ইউরোপে তিন মাসে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করতে চায়

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ১১৮ বার পঠিত

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম যে খুব দ্রুত শেষ হচ্ছে না, তেমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিতে চান ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও জনজীবন কিভাবে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়, সেদিকে নজর দিতে চান তারা।

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল মনে করছেন, এ বছর ইউরোপের বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ টিকা পেয়ে গেলেও করোনাভাইরাসের এক বা একাধিক সংস্করণ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তখন আবার নতুন করে টিকা নিতে হবে। আগামী কয়েক বছর ধরে এমন লড়াইয়ের আশঙ্কা করছেন তিনি। ফলে টিকা আবিষ্কার, উৎপাদন, বণ্টন এবং নথিকরণের অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে সব মিলিয়ে ম্যার্কেল আশাবাদী। বৃহস্পতিবার ইইউ নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের পর তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

ইইউ আপাতত কয়েক মাসের মধ্যে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট প্রস্তুত করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। গ্রীষ্মকালে ছুটির মওসুমের আগেই সেই ‘ডিজিটাল গ্রিন পাসপোর্ট’ প্রস্তুত করে যতটা সম্ভব পর্যটনের সুযোগ করে দিতে চান তারা। অর্থাৎ ইইউ দেশগুলোর যেসব মানুষ টিকার সব ডোজ পেয়েছেন, তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু টিকা পেলেই যে অন্যদের সংক্রমণের আশঙ্কা দূর হবে, সবক্ষেত্রে এখনও এমন প্রমাণ না পাওয়ায় সেই সার্টিফিকেটের উপযোগিতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ফলে প্রত্যেক দেশ এক্ষেত্রে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। ইউরোপের দক্ষিণের দেশগুলো বিপর্যস্ত পর্যটন ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে উদার নীতি গ্রহণ করবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। একাধিক দেশ সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

প্রথম কয়েক মাসের ধীর গতির পর ইইউ দেশগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি আরও দ্রুত ঘটবে বলে ইইউ নেতারা আশা প্রকাশ করেন। এখনও পর্যন্ত মাত্র ছয় শতাংশ মানুষ টিকার একটি করে ডোজ পেয়েছেন। আগামী সপ্তাহান্তে ছয় কোটি টিকা হাতে পেতে চলেছে ইইউ। জুন মাসের মধ্যে সব মিলিয়ে ৬০ কোটি টিকা এসে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যতদিন না বেশিরভাগ মানুষ টিকা পেয়ে যাচ্ছেন, ততদিন একাধিক বিধিনিষেধ চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন ইইউ নেতারা। বিশেষ করে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আপাতত তুলে নেওয়া হচ্ছে না। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের আরও ছোঁয়াচে সংস্করণগুলো দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইইউ পরিষদের প্রধান শার্ল মিশেল বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

মোটকথা বর্তমান অনিশ্চয়তার মাঝে বিশেষ কোনও আশ্বাস দিতে পারছেন না ইইউ নেতারা। দৈনিক সংক্রমণের হার যতটা সম্ভব কম রাখতে না পারলে যাবতীয় পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যেতে পারে। জার্মানিসহ একাধিক দেশ একতরফাভাবে সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ইইউ কমিশন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: ডিডব্লিউ।




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..