ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

“দায়িত্ব পালনে নিজেকে কখনো নারী মনে হয় না’

আফরিন আপ্পি
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১ ৭১০ বার পড়া হয়েছে

মায়া ভরা মুখ আর আচরণগত সৌন্দর্যের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ভীষণ প্রিয়। বিভিন্ন মামলার রহস্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলে গেলে তাকে শুধুমাত্র একনজর দেখতে ছুটে আসেন অনেকে। অপরদিকে ঠিক ততোটাই আতঙ্কের নাম অপরাধীদের কাছে। ক্লুলেস মামলার জট খুলতে ভীষণ পারদর্শী তিনি। রাষ্ট্রের সেবায় ছুটে চলেছেন রাত-দিন।

দুর্গম এলাকা যেখানে কোনো যানবাহন চলে না সেখানেও মাইলের পর মাইল হেঁটে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নজির রয়েছে তার। যার সততার হাতেখড়ি অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বাবা মো. আব্দুল মালেক তালুকদারের হাতে, তিনি মাহমুদা শারমীন নেলী। বাংলাদেশ পুলিশের একজন সফল সাহসী কর্মকর্তা নেলী অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি আজ একজন সফল মানুষ। একজন সফল নারী।

অনার্স প্রথম বর্ষ থাকা অবস্থায় বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। বিয়ের পর স্বামী, সংসার, শ্বশুরবাড়ি, পড়ালেখা সব মিলিয়ে তৈরি হয় বাড়তি চাপ। এরই মাঝে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়া অবস্থায় মারা যান নেলীর মা নাজমুন্নাহার। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় ছোট ভাই‍-বোনদের নিয়ে সে সময় ভাবনাটা আরও বেড়ে যায়। একদিকে পড়ালেখা-শ্বশুরবাড়ি অন্যদিকে মা চলে যাওয়ায় শূন্যতা; সবকিছু মিলিয়ে যেন অথৈ সাগরে পড়েন তিনি। তবে এত প্রতিবন্ধকতার পরও অনার্স এবং মাস্টার্স দুটোতেই প্রথম হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

পড়াশোনা শেষ হলে কোল আলো করে আসে একমাত্র সন্তান যারীন সুবাহ নুহা। মেয়ের বয়স যখন ছয় মাস; তখন থেকে নিতে শুরু করেন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। কোনো সুনির্দিষ্ট পেশায় চাকরি করবেন এমন ভাবনা ছিল না নেলীর। স্বামী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের অনুপ্রেরণায় শুরু করেন প্রস্তুতি। তবে পড়তে গিয়ে তার কাছে সবকিছুই দুর্বোধ্য লাগতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়ায় বাংলা, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠতে সময় লেগে যায়। পেপার পড়াতেও আগ্রহ ছিল না বিন্দুমাত্র। এক সময় প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন বিসিএস দেবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে যেন আক্ষেপ করতে না হয় সেজন্য পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদল করে শুরু করেন প্রস্তুতি। তবে এবার কিছুটা গুছিয়ে। আর এই ক্ষেত্রে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন স্বামী মোজাম্মেল।

নেলীর ভাষায়, ‘বিয়ের পর পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চেষ্টায় সফল হওয়াটা অনেক কঠিন যদি স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ি হতে সার্বিক সহযোগিতা না পাওয়া যায়। একদিকে মেয়ে-সংসার অপরদিকে চাকরির প্রস্তুতি। অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। সময়ের হিসেব করে চলতাম। তখন ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।’

তবে নেলীর এই প্রাণপণ চেষ্টা বৃথা যায়নি। ৩৪তম বিসিএস পুলিশে মেধা তালিকায় সপ্তম হন তিনি। ফলাফলের সেই রাতের কথা মনে হলে এখনো আবেগ আপ্লুত হন। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। উত্তেজনায় সারারাত ঘুমাতে পারেননি তিনি। তারপরও আক্ষেপ করেন। বাংলাদেশি পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আম্মা যদি বেঁচে থাকতেন, দেখতে পেতেন আমার সফলতা।’

একমাত্র সন্তান যারীন সুবাহ নুহার বয়স যখন সাড়ে তিন বছর তখন যোগ দেন পুলিশ একাডেমি সারদায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে। সারদার শারীরিক প্রশিক্ষণের কষ্টের চেয়ে মেয়েকে ছেড়ে দূরে থাকার মানসিক কষ্টটা ছিল অনেক বেশি। তবে সে সময় মেয়ে ছিল তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ট্রেনিং চলাকালে অসুস্থ হলেও শুধুমাত্র মেয়ের কথা ভেবে একদিনও বিরত থাকেননি নেলী। তিনি বলেন, ‘একটা দিন অসুস্থ থাকায় ট্রেনিং করতে না পারা মানে পরবর্তীতে সেই একদিন আমাকে মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। আর তাই শত কষ্টের মাঝেও ৩৬৫ দিনের মধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করেছি।’

