Latest Post

জনপ্রিয় অনলাইন : ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্বকারী ফুটবল দল। এই দলটিকে নিয়ন্ত্রণে করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ১৯২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সদস্য হয়। এরপূর্বেই ১৯১৬ সাল থেকে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলের অন্যতম সদস্য দেশ।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম দল হচ্ছে ব্রাজিল। এ পর্যন্ত দলটি পাঁচবার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২) বিশ্বকাপ জয় করেছে যা একটি রেকর্ড। ফুটবলের ব্যাপারে একটি সাধারণ উক্তি হচ্ছে: The English invented it, the Brazilians perfected it., অর্থাৎ, ইংল্যান্ডের আবিষ্কার, আর ব্রাজিলের পরিপূর্ণতা দান
ফিফার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই দলটি শীর্ষস্থানে ছিল। এছাড়া এলোর রেটিং অনুসারে ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ফুটবল জাতি। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-ই একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপের সবগুলো আসরেই অংশগ্রহণ করেছে।
আর চলতি বছরের জুনে রাশিয়ার মাটিতে সেই লড়াইয়ে নামছেন মেসি, নেইমার ও রোনালদোরা। আর মাত্র ১০০ দিন বাকি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের। এরই মধ্যে চমক দেখাল ব্রাজিল। এই আসরে ৩২ দলের মধ্যে সবচেয়ে আগে টিকিট কেটেছিল ফেভারিট ব্রাজিল।
এবার একাদশ ঘোষণা করে চমক জাগানিয়া খবর দিলেন দলটির কোচ তিতে। বিশ্বকাপের এখনও ১শ দিনে বেশি সময় বাকি থাকতেই আসরটির সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা করলেন এ কোচ!
এক সাক্ষাতকারে তিতে তার একাদশ তুলে ধরেন, যেখানে রয়েছেন, অ্যালিসন, মার্সেলো, মিরান্ডা, মার্কুইনহোস, দানি আলভেজ, পাওলিনহো, রেনাতো আগুস্তো, কাসেমিরো, নেইমার, কুতিনহো ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
সেলেকাও কোচের আক্রমণভাগে পছন্দ নেইমার, কুতিনহো ও জেসুস। তবে লিভারপুলের রবার্টো ফিরমিনহো ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের থিয়াগো সিলভা একাদশে সুযোগ না পেলেও ১৫ জনের স্কোয়াডে থাকবেন।
তিতের মাঠের ফরম্যাশন থাকবে ৪-৩-৩। যেখানে ব্রাজিল গ্রুপ তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে। ১৫ জনের স্কোয়াডে অন্য দুজন হলেন, ম্যানচেস্টার সিটির ফার্নান্দিনহো ও চেলসির উইলিয়ান।

নিজেদের ইতিহাসে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই এবার বিশ্বকাপে লড়বে ব্রাজিল। গ্রুপ তে হলুদ জার্সিধারীদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো, কোস্টারিকা ও সার্বিয়া। আর বিশ্বকাপের আগে মার্চে স্বাগতিক রাশিয়া ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল।

জনপ্রিয় অনলাইন : ধরুন বেশ সুন্দর ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। হঠাৎ হেঁচকি উঠতে শুরু করল। কি বাজে ব্যাপার হবে বলুন তো। ইন্টারভিউ মুহূর্ত পুরাই মাটি।
এটা মাঝে মাঝেই আমাদের সকলের সাথেই হয়ে থাকে। খুব বিরক্ত লাগে। হলে আর থামতেই চায় না। তবে এই বিরক্তিকর সমস্যারও সহজ সমাধান জেনে নিন এখনি-
১) হেঁচকি উঠলে একটু চিনি বা মিছরি চিবোতে থাকুন। চিনি বা মিছরি খেলে শরীরের একপ্রকার স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে যায়। তখন ব্রেন শরীরের সেই অংশকে ঠিক করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে সেই সময় ব্রেন হেঁচকির কথা ভুলে যায়। তাই হেঁচকি কমে যায়।
২) ঠাণ্ডা জল বা বরফের টুকরোও চুষে চুষে খেতে পারেন। না হলে ঠাণ্ডা জল অল্প অল্প করে বার বার চুমুক দিয়ে খান। বার বার এই ঢোক গিলে এই ঠাণ্ডা জল খেলে,হেঁচকি কমে যাবে।
৩) মিষ্টির মত পাতিলেবুও কিন্তু হেঁচকি কমাতে সাহায্য করে। সেই সময় পাতি লেবু খান। দেখবেন আস্তে আস্তে হেঁচকি কমে যাবে। লেবুর টকের জন্য হেঁচকি কমে যাবে।
৪) ভিনেগার একটি ভালো জিনিস হেঁচকি ওঠা বন্ধের। হেঁচকির সমস্যা থেকে মুক্তি চাইলে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মুখের ভেতর দিয়ে রাখুন। দেখবেন হেঁচকি উঠা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে মুখে গন্ধ হয় বলে এই কাজটি কেউ সহসা করতে চান না।

