনো বিমানবন্দরের গিয়ে অবতরণ করে। তবে আজকের দুর্ঘটনার কবলে পড়া সেসনা-১৫২ মডেলসহ এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিমানগুলোয় একটি ইঞ্জিন থাকে।

মঙ্গলবার রাজশাহীর তানোরে আলুখেতে আছড়ে পড়া বিমানটিতে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাবের রাজশাহীর প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেইন। তার সঙ্গে ছিলেন ক্যাডেট নাহিদ এরশাদ। দুর্ঘটনায় দুইজনই প্রাণে বেঁচে যান।

কেন আলুখেতে আছড়ে পড়ল বিমানটি?

বেবিচক ও ফ্লাইং ক্লাবের সদস্যরা জানান, বিমানটি আছড়ে পড়ার একমাত্র কারণ ছিল ইঞ্জিন বিকল হওয়া। ইঞ্জিন বিকলের সঙ্গে সঙ্গে পাইলট সেটিকে খোলা স্থানে তাড়াহুড়ো করে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে আলুখেতটি সমতল না থাকায় বিমানটি আছড়ে পড়ে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাধারণত যাত্রীবাহী বিমানগুলোয় একাধিক ইঞ্জিন থাকে। একটি ইঞ্জিন বিকল হলে আরেকটি ইঞ্জিনের সাহায্যে বিমানগুলো নিকটস্থ কোনো বিমানবন্দরের গিয়ে অবতরণ করে। তবে আজকের দুর্ঘটনার কবলে পড়া সেসনা-১৫২ মডেলসহ এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিমানগুলোয় একটি ইঞ্জিন থাকে। সাধারণত ইঞ্জিন যখন বিকল হয় তখন ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং (জরুরি অবতরণ) করতে হয়। এই বিমানটিতেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ইঞ্জিন বিকল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করে খেতের মধ্যে ল্যান্ড করে।

বিমান আছড়ে পড়ার দায় কার?

এবিষয়ে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ক্যাপ্টেন শাহাব উদ্দিন বলেন, প্রতিটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনার আগে প্রকৌশলী বিমানটিকে পরীক্ষা করে ফ্লাইটের অনুমোদন দেন। প্রকৌশলীর কাছ থেকে পাইলট বিমানটি ‘ফিট’বুঝে নেন। প্রতিটি ফ্লাইটেই এই নিয়ম মানা হয়। আজও এমনই হয়েছিল। তবে আকাশে ওড়ার পর কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটলো এটি তদন্তের বিষয়।

প্রতিটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনার আগে প্রকৌশলী বিমানটিকে পরীক্ষা করে ফ্লাইটের অনুমোদন দেন। প্রকৌশলীর কাছ থেকে পাইলট বিমানটি ‘ফিট’বুঝে নেন। প্রতিটি ফ্লাইটেই এই নিয়ম মানা হয়। আজও এমনই হয়েছিল। তবে আকাশে ওড়ার পর কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটলো এটি তদন্তের বিষয়।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর্যবেক্ষণ করে বেবিচক: চেয়ারম্যান

মাত্র দুমাসের ব্যবধানে দুইটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এম. মফিদুর রহমান বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়াও এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ নামে স্বতন্ত্র একটি কমিটি রয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনাটি সম্পর্কে রিপোর্ট তৈরি করবে। এছাড়াও বেবিচকের ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগ এসব রিপোর্ট সংগ্রহ করে ফ্লাইং একাডেমির সেফটির (উড্ডয়নে নিরাপত্তা) বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করবে।

তদন্ত প্রতিবেদন দেবে প্রশিক্ষকসহ ৩ প্রতিষ্ঠান

প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ফ্লাইং একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনা নিয়ে প্রথম প্রতিবেদনটি তৈরি করবেন প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান। তিনি দুয়েক দিনের মধ্যেই তার প্রতিবেদন দিয়ে দেবেন। তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি। এছাড়াও দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করবে এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত শাখা)। এই শাখার প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতউল্লাহ। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত শাখা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বেবিচকের ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগে দেবে। সেই প্রতিবেদন দেখে ফ্লাইং একাডেমির সক্ষমতা ও নিরাপত্তা যাচাই করবে সেফটি বিভাগ।

দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ

বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সেসনা-১৫২ মডেলের একটি নতুন এয়ারক্রাফটের দাম প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৮ লাখ থেকে ৮৫ লাখ)। এছাড়াও ভ্যালু অনুযায়ী এর ইন্স্যুরেন্স করা থাকে। ফ্লাইং ক্লাবের এই প্রশিক্ষণ বিমানটিরও ইনস্যুরেন্স করা ছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাবের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে আগুন লেগে নারী প্রশিক্ষণার্থী সঙ্গে সঙ্গে মারা যান প্রশিক্ষকও।

সুত্র. ঢাকা পোষ্ট ।




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..