যশোরে প্রসবের সময় শিশুর শরীর দ্বিখণ্ডিত

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
  • ৮০ বার পঠিত

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় পা ধরে টেনে দেহ ছিঁড়ে এনেছেন মোমেনা নামের এক স্বেচ্ছাসেবী আয়া। আর শিশুর মাথা থেকে যায় মায়ের পেটে। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে আন্না (২৫) নামের এক গৃহবধূর সন্তান প্রসবের সময় এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের সময় সেখানে দায়িত্বরত সেবিকা ও চিকিৎসক কেউ উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনার পর ওই আয়া ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে যায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, অতি উৎসাহী আয়ার বাড়াবাড়িতে এমনটা হয়েছে। আয়া এখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে। সে এখানে সরাসরি নিয়োগ বা আউট সোর্সিং কর্মীও না। এ হাসপাতালে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে। তারই একজন আয়া মোমেনা।

এদিকে প্রসবের আগেই গর্ভের সন্তান মৃত ছিলো দাবি করে তিনি আরও জানান, “গৃহবধূ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার পেটে নবজাতকটি আগেই মারা গিয়েছিলো। হাসপাতালে আনার পর আমরা প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে সন্তানকে পেট থেকে স্বাভাবিকভাবে বের করার চেষ্টা করছিলাম। তা সফলও হয়। কিন্তু আয়া মোমেনা উৎসাহী হয়ে ওই সময় সেবিকাদের না ডেকে নিজেই সন্তানকে পা টেনে বের করার চেষ্টা করেন। এতেই বিপত্তি ঘটে। রবিবার গৃহবধুর পেট থেকে শিশুর মাথা বের করা হয়েছে। গৃহবধূ সুস্থ আছেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জানা গেছে, যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী আন্না বেগমকে ২৬ নভেম্বর রাত আড়াইটার সময় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়ার্ড ডা. তানজিলা আখতার রোগীকে দেখে আল্ট্রাসনো করতে বলেন। আল্ট্রাসনো রিপোর্টে পাঁচ মাসের বাচ্চার উপস্থিতি মেলে। তার ওজন ছিলো ৩৩৯ গ্রাম। চিকিৎসকের পরামর্শে জরায়ুর মুখ খোলার ওষুধ দেয়া হয়, যাতে করে বাচ্চাটি নরমালে প্রসব হয়। শনিবার রাত সাড়ে ৭টার সময় আন্নার গর্ভে থাকা ছেলের দুই পা বেরিয়ে আসলে ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত আয়া মোমেনা রোগী আন্নাকে লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। তারপরেই এ ঘটনা ঘটে।




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..