ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাসোসিয়াসিয়ন কুলতুরাল দে বাংলাদেশ এন কাতালোনিয়ার মতবিনিময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বপ্রথম স্পেনে “মুজিব: একটি জাতির রূপকার” বায়োপিক প্রদর্শিত হলো জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল স্পেন দক্ষিণ উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিয়ানীবাজার পৌরসভা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর উদ্যোগে ঈদ পূনমির্লনী ও নতুন কমিটি গঠন বিজনেস এসোসিয়েশন এন কাতালোনিয়া এর উদ্যোগে ঈদ পূনমির্লনী ও আলোচনা সভা অ্যাসোসিয়াসিয়ন কুলতুরাল দে বাংলাদেশ এন কাতালোনিয়া এর নতুন কমিটি ঘোষণা বার্সেলোনায় ওপেন কনসার্টে বাংলাদেশীদের মিলন মেলা বার্সেলোনায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ড তিন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক কাল

আফ্রিকার বাইরে ১০ দেশে ছড়িয়েছে করোনার নতুন ধরন

জনপ্রিয় অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১ ৮০৯ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ইউরোপ, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। রবিবার অস্ট্রেলিয়ার দুজনের শরীরে ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ফলে দেশটি নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে নিজেদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ধরা পড়া ওমিক্রন ইতমধ্যে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, জার্মানি, হংকং, ইজরায়েল, ইতালি এবং যুক্তরাজ্যেও ধরা পড়েছে। আফ্রিকার বাইরে ১০ দেশে ধরা পড়েছে ওমিক্রন। গত শুক্রবার ওমিক্রনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার একটি ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে অভিহিত করে। এটি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে কারণ এটি বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলোকে অকার্যকর করে দিতে পারে এবং গত প্রায় দুই বছর চলা কোভিড মহামারীকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। করোনার নতুন এই ধরন নিয়ে উদ্বেগ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার আগের সব ধরনের চেয়ে এটি অনেক বেশি সংক্রামক। তবে ওমিক্রন করোনার অন্য ধরনের তুলনায় কম নাকি বেশি মারাত্মক, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেন, ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়তে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল প্রণয়ন জরুরি। টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোকে এখনো অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি মনে করেন, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য ওমিক্রন একটি সতর্কবার্তা হতে পারে।

এর আগে ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনার অতি সংক্রামক ডেলটা ধরন বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। স্বামীনাথন বলেন, ডেলটার চেয়েও অনেক বেশি সংক্রামক হতে পারে ওমিক্রন; যদিও এ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। কয়েক দিনের মধ্যে ওমিক্রন ধরন নিয়ে আরও তথ্য জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। করোনা প্রতিরোধে মাস্কের ব্যবহার খুব জরুরি উল্লেখ করে স্বামীনাথন বলেন, মাস্ককে ‘পকেটে বহনযোগ্য প্রতিষেধক’ নামে ডাকা হয় এবং এটি খুব কার্যকর। বিশেষ করে কোনো আবদ্ধ কক্ষে গেলে মাস্ক ব্যবহার জরুরি। এ ছাড়া সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দেওয়া, গণজমায়েত এড়িয়ে চলা, নতুন ধরনের জিনোম উন্মোচন করা এবং এবং অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে সেদিকে নজর রাখার কাজগুলোও চালিয়ে যেতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন এই ধরন এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশিবার জিনগত রূপ বদল করা সংস্করণ। এর জিনগত রূপ পরিবর্তনের তালিকা এত দীর্ঘ যে একজন বিজ্ঞানী একে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। অপর এক বিজ্ঞানী বিবিসিকে বলেছেন, তাঁদের দেখা করোনার ধরনগুলোর মধ্যে নতুন এ ধরন সবচেয়ে মারাত্মক।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, ওমিক্রন এখন পর্যন্ত ৫০ বার এর জিনগত রূপ বদল করেছে এবং এর স্পাইক প্রোটিনের বদল ঘটেছে ৩০ বারের বেশি। দেহকোষে ঢুকে পড়ার জন্য যেকোনো ভাইরাস মূলত এ স্পাইক প্রোটিনকে ব্যবহার করে এবং স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করেই বেশির ভাগ টিকা তৈরি করা হয়।

এতে আরও একটি উদ্বেগের কারণও রয়েছে। ভাইরাসের যে অংশ প্রথম মানুষের দেহকোষের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়, তার নাম রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন। ওমিক্রনের সেই রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন ১০ বার রূপ পরিবর্তন করেছে। এর আগপর্যন্ত শনাক্ত সবচেয়ে সংক্রামক ডেলটা ধরনের ক্ষেত্রে এ বদল ঘটেছিল মাত্র দুবার।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো চীনের উহানে প্রথম যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছিল, ওমিক্রন তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এর মানে হলো করোনার মূল ধরনকে মাথায় রেখে তৈরি করা বিদ্যমান কোভিড টিকাগুলো নতুন এ ধরনের বিরুদ্ধে অতটা কার্যকর নাও হতে পারে।