সারদার ট্রেনিং শেষে নেত্রকোণো জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় ময়মনসিংহ। স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি হিসেবে সেখানে ছিলেন প্রায় দুই বছর। বর্তমানে নেত্রকোণার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দুর্গাপুর সার্কেল’র দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোণা জেলায় প্রথম নারী সার্কেল এএসপি হিসেবে যোগ দেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত থানা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় চ্যালেঞ্জটাও একটু বেশি।

তবে প্রতিনিয়ত সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন মেধাবী এ কর্মকর্তা। সীমান্তবর্তী হওয়ায় অবৈধ চোরাচালান রোধে মাদক বিস্তার রোধে কাজ করতে হয় বিস্তর। একজন নারী হিসেবে চেষ্টা করেন নারীদের সমস্যাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখার। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের শুরু থেকেই সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন শতভাগ।

মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কর্মকাণ্ডের নির্দিষ্ট সময় না থাকলেও চেষ্টা করেন কর্মক্ষেত্র সংসার দুটোতেই সমানভাবে দায়িত্ব পালনের। কর্মক্লান্ত দিন শেষে বাসায় ফিরে যখন স্বামী ও সন্তানের হাসিমাখা মুখ দেখতে পান তখন ভুলে যান সব ক্লান্তি। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ নেলী পেয়েছেন নানা পুরস্কার। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেকে কখনোই নারী হিসেবে নয় বরং একজন দায়িত্বশীল অফিসার মনে করেন।

লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র, পরিবার সকল ক্ষেত্রেই সফল এ পুলিশ কর্মকর্তা নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সফলতা জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস এবং সে আত্মবিশ্বাস অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে। বাধা আসবে তবে সেটা সফলতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। তার চাওয়া একজন নারী আত্মপরিচয় নিয়ে আত্মমর্যাদার সাথে সমাজে পরিচিতি পাক। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ একজন নারীকে নিয়ে যেতে পারে অনেক দূর।’

সুত্র. দৈনিক আমাদের সময় ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

“দায়িত্ব পালনে নিজেকে কখনো নারী মনে হয় না’

আপডেট সময় : ০৫:২৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১

মায়া ভরা মুখ আর আচরণগত সৌন্দর্যের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ভীষণ প্রিয়। বিভিন্ন মামলার রহস্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলে গেলে তাকে শুধুমাত্র একনজর দেখতে ছুটে আসেন অনেকে। অপরদিকে ঠিক ততোটাই আতঙ্কের নাম অপরাধীদের কাছে। ক্লুলেস মামলার জট খুলতে ভীষণ পারদর্শী তিনি। রাষ্ট্রের সেবায় ছুটে চলেছেন রাত-দিন।

দুর্গম এলাকা যেখানে কোনো যানবাহন চলে না সেখানেও মাইলের পর মাইল হেঁটে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নজির রয়েছে তার। যার সততার হাতেখড়ি অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বাবা মো. আব্দুল মালেক তালুকদারের হাতে, তিনি মাহমুদা শারমীন নেলী। বাংলাদেশ পুলিশের একজন সফল সাহসী কর্মকর্তা নেলী অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি আজ একজন সফল মানুষ। একজন সফল নারী।

অনার্স প্রথম বর্ষ থাকা অবস্থায় বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। বিয়ের পর স্বামী, সংসার, শ্বশুরবাড়ি, পড়ালেখা সব মিলিয়ে তৈরি হয় বাড়তি চাপ। এরই মাঝে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়া অবস্থায় মারা যান নেলীর মা নাজমুন্নাহার। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় ছোট ভাই‍-বোনদের নিয়ে সে সময় ভাবনাটা আরও বেড়ে যায়। একদিকে পড়ালেখা-শ্বশুরবাড়ি অন্যদিকে মা চলে যাওয়ায় শূন্যতা; সবকিছু মিলিয়ে যেন অথৈ সাগরে পড়েন তিনি। তবে এত প্রতিবন্ধকতার পরও অনার্স এবং মাস্টার্স দুটোতেই প্রথম হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

