করোনা বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভ

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১
  • ৭৬ বার পঠিত

জার্মানিতে করোনা বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে শনিবার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে কয়েক হাজার মানুষ। ড্রেসডেনে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। আরেকটি শহরে সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। জার্মানির পূর্ব অঞ্চলের শহর ড্রেসডেনে ১২ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ডানপন্থী ক্যোয়ারডেনকেন এর সদস্যরাও ছিল, যারা করোনার অস্তিত্বই অস্বীকার করে। একইসঙ্গে তারা টিকাবিরোধী হিসেবেও পরিচিত।

ড্রেসডেন শহরে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। তাদের র‌্যালিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি সহিংস আচরণের মতো ৪৭টি আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। ৩৬ বছর বয়সী একজনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। আরও তিন জনকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপরাধমূলক আচরণের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজধানী বার্লিনেও হাজারখানেক মানুষ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি না মানায় ৫০ জনকে বাধা দেয় পুলিশ। সেখানে করোনার নিয়মকানুন বজায় রাখার পক্ষে পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন অনেকে।

দক্ষিণের শহর স্টুটগার্টে ৭৫০ জনের বেশি প্রতিবাদে অংশ নেন। তাদের অনেকেরই মুখে ছিল না মাস্ক, মানেননি সামাজিক দূরত্ব। এ সময় তারা স্লোগান দেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে।’

স্টুটগার্টে বিক্ষোভকারীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচার মাধ্যমে এসভেআরএর সাংবাদিকরা। তবে কেউ আহত হননি। সাংবাদিকদের একটি ইউনিয়ন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

মিউনিখে আড়াই হাজার আন্দোলনকারী বাভারিয়া রাজ্যের পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হয়। তবে পুলিশ শেষ পর্যন্ত ৫০০ জনকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। এছাড়াও ড্যুসেলডর্ফে দুই হাজার এবং হানোফারে কয়েকশ’ মানুষ প্রতিবাদ করেন।

জার্মান সরকার অন্তত ২৮ মার্চ পর্যন্ত করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বর্ধিত করেছে। রেস্টুরেন্ট, বার, খেলাধুলা ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত। তবে স্থানীয় সংক্রমণ হারের ওপর নির্ভর করে দোকান খোলা যাবে।

এদিকে জার্মানিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত আবারও বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার প্রতি লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাপ্তাহিক আক্রান্তের হার ছিল ৭৬ দশমিক এক জন, যা একদিন আগে ছিল ৭২ দশমিক চার। জার্মানির সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের আশঙ্কা এই হার আরও দ্রুত বাড়বে। মধ্য এপ্রিল নাগাদ যা ৩৫০ জনে পৌঁছাতে পারে।  সূত্র: ডিডব্লিউ।




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..