৫) শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটা কিন্তু বেশ কার্যকর। অনবরত হেঁচকি উঠলে জিহ্বা বের করে আঙ্গুল দিয়ে টেনে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ। হেঁচকি থেমে যাবে নির্ঘাত।    

জনপ্রিয় অনলাইন : আগামী মাসে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধনের জন্য ৭৬টি নতুন দল আবেদন করলেও মাত্র ৪-৫টি দলের নাম আলোচনায় রয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান রয়েছে এবং নিয়মিত সভা, সমাবেশ করছে শুরুতে তাদের নিবন্ধন দিতে চায় নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই জোটের শরিক দু-একটি দলও নিবন্ধনের বিবেচনায় রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও কয়েকটি দলের খবর নিচ্ছে ইসি।

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধন পেতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে ৭৬টি নতুন রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে বেশির ভাগ দলই অপরিচিত, নামসর্বস্ব। সেই সঙ্গে রয়েছে নানা বাহারি নামের দলও। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ৭৬টির মধ্যে অনেক দলই সাইনবোর্ডসর্বস্ব। অনেক দলের অফিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এবারে হাতে গোনা কয়েকটি দল নিবন্ধন পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগ্রহী নতুন ৪৩টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ৪১টিই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। মাত্র দুটি দল শর্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কার্যালয় ও কমিটি থাকার তথ্য দিয়েছিল। এরপর তাদের নিবন্ধন দেয় কমিশন। একইভাবে নবম সংসদ নির্বাচনের জন্য ২টি দলকে নিবন্ধন দেয় ইসি।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু করে প্রথমে ৩৮ দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। এর মধ্যে পরে দুই দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪০টি। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নামসর্বস্ব দলকে নিবন্ধন দিতে চায় না কমিশন।
আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাইনবোর্ডসর্বস্ব রাজনৈতিক দলই বেশি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। অনেক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই। কোনো রাজনৈতিক দল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বাসা, আবাসিক ভবন, মুদির দোকানেও কেন্দ্রীয় কার্যালয় দেখিয়েছে। একই ভবনে দেখানো হয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অফিসও। আবার নতুন করে কেন্দ্রীয় অফিসের নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে অনেকেই।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন দলের আবেদন যাচাই-বাছাই করছেন কর্মকর্তারা। এমনকি অফিসের খোঁজখবরও নিচ্ছেন তারা। নতুন দলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী মাঠের অফিসের খবরও নেওয়া হচ্ছে। ইসি বলছে, নিবন্ধনের শর্ত কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে নতুন দলের নিবন্ধন দেওয়া হবে। এর আগে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিতে গত ৩০ অক্টোবর আবেদন আহ্বান করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
৩১ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ইসিতে নানা বাহারি নামের দল রয়েছে আবেদনের তালিকায়। সেগুলো হচ্ছে নাকফুল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নিউ সংসদ লীগ, ঘুষ নির্মূল পার্টি, মঙ্গল পার্টি, কর্মসংস্থান আন্দোলন, সোনার বাংলা উন্নয়ন লীগ, সত্যব্রত আন্দোলন, সততা দল, জাতীয় পরিবার কল্যাণ পার্টি, শান্তির দল, জনতার কথা বলে, মৌলিক বাংলা, জনস্বার্থে বাংলাদেশ, আলোকিত পার্টি ইত্যাদি। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নাকফুল বাংলাদেশ নামের দলের আবেদনে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে দেখানো হয়েছে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের বিএনএস সেন্টারের দশম তলা। কিন্তু সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নেই। রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রমও সেখানে পরিচালিত হয় না। যে কক্ষটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেটি একটি গার্মেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অথচ এটিকেই রাজনৈতিক দলের অস্থায়ী কার্যালয় দেখিয়ে নিবন্ধন চেয়েছে নাকফুল বাংলাদেশ