করোনার নতুন ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়েন্টটি সর্বপ্রথম গত ৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়। কিন্তু বিষয়টি বিশ্ব সাস্থ্যসংস্থাকে জানানো হয় গত ২৪ নভেম্বর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আফ্রিকার বাইরে ১০ দেশে ছড়িয়েছে করোনার নতুন ধরন

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ইউরোপ, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। রবিবার অস্ট্রেলিয়ার দুজনের শরীরে ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ফলে দেশটি নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে নিজেদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ধরা পড়া ওমিক্রন ইতমধ্যে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, জার্মানি, হংকং, ইজরায়েল, ইতালি এবং যুক্তরাজ্যেও ধরা পড়েছে। আফ্রিকার বাইরে ১০ দেশে ধরা পড়েছে ওমিক্রন। গত শুক্রবার ওমিক্রনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার একটি ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে অভিহিত করে। এটি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে কারণ এটি বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলোকে অকার্যকর করে দিতে পারে এবং গত প্রায় দুই বছর চলা কোভিড মহামারীকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। করোনার নতুন এই ধরন নিয়ে উদ্বেগ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার আগের সব ধরনের চেয়ে এটি অনেক বেশি সংক্রামক। তবে ওমিক্রন করোনার অন্য ধরনের তুলনায় কম নাকি বেশি মারাত্মক, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেন, ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়তে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল প্রণয়ন জরুরি। টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোকে এখনো অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি মনে করেন, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য ওমিক্রন একটি সতর্কবার্তা হতে পারে।

এর আগে ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনার অতি সংক্রামক ডেলটা ধরন বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। স্বামীনাথন বলেন, ডেলটার চেয়েও অনেক বেশি সংক্রামক হতে পারে ওমিক্রন; যদিও এ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। কয়েক দিনের মধ্যে ওমিক্রন ধরন নিয়ে আরও তথ্য জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। করোনা প্রতিরোধে মাস্কের ব্যবহার খুব জরুরি উল্লেখ করে স্বামীনাথন বলেন, মাস্ককে ‘পকেটে বহনযোগ্য প্রতিষেধক’ নামে ডাকা হয় এবং এটি খুব কার্যকর। বিশেষ করে কোনো আবদ্ধ কক্ষে গেলে মাস্ক ব্যবহার জরুরি। এ ছাড়া সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দেওয়া, গণজমায়েত এড়িয়ে চলা, নতুন ধরনের জিনোম উন্মোচন করা এবং এবং অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে সেদিকে নজর রাখার কাজগুলোও চালিয়ে যেতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন এই ধরন এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশিবার জিনগত রূপ বদল করা সংস্করণ। এর জিনগত রূপ পরিবর্তনের তালিকা এত দীর্ঘ যে একজন বিজ্ঞানী একে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। অপর এক বিজ্ঞানী বিবিসিকে বলেছেন, তাঁদের দেখা করোনার ধরনগুলোর মধ্যে নতুন এ ধরন সবচেয়ে মারাত্মক।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, ওমিক্রন এখন পর্যন্ত ৫০ বার এর জিনগত রূপ বদল করেছে এবং এর স্পাইক প্রোটিনের বদল ঘটেছে ৩০ বারের বেশি। দেহকোষে ঢুকে পড়ার জন্য যেকোনো ভাইরাস মূলত এ স্পাইক প্রোটিনকে ব্যবহার করে এবং স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করেই বেশির ভাগ টিকা তৈরি করা হয়।

এতে আরও একটি উদ্বেগের কারণও রয়েছে। ভাইরাসের যে অংশ প্রথম মানুষের দেহকোষের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়, তার নাম রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন। ওমিক্রনের সেই রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন ১০ বার রূপ পরিবর্তন করেছে। এর আগপর্যন্ত শনাক্ত সবচেয়ে সংক্রামক ডেলটা ধরনের ক্ষেত্রে এ বদল ঘটেছিল মাত্র দুবার।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো চীনের উহানে প্রথম যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছিল, ওমিক্রন তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এর মানে হলো করোনার মূল ধরনকে মাথায় রেখে তৈরি করা বিদ্যমান কোভিড টিকাগুলো নতুন এ ধরনের বিরুদ্ধে অতটা কার্যকর নাও হতে পারে।

করোনার নতুন ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়েন্টটি সর্বপ্রথম গত ৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়। কিন্তু বিষয়টি বিশ্ব সাস্থ্যসংস্থাকে জানানো হয় গত ২৪ নভেম্বর।