কাদের মির্জাকে প্রশাসনের বাধা মওদুদের স্মরণ সভায়

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ৫৭ বার পঠিত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, যে দেশ তার গুণীব্যক্তিকে সম্মান করে না, সে দেশে গুণী মানুষ সৃষ্টি হয় না। বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্মরণে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করেছিলেন মির্জা। কিন্তু রবিবার দুপুরে প্রশাসনিক নির্দেশে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ক্ষোভের সাথে এ কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, আমাদের এক নেতা বলেছেন, ‘কেউ যদি অধম হয়, আমরা কেন উত্তম হব না’ তার এ বক্তব্য কি মানুষের জন্য, নিজের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। নেতাজি স্মরণ রাখবেন অপমান ফেরত যায়।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিঃসন্দেহে একজন গুণী-জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনিই এ এলাকায় উন্নয়নের পথ রচনা করেছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন। ৭২-এ সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের সহযোগী ছিলেন তিনি (মওদুদ)। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এ নাগরিক শোকসভা ও দোয়ার মাহফিল আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু দুপুরে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন এ শোকসভা করা যাবে না। একই স্থানে শনিবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্মরণে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল করেছিলাম, কই তখন তো কেউ আমাকে বাধা দেয়নি। আসলে আমরা পরমতসহিষ্ণু রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছি। এটা করে প্রশাসন অপরাজনীতির হোতাদের কাছে প্রমাণ করল মেয়র কাদের মির্জার কথা তারা শোনে না। প্রশাসন এখন অস্ত্রধারী অপরাজনীতির হোতা একরাম-নিজাম (একরামুল করিম চৌধুরী এমপি-নিজাম হাজারী এমপি), জাসদের সভাপতি-সম্পাদক খিজির হায়াত ও নুর নবীকে (বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান ও সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী) প্রাধান্য দিয়ে তাদের কথা মত চলছে।

কাদের মির্জা আরও বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেবের জানাজায় যে কাণ্ডটি ঘটেছিল- তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের বক্তব্যের সময় সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ও খনিজবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম) তার মুখ থেকে মাইক কেড়ে নিয়েছিলেন। আর দুর্নাম রটলো আমার (মির্জা) নামে। সেদিন শতাধিক নেতা স্টেজে ছিলেন, কেউ যদি বলতে পারেন- আমি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সাহেবের মাইক কেড়ে নিয়েছি, তাহলে কোম্পানীগঞ্জ থেকে হিজরত করে চলে যাব। আসল কথা হচ্ছে, যারা যখন ক্ষমতায় আসে, কিছুকিছু লোক মনে করে এটা তাদের পারিবারিক সম্পত্তি। যা ইচ্ছা তা বলে ও করে। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট, আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়া ও আমার মুখ বন্ধ করার জন্য কেউ না কারও নির্দেশে আজকের এ শোকসভা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর পরিণতি মোটেই ভালো হবে না। যিনি বা যার নির্দেশে এ শোক সভা বন্ধ হয়েছে, আপনিও একদিন এ ধরনের নির্দেশে লাঞ্ছিত-অপমানিত হবেন। সে সময়ের অপেক্ষা করুন। জীবিত মওদুদের চেয়ে মৃত মওদুদ অনেক বেশি জনপ্রিয়, এখানকার মানুষ তা প্রমাণ করায় রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণেই বসুরহাট পৌরসভায় আয়োজিত কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে। মৃত মানুষের সাথেও রাজনীতি, এটা কি ধরনের রাজনীতি, এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের অভিভাবক যারা দাবি করেন, শোকসভা বন্ধ করে দেয়া কি অভিভাবকের কাজ।

এসময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উপজেলার দুজন দুস্থ অসহায়কে ঘর নির্মাণের জন্য মেয়র আবদুল কাদের মির্জা দুই লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে চরহাজারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মাঈন উদ্দিন বাবুকে ১ লাখ টাকার চেক এবং চরকাঁকড়া ২নং ওয়ার্ডের গোলাম ছারওয়ারকে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন কাদের মির্জা।

সুত্র, ঢাকা টাইমস ।




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..