কর্মকর্তারা বলেন, রাজধানীর তোপখানা রোডের বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ ভবন যেন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্মস্থান। ২২/১ তোপখানা রোডে অবস্থিত ওই ভবনে ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে এমন চারটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ মঙ্গল পার্টির অফিসও সেখানে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ)-এর অফিসও একই ভবনে।

জনপ্রিয় অনলাইন  : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ২০ দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামলেও মাঠে নেই জামায়াত ইসলামী। উনিশ বছর ধরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকা জামায়াত খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কেন আন্দোলনে নেই তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

তবে জামায়াতের একটি সূত্র থেকে জানাগেছে, দলটি বিএনপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে সরকারের রোষাণলে পড়তে চায় না। কারণ, খালেদা জিয়ার সাজা বিএনপির দলীয় ইস্যু। তাই বিএনপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে সরকারের সঙ্গে নতুন করে বিরোধে জড়াতে রাজি নয় জামায়াত।
এদিকে জোটের অন্যতম শরিক এ দলটিকে দলের সংকটময় মুহূর্তে পাশে না পেয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা। খালেদার জিয়ার মামলার রায়ের আগে ও পরে জোটের বৈঠকে সক্রিয় অংশ গ্রহণ ছিল জামায়াতের। ওইসব বৈঠকে খালেদা জিয়ার সাজা হলে রাজপথে থেকে গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ছিল জামায়াতের। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ড হলে জোটের শরিকরা কম বেশি মাঠে নামলেও দেখা মিলছে না অন্যতম শরিক জামায়াতের। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে।
জামায়াতের একাধিক সূত্র এ বিষয়ে বলছে, খালেদা জিয়া দলীয় ও ব্যক্তিগত কারণে সাজাভোগ করছেন। এটা নিছক বিএনপির ইস্যু। এ কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামছে না। জামায়াত নেতাদের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাজা হলে বিএনপি নিরব ভূমিকা রেখেছে। জামায়াত নেতারা মনে করেন, তখন বিএনপির ভাবখানা এমন ছিল যে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের সাজার বিষয়টি একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। বিএনপি যুদ্ধাপরাধের দায় নেবে কেন? তাই খালেদার সাজার বিষয়ে জামায়াত একই ধরণের মনোভাব পোষণ করছে।
দেড় যুগের মিত্রতা থাকলেও জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে জোটের ইস্যু মনে করছেন না তারা। তা ছাড়া সরকারের দমনপীড়নের কারণে জামায়াত দলীয় কর্মসূচিই পালন করতে পারছে না। দলীয় কার্যালয় খুলতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সমর্থনে আন্দোলনে নামলে জামায়াতের বিরুদ্ধে ধরপাকড় জোরালো হবে। জোট মিত্রের জন্য আবারও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে নারাজ জামায়াত।

জামায়াত নেতাদের মতে, কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে, তা এখনও নিশ্চিত না হলেও এবার বিএনপি ভোটে অংশ নেবে। তাই এ সময়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে না বিএনপি। নির্বাচনমুখী জামায়াতও ভোটের আগে সরকারের সঙ্গে বিরোধ বাড়াতে চায় না।