পড়াশোনা শেষ হলে কোল আলো করে আসে একমাত্র সন্তান যারীন সুবাহ নুহা। মেয়ের বয়স যখন ছয় মাস; তখন থেকে নিতে শুরু করেন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। কোনো সুনির্দিষ্ট পেশায় চাকরি করবেন এমন ভাবনা ছিল না নেলীর। স্বামী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের অনুপ্রেরণায় শুরু করেন প্রস্তুতি। তবে পড়তে গিয়ে তার কাছে সবকিছুই দুর্বোধ্য লাগতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়ায় বাংলা, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠতে সময় লেগে যায়। পেপার পড়াতেও আগ্রহ ছিল না বিন্দুমাত্র। এক সময় প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন বিসিএস দেবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে যেন আক্ষেপ করতে না হয় সেজন্য পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদল করে শুরু করেন প্রস্তুতি। তবে এবার কিছুটা গুছিয়ে। আর এই ক্ষেত্রে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন স্বামী মোজাম্মেল।

নেলীর ভাষায়, ‘বিয়ের পর পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চেষ্টায় সফল হওয়াটা অনেক কঠিন যদি স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ি হতে সার্বিক সহযোগিতা না পাওয়া যায়। একদিকে মেয়ে-সংসার অপরদিকে চাকরির প্রস্তুতি। অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। সময়ের হিসেব করে চলতাম। তখন ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।’

তবে নেলীর এই প্রাণপণ চেষ্টা বৃথা যায়নি। ৩৪তম বিসিএস পুলিশে মেধা তালিকায় সপ্তম হন তিনি। ফলাফলের সেই রাতের কথা মনে হলে এখনো আবেগ আপ্লুত হন। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। উত্তেজনায় সারারাত ঘুমাতে পারেননি তিনি। তারপরও আক্ষেপ করেন। বাংলাদেশি পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আম্মা যদি বেঁচে থাকতেন, দেখতে পেতেন আমার সফলতা।’

একমাত্র সন্তান যারীন সুবাহ নুহার বয়স যখন সাড়ে তিন বছর তখন যোগ দেন পুলিশ একাডেমি সারদায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে। সারদার শারীরিক প্রশিক্ষণের কষ্টের চেয়ে মেয়েকে ছেড়ে দূরে থাকার মানসিক কষ্টটা ছিল অনেক বেশি। তবে সে সময় মেয়ে ছিল তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ট্রেনিং চলাকালে অসুস্থ হলেও শুধুমাত্র মেয়ের কথা ভেবে একদিনও বিরত থাকেননি নেলী। তিনি বলেন, ‘একটা দিন অসুস্থ থাকায় ট্রেনিং করতে না পারা মানে পরবর্তীতে সেই একদিন আমাকে মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। আর তাই শত কষ্টের মাঝেও ৩৬৫ দিনের মধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করেছি।’

সারদার ট্রেনিং শেষে নেত্রকোণো জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় ময়মনসিংহ। স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি হিসেবে সেখানে ছিলেন প্রায় দুই বছর। বর্তমানে নেত্রকোণার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দুর্গাপুর সার্কেল’র দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোণা জেলায় প্রথম নারী সার্কেল এএসপি হিসেবে যোগ দেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত থানা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় চ্যালেঞ্জটাও একটু বেশি।

তবে প্রতিনিয়ত সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন মেধাবী এ কর্মকর্তা। সীমান্তবর্তী হওয়ায় অবৈধ চোরাচালান রোধে মাদক বিস্তার রোধে কাজ করতে হয় বিস্তর। একজন নারী হিসেবে চেষ্টা করেন নারীদের সমস্যাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখার। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের শুরু থেকেই সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন শতভাগ।

মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কর্মকাণ্ডের নির্দিষ্ট সময় না থাকলেও চেষ্টা করেন কর্মক্ষেত্র সংসার দুটোতেই সমানভাবে দায়িত্ব পালনের। কর্মক্লান্ত দিন শেষে বাসায় ফিরে যখন স্বামী ও সন্তানের হাসিমাখা মুখ দেখতে পান তখন ভুলে যান সব ক্লান্তি। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ নেলী পেয়েছেন নানা পুরস্কার। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেকে কখনোই নারী হিসেবে নয় বরং একজন দায়িত্বশীল অফিসার মনে করেন।

লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র, পরিবার সকল ক্ষেত্রেই সফল এ পুলিশ কর্মকর্তা নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সফলতা জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস এবং সে আত্মবিশ্বাস অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে। বাধা আসবে তবে সেটা সফলতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। তার চাওয়া একজন নারী আত্মপরিচয় নিয়ে আত্মমর্যাদার সাথে সমাজে পরিচিতি পাক। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ একজন নারীকে নিয়ে যেতে পারে অনেক দূর।’

সুত্র. দৈনিক আমাদের সময় ।