ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কয়েকটি দেশের বিশ্ব শাসনের দিন শেষ:চীন

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১ ৬৯৪ বার পড়া হয়েছে

গোটা বিশ্বকে শাসন বা ভাগ্য নির্ধারণ করবে কয়েকটি দেশ- এমন ধারণা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে বলে সাফ জানিয়ে দিলো চীন। আজ রোববার ধনী দেশগুলোর জোট ‘জি-৭’ এর নেতাদের এই হুঁশিয়ার দিয়েছে দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের উত্থান ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে গিয়ে কড়া বার্তা দিলো বেইজিং।

যুক্তরাজ্যে অবিস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, পুরো বিশ্বের ব্যাপারে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে অল্প কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। তারা বিশ্বকে শাসন করতে পারে না।

এর বিপরীতে নিজেদের বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ ছোট-বড় বা শক্তিশালী-দুর্বল যা-ই হোক না কেন সবাই সমান। আন্তর্জাতিক কোনো বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সকল দেশের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকে একক আধিপত্য করা যুক্তরাষ্ট্রের রাশ টানতে পরাশক্তি হিসেবে পুনর্জাগরণ ঘটছে চীনের।

বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ওলট-পালট করে দিতে চলা অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিধর চীনকে থামাতে একজোট হয়েছে পশ্চিমারা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রিটেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৈঠকে বসেছেন জি-৭ নেতারা।

বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শনিবার বিশ্বে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে নেতৃত্ব দেয়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সদস্য দেশগুলোর নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অবকাঠামোসহ অন্যান্য কারিগরি সাহায্যের মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রভাব বলয় তৈরি করছে চীন। এই হুমকি মোকাবেলায় অভিন্ন কৌশল হিসেবে নতুন পশ্চিমা জোট তৈরির প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

প্রসঙ্গত, বিগত ৩০ বছরে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় শতাধিক দেশে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন। এতে গত কয়েক শ বছর ধরে চলা মার্কিন প্রভাব হুমকির মুখে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কয়েকটি দেশের বিশ্ব শাসনের দিন শেষ:চীন

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

গোটা বিশ্বকে শাসন বা ভাগ্য নির্ধারণ করবে কয়েকটি দেশ- এমন ধারণা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে বলে সাফ জানিয়ে দিলো চীন। আজ রোববার ধনী দেশগুলোর জোট ‘জি-৭’ এর নেতাদের এই হুঁশিয়ার দিয়েছে দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের উত্থান ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে গিয়ে কড়া বার্তা দিলো বেইজিং।

যুক্তরাজ্যে অবিস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, পুরো বিশ্বের ব্যাপারে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে অল্প কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। তারা বিশ্বকে শাসন করতে পারে না।

এর বিপরীতে নিজেদের বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ ছোট-বড় বা শক্তিশালী-দুর্বল যা-ই হোক না কেন সবাই সমান। আন্তর্জাতিক কোনো বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সকল দেশের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকে একক আধিপত্য করা যুক্তরাষ্ট্রের রাশ টানতে পরাশক্তি হিসেবে পুনর্জাগরণ ঘটছে চীনের।

বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ওলট-পালট করে দিতে চলা অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিধর চীনকে থামাতে একজোট হয়েছে পশ্চিমারা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রিটেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৈঠকে বসেছেন জি-৭ নেতারা।

বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শনিবার বিশ্বে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে নেতৃত্ব দেয়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সদস্য দেশগুলোর নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অবকাঠামোসহ অন্যান্য কারিগরি সাহায্যের মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রভাব বলয় তৈরি করছে চীন। এই হুমকি মোকাবেলায় অভিন্ন কৌশল হিসেবে নতুন পশ্চিমা জোট তৈরির প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

প্রসঙ্গত, বিগত ৩০ বছরে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় শতাধিক দেশে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন। এতে গত কয়েক শ বছর ধরে চলা মার্কিন প্রভাব হুমকির মুখে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।