জনপ্রিয় অনলাইন : দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ঘিরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কৌশলী ভূমিকায় রয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চায় দলটি। দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে এবং দেশি-বিদেশি শক্তিকে বার্তা দিতেই রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ বড় এ সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। যদিও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, জনগণের সাড়া না পেয়ে বিএনপি অক্ষমতার অজুহাত হিসেবে এখন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কৌশল নিয়েছে। তারপরও বর্তমানে কোনো দল বা নেতাদের কথায় কান দিয়ে শক্ত কর্মসূচি দেবে না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা বা নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়লেও ধৈর্যের মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকবে নেতা-কর্মীরা বলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের দিন রাজধানীজুড়ে এবং সারাদেশে নেতাকর্মীদের জমায়েতে অনেকটাই উজ্জীবিত বিএনপি। রায় তাদের বিপক্ষে গেলেও এরপর থেকে নেওয়া দলীয় প্রতিটি পদক্ষেপের ফলাফল এখন পর্যন্ত তাদের অনুকলে আছে। রায়ে দলীয়প্রধানের কারাদণ্ডাদেশ হলেও প্রতিবাদে কোনো প্রকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলা বা অহিংস কর্মসূচির ঘোষণা দেয়নি বিএনপি। বরং বর্তমান সময়টিকে ক্রান্তিকাল ধরে নিয়ে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন তারা। মানববন্ধন, গণস্বাক্ষরসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে দলটি।
তবে বিষয়টি সরকারকে বেশ ভাবাচ্ছে। কারণ খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি মাঠে নামবে এমন তথ্য ছিল সরকারের কাছে। প্রতিবাদ স্বরুপ ক্ষোভ সামলাতে না পেরে দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়বে। রাজধানীসহ সারা দেশে জ্বালাও- পোড়াও হতে পারে সে আশঙ্কাও ছিল। বিএনপি নেতারাও বেশ কিছুদিন এমন আভাস দিয়ে আসছিলেন। সে জন্য সরকারও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ালে পরবর্তী কৌশল কী হবে তাও ঠিক করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কৌশলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই অবিচল রয়েছে দলটি। নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও রায়ের দিন বড় জমায়েতের সুযোগ পেয়েও কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াননি তারা। উল্টো গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, অনশনসহ একের পর এক অহিংস প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো, যা সময়ের সাথে সাথে আরো বাড়ছে। সরকারবিরোধীদের এমন রাজনৈতিক কৌশল এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়। বিষয়টি নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার হাজিরার দিন হাইকোর্টের সামনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে ধরপাকড় এড়াতে প্রায় সব নেতাকে গর্তে ঢুকে যেতে হয়েছে। তার রায়কে কেন্দ্র করে আরো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে বলে সরকার মনে করেছিল।
সরকারও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তা আর হলো না। সরকারের কৌশল টের পেয়ে বিএনপিও এখন ভিন্ন কৌশলে রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির শান্তিপূর্ণ এসব কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ডের পর জনগণ রাস্তায় নামেনি। আর বিএনপি এখন ব্যর্থ হয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। সরকারের অনেক নেতা-মন্ত্রীই বিএনপির আন্দোলন নিয়ে একই সুরে টিপ্পনি কাটছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হতে পারে এই শঙ্কা নিয়ে আগেভাগেই সিনিয়র নেতারা নিজেদের বিভেদ মিটিয়ে এক টেবিলে বসেন। সিদ্ধান্ত হয় সরকারের উস্কানিমূলক কোনো কথায় কান না দিয়ে ধৈর্য সহকারে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর পরই বিএনপি দুদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছিল। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কিছুটা বাধা ও হামলা করলেও এখনও এই কৌশল থেকে সরে আসেনি দলটি। দ্বিতীয় ধাপে আবারও মানববন্ধন, অনশন-অবস্থান কর্মসূচিসহ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেয় দলটি। তৃতীয় ধাপে ঢাকাসহ সারাদেশে গণস্বাক্ষর অভিযান, ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান এবং ঢাকা বাদে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। এরপর আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে দলটি। আর সেখানে না হলে অন্তত যেন দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় সে জন্য অনুমতি চাওয়া হবে কর্তৃপক্ষের কাছে।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার ওঁৎ পেতে ছিল যে, বিএনপি বড় কর্মসূচি দিলে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করাবে। কিন্তু এতে পা দেয়নি দল। এছাড়া খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হবে; আর সেই সুযোগে দলের অনেকেই ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে দল ভেঙে অন্য দলে চলে যাবে বা ভাঙনের সৃষ্টি করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো একটি মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর তার নির্দেশনা অনুযায়ী এবং তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে দল সাংগঠনিক গতিতেই চলছে। এখন পর্যন্ত অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে দল ঐক্যবদ্ধ আছে। দলের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে পরামর্শ করেই নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের মানুষ বিশ্বাস করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে কারাবন্দি, বিলম্বে ডিভিশন দেওয়া, রায়ের সার্টিফায়েড কপি এখন পর্যন্ত না দেওয়াসহ নানা কারণে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের কাছে দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হলো খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে আনা এবং আরেকটি হলো দেশে আন্দোলন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। আর এবার আমরা প্রমাণ করব, একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেও সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা যায়।

