ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি, ইউরোপে টিকাদানের শ্লথ গতি

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ এপ্রিল ২০২১ ৬৯২ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপে ভীতিজনকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এছাড়া বুধবার ওই অঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে টিকাদানের গতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, এই অঞ্চলে টিকাদানের গতি অগ্রহণযোগ্য রকম ধীর। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো সময়মতো টিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউরোপের বহু দেশ কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই অঞ্চলটি মাত্র দশ শতাংশ মানুষকে এক ডোজ টিকা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে।

ইউরোপে ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যান্স হেনরি পি. ক্লুজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মহামারি অবসান ঘটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় টিকাদান। এটি কেবল তাদের কাজই করছে না বরং সংক্রমণ ঠেকাতেও খুব কার্যকর। তারপরও এসব টিকাদানের পরিমাণ অগ্রহণযোগ্য রকম ধীর।’ তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত টিকাদানের আওতা সীমিত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত অতীতের মতোই জন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এবং সামজিক পদক্ষেপ মেনে চলার দরকার। স্পষ্ট করে বলতে চাই, উৎপাদন বাড়িয়ে, টিকাদানের বাধা অপসারণ করে এবং মজুত থাকা প্রতিটি ডোজ ব্যবহার করে আমাদের অবশ্যই টিকাদান প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে।’

ডব্লিউএইচও ইউরোপের আঞ্চলিক জরুরি পরিচালক ডোরিট নিটজান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে এই অঞ্চলে সংক্রমণের পরিমাণ দশ লাখের নিচে নেমে আসে। কিন্তু অতিরিক্ত ভ্রমণ, ধর্মীয় ছুটির দিনে জমায়েত এবং যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হওয়া বি.১.১.৭ ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতির কারণে ইউরোপের মানুষ বর্তমানে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে অঞ্চলটিতে নতুন করে ১৬ লাখ আক্রান্ত শনাক্ত হয় আর মারা যায় প্রায় ২৪ হাজার। নিটজান বলেন, ‘এই ভ্যারিয়েন্টটি বেশি সংক্রামক এবং হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। আর জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব অনেক বেশি। সেই কারণে এটি নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি পদক্ষেপ দরকার।’

সম্প্রতি ইউরোপে টিকাদানের পরিমাণ বাড়লেও ডব্লিউএইচও বলছে জন স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পদক্ষেপগুলো আগে বাস্তবায়ন করা দরকার।

ডব্লিউএইচও’র বিবৃতিতে বলা হয় ইউরোপের ২৭টি দেশে বর্তমানে আংশিক কিংবা পূর্ণ লকডাউন রয়েছে। ২১টিতে চলছে রাত্রীকালীন কারফিউ। গত দুই সপ্তাহে ২৩টি দেশ বিধিনিষেধ জোরালো করেছে আর ১৩টি দেশ শিথিল করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি, ইউরোপে টিকাদানের শ্লথ গতি

আপডেট সময় : ০২:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ এপ্রিল ২০২১

ইউরোপে ভীতিজনকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এছাড়া বুধবার ওই অঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে টিকাদানের গতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, এই অঞ্চলে টিকাদানের গতি অগ্রহণযোগ্য রকম ধীর। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো সময়মতো টিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউরোপের বহু দেশ কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই অঞ্চলটি মাত্র দশ শতাংশ মানুষকে এক ডোজ টিকা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে।

ইউরোপে ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যান্স হেনরি পি. ক্লুজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মহামারি অবসান ঘটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় টিকাদান। এটি কেবল তাদের কাজই করছে না বরং সংক্রমণ ঠেকাতেও খুব কার্যকর। তারপরও এসব টিকাদানের পরিমাণ অগ্রহণযোগ্য রকম ধীর।’ তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত টিকাদানের আওতা সীমিত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত অতীতের মতোই জন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এবং সামজিক পদক্ষেপ মেনে চলার দরকার। স্পষ্ট করে বলতে চাই, উৎপাদন বাড়িয়ে, টিকাদানের বাধা অপসারণ করে এবং মজুত থাকা প্রতিটি ডোজ ব্যবহার করে আমাদের অবশ্যই টিকাদান প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে।’

ডব্লিউএইচও ইউরোপের আঞ্চলিক জরুরি পরিচালক ডোরিট নিটজান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে এই অঞ্চলে সংক্রমণের পরিমাণ দশ লাখের নিচে নেমে আসে। কিন্তু অতিরিক্ত ভ্রমণ, ধর্মীয় ছুটির দিনে জমায়েত এবং যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হওয়া বি.১.১.৭ ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতির কারণে ইউরোপের মানুষ বর্তমানে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে অঞ্চলটিতে নতুন করে ১৬ লাখ আক্রান্ত শনাক্ত হয় আর মারা যায় প্রায় ২৪ হাজার। নিটজান বলেন, ‘এই ভ্যারিয়েন্টটি বেশি সংক্রামক এবং হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। আর জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব অনেক বেশি। সেই কারণে এটি নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি পদক্ষেপ দরকার।’

সম্প্রতি ইউরোপে টিকাদানের পরিমাণ বাড়লেও ডব্লিউএইচও বলছে জন স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পদক্ষেপগুলো আগে বাস্তবায়ন করা দরকার।

ডব্লিউএইচও’র বিবৃতিতে বলা হয় ইউরোপের ২৭টি দেশে বর্তমানে আংশিক কিংবা পূর্ণ লকডাউন রয়েছে। ২১টিতে চলছে রাত্রীকালীন কারফিউ। গত দুই সপ্তাহে ২৩টি দেশ বিধিনিষেধ জোরালো করেছে আর ১৩টি দেশ শিথিল করেছে।