জনপ্রিয় অনলাইন : বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য রবিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর বকশীবাজারে বিশেষ আদালত ২-এ হাজির করার কথা থাকলেও হাজির করা হবে না।
ওই আদালতে বিডিআর বিদ্রোহের একটি বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে বিধায় পিডব্লিউ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) জারি সত্ত্বেও বেগম জিয়াকে আদালতে হাজির করা হবে না। তবে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতে হাজিরা দেবেন। শনিবার বেলা পৌণে ৩টায় কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এ তথ্য জানান।পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে পিডব্লিউ পাঠানো হয়েছে জেনে বিকেলে কারাগেটে আসেন সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জানতে পারলাম বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলায় পিডব্লিউ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) হয়েছে। সত্যিই পিডব্লিউ জেলখানায় এসেছে কি-না বিষয়টি জানার জন্য এসেছি।এরপর তিনি কারা উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি প্রিজন) কার্যালয়ের দিকে যান।

জনপ্রিয় অনলাইন : খালেদা জিয়ার জামিন রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি প্রাপ্তির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে কোনো আদালত কর্তৃক ঘোষিত মামলার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি কতদিনের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে সে বিষয়ে প্রচলিত কোনো আইনে নির্ধারিত সময়ের উল্লেখ নেই।
ফলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের অনুলিপি কবে নাগাদ সরবরাহ করা হবে তা নিশ্চিত নয়। অবশ্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আদালত যুক্তিযুক্ত সময়ের মধ্যে রায়ের কপি সরবরাহ করবে। কিন্তু এই যুক্তিযুক্ত সময়ের কোনো ব্যাখ্যা আইন ও বিধি-বিধানের কোথাও নেই। যদিও বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ক্রিমিনাল রুলস অনুযায়ী রায় ঘোষণার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সত্যায়িত অনুলিপি সরবরাহ করতে হবে। এ দাবি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বিশিষ্ট আইনজীবী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের ওই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, আইনানুযায়ী রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি প্রাপ্তির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
ওই আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭১ ধারায় বলা হয়েছে, আসামি আবেদন করিলে রায়ের অনুলিপি অথবা সে চাহিলে ও সম্ভব হইলে তাহার নিজের ভাষায় বা আদালতের ভাষায় উহার একটি অনুবাদ তাহাকে অবিলম্বে দিতে হইবে।” আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কতদিনের মধ্যে রায়ের অনুলিপি দিতে হবে সেটা আইনে নিদ্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। এছাড়া বিচারক অনেক সময় রায়ে করণিক কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করে থাকেন। যার কারণে অনেক সময় রায়ের অনুলিপি পেতে বিলম্ব হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে সিআরপিসির ৩৬৯ ধারায় বলা হয়েছে, এই বিধিতে বা বর্তমানে বলবত অপর কোন আইনে, ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে কোন আদালত রায়ে স্বাক্ষর করিবার পর কেরানীর ভুল সংশোধন করা ব্যতীত উহা পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করিবেন না।” ওই আইনজীবী বলছেন, আইনের উপরে বিধির কার্যকারিতা প্রাধান্য পায় না।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। রায়ের পরই আইনজীবীরা সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে আদালতে আবেদনে করেন। আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, আইনানুযায়ী সম্পূর্ণ রায় প্রস্তুত করেই বিচারককে প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা ও তাতে স্বাক্ষর করতে হয়। সেই হিসাবে দ্রুতই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার কথা।
এদিকে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বিচারক নিয়োগের পরই নিয়মানুযায়ী প্রধান বিচারপতি কর্তৃক বেঞ্চ পুন:র্গঠনের প্রথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পুন:র্গঠনকৃত বেঞ্চে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথাও বলছেন কেউ কেউ। এদিকে যে মামলায় খালেদা জিয়া দন্ডিত হয়েছেন সেটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলা। দুদকের মামলা শুনানির জন্য হাইকোর্টে কিছু সংখ্যক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়ার কর্তৃত্ব রাখেন না। কারণ এক বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত কাউকে বিচারিক আদালত জামিন দিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ জামিন কর্তৃত্বের অধিকারী। অর্থাত্ খালেদা জিয়াকে জামিন পেতে হলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে।

সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ।

কবির আল মাহমুদ,মাদ্রিদ : স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা চালু করছে বাংলাদেশী মানবাধিকার সংগঠন ভালিয়েন্তে বাংলা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি যারা সামাজিকভাবে অসহায় ও আইনি লড়াই করতে সক্ষম নন তাদের এ আইনি সহয়তা প্রদানের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে ভালিয়েন্তে বাংলা।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রয়ারী) সন্ধ্যায় স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী। এসোসিয়েশন ভালিয়েন্তে বাংলার সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমিনিটি নেতা ও বাংলাদেশ মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম মজুমদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এসোসিয়েশন ভালিয়েন্তে বাংলার সদস্য আফরোজা রহমান।বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন স্পেনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনায়েতুল করিম তারেক ,মাদ্রিদ ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আবুল ,স্প্যানিশ আইনজীবী গ্লিসারিও পাঁচমোড়া দিয়াজ ,আওয়ামীলীগ নেতা জাকির হোসাইন ,আয়ুব আলী সোহাগ ,মাসুদ আহমেদ ,সাংবাদিক বকুল খান ও দিদারুল আলম প্রমুখ। প্রধান অতিথি খোরশেদ আলম মজুমদার বলেন, ভালিয়েন্তে বাংলা কর্তৃক বিনামূল্যে যে আইনি সহায়তাচালু করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে স স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশী অভিবাসীদের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা নিতে পারবেন। আইনের সমান আশ্রয়লাভ এবং আইনসঙ্গত ব্যবহার লাভ প্রত্যেকটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ বাংলাদেশী অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা প্রদানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করে অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলা এই উদ্যোগ গ্রহণ করছে। জনকল্যাণে ফজলে এলাহী ও ভালিয়েন্তে বাংলার এ আইনি সেবা স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশী অভিবাসীদের কল্যাণে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কবির আল মাহমুদ,মাদ্রিদ : বসন্তের রঙ প্রকৃতি থেকে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মনে। হৃদয়ে জেগে ওঠা নতুনের সেই আনন্দে মেতে বসন্তকে বরণ করে নেওয়াটা হলো বাঙালির শত বছরের ঐতিহ্য।
কিন্তু বসন্ত যে কেবল বাঙালির মনেই দোলা দেয় না, এর আবেদন যে বিশ্বজনীন, তারই স্বাক্ষর রাখল এসোসিয়েশন ভালিয়েন্তে বাংলা আয়োজনে উদযাপিত বসন্ত উৎসব (ফেস্টিভ্যাল ফাল্গুন বাংলা ২০১৮)।
মাদ্রিদ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশি মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলা এই বসন্ত উৎসব ফেস্টিভ্যাল ফাল্গুন বাংলা আয়োজন করে। আয়োজনটি উপস্থিত সকলকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আপ্লুত করে।
উৎসবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। গত কাল (১০ ফেব্রুয়ারী) শনিবার সন্ধ্যায় স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের সেন্ট্রো কমিউনিটারী ক্যাসিনো দে লা রেইনা হলে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে বাঙালির বসন্ত উদযাপন বহুজাতিকতার নতুন মাত্রা লাভ করেছে।
দর্শকের হৃদয় জয় করে নেয়া এ অনুষ্ঠানে বাংলা নাচ-গানের সাথে ছিল মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশি নারীদের উদ্যোগে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসবে দেশের ঐতিহ্যবাহী পুলি, ভাপা, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, প্যারা, জিলাপি ও সাজের পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠার পসরা সাজিয়েছিলেন সর্বস্তরের মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশি নারীরা।
উৎসবের উদ্বোধন করেন কমিউনিটি নেতা ও বাংলাদেশ মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার। পরিচালনা করেন অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী।উপস্থিত ছিলেন রেড ইন্টার লাভাপিয়েসের প্রেসিডেন্ট পেপা টরেস, এনজিও ইন্টারনেশনাল অসফান এর কর্মকর্তা মিরকাপিয়েছ খোয়ান ,বানেছা ,গ্রেটার সিলেট এর সভাপতি লুৎফুর রহমান ,ব্যাবসায়ী আবুল হোসেন ও রমিজ উদ্দিন প্রমুখ।
ফেস্টিভ্যাল ফাল্গুন বাংলা ও পিঠা উৎসবের আয়োজকদের মধ্যে তানিয়া সুলতানা ঝরনা, লুনা আলম আখি, জান্নাত শিউলি, মারুফা আরেফিন, সেতু হাসান,নিগার সুলতানা প্রমুখ। এসোসিয়েশন ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, দেশের আবহমান সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়া আর সেই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মকে দেশের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই ধরনের পিঠা উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
তা ছাড়া আমাদের নারীরা কোনো না কোন ভাবে কর্মজীবী তাই পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই একসঙ্গে হওয়ার আনন্দটা সব সময় অন্যরকম। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন নিশাত ,সান্তা ও ভরসা